Dhaka ০২:৩৪ অপরাহ্ন, সোমবার, ২১ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৬ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

সিলেটে ৮ বছর ধরে বন্ধ দেড় কোটি টাকার সৌরবিদ্যুৎ প্রকল্প

 সিলেট সুনামগঞ্জের শান্তিগঞ্জ উপজেলা প্রশাসনিক ভবনে স্থাপন করা সৌরবিদ্যুৎ প্রকল্পটি দীর্ঘ প্রায় আট বছর ধরে অচল অবস্থায় পড়ে আছে। নবায়নযোগ্য জ্বালানির ব্যবহার বাড়ানোর উদ্দেশ্যে স্থাপন করা প্রকল্পটিতে ব্যয় হয়েছিল প্রায় ১ কোটি ৪৭ লাখ টাকা।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, জলবায়ু পরিবর্তন ট্রাস্টের আওতায় ২০১৩ সালে বাংলাদেশ পল্লী বিদ্যুতায়ন বোর্ডের অধীনে প্রকল্পটি স্থাপন করা হয়। এতে ৩০ কিলোওয়াট ক্ষমতার ১০০টি সোলার প্যানেলসহ ব্যাটারি, ইনভার্টার, কন্ট্রোলার ও অন্যান্য সরঞ্জাম বসানো হয়েছিল।

প্রকল্পটি চালু থাকার সময় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয়, সহকারী কমিশনার (ভূমি) কার্যালয়, উপজেলা পরিষদসহ বেশ কয়েকটি সরকারি দপ্তর এবং ইউএনওর বাসভবনে বিদ্যুৎ সরবরাহ করা হতো। কিন্তু চালুর দুই থেকে তিন বছরের মধ্যেই বিভিন্ন যন্ত্রাংশে সমস্যা দেখা দিতে শুরু করে। একপর্যায়ে পুরো ব্যবস্থাটিই অকার্যকর হয়ে যায়।

দীর্ঘদিন ধরে সোলার প্যানেল, ব্যাটারি ও অন্যান্য সরঞ্জাম পড়ে থাকায় সেগুলোর অবস্থা আরও নাজুক হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। বিশেষ করে দীর্ঘ সময় রক্ষণাবেক্ষণ ছাড়া থাকলে ব্যাটারি, ইনভার্টার ও কন্ট্রোলারের মতো যন্ত্রপাতির কার্যক্ষমতা কমে যেতে পারে।

প্রকল্পটি কেন দীর্ঘদিন অচল রয়েছে এবং এর রক্ষণাবেক্ষণের দায়িত্ব কার ওপর ছিল—এসব বিষয় নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। পাশাপাশি প্রকল্প স্থাপনের সময় কত বছরের ওয়ারেন্টি বা রক্ষণাবেক্ষণ সুবিধা ছিল, সেটিও খতিয়ে দেখার প্রয়োজন রয়েছে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন।

শান্তিগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা হিল্লোল চাকমা জানিয়েছেন, তিনি সম্প্রতি দায়িত্ব নিয়েছেন। প্রকল্পটি পুনরায় চালু করতে কত টাকা প্রয়োজন হতে পারে, তা নির্ধারণে অভিজ্ঞ টেকনিশিয়ান বা বিশেষজ্ঞের মাধ্যমে একটি প্রাক্কলন তৈরি করা হবে। প্রয়োজনীয় ব্যয় তুলনামূলক কম হলে উপজেলা তহবিল থেকে কাজটি করার উদ্যোগ নেওয়া হতে পারে।

আরও পড়ুনঃ  সিলেটের ২৪ জনসহ ২৯ বাংলাদেশি মিশরে উদ্ধার, সাগরে প্রাণ গেল আরও ৯ জনের
Tag :
জনপ্রিয় পোস্ট

সিলেটে ৮ বছর ধরে বন্ধ দেড় কোটি টাকার সৌরবিদ্যুৎ প্রকল্প

Update Time : ০২:১৪:৫৯ অপরাহ্ন, সোমবার, ২১ সেপ্টেম্বর ২০২৬

 সিলেট সুনামগঞ্জের শান্তিগঞ্জ উপজেলা প্রশাসনিক ভবনে স্থাপন করা সৌরবিদ্যুৎ প্রকল্পটি দীর্ঘ প্রায় আট বছর ধরে অচল অবস্থায় পড়ে আছে। নবায়নযোগ্য জ্বালানির ব্যবহার বাড়ানোর উদ্দেশ্যে স্থাপন করা প্রকল্পটিতে ব্যয় হয়েছিল প্রায় ১ কোটি ৪৭ লাখ টাকা।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, জলবায়ু পরিবর্তন ট্রাস্টের আওতায় ২০১৩ সালে বাংলাদেশ পল্লী বিদ্যুতায়ন বোর্ডের অধীনে প্রকল্পটি স্থাপন করা হয়। এতে ৩০ কিলোওয়াট ক্ষমতার ১০০টি সোলার প্যানেলসহ ব্যাটারি, ইনভার্টার, কন্ট্রোলার ও অন্যান্য সরঞ্জাম বসানো হয়েছিল।

প্রকল্পটি চালু থাকার সময় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয়, সহকারী কমিশনার (ভূমি) কার্যালয়, উপজেলা পরিষদসহ বেশ কয়েকটি সরকারি দপ্তর এবং ইউএনওর বাসভবনে বিদ্যুৎ সরবরাহ করা হতো। কিন্তু চালুর দুই থেকে তিন বছরের মধ্যেই বিভিন্ন যন্ত্রাংশে সমস্যা দেখা দিতে শুরু করে। একপর্যায়ে পুরো ব্যবস্থাটিই অকার্যকর হয়ে যায়।

দীর্ঘদিন ধরে সোলার প্যানেল, ব্যাটারি ও অন্যান্য সরঞ্জাম পড়ে থাকায় সেগুলোর অবস্থা আরও নাজুক হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। বিশেষ করে দীর্ঘ সময় রক্ষণাবেক্ষণ ছাড়া থাকলে ব্যাটারি, ইনভার্টার ও কন্ট্রোলারের মতো যন্ত্রপাতির কার্যক্ষমতা কমে যেতে পারে।

প্রকল্পটি কেন দীর্ঘদিন অচল রয়েছে এবং এর রক্ষণাবেক্ষণের দায়িত্ব কার ওপর ছিল—এসব বিষয় নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। পাশাপাশি প্রকল্প স্থাপনের সময় কত বছরের ওয়ারেন্টি বা রক্ষণাবেক্ষণ সুবিধা ছিল, সেটিও খতিয়ে দেখার প্রয়োজন রয়েছে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন।

শান্তিগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা হিল্লোল চাকমা জানিয়েছেন, তিনি সম্প্রতি দায়িত্ব নিয়েছেন। প্রকল্পটি পুনরায় চালু করতে কত টাকা প্রয়োজন হতে পারে, তা নির্ধারণে অভিজ্ঞ টেকনিশিয়ান বা বিশেষজ্ঞের মাধ্যমে একটি প্রাক্কলন তৈরি করা হবে। প্রয়োজনীয় ব্যয় তুলনামূলক কম হলে উপজেলা তহবিল থেকে কাজটি করার উদ্যোগ নেওয়া হতে পারে।

আরও পড়ুনঃ  নেপাল-চীন সীমান্তে বন্যা: ১৫০০ নিখোঁজ, ৮০০ জনই বিদেশি