Dhaka ১২:৩২ অপরাহ্ন, শনিবার, ১২ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৮ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম :
সিকৃবি ভিসির অপসারণ দাবিতে আন্দোলন, ১৮ অভিযোগ তুলে লিফলেট জৈন্তাপুরে লরি থেকে এস্কেভেটর পড়ে চালকের মৃত্যু শনিবার বিদ্যুৎ থাকবে না সিলেটের অর্ধশতাধিক এলাকায় টিকা না নেওয়া শিশুরাই নতুন করে হামে আক্রান্ত হচ্ছে: স্বাস্থ্যমন্ত্রী মহাখালী রেলগেটে সাততলা ভবনে আগুন, নিয়ন্ত্রণে কাজ করছে ফায়ার সার্ভিসের একাধিক ইউনিট মাত্র ১৩৫ দিনে পবিত্র কোরআনের হাফেজ হলেন ৮ বছরের সাজিদ ‘অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের তৈরি শ্বেতপত্রের আলোকেই পদক্ষেপ গ্রহণ করছে সরকার’ ফুটবল খেলা নিয়ে বিরোধ, টর্চলাইট জ্বালিয়ে সংঘর্ষে পুলিশসহ আহত অর্ধশত বিয়ের দাবিতে ওমান প্রবাসী প্রেমিকের বাড়িতে ৪ দিন ধরে তরুণীর অবস্থান ট্যাংক থেকে গোলাবর্ষণের সময় দুর্ঘটনা, নিহত দুই সেনাসদস্যের পরিচয় প্রকাশ

সিলেট সীমান্তে কোটি টাকার বাণিজ্য,বোর্ডার ক্রস মোটরসাইকেল

 

সিলেট সীমান্ত এখন চোরাচালানের নতুন রুট হিসেবে ব্যবহার হচ্ছে মোটরসাইকেল পাচারে। আগে সীমান্তের বিভিন্ন এলাকা দিয়ে ভারত থেকে গরু, মহিষ, নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য, প্রসাধনী সামগ্রী ও মাদকসহ নানা ধরনের পণ্য অবৈধভাবে বাংলাদেশে প্রবেশ করানো হলেও সাম্প্রতিক সময়ে সেই তালিকায় যুক্ত হয়েছে মোটরসাইকেল।

সীমান্তের দুর্গম ও পাহাড়ি পথ ব্যবহার করে চোরাকারবারিরা ভারত থেকে মোটরসাইকেল এনে দেশের অভ্যন্তরে সরবরাহ করছে বলে অভিযোগ রয়েছে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর চোখ ফাঁকি দিতে দিনের চেয়ে রাতের বেলায় এসব তৎপরতা বেশি চালানো হচ্ছে বলে স্থানীয়দের ভাষ্য।

সীমান্ত এলাকার বাসিন্দারা জানান, দীর্ঘদিন ধরেই সিলেটের বিভিন্ন সীমান্ত দিয়ে নানা ধরনের চোরাইপণ্য বাংলাদেশে প্রবেশ করছে। সীমান্তবর্তী এলাকাগুলোতে রয়েছে অসংখ্য ছোট-বড় পাহাড়ি পথ, টিলা ও দুর্গম রাস্তা। এসব পথ ব্যবহার করে চোরাকারবারিরা সহজেই এক স্থান থেকে অন্য স্থানে পণ্য সরিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করে। নতুন করে মোটরসাইকেল পাচারের প্রবণতা বাড়ায় সীমান্ত এলাকার নিরাপত্তা ও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।

স্থানীয় সূত্রগুলোর দাবি, ভারতীয় বিভিন্ন ব্র্যান্ডের মোটরসাইকেল সীমান্ত দিয়ে এনে দেশের বিভিন্ন এলাকায় বিক্রি করা হচ্ছে। এসব মোটরসাইকেলের বৈধ কাগজপত্র না থাকায় সরকার বিপুল পরিমাণ রাজস্ব থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। একই সঙ্গে অবৈধভাবে আমদানি করা যানবাহন ব্যবহার করে অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড পরিচালনার আশঙ্কাও রয়েছে।

