
পানি কমতে শুরু করায় পাবনার চাটমোহরসহ চলনবিল অঞ্চলে আগেভাগেই শুরু হয়েছে মাছ শিকারের ঐতিহ্যবাহী বাউৎ উৎসব। বিভিন্ন বিল, নদী ও জলাশয়ে পলো-জাল নিয়ে নেমেছেন শত শত শৌখিন মৎস্য শিকারি। তাঁদের পদচারণা ও আনন্দ-উচ্ছ্বাসে উৎসবমুখর হয়ে উঠেছে চলনবিলের জনপদ।
চাটমোহর উপজেলার রামের বিল, খলিশাগাড়ি বিল, ডিকশি বিল, বিলকুড