
বরিশালের মেহেন্দিগঞ্জ উপজেলায় এক প্রবাসীর স্ত্রীর সঙ্গে সম্পর্কের অভিযোগে সুজন আকন নামে এক যুবককে আটক করার পর তার বিরুদ্ধে ধর্ষণের অভিযোগে মামলা হয়েছে। ঘটনার পর থেকে বিষয়টি নিয়ে এলাকায় ব্যাপক আলোচনা চলছে। পুলিশ জানিয়েছে, অভিযোগের তদন্ত চলছে এবং আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
সোমবার (৩ আগস্ট) রাত ৯টার দিকে উপজেলার সদর ইউনিয়নের পশ্চিম সাদেকপুর গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। অভিযুক্ত সুজন আকন সদর ইউনিয়নের ৪ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা। তিনি বিবাহিত এবং দুই সন্তানের জনক।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, প্রায় সাত বছর ধরে সৌদি আরবে কর্মরত এক প্রবাসীর স্ত্রীকে ঘিরে এ ঘটনা। প্রবাসী কয়েক বছর আগে দেশে এসে বিয়ে করেন এবং প্রায় ছয় মাস আগে পুনরায় বিদেশে ফিরে যান।
অভিযোগ অনুযায়ী, সোমবার রাতে বাড়ির একটি কক্ষ দীর্ঘ সময় বন্ধ থাকায় পরিবারের সদস্যদের সন্দেহ হয়। পরে তারা কক্ষে প্রবেশ করে ওই নারী ও সুজনকে আপত্তিকর অবস্থায় দেখতে পান বলে দাবি করেন। এরপর স্থানীয়রা দুজনকে আটক করে পুলিশে খবর দেন।
স্থানীয় পর্যায়ে বিষয়টি মীমাংসার চেষ্টা হলেও সমঝোতা না হওয়ায় মঙ্গলবার (৪ আগস্ট) তাদের থানায় নেওয়া হয়। পরে ওই নারী বাদী হয়ে সুজন আকনের বিরুদ্ধে ধর্ষণের অভিযোগে এজাহার দায়ের করেন।
পুলিশকে দেওয়া প্রাথমিক বক্তব্যে ওই নারী দাবি করেন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সুজনের সঙ্গে তার পরিচয় হয় এবং পরবর্তীতে তিনি জোরপূর্বক শারীরিক সম্পর্ক স্থাপন করেন।
অন্যদিকে, সুজন আকন অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। তার দাবি, ওই নারী তাকে মোবাইল ফোনে ডেকে নিয়েছিলেন এবং তাকে পরিকল্পিতভাবে ফাঁসানো হয়েছে।
ঘটনার পর সুজন আকনের রাজনৈতিক পরিচয় নিয়েও বিভিন্ন দাবি উঠে আসে। স্থানীয় কয়েকজন তাকে জামায়াতে ইসলামীর কর্মী বলে উল্লেখ করলেও সংগঠনের স্থানীয় নেতারা তা অস্বীকার করেছেন। তাদের বক্তব্য অনুযায়ী, সুজন সংগঠনের কোনো পদধারী বা আনুষ্ঠানিক কর্মী নন। ফলে তার রাজনৈতিক পরিচয় স্বাধীনভাবে নিশ্চিত করা সম্ভব হয়নি।
মেহেন্দিগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মমিন উদ্দিন বলেন, একই কক্ষ থেকে দুজনকে আটকের পর ওই নারী সুজন আকনের বিরুদ্ধে ধর্ষণের অভিযোগে মামলা করেছেন। অভিযোগের তদন্ত চলছে এবং তদন্তের ভিত্তিতে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
বরিশাল প্রতিনিধি 


