সীমান্তে মোটরসাইকেল চোরাচালানের সঙ্গে একটি সংঘবদ্ধ চক্র জড়িত থাকতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। সীমান্তের ওপার থেকে মোটরসাইকেল সংগ্রহের পর নির্দিষ্ট রুটে তা বাংলাদেশে ঢোকানো এবং পরে বিভিন্ন ব্যক্তির কাছে হস্তান্তর করা হয় বলে অভিযোগ রয়েছে। এ কাজে সীমান্তের স্থানীয় কিছু দালাল ও বাহক ব্যবহৃত হচ্ছে বলেও অভিযোগ উঠেছে।

চোরাচালান প্রতিরোধে সীমান্তরক্ষী বাহিনী ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী অন্যান্য সংস্থার নজরদারি থাকলেও দুর্গম ভূপ্রকৃতি এবং অসংখ্য বিকল্প পথের কারণে চোরাকারবারিদের পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণ করা কঠিন হয়ে পড়ছে।

আরও পড়ুনঃ  ‘অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের তৈরি শ্বেতপত্রের আলোকেই পদক্ষেপ গ্রহণ করছে সরকার’

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, সীমান্ত দিয়ে মোটরসাইকেল চোরাচালান বন্ধ করতে হলে শুধু সীমান্তে অভিযান পরিচালনা করলেই হবে না; এর সঙ্গে জড়িত মূল হোতাদের শনাক্ত করা এবং দেশের অভ্যন্তরে অবৈধ মোটরসাইকেল বিক্রির নেটওয়ার্ক ভেঙে দিতে হবে। একই সঙ্গে অবৈধভাবে প্রবেশ করা মোটরসাইকেল কোথায় যাচ্ছে এবং কারা এগুলো কিনছে, সেটিও নজরদারির আওতায় আনা প্রয়োজন।

সীমান্ত এলাকার বাসিন্দাদের দাবি, নিয়মিত অভিযান ও নজরদারি জোরদার করা হলে চোরাচালান অনেকটাই নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব। পাশাপাশি সীমান্তবর্তী এলাকার মানুষের সহযোগিতা নিয়ে সন্দেহজনক চলাচল ও অবৈধ পণ্য পরিবহনের তথ্য দ্রুত আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কাছে পৌঁছানোর ব্যবস্থা করা জরুরি।

গরু-মহিষ ও নিত্যপণ্য থেকে শুরু করে মাদক ও প্রসাধনী—দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন চোরাইপণ্যের রুট হিসেবে পরিচিত সিলেট সীমান্তে এবার মোটরসাইকেলের সংযোজন নতুন উদ্বেগ তৈরি করেছে। চোরাচালানের এই নতুন প্রবণতা ঠেকাতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নেবে—এমনটাই প্রত্যাশা স্থানীয়দের।

Tag :
জনপ্রিয় পোস্ট

সিকৃবি ভিসির অপসারণ দাবিতে আন্দোলন, ১৮ অভিযোগ তুলে লিফলেট

সিলেট সীমান্তে কোটি টাকার বাণিজ্য,বোর্ডার ক্রস মোটরসাইকেল

Update Time : ০৩:১০:০৪ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬

 

সিলেট সীমান্ত এখন চোরাচালানের নতুন রুট হিসেবে ব্যবহার হচ্ছে মোটরসাইকেল পাচারে। আগে সীমান্তের বিভিন্ন এলাকা দিয়ে ভারত থেকে গরু, মহিষ, নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য, প্রসাধনী সামগ্রী ও মাদকসহ নানা ধরনের পণ্য অবৈধভাবে বাংলাদেশে প্রবেশ করানো হলেও সাম্প্রতিক সময়ে সেই তালিকায় যুক্ত হয়েছে মোটরসাইকেল।

সীমান্তের দুর্গম ও পাহাড়ি পথ ব্যবহার করে চোরাকারবারিরা ভারত থেকে মোটরসাইকেল এনে দেশের অভ্যন্তরে সরবরাহ করছে বলে অভিযোগ রয়েছে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর চোখ ফাঁকি দিতে দিনের চেয়ে রাতের বেলায় এসব তৎপরতা বেশি চালানো হচ্ছে বলে স্থানীয়দের ভাষ্য।

