Dhaka ০৫:৩৯ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ০৮ অক্টোবর ২০২৬, ২২ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

হেফাজতে ইসলামের ৯ দাবি প্রধানমন্ত্রীর কাছে

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের কাছে ৯ দফা দাবি তুলে ধরেছে হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশ। রোববার (৯ আগস্ট) বিকেলে চট্টগ্রামের ফটিকছড়ির ঐতিহাসিক আল-জামিয়াতুল ইসলামিয়া বাবুনগর মাদ্রাসায় প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সংগঠনটির শীর্ষ আলেমদের মতবিনিময় সভায় লিখিতভাবে এসব দাবি জানানো হয়।
হেফাজতে ইসলামের মহাসচিব মুহাম্মাদ সাজেদুর রহমান স্বাক্ষরিত দাবিপত্র প্রধানমন্ত্রীর কাছে হস্তান্তর করা হয়।

দাবিগুলোর মধ্যে রয়েছে—মহান আল্লাহ, রাসুল (সা.), পবিত্র কোরআন ও ইসলাম ধর্মের অবমাননা রোধে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রেখে জাতীয় সংসদে আইন প্রণয়ন। একই সঙ্গে কোরআন-সুন্নাহর সঙ্গে সাংঘর্ষিক কোনো আইন পাস না করার আহ্বান জানানো হয়েছে।

২০১৩ সালের ৫ মে শাপলা চত্বরে সংঘটিত হত্যাকাণ্ডে জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক বিচার এবং ২০২১ সালের মোদিবিরোধী আন্দোলন ও ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টের হত্যাকাণ্ডে জড়িতদের বিচার নিশ্চিত করার দাবিও জানিয়েছে হেফাজত।

কওমি মাদ্রাসার দাওরায়ে হাদিসের মাস্টার্স সমমানের স্বীকৃতি কার্যকর করে শিক্ষার্থীদের দেশ-বিদেশে উচ্চশিক্ষা ও কর্মসংস্থানের সুযোগ নিশ্চিত করার দাবি জানানো হয়েছে। সরকারি চাকরির বিজ্ঞপ্তিতে ধর্মীয় শিক্ষক পদে সরকারি মাদ্রাসার ডিগ্রির পাশাপাশি দাওরায়ে হাদিসের ডিগ্রিকেও শিক্ষাগত যোগ্যতা হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করার দাবিও রয়েছে।

এ ছাড়া প্রাথমিক থেকে উচ্চমাধ্যমিক পর্যন্ত মুসলিম শিক্ষার্থীদের জন্য ইসলাম ধর্ম শিক্ষা বাধ্যতামূলক করা, কাদিয়ানী সম্প্রদায়কে অমুসলিম ঘোষণা, হিজবুত তাওহিদকে নিষিদ্ধ করা এবং পার্বত্য চট্টগ্রামে দেশি-বিদেশি মিশনারিদের কথিত অপতৎপরতা বন্ধের দাবি জানিয়েছে সংগঠনটি।

আওয়ামী লীগ সরকারের সময় আলেমদের বিরুদ্ধে করা মিথ্যা মামলা প্রত্যাহার করে দেশের আলেম-ওলামাকে রাষ্ট্রীয় পুনর্গঠনে অংশীদার করার দাবিও জানানো হয়েছে।

তাবলিগ জামাত ও বিশ্ব ইজতেমা প্রসঙ্গে হেফাজত বলেছে, বাংলাদেশে তাবলিগ জামাতের কার্যক্রম ও টঙ্গীর বিশ্ব ইজতেমা উলামায়ে কেরামের তত্ত্বাবধানে পরিচালিত হয়ে আসছে। ভারতের মাওলানা সাদ সাহেবের বাংলাদেশে প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা বহাল রাখা এবং টঙ্গী ময়দানে সাদপন্থিদের ইজতেমা আয়োজনের অনুমতি না দেওয়ার দাবিও জানানো হয়েছে।

রোববার বিকেল ৪টায় বাবুনগর মাদ্রাসা প্রাঙ্গণে মতবিনিময় সভা শুরু হয়। এতে সভাপতিত্ব করেন হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশের আমির আল্লামা শাহ মুহিব্বুল্লাহ বাবুনগরী। সভায় দেশের বিভিন্ন এলাকার প্রায় ৭০ জন বিশিষ্ট আলেম অংশ নেন।

আরও পড়ুনঃ  প্রবাসীর স্ত্রীর ঘরে অন্তরঙ্গ অবস্থায় জামায়াতকর্মী আটক

সভায় প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ, পার্বত্য চট্টগ্রাম ও ভূমি প্রতিমন্ত্রী মীর হেলাল, উত্তর চট্টগ্রামের সংসদ সদস্যসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।

এর আগে রোববার দুপুর ৩টা ২০ মিনিটে হেলিকপ্টারে ফটিকছড়িতে পৌঁছান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। পরে তিনি বাবুনগর মাদ্রাসায় গিয়ে হেফাজতের আমির আল্লামা শাহ মুহিব্বুল্লাহ বাবুনগরীর সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন। এ সময় প্রধানমন্ত্রী তাঁকে বুকে জড়িয়ে ধরে আন্তরিকতা প্রকাশ করেন এবং তাঁর শারীরিক অবস্থার খোঁজখবর নেন। পরে তিনি হেফাজতে ইসলামের শীর্ষ আলেমদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় অংশ নেন।

