
দেশের ২৩তম রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরকে প্রার্থী করার সিদ্ধান্তের পর সরকারের মন্ত্রিসভায় গুরুত্বপূর্ণ রদবদল আনার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে জানা গেছে। একই সঙ্গে সরকারের প্রথম ছয় মাসের কর্মকাণ্ড মূল্যায়ন করে মন্ত্রিসভায় আরও বড় ধরনের পরিবর্তনের প্রস্তুতি চলছে বলে নীতিনির্ধারণী পর্যায়ের সূত্রের বরাতে জানা গেছে।
বৃহস্পতিবার (১৩ আগস্ট) দুপুরে সরকারের উচ্চপর্যায়ের একটি পর্যালোচনা বৈঠকের পর কয়েকটি মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পুনর্বণ্টনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয় বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।
নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের দায়িত্বে থাকা স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় (এলজিআরডি) মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমেদকে। অন্যদিকে পানি সম্পদ মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বে থাকা শহীদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানিকে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে বলে জানা গেছে।
রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে বিএনপির মনোনীত প্রার্থী হিসেবে মির্জা ফখরুলের নাম ঘোষণার পর তিনি তার সংসদীয় ও প্রশাসনিক দায়িত্ব থেকে সরে দাঁড়ানোর সিদ্ধান্ত নেন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। এর পরিপ্রেক্ষিতে এলজিআরডি মন্ত্রণালয়ে দ্রুত নতুন দায়িত্ব বণ্টন করা হয়েছে।
### ছয় মাসের কাজের মূল্যায়ন
সরকারের দায়িত্ব নেওয়ার পর প্রতিটি মন্ত্রণালয়কে ১৮০ দিনের কর্মপরিকল্পনা জমা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল। ছয় মাস পর এসব পরিকল্পনার অগ্রগতি ও মন্ত্রীদের কর্মদক্ষতা মূল্যায়নের কথা বলা হয়েছিল। সেই মূল্যায়ন প্রক্রিয়া এখন শেষ পর্যায়ে রয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রের দাবি।
সূত্রের বরাতে জানা গেছে, কর্মদক্ষতা, বিভিন্ন বিতর্ক এবং রাজনৈতিক পরিস্থিতি বিবেচনায় নিয়ে কয়েকজন মন্ত্রী ও প্রতিমন্ত্রীকে দায়িত্ব থেকে সরিয়ে দেওয়ার বিষয়ে আলোচনা চলছে।
সম্ভাব্য পরিবর্তনের তালিকায় শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহসানুল হক মিলনের নাম রয়েছে বলে দাবি করা হয়েছে। দুর্যোগের মধ্যে পরীক্ষা আয়োজন এবং সাম্প্রতিক কয়েকটি বক্তব্যকে কেন্দ্র করে তাকে নিয়ে সরকারের উচ্চপর্যায়ে অসন্তোষ তৈরি হয়েছে বলে সূত্র জানিয়েছে।
স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার সাখাওয়াত হোসেন বকুলের নামও সম্ভাব্য পরিবর্তনের তালিকায় রয়েছে বলে জানা গেছে। বিভিন্ন বক্তব্য ও ঘটনাকে কেন্দ্র করে তাকে নিয়ে সমালোচনা হয়েছে। আদ-দ্বীন ফাউন্ডেশন সম্পর্কে তার একটি বক্তব্যের প্রতিবাদও জানিয়েছিল প্রতিষ্ঠানটি।
