Dhaka ০১:৩৫ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ০৮ অক্টোবর ২০২৬, ২৩ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম :
সরকারের বড় সাফল্য: ৭ মাসে ৩২ কূপ খনন, জাতীয় গ্রিডে বাড়ছে দেশীয় গ্যাসের সরবরাহ চালুর দুই দিনের মাথায় আবার বন্ধ যমুনা সার কারখানা সিলেটে হাওরে চড়াতে নিয়ে ১ হাজার হাঁসের মৃত্যু, কান্না থামছে না খামারির পৃথিবীর সবচেয়ে অলস প্রাণী স্লথ, শ্বাস নিতেও করে আলসেমি! বাংলাদেশ কারও স্বার্থে নয়, প্রয়োজনের ভিত্তিতে বিমান কিনবে: পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী মেসির বিদায়ী পোস্টের কমেন্টে যা লিখলেন রোনালদো সুন্দরবন থেকে বিপুল অস্ত্র ও গোলাবারুদ উদ্ধার জন্মের তিন দিনের মাথায় মা, এবার ডেঙ্গুতে বাবাকে হারাল আরফা বিক্রি করতে না পেরে শিশু বায়জিদকে রাস্তায় ফেলে যায় অপহরণকারীরা ‘ম্যাজিস্ট্রেট নওশাদ’ এখনও শাহজালাল বিমানবন্দরেই আছেন

১১ শিক্ষক, ১১ পরীক্ষার্থী—পাস করা একমাত্র শিক্ষার্থীর নামও জানেন না প্রধান শিক্ষক

বরিশালের নেছারাবাদ উপজেলার সমুদয়কাঠি ইউনিয়নের মৈশানী বালিকা মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে চলতি বছরের এসএসসি পরীক্ষার ফলাফল নিয়ে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনা তৈরি হয়েছে। বিদ্যালয়টির ১১ জন শিক্ষার্থী পরীক্ষায় অংশ নিয়ে পাস করেছে মাত্র একজন। অথচ প্রতিষ্ঠানটিতে কর্মরত রয়েছেন ১১ জন শিক্ষক।

শুধু চলতি বছর নয়, গত বছরও বিদ্যালয়টির ফলাফল ছিল হতাশাজনক। ২০২৫ সালের এসএসসি পরীক্ষায় আটজন শিক্ষার্থী অংশ নিয়ে পাস করেছিল মাত্র একজন। টানা দুই বছর এমন ফলাফলে বিদ্যালয়টির শিক্ষা কার্যক্রমের মান নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন স্থানীয়রা।

স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরেই প্রতিষ্ঠানটির পড়াশোনার পরিবেশ ও শিক্ষার মান নিয়ে নানা ধরনের প্রশ্ন রয়েছে। তাদের দাবি, বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের নিয়মিত উপস্থিতি কম। একই সঙ্গে শিক্ষকরা নিয়মিত উপস্থিত থেকে যথাযথভাবে পাঠদান করছেন কি না, তা নিয়েও রয়েছে প্রশ্ন।

স্থানীয়দের আরও অভিযোগ, বিদ্যালয়ের নথিপত্রে অর্ধশতাধিক শিক্ষার্থীর তথ্য থাকলেও নিয়মিত ক্লাসে পাঁচ-ছয়জনের বেশি শিক্ষার্থীকে দেখা যায় না। ফলে শিক্ষার্থীদের উপস্থিতি, পাঠদান এবং বিদ্যালয়ের সার্বিক ব্যবস্থাপনা নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন তারা।

সমুদয়কাঠি ইউনিয়নে অবস্থিত এ বিদ্যালয়টি এক যুগেরও বেশি সময় ধরে ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক দিয়ে পরিচালিত হয়ে আসছে। দীর্ঘ সময় ধরে এমন ব্যবস্থাপনা চললেও শিক্ষার মানে কাঙ্ক্ষিত পরিবর্তন না আসায় প্রতিষ্ঠানটির প্রশাসনিক ও শিক্ষা কার্যক্রম নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে।

বিদ্যালয় সূত্রে জানা যায়, বর্তমানে মৈশানী বালিকা মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে ১১ জন শিক্ষক কর্মরত আছেন। এর বাইরে একজন ক্লার্ক ও একজন চতুর্থ শ্রেণির কর্মচারী রয়েছেন। সব মিলিয়ে শিক্ষক-কর্মচারীর সংখ্যা ১৩ জন। বিদ্যালয় সূত্রের দাবি, তাদের বেতন-ভাতা বাবদ সরকারের মাসে তিন লাখ টাকার বেশি ব্যয় হয়।