Tag :
জনপ্রিয় পোস্ট

হেফাজতে ইসলামের ৯ দাবি প্রধানমন্ত্রীর কাছে

Update Time : ০৬:৫৪:৫৯ অপরাহ্ন, রবিবার, ৯ অগাস্ট ২০২৬

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের কাছে ৯ দফা দাবি তুলে ধরেছে হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশ। রোববার (৯ আগস্ট) বিকেলে চট্টগ্রামের ফটিকছড়ির ঐতিহাসিক আল-জামিয়াতুল ইসলামিয়া বাবুনগর মাদ্রাসায় প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সংগঠনটির শীর্ষ আলেমদের মতবিনিময় সভায় লিখিতভাবে এসব দাবি জানানো হয়।
হেফাজতে ইসলামের মহাসচিব মুহাম্মাদ সাজেদুর রহমান স্বাক্ষরিত দাবিপত্র প্রধানমন্ত্রীর কাছে হস্তান্তর করা হয়।

দাবিগুলোর মধ্যে রয়েছে—মহান আল্লাহ, রাসুল (সা.), পবিত্র কোরআন ও ইসলাম ধর্মের অবমাননা রোধে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রেখে জাতীয় সংসদে আইন প্রণয়ন। একই সঙ্গে কোরআন-সুন্নাহর সঙ্গে সাংঘর্ষিক কোনো আইন পাস না করার আহ্বান জানানো হয়েছে।

২০১৩ সালের ৫ মে শাপলা চত্বরে সংঘটিত হত্যাকাণ্ডে জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক বিচার এবং ২০২১ সালের মোদিবিরোধী আন্দোলন ও ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টের হত্যাকাণ্ডে জড়িতদের বিচার নিশ্চিত করার দাবিও জানিয়েছে হেফাজত।

কওমি মাদ্রাসার দাওরায়ে হাদিসের মাস্টার্স সমমানের স্বীকৃতি কার্যকর করে শিক্ষার্থীদের দেশ-বিদেশে উচ্চশিক্ষা ও কর্মসংস্থানের সুযোগ নিশ্চিত করার দাবি জানানো হয়েছে। সরকারি চাকরির বিজ্ঞপ্তিতে ধর্মীয় শিক্ষক পদে সরকারি মাদ্রাসার ডিগ্রির পাশাপাশি দাওরায়ে হাদিসের ডিগ্রিকেও শিক্ষাগত যোগ্যতা হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করার দাবিও রয়েছে।

এ ছাড়া প্রাথমিক থেকে উচ্চমাধ্যমিক পর্যন্ত মুসলিম শিক্ষার্থীদের জন্য ইসলাম ধর্ম শিক্ষা বাধ্যতামূলক করা, কাদিয়ানী সম্প্রদায়কে অমুসলিম ঘোষণা, হিজবুত তাওহিদকে নিষিদ্ধ করা এবং পার্বত্য চট্টগ্রামে দেশি-বিদেশি মিশনারিদের কথিত অপতৎপরতা বন্ধের দাবি জানিয়েছে সংগঠনটি।

আওয়ামী লীগ সরকারের সময় আলেমদের বিরুদ্ধে করা মিথ্যা মামলা প্রত্যাহার করে দেশের আলেম-ওলামাকে রাষ্ট্রীয় পুনর্গঠনে অংশীদার করার দাবিও জানানো হয়েছে।

তাবলিগ জামাত ও বিশ্ব ইজতেমা প্রসঙ্গে হেফাজত বলেছে, বাংলাদেশে তাবলিগ জামাতের কার্যক্রম ও টঙ্গীর বিশ্ব ইজতেমা উলামায়ে কেরামের তত্ত্বাবধানে পরিচালিত হয়ে আসছে। ভারতের মাওলানা সাদ সাহেবের বাংলাদেশে প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা বহাল রাখা এবং টঙ্গী ময়দানে সাদপন্থিদের ইজতেমা আয়োজনের অনুমতি না দেওয়ার দাবিও জানানো হয়েছে।

রোববার বিকেল ৪টায় বাবুনগর মাদ্রাসা প্রাঙ্গণে মতবিনিময় সভা শুরু হয়। এতে সভাপতিত্ব করেন হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশের আমির আল্লামা শাহ মুহিব্বুল্লাহ বাবুনগরী। সভায় দেশের বিভিন্ন এলাকার প্রায় ৭০ জন বিশিষ্ট আলেম অংশ নেন।

আরও পড়ুনঃ  ঢাকা-৮ আসনকে সৌদির মদিনার মতো গড়ে তোলা হবে: পাটোয়ারী

সভায় প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ, পার্বত্য চট্টগ্রাম ও ভূমি প্রতিমন্ত্রী মীর হেলাল, উত্তর চট্টগ্রামের সংসদ সদস্যসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।

এর আগে রোববার দুপুর ৩টা ২০ মিনিটে হেলিকপ্টারে ফটিকছড়িতে পৌঁছান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। পরে তিনি বাবুনগর মাদ্রাসায় গিয়ে হেফাজতের আমির আল্লামা শাহ মুহিব্বুল্লাহ বাবুনগরীর সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন। এ সময় প্রধানমন্ত্রী তাঁকে বুকে জড়িয়ে ধরে আন্তরিকতা প্রকাশ করেন এবং তাঁর শারীরিক অবস্থার খোঁজখবর নেন। পরে তিনি হেফাজতে ইসলামের শীর্ষ আলেমদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় অংশ নেন।