এ ছাড়া পানিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন আজাদকে ঘিরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একটি ভিডিও নিয়েও বিতর্ক তৈরি হয়। প্রতিমন্ত্রীর দাবি, ভিডিওটি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) দিয়ে তৈরি। তবে একটি ফ্যাক্ট-চেকিং প্ল্যাটফর্ম ভিডিওটি এআই দিয়ে তৈরি নয় বলে দাবি করেছে।
আরও কয়েকজন মন্ত্রী ও প্রতিমন্ত্রীর রাজনৈতিক ও ব্যক্তিগত কর্মকাণ্ড নিয়ে তৈরি হওয়া বিতর্কও মন্ত্রিসভায় পরিবর্তনের আলোচনায় প্রভাব ফেলছে বলে সূত্রের দাবি।
### নতুন মুখ নিয়ে আলোচনা
মন্ত্রিসভা থেকে কয়েকজনকে বাদ দেওয়ার পাশাপাশি নতুন কয়েকজনকে অন্তর্ভুক্ত করার বিষয়েও আলোচনা চলছে বলে জানা গেছে।
শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মুখপাত্র ও উপদেষ্টা মাহাদী আমিনকে আনার বিষয়টি আলোচনায় রয়েছে বলে সূত্র জানিয়েছে। পাশাপাশি স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী ডা. এম এ মুহিতকে পূর্ণ মন্ত্রী করার বিষয়েও চিন্তাভাবনা চলছে বলে জানা গেছে।
নতুন মন্ত্রী হিসেবে বিএনপির সিনিয়র নেতা গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, শেখ ফরিদ আহমেদ মানিক, এ বি এম মোশাররফ হোসেন, আব্দুস সালাম আজাদ, অধ্যক্ষ সেলিম ভূঁইয়া, খন্দকার আবু আশফাক, নজরুল ইসলাম আজাদ ও মো. মজিবুর রহমানের নাম আলোচনায় রয়েছে বলে প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে।
টেকনোক্র্যাট কোটায় কয়েকজন জ্যেষ্ঠ নেতাকে মন্ত্রিসভায় আনার পাশাপাশি জোটের শরিক দল থেকেও নতুন সদস্য অন্তর্ভুক্তির সম্ভাবনা রয়েছে।
### চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত প্রধানমন্ত্রীর
তবে মন্ত্রিসভায় কতজন বাদ পড়বেন এবং নতুন করে কাদের দায়িত্ব দেওয়া হবে, সে বিষয়ে এখনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন। চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানই নেবেন।
প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের এক কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, নির্দিষ্ট সময় পর সরকারের কাজের মূল্যায়ন করা স্বাভাবিক প্রক্রিয়া। সেই মূল্যায়নের ভিত্তিতে মন্ত্রিসভায় পরিবর্তন আসতে পারে। তবে এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত প্রধানমন্ত্রীর।
বেসামরিক বিমান চলাচল ও পর্যটন প্রতিমন্ত্রী রাশেদুজ্জামান মিল্লাতও সম্ভাব্য রদবদল নিয়ে আলোচনা থাকার কথা জানালেও এখন পর্যন্ত কোনো আনুষ্ঠানিক সিদ্ধান্ত হয়নি বলে মন্তব্য করেছেন।
বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান অ্যাডভোকেট জয়নাল আবেদীন বলেন, সরকারের কাজের মূল্যায়নের ভিত্তিতে মন্ত্রিসভায় পরিবর্তন আনা স্বাভাবিক বিষয়।
রাজনৈতিক বিশ্লেষক নুরুল আমিন বেপারীর মতে, প্রশাসনের কার্যকারিতা বাড়াতে প্রয়োজন অনুযায়ী মন্ত্রিসভায় পরিবর্তন আনা হতে পারে। বিতর্ক এড়িয়ে সরকারি কার্যক্রমে গতি আনাই এমন সিদ্ধান্তের মূল লক্ষ্য হতে পারে।
তবে সম্ভাব্য রদবদল নিয়ে নানা আলোচনা থাকলেও আনুষ্ঠানিক প্রজ্ঞাপন বা চূড়ান্ত ঘোষণা না আসা পর্যন্ত তালিকায় থাকা ব্যক্তিদের বিষয়ে নিশ্চিতভাবে কিছু বলা যাচ্ছে না।
এবিসি টিভি ডেস্ক 

























