Dhaka ০৫:৩৬ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২৪ অগাস্ট ২০২৬, ৮ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম :
খেজুরের বিচি, কামড়ানো শসা ও পোড়ানো চুড়ির সূত্রে শিক্ষক পরিবারের চার হত্যার রহস্য উদঘাটন এনসিপির জরুরি সংবাদ সম্মেলন সোমবার যুদ্ধের মধ্যেই জ্বালানি নিয়ে বড় সুখবর দিল ইরান মাদ্রাসাছাত্রীকে ধ র্ষ ণের দায়ে দুজনের যাবজ্জীবন ইসলামি বক্তা মিসবাহের ‘১০ নম্বর স্ত্রী’ হতে চান কনটেন্ট ক্রিয়েটর মীম সিলেটে পুলিশের সাঁড়াশি অভিযান, ২৪ ঘণ্টায় ৭৩ আসামি গ্রেপ্তার রাষ্ট্রপতির একান্ত সচিব হলেন আবু আউয়াল সিলেটের মেয়ে রুবাইয়ার  ৭৩ লাখ ফুল ফান্ডেড স্কলারশিপ অর্জন শাহজালাল বিমানবন্দরে ৩ কেজি কুশসহ ভারতীয় নাগরিক গ্রেপ্তার এয়ার হোস্টেস থেকে পুলিশ কর্মকর্তা, এবার কোটি টাকার জমি কেলেঙ্কারির অভিযোগে বরখাস্ত

প্রেমের সম্পর্কের জেরে সিলেটে ট্রিপল মার্ডার, গ্রেপ্তার কসাই বাবুল

সিলেট নগরের মিতালী আবাসিক এলাকায় বৃদ্ধ দম্পতি ও তাদের গৃহকর্মীকে হত্যার ঘটনায় বাবুল মিয়া (২৬) নামে এক যুবককে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। প্রাথমিক তদন্তে পুলিশ বলছে, গৃহকর্মী তাহমিনার সঙ্গে প্রেমের সম্পর্কের জেরে এ হত্যাকাণ্ডের সূত্রপাত হতে পারে।

বুধবার (১২ আগস্ট) সকালে মিতালী আবাসিক এলাকার ১১১ নম্বর বাসা থেকে এম এ সাত্তার (৯০), তার স্ত্রী সুরাইয়া বেগম (৭৬) এবং গৃহকর্মী তাহমিনার (১৫) গলাকাটা মরদেহ উদ্ধার করা হয়।

সিলেট মেট্রোপলিটন পুলিশের কমিশনার সারোয়ার মুর্শেদ শামীম জানান, গ্রেপ্তার বাবুল পেশায় একজন কসাই এবং তিনি পাশের একটি কলোনিতে থাকতেন। গৃহকর্মী তাহমিনার সঙ্গে তার প্রেমের সম্পর্ক ছিল। এ কারণে ওই বাসায় তার যাতায়াত ছিল।

পুলিশের প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী, বুধবার সকালে তাহমিনার সম্মতিতে বাবুল বাসায় প্রবেশ করেন। পরে তাদের মধ্যে কথা কাটাকাটি হলে একপর্যায়ে তাহমিনাকে ছুরিকাঘাতে হত্যা করা হয়। এরপর বাসায় থাকা সুরাইয়া বেগম ও এম এ সাত্তারকে দেখে তাদেরও ধারালো অস্ত্র দিয়ে হত্যা করা হয় বলে পুলিশ জানিয়েছে।

হত্যাকাণ্ডের পর বাবুল বাড়ির পেছনের দিক দিয়ে পালিয়ে যান। ঘটনার প্রায় সাত ঘণ্টা পর অন্য একটি সিসি ক্যামেরার ফুটেজ বিশ্লেষণ করে তাকে শনাক্ত করে আটক করে পুলিশ। পরে তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে হত্যায় ব্যবহৃত ছুরিও উদ্ধার করা হয়।

পুলিশ জানায়, মিতালী আবাসিক এলাকাটি সিসি ক্যামেরার আওতাধীন। ১১১ নম্বর বাসাতেও নিজস্ব ক্যামেরা ছিল। তবে বুধবার সকাল ৯টা থেকে সাড়ে ১০টা পর্যন্ত এলাকায় লোডশেডিং থাকায় ওই সময়ের কোনো ফুটেজ পাওয়া যায়নি। পুলিশের ধারণা, লোডশেডিংয়ের সুযোগ নিয়েই হত্যাকাণ্ড ঘটানো হয়েছে।

তবে হত্যার পেছনে শুধু প্রেমের সম্পর্কই ছিল কি না, তা এখনো নিশ্চিত নয়। চুরি-ডাকাতি, পারিবারিক বিরোধ, পূর্বশত্রুতা এবং জমিজমা সংক্রান্ত বিরোধের বিষয়গুলোও তদন্তে গুরুত্ব দিয়ে দেখা হচ্ছে।

ঘটনাস্থল পরিদর্শন শেষে পুলিশ কমিশনার জানান, বাসার ওয়ারড্রোব ও আলমারি খোলা ছিল এবং স্বর্ণালংকারসহ মূল্যবান জিনিসপত্র খোয়া যাওয়ার তথ্য পাওয়া গেছে। এ কারণে ডাকাতির বিষয়টিও তদন্ত করা হচ্ছে।

আরও পড়ুনঃ  সিলেটে গৃহবধূর ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার

