Dhaka ১২:৩২ অপরাহ্ন, শনিবার, ১২ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৮ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম :
সিকৃবি ভিসির অপসারণ দাবিতে আন্দোলন, ১৮ অভিযোগ তুলে লিফলেট জৈন্তাপুরে লরি থেকে এস্কেভেটর পড়ে চালকের মৃত্যু শনিবার বিদ্যুৎ থাকবে না সিলেটের অর্ধশতাধিক এলাকায় টিকা না নেওয়া শিশুরাই নতুন করে হামে আক্রান্ত হচ্ছে: স্বাস্থ্যমন্ত্রী মহাখালী রেলগেটে সাততলা ভবনে আগুন, নিয়ন্ত্রণে কাজ করছে ফায়ার সার্ভিসের একাধিক ইউনিট মাত্র ১৩৫ দিনে পবিত্র কোরআনের হাফেজ হলেন ৮ বছরের সাজিদ ‘অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের তৈরি শ্বেতপত্রের আলোকেই পদক্ষেপ গ্রহণ করছে সরকার’ ফুটবল খেলা নিয়ে বিরোধ, টর্চলাইট জ্বালিয়ে সংঘর্ষে পুলিশসহ আহত অর্ধশত বিয়ের দাবিতে ওমান প্রবাসী প্রেমিকের বাড়িতে ৪ দিন ধরে তরুণীর অবস্থান ট্যাংক থেকে গোলাবর্ষণের সময় দুর্ঘটনা, নিহত দুই সেনাসদস্যের পরিচয় প্রকাশ

কানাইঘাটে ভারতফেরত নারীকে ১০ দিন আটকে রেখে ধ র্ষ ণ, গ্রেপ্তার ১

সিলেটের কানাইঘাটে ভারত থেকে আসা ২২ বছর বয়সী এক নারীকে প্রায় ১০ দিন আটকে রেখে পালাক্রমে ধর্ষণের অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে মামলা দায়েরের পর মামলার দ্বিতীয় আসামি নাঈম উদ্দিনকে (২২) গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

বুধবার ভোর সাড়ে ৪টার দিকে কানাইঘাট থানার পুলিশ অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেপ্তার করে। গ্রেপ্তার নাঈম উদ্দিন উপজেলার সীমান্তবর্তী লক্ষীপ্রসাদ পূর্ব ইউনিয়নের দনা পাত্তিছড়া গ্রামের আব্দুর রহমান ডালু মিয়ার ছেলে।

পুলিশ ও মামলার সূত্রে জানা যায়, ভুক্তভোগী নারী শেরপুর সদর উপজেলার বাসিন্দা। প্রায় ৯ মাস আগে তিনি নিজ বাড়ি থেকে সাতক্ষীরা জেলার সীমান্তবর্তী এলাকা দিয়ে ভারতে যান। পরে ভারতের হায়দ্রাবাদে গিয়ে কাপড়ের ব্যবসা করতেন।

গত ২০ আগস্ট জাহাঙ্গীর নামে তার এক মামার সহায়তায় বাংলাদেশে ফেরার উদ্দেশ্যে হায়দ্রাবাদ থেকে ভারতের সীমান্তবর্তী নন্দনপুর এলাকায় আসেন তিনি। সেখানে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী (বিএসএফ) তার মামা জাহাঙ্গীরকে আটক করে নিয়ে যায়। এ সময় ওই নারী কান্নাকাটি করলে বিএসএফ তাকে কানাইঘাটের দনা সীমান্ত দিয়ে বাংলাদেশে পাঠিয়ে দেয় বলে মামলার এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে।

পরে ওইদিন রাত সাড়ে ১১টার দিকে কানাইঘাটের দনা পাত্তিছড়া এলাকায় ওই নারীর সঙ্গে কয়েকজনের দেখা হয়। তারা তাকে নিজ বাড়ি শেরপুরে পৌঁছে দেওয়ার কথা বলে কৌশলে শানুর আহমদের একটি নির্জন বাড়িতে নিয়ে যায় বলে অভিযোগ করা হয়েছে।

মামলার এজাহার অনুযায়ী, সেখানে তাকে প্রায় ১০ দিন আটকে রেখে কয়েকজন মিলে পালাক্রমে ধর্ষণ করে। পরে স্থানীয় ইউপি সদস্য নাজিম মেম্বারের সহায়তায় ওই নারীকে উদ্ধার করা হয়।

এ ঘটনায় বুধবার ভুক্তভোগী নারী কানাইঘাট থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে মামলা দায়ের করেন। মামলায় শানুর আহমদ (৩০), নাঈম উদ্দিন (২২), কাওছার আহমদ (৩০), হুসাইন আহমদ (২৪), রিয়াজ উদ্দিন (৩০) ও ইকবাল আহমদ (২৮)-কে আসামি করা হয়েছে।

আরও পড়ুনঃ  নিখোঁজ একমাত্র ছেলেকে খুঁজতে ২ হাজার রুপি ধার, দুর্গম পাহাড়ে বাবার হাহাকার

মামলা দায়েরের পর কানাইঘাট থানার অফিসার ইনচার্জ আমিনুল ইসলামের নির্দেশনায় বুধবার ভোরে দুর্গম পাহাড়ি ও সীমান্তবর্তী দনা এলাকায় অভিযান চালায় পুলিশ। অভিযানে নাঈম উদ্দিনকে গ্রেপ্তার করা হয়।