এ অবস্থায় স্থানীয়দের প্রশ্ন, ১১ জন শিক্ষক থাকা একটি বিদ্যালয়ে চলতি বছর ১১ জন এসএসসি পরীক্ষার্থী থাকলেও তাদের মধ্যে মাত্র একজন কেন পাস করল? শিক্ষার্থীদের নিয়মিত ক্লাসে আনা, পড়াশোনায় আগ্রহ তৈরি করা এবং পাঠদানের মান নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের ভূমিকা কতটা—এ নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন তারা।

আরও পড়ুনঃ  হেফাজতে ইসলামের ৯ দাবি প্রধানমন্ত্রীর কাছে

বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষিকা পর্ষিয়া রানী হালদার বলেন, চলতি বছর প্রতিষ্ঠানটি থেকে ১১ জন শিক্ষার্থী এসএসসি পরীক্ষায় অংশ নেয়। তাদের মধ্যে একজন পাস করেছে। গত বছরও আটজন পরীক্ষার্থীর মধ্যে একজন পাস করেছিল।

তবে পাস করা শিক্ষার্থীর নাম ও তার প্রাপ্ত গ্রেড জানতে চাইলে ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষিকা বলেন, “এখন মনে নেই, পরে জানাব।”

এ বছর ১১ জন শিক্ষকের বিপরীতে ১১ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে মাত্র একজন পাস করায় তিনি দুঃখিত কি না জানতে চাইলে তিনি বলেন, “দুঃখ কিসের। শিক্ষার্থীদের চেষ্টা করেও স্কুলে আনা যাচ্ছে না। তারা ঠিকমতো না পড়লে আমাদের দোষ কী?”

তবে স্থানীয়দের বক্তব্য, শিক্ষার্থীদের বিদ্যালয়ে নিয়মিত উপস্থিতি নিশ্চিত করার পাশাপাশি তাদের পড়াশোনার প্রতি আগ্রহী করে তোলার দায়িত্ব বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ ও শিক্ষকদেরও রয়েছে। শুধু শিক্ষার্থীদের অনিয়মিত উপস্থিতিকে দায়ী করে শিক্ষার ফলাফল ব্যাখ্যা করা যায় কি না, সে প্রশ্নও তুলেছেন তারা।

স্থানীয়রা মনে করছেন, টানা দুই বছর এমন ফলাফলের পেছনে প্রকৃত কারণ খুঁজে বের করা প্রয়োজন। এজন্য বিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের উপস্থিতি, নিয়মিত পাঠদান, শিক্ষা কার্যক্রমের মান এবং সরকারি অর্থে দেওয়া বেতন-ভাতার বিপরীতে প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার মান—সবকিছু খতিয়ে দেখার দাবি জানিয়েছেন তারা।

তাদের প্রত্যাশা, সংশ্লিষ্ট শিক্ষা কর্তৃপক্ষ বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেবে এবং বিদ্যালয়টির শিক্ষা পরিবেশ ও ফলাফলের উন্নয়নে কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণ করবে।

Tag :
জনপ্রিয় পোস্ট

সরকারের বড় সাফল্য: ৭ মাসে ৩২ কূপ খনন, জাতীয় গ্রিডে বাড়ছে দেশীয় গ্যাসের সরবরাহ

১১ শিক্ষক, ১১ পরীক্ষার্থী—পাস করা একমাত্র শিক্ষার্থীর নামও জানেন না প্রধান শিক্ষক

Update Time : ০৭:৩৬:০৮ অপরাহ্ন, সোমবার, ১০ অগাস্ট ২০২৬

বরিশালের নেছারাবাদ উপজেলার সমুদয়কাঠি ইউনিয়নের মৈশানী বালিকা মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে চলতি বছরের এসএসসি পরীক্ষার ফলাফল নিয়ে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনা তৈরি হয়েছে। বিদ্যালয়টির ১১ জন শিক্ষার্থী পরীক্ষায় অংশ নিয়ে পাস করেছে মাত্র একজন। অথচ প্রতিষ্ঠানটিতে কর্মরত রয়েছেন ১১ জন শিক্ষক।

শুধু চলতি বছর নয়, গত বছরও বিদ্যালয়টির ফলাফল ছিল হতাশাজনক। ২০২৫ সালের এসএসসি পরীক্ষায় আটজন শিক্ষার্থী অংশ নিয়ে পাস করেছিল মাত্র একজন। টানা দুই বছর এমন ফলাফলে বিদ্যালয়টির শিক্ষা কার্যক্রমের মান নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন স্থানীয়রা।

স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরেই প্রতিষ্ঠানটির পড়াশোনার পরিবেশ ও শিক্ষার মান নিয়ে নানা ধরনের প্রশ্ন রয়েছে। তাদের দাবি, বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের নিয়মিত উপস্থিতি কম। একই সঙ্গে শিক্ষকরা নিয়মিত উপস্থিত থেকে যথাযথভাবে পাঠদান করছেন কি না, তা নিয়েও রয়েছে প্রশ্ন।