এদিকে বাসার আরেক গৃহকর্মীর সন্ধান না পাওয়া এবং সম্প্রতি নিচতলার এক ভাড়াটের সঙ্গে বিরোধের বিষয়টিও তদন্তকারীদের নজরে রয়েছে।

পুলিশ, পিবিআই ও সিআইডির সদস্যরা ঘটনাস্থল থেকে আলামত সংগ্রহ করেছেন। হত্যাকাণ্ডের প্রকৃত কারণ এবং এর সঙ্গে আর কেউ জড়িত কি না, তা খতিয়ে দেখতে বিশেষ তদন্ত দল কাজ করছে।

Tag :
জনপ্রিয় পোস্ট

খেজুরের বিচি, কামড়ানো শসা ও পোড়ানো চুড়ির সূত্রে শিক্ষক পরিবারের চার হত্যার রহস্য উদঘাটন

প্রেমের সম্পর্কের জেরে সিলেটে ট্রিপল মার্ডার, গ্রেপ্তার কসাই বাবুল

Update Time : ০৯:২৪:২৫ অপরাহ্ন, বুধবার, ১২ অগাস্ট ২০২৬

সিলেট নগরের মিতালী আবাসিক এলাকায় বৃদ্ধ দম্পতি ও তাদের গৃহকর্মীকে হত্যার ঘটনায় বাবুল মিয়া (২৬) নামে এক যুবককে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। প্রাথমিক তদন্তে পুলিশ বলছে, গৃহকর্মী তাহমিনার সঙ্গে প্রেমের সম্পর্কের জেরে এ হত্যাকাণ্ডের সূত্রপাত হতে পারে।

বুধবার (১২ আগস্ট) সকালে মিতালী আবাসিক এলাকার ১১১ নম্বর বাসা থেকে এম এ সাত্তার (৯০), তার স্ত্রী সুরাইয়া বেগম (৭৬) এবং গৃহকর্মী তাহমিনার (১৫) গলাকাটা মরদেহ উদ্ধার করা হয়।

সিলেট মেট্রোপলিটন পুলিশের কমিশনার সারোয়ার মুর্শেদ শামীম জানান, গ্রেপ্তার বাবুল পেশায় একজন কসাই এবং তিনি পাশের একটি কলোনিতে থাকতেন। গৃহকর্মী তাহমিনার সঙ্গে তার প্রেমের সম্পর্ক ছিল। এ কারণে ওই বাসায় তার যাতায়াত ছিল।

পুলিশের প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী, বুধবার সকালে তাহমিনার সম্মতিতে বাবুল বাসায় প্রবেশ করেন। পরে তাদের মধ্যে কথা কাটাকাটি হলে একপর্যায়ে তাহমিনাকে ছুরিকাঘাতে হত্যা করা হয়। এরপর বাসায় থাকা সুরাইয়া বেগম ও এম এ সাত্তারকে দেখে তাদেরও ধারালো অস্ত্র দিয়ে হত্যা করা হয় বলে পুলিশ জানিয়েছে।

হত্যাকাণ্ডের পর বাবুল বাড়ির পেছনের দিক দিয়ে পালিয়ে যান। ঘটনার প্রায় সাত ঘণ্টা পর অন্য একটি সিসি ক্যামেরার ফুটেজ বিশ্লেষণ করে তাকে শনাক্ত করে আটক করে পুলিশ। পরে তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে হত্যায় ব্যবহৃত ছুরিও উদ্ধার করা হয়।

পুলিশ জানায়, মিতালী আবাসিক এলাকাটি সিসি ক্যামেরার আওতাধীন। ১১১ নম্বর বাসাতেও নিজস্ব ক্যামেরা ছিল। তবে বুধবার সকাল ৯টা থেকে সাড়ে ১০টা পর্যন্ত এলাকায় লোডশেডিং থাকায় ওই সময়ের কোনো ফুটেজ পাওয়া যায়নি। পুলিশের ধারণা, লোডশেডিংয়ের সুযোগ নিয়েই হত্যাকাণ্ড ঘটানো হয়েছে।

তবে হত্যার পেছনে শুধু প্রেমের সম্পর্কই ছিল কি না, তা এখনো নিশ্চিত নয়। চুরি-ডাকাতি, পারিবারিক বিরোধ, পূর্বশত্রুতা এবং জমিজমা সংক্রান্ত বিরোধের বিষয়গুলোও তদন্তে গুরুত্ব দিয়ে দেখা হচ্ছে।

ঘটনাস্থল পরিদর্শন শেষে পুলিশ কমিশনার জানান, বাসার ওয়ারড্রোব ও আলমারি খোলা ছিল এবং স্বর্ণালংকারসহ মূল্যবান জিনিসপত্র খোয়া যাওয়ার তথ্য পাওয়া গেছে। এ কারণে ডাকাতির বিষয়টিও তদন্ত করা হচ্ছে।

আরও পড়ুনঃ  মন্ত্রিসভায় বড় রদবদল: বাদ পড়তে পারেন যেসব মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রী

এদিকে বাসার আরেক গৃহকর্মীর সন্ধান না পাওয়া এবং সম্প্রতি নিচতলার এক ভাড়াটের সঙ্গে বিরোধের বিষয়টিও তদন্তকারীদের নজরে রয়েছে।

পুলিশ, পিবিআই ও সিআইডির সদস্যরা ঘটনাস্থল থেকে আলামত সংগ্রহ করেছেন। হত্যাকাণ্ডের প্রকৃত কারণ এবং এর সঙ্গে আর কেউ জড়িত কি না, তা খতিয়ে দেখতে বিশেষ তদন্ত দল কাজ করছে।