পুলিশ জানায়, গ্রেপ্তার নাঈমকে বুধবার সকালে আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে। মামলার অন্য আসামিদের গ্রেপ্তারে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

এদিকে, ভুক্তভোগী নারীকে পুলিশ হেফাজতে সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ওয়ান-স্টপ ক্রাইসিস সেন্টারে (ওসিসি) ভর্তি করা হয়েছে। সেখানে তার প্রয়োজনীয় চিকিৎসা ও পরীক্ষা-নিরীক্ষা করা হচ্ছে।

Tag :
জনপ্রিয় পোস্ট

সিকৃবি ভিসির অপসারণ দাবিতে আন্দোলন, ১৮ অভিযোগ তুলে লিফলেট

কানাইঘাটে ভারতফেরত নারীকে ১০ দিন আটকে রেখে ধ র্ষ ণ, গ্রেপ্তার ১

Update Time : ০২:০৭:৩৬ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬

সিলেটের কানাইঘাটে ভারত থেকে আসা ২২ বছর বয়সী এক নারীকে প্রায় ১০ দিন আটকে রেখে পালাক্রমে ধর্ষণের অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে মামলা দায়েরের পর মামলার দ্বিতীয় আসামি নাঈম উদ্দিনকে (২২) গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

বুধবার ভোর সাড়ে ৪টার দিকে কানাইঘাট থানার পুলিশ অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেপ্তার করে। গ্রেপ্তার নাঈম উদ্দিন উপজেলার সীমান্তবর্তী লক্ষীপ্রসাদ পূর্ব ইউনিয়নের দনা পাত্তিছড়া গ্রামের আব্দুর রহমান ডালু মিয়ার ছেলে।

পুলিশ ও মামলার সূত্রে জানা যায়, ভুক্তভোগী নারী শেরপুর সদর উপজেলার বাসিন্দা। প্রায় ৯ মাস আগে তিনি নিজ বাড়ি থেকে সাতক্ষীরা জেলার সীমান্তবর্তী এলাকা দিয়ে ভারতে যান। পরে ভারতের হায়দ্রাবাদে গিয়ে কাপড়ের ব্যবসা করতেন।

গত ২০ আগস্ট জাহাঙ্গীর নামে তার এক মামার সহায়তায় বাংলাদেশে ফেরার উদ্দেশ্যে হায়দ্রাবাদ থেকে ভারতের সীমান্তবর্তী নন্দনপুর এলাকায় আসেন তিনি। সেখানে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী (বিএসএফ) তার মামা জাহাঙ্গীরকে আটক করে নিয়ে যায়। এ সময় ওই নারী কান্নাকাটি করলে বিএসএফ তাকে কানাইঘাটের দনা সীমান্ত দিয়ে বাংলাদেশে পাঠিয়ে দেয় বলে মামলার এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে।

পরে ওইদিন রাত সাড়ে ১১টার দিকে কানাইঘাটের দনা পাত্তিছড়া এলাকায় ওই নারীর সঙ্গে কয়েকজনের দেখা হয়। তারা তাকে নিজ বাড়ি শেরপুরে পৌঁছে দেওয়ার কথা বলে কৌশলে শানুর আহমদের একটি নির্জন বাড়িতে নিয়ে যায় বলে অভিযোগ করা হয়েছে।

মামলার এজাহার অনুযায়ী, সেখানে তাকে প্রায় ১০ দিন আটকে রেখে কয়েকজন মিলে পালাক্রমে ধর্ষণ করে। পরে স্থানীয় ইউপি সদস্য নাজিম মেম্বারের সহায়তায় ওই নারীকে উদ্ধার করা হয়।

এ ঘটনায় বুধবার ভুক্তভোগী নারী কানাইঘাট থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে মামলা দায়ের করেন। মামলায় শানুর আহমদ (৩০), নাঈম উদ্দিন (২২), কাওছার আহমদ (৩০), হুসাইন আহমদ (২৪), রিয়াজ উদ্দিন (৩০) ও ইকবাল আহমদ (২৮)-কে আসামি করা হয়েছে।

আরও পড়ুনঃ  বিয়ের আশ্বাসে সম্পর্ক, গর্ভধারণ ও গর্ভপাত; প্রেমিকের বাড়িতে তরুণীর অবস্থান

মামলা দায়েরের পর কানাইঘাট থানার অফিসার ইনচার্জ আমিনুল ইসলামের নির্দেশনায় বুধবার ভোরে দুর্গম পাহাড়ি ও সীমান্তবর্তী দনা এলাকায় অভিযান চালায় পুলিশ। অভিযানে নাঈম উদ্দিনকে গ্রেপ্তার করা হয়।

পুলিশ জানায়, গ্রেপ্তার নাঈমকে বুধবার সকালে আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে। মামলার অন্য আসামিদের গ্রেপ্তারে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

এদিকে, ভুক্তভোগী নারীকে পুলিশ হেফাজতে সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ওয়ান-স্টপ ক্রাইসিস সেন্টারে (ওসিসি) ভর্তি করা হয়েছে। সেখানে তার প্রয়োজনীয় চিকিৎসা ও পরীক্ষা-নিরীক্ষা করা হচ্ছে।