স্থানীয়দের আরও অভিযোগ, বিদ্যালয়ের নথিপত্রে অর্ধশতাধিক শিক্ষার্থীর তথ্য থাকলেও নিয়মিত ক্লাসে পাঁচ-ছয়জনের বেশি শিক্ষার্থীকে দেখা যায় না। ফলে শিক্ষার্থীদের উপস্থিতি, পাঠদান এবং বিদ্যালয়ের সার্বিক ব্যবস্থাপনা নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন তারা।

সমুদয়কাঠি ইউনিয়নে অবস্থিত এ বিদ্যালয়টি এক যুগেরও বেশি সময় ধরে ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক দিয়ে পরিচালিত হয়ে আসছে। দীর্ঘ সময় ধরে এমন ব্যবস্থাপনা চললেও শিক্ষার মানে কাঙ্ক্ষিত পরিবর্তন না আসায় প্রতিষ্ঠানটির প্রশাসনিক ও শিক্ষা কার্যক্রম নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে।

বিদ্যালয় সূত্রে জানা যায়, বর্তমানে মৈশানী বালিকা মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে ১১ জন শিক্ষক কর্মরত আছেন। এর বাইরে একজন ক্লার্ক ও একজন চতুর্থ শ্রেণির কর্মচারী রয়েছেন। সব মিলিয়ে শিক্ষক-কর্মচারীর সংখ্যা ১৩ জন। বিদ্যালয় সূত্রের দাবি, তাদের বেতন-ভাতা বাবদ সরকারের মাসে তিন লাখ টাকার বেশি ব্যয় হয়।

এ অবস্থায় স্থানীয়দের প্রশ্ন, ১১ জন শিক্ষক থাকা একটি বিদ্যালয়ে চলতি বছর ১১ জন এসএসসি পরীক্ষার্থী থাকলেও তাদের মধ্যে মাত্র একজন কেন পাস করল? শিক্ষার্থীদের নিয়মিত ক্লাসে আনা, পড়াশোনায় আগ্রহ তৈরি করা এবং পাঠদানের মান নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের ভূমিকা কতটা—এ নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন তারা।

আরও পড়ুনঃ  বাড়ি ফেরার পথে নিখোঁজ, ৪ জনেরই মরদেহ উদ্ধার

বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষিকা পর্ষিয়া রানী হালদার বলেন, চলতি বছর প্রতিষ্ঠানটি থেকে ১১ জন শিক্ষার্থী এসএসসি পরীক্ষায় অংশ নেয়। তাদের মধ্যে একজন পাস করেছে। গত বছরও আটজন পরীক্ষার্থীর মধ্যে একজন পাস করেছিল।

তবে পাস করা শিক্ষার্থীর নাম ও তার প্রাপ্ত গ্রেড জানতে চাইলে ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষিকা বলেন, “এখন মনে নেই, পরে জানাব।”

এ বছর ১১ জন শিক্ষকের বিপরীতে ১১ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে মাত্র একজন পাস করায় তিনি দুঃখিত কি না জানতে চাইলে তিনি বলেন, “দুঃখ কিসের। শিক্ষার্থীদের চেষ্টা করেও স্কুলে আনা যাচ্ছে না। তারা ঠিকমতো না পড়লে আমাদের দোষ কী?”

তবে স্থানীয়দের বক্তব্য, শিক্ষার্থীদের বিদ্যালয়ে নিয়মিত উপস্থিতি নিশ্চিত করার পাশাপাশি তাদের পড়াশোনার প্রতি আগ্রহী করে তোলার দায়িত্ব বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ ও শিক্ষকদেরও রয়েছে। শুধু শিক্ষার্থীদের অনিয়মিত উপস্থিতিকে দায়ী করে শিক্ষার ফলাফল ব্যাখ্যা করা যায় কি না, সে প্রশ্নও তুলেছেন তারা।

স্থানীয়রা মনে করছেন, টানা দুই বছর এমন ফলাফলের পেছনে প্রকৃত কারণ খুঁজে বের করা প্রয়োজন। এজন্য বিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের উপস্থিতি, নিয়মিত পাঠদান, শিক্ষা কার্যক্রমের মান এবং সরকারি অর্থে দেওয়া বেতন-ভাতার বিপরীতে প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার মান—সবকিছু খতিয়ে দেখার দাবি জানিয়েছেন তারা।

তাদের প্রত্যাশা, সংশ্লিষ্ট শিক্ষা কর্তৃপক্ষ বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেবে এবং বিদ্যালয়টির শিক্ষা পরিবেশ ও ফলাফলের উন্নয়নে কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণ করবে।