সীমান্ত এলাকার বাসিন্দারা জানান, দীর্ঘদিন ধরেই সিলেটের বিভিন্ন সীমান্ত দিয়ে নানা ধরনের চোরাইপণ্য বাংলাদেশে প্রবেশ করছে। সীমান্তবর্তী এলাকাগুলোতে রয়েছে অসংখ্য ছোট-বড় পাহাড়ি পথ, টিলা ও দুর্গম রাস্তা। এসব পথ ব্যবহার করে চোরাকারবারিরা সহজেই এক স্থান থেকে অন্য স্থানে পণ্য সরিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করে। নতুন করে মোটরসাইকেল পাচারের প্রবণতা বাড়ায় সীমান্ত এলাকার নিরাপত্তা ও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।

স্থানীয় সূত্রগুলোর দাবি, ভারতীয় বিভিন্ন ব্র্যান্ডের মোটরসাইকেল সীমান্ত দিয়ে এনে দেশের বিভিন্ন এলাকায় বিক্রি করা হচ্ছে। এসব মোটরসাইকেলের বৈধ কাগজপত্র না থাকায় সরকার বিপুল পরিমাণ রাজস্ব থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। একই সঙ্গে অবৈধভাবে আমদানি করা যানবাহন ব্যবহার করে অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড পরিচালনার আশঙ্কাও রয়েছে।

সীমান্তে মোটরসাইকেল চোরাচালানের সঙ্গে একটি সংঘবদ্ধ চক্র জড়িত থাকতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। সীমান্তের ওপার থেকে মোটরসাইকেল সংগ্রহের পর নির্দিষ্ট রুটে তা বাংলাদেশে ঢোকানো এবং পরে বিভিন্ন ব্যক্তির কাছে হস্তান্তর করা হয় বলে অভিযোগ রয়েছে। এ কাজে সীমান্তের স্থানীয় কিছু দালাল ও বাহক ব্যবহৃত হচ্ছে বলেও অভিযোগ উঠেছে।

চোরাচালান প্রতিরোধে সীমান্তরক্ষী বাহিনী ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী অন্যান্য সংস্থার নজরদারি থাকলেও দুর্গম ভূপ্রকৃতি এবং অসংখ্য বিকল্প পথের কারণে চোরাকারবারিদের পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণ করা কঠিন হয়ে পড়ছে।

আরও পড়ুনঃ  নিম্নস্তরের সিগারেটের দাম বাড়ানোর প্রস্তাব অনুমোদন, ১০ শলাকার মূল্য ৬৫ টাকা

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, সীমান্ত দিয়ে মোটরসাইকেল চোরাচালান বন্ধ করতে হলে শুধু সীমান্তে অভিযান পরিচালনা করলেই হবে না; এর সঙ্গে জড়িত মূল হোতাদের শনাক্ত করা এবং দেশের অভ্যন্তরে অবৈধ মোটরসাইকেল বিক্রির নেটওয়ার্ক ভেঙে দিতে হবে। একই সঙ্গে অবৈধভাবে প্রবেশ করা মোটরসাইকেল কোথায় যাচ্ছে এবং কারা এগুলো কিনছে, সেটিও নজরদারির আওতায় আনা প্রয়োজন।

সীমান্ত এলাকার বাসিন্দাদের দাবি, নিয়মিত অভিযান ও নজরদারি জোরদার করা হলে চোরাচালান অনেকটাই নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব। পাশাপাশি সীমান্তবর্তী এলাকার মানুষের সহযোগিতা নিয়ে সন্দেহজনক চলাচল ও অবৈধ পণ্য পরিবহনের তথ্য দ্রুত আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কাছে পৌঁছানোর ব্যবস্থা করা জরুরি।

গরু-মহিষ ও নিত্যপণ্য থেকে শুরু করে মাদক ও প্রসাধনী—দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন চোরাইপণ্যের রুট হিসেবে পরিচিত সিলেট সীমান্তে এবার মোটরসাইকেলের সংযোজন নতুন উদ্বেগ তৈরি করেছে। চোরাচালানের এই নতুন প্রবণতা ঠেকাতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নেবে—এমনটাই প্রত্যাশা স্থানীয়দের।