Dhaka ০৪:৩৬ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২৪ অগাস্ট ২০২৬, ৮ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম :
খেজুরের বিচি, কামড়ানো শসা ও পোড়ানো চুড়ির সূত্রে শিক্ষক পরিবারের চার হত্যার রহস্য উদঘাটন এনসিপির জরুরি সংবাদ সম্মেলন সোমবার যুদ্ধের মধ্যেই জ্বালানি নিয়ে বড় সুখবর দিল ইরান মাদ্রাসাছাত্রীকে ধ র্ষ ণের দায়ে দুজনের যাবজ্জীবন ইসলামি বক্তা মিসবাহের ‘১০ নম্বর স্ত্রী’ হতে চান কনটেন্ট ক্রিয়েটর মীম সিলেটে পুলিশের সাঁড়াশি অভিযান, ২৪ ঘণ্টায় ৭৩ আসামি গ্রেপ্তার রাষ্ট্রপতির একান্ত সচিব হলেন আবু আউয়াল সিলেটের মেয়ে রুবাইয়ার  ৭৩ লাখ ফুল ফান্ডেড স্কলারশিপ অর্জন শাহজালাল বিমানবন্দরে ৩ কেজি কুশসহ ভারতীয় নাগরিক গ্রেপ্তার এয়ার হোস্টেস থেকে পুলিশ কর্মকর্তা, এবার কোটি টাকার জমি কেলেঙ্কারির অভিযোগে বরখাস্ত

মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় আসামি হচ্ছেন ৩ সাংবাদিক

  • desk news
  • Update Time : ০১:২৫:৫২ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৮ অগাস্ট ২০২৬
  • ৫২৪ Time View

জুলাই গণঅভ্যুত্থান চলাকালে আন্দোলনকারীদের বিরুদ্ধে উসকানিমূলক বক্তব্য ও ‘বিকল্প বয়ান’ তৈরির অভিযোগে মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় তিন সাংবাদিক—শ্যামল দত্ত, মোজাম্মেল হক বাবু ও ফারজানা রুপাকে আসামি করার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে।

আগামী ২৪ আগস্ট তাদের আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২–এ হাজির করার নির্দেশ দিয়েছেন ট্রাইব্যুনাল। সোমবার (১৭ আগস্ট) প্রসিকিউশনের আবেদনের পর বিচারক মো. মঞ্জুরুল বাছিদের একক বেঞ্চ এ আদেশ দেন। নির্ধারিত দিনে কারাগারে থাকা তিন সাংবাদিককে ট্রাইব্যুনালে হাজির করা হলে তাদের এ মামলায় আনুষ্ঠানিকভাবে গ্রেপ্তার দেখানো হবে।

প্রসিকিউশনের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, ২০২৪ সালের ১৪ জুলাই তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার উপস্থিতিতে গণভবনে অনুষ্ঠিত সংবাদ সম্মেলনে এই তিন সাংবাদিক মামলায় বর্ণিত অপরাধে প্ররোচনা দিয়েছিলেন। শেখ হাসিনার চীন সফর নিয়ে আয়োজিত ওই সংবাদ সম্মেলনে কোটা আন্দোলন প্রসঙ্গে তিনি ‘রাজাকার’ শব্দটি ব্যবহার করে মন্তব্য করেন। আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা ওই মন্তব্যকে অবমাননাকর হিসেবে উল্লেখ করেন। এরপর ওই রাত থেকেই বিভিন্ন স্থানে বিক্ষোভ শুরু হয়।

প্রসিকিউশনের অভিযোগ, ১৪ জুলাই থেকে ৫ আগস্ট পর্যন্ত ছাত্র আন্দোলনের বিরুদ্ধে একটি ‘বিকল্প বয়ান’ তৈরিতে ভূমিকা রেখেছিলেন শ্যামল দত্ত, মোজাম্মেল হক বাবু ও ফারজানা রুপা। মামলার নথি অনুযায়ী, ওই সময়ে মোজাম্মেল হক বাবু একাত্তর টেলিভিশনের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রধান সম্পাদক এবং ফারজানা রুপা একই প্রতিষ্ঠানের প্রধান প্রতিবেদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। শ্যামল দত্ত ছিলেন জাতীয় প্রেস ক্লাবের সাবেক সাধারণ সম্পাদক।

প্রসিকিউশন আরও জানিয়েছে, জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সময় সাংবাদিক, লেখকসহ বিভিন্ন পেশার ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আন্দোলনবিরোধী ও উসকানিমূলক বক্তব্য দেওয়ার অভিযোগে করা মামলাটি আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের তদন্ত সংস্থা পৃথকভাবে তদন্ত করছে। তদন্তে তিন সাংবাদিকের সংশ্লিষ্টতা পাওয়া গেছে বলে প্রসিকিউশনের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে।

এদিকে, ২০১৩ সালের মতিঝিলের শাপলা চত্বর ও নারায়ণগঞ্জে হেফাজতে ইসলামের কর্মীদের ওপর দমন-পীড়নের অভিযোগে দায়ের করা মানবতাবিরোধী অপরাধের আরেকটি মামলাতেও মোজাম্মেল হক বাবু ও ফারজানা রুপা বিচারের মুখোমুখি হচ্ছেন।

আরও পড়ুনঃ  দীর্ঘ ৮ বছর পর ওসমানী বিমানবন্দরে ফিরছে বিদেশি এয়ারলাইন্স

তবে এসব অভিযোগ এখনো বিচারিকভাবে প্রমাণিত হয়নি। মামলার পরবর্তী কার্যক্রম ও সাক্ষ্য-প্রমাণের ভিত্তিতেই অভিযোগগুলোর সত্যতা নির্ধারিত হবে।

Tag :
জনপ্রিয় পোস্ট

খেজুরের বিচি, কামড়ানো শসা ও পোড়ানো চুড়ির সূত্রে শিক্ষক পরিবারের চার হত্যার রহস্য উদঘাটন

মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় আসামি হচ্ছেন ৩ সাংবাদিক

Update Time : ০১:২৫:৫২ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৮ অগাস্ট ২০২৬

জুলাই গণঅভ্যুত্থান চলাকালে আন্দোলনকারীদের বিরুদ্ধে উসকানিমূলক বক্তব্য ও ‘বিকল্প বয়ান’ তৈরির অভিযোগে মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় তিন সাংবাদিক—শ্যামল দত্ত, মোজাম্মেল হক বাবু ও ফারজানা রুপাকে আসামি করার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে।

আগামী ২৪ আগস্ট তাদের আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২–এ হাজির করার নির্দেশ দিয়েছেন ট্রাইব্যুনাল। সোমবার (১৭ আগস্ট) প্রসিকিউশনের আবেদনের পর বিচারক মো. মঞ্জুরুল বাছিদের একক বেঞ্চ এ আদেশ দেন। নির্ধারিত দিনে কারাগারে থাকা তিন সাংবাদিককে ট্রাইব্যুনালে হাজির করা হলে তাদের এ মামলায় আনুষ্ঠানিকভাবে গ্রেপ্তার দেখানো হবে।

প্রসিকিউশনের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, ২০২৪ সালের ১৪ জুলাই তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার উপস্থিতিতে গণভবনে অনুষ্ঠিত সংবাদ সম্মেলনে এই তিন সাংবাদিক মামলায় বর্ণিত অপরাধে প্ররোচনা দিয়েছিলেন। শেখ হাসিনার চীন সফর নিয়ে আয়োজিত ওই সংবাদ সম্মেলনে কোটা আন্দোলন প্রসঙ্গে তিনি ‘রাজাকার’ শব্দটি ব্যবহার করে মন্তব্য করেন। আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা ওই মন্তব্যকে অবমাননাকর হিসেবে উল্লেখ করেন। এরপর ওই রাত থেকেই বিভিন্ন স্থানে বিক্ষোভ শুরু হয়।

প্রসিকিউশনের অভিযোগ, ১৪ জুলাই থেকে ৫ আগস্ট পর্যন্ত ছাত্র আন্দোলনের বিরুদ্ধে একটি ‘বিকল্প বয়ান’ তৈরিতে ভূমিকা রেখেছিলেন শ্যামল দত্ত, মোজাম্মেল হক বাবু ও ফারজানা রুপা। মামলার নথি অনুযায়ী, ওই সময়ে মোজাম্মেল হক বাবু একাত্তর টেলিভিশনের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রধান সম্পাদক এবং ফারজানা রুপা একই প্রতিষ্ঠানের প্রধান প্রতিবেদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। শ্যামল দত্ত ছিলেন জাতীয় প্রেস ক্লাবের সাবেক সাধারণ সম্পাদক।

প্রসিকিউশন আরও জানিয়েছে, জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সময় সাংবাদিক, লেখকসহ বিভিন্ন পেশার ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আন্দোলনবিরোধী ও উসকানিমূলক বক্তব্য দেওয়ার অভিযোগে করা মামলাটি আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের তদন্ত সংস্থা পৃথকভাবে তদন্ত করছে। তদন্তে তিন সাংবাদিকের সংশ্লিষ্টতা পাওয়া গেছে বলে প্রসিকিউশনের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে।

এদিকে, ২০১৩ সালের মতিঝিলের শাপলা চত্বর ও নারায়ণগঞ্জে হেফাজতে ইসলামের কর্মীদের ওপর দমন-পীড়নের অভিযোগে দায়ের করা মানবতাবিরোধী অপরাধের আরেকটি মামলাতেও মোজাম্মেল হক বাবু ও ফারজানা রুপা বিচারের মুখোমুখি হচ্ছেন।

আরও পড়ুনঃ  হেফাজতে ইসলামের ৯ দাবি প্রধানমন্ত্রীর কাছে

তবে এসব অভিযোগ এখনো বিচারিকভাবে প্রমাণিত হয়নি। মামলার পরবর্তী কার্যক্রম ও সাক্ষ্য-প্রমাণের ভিত্তিতেই অভিযোগগুলোর সত্যতা নির্ধারিত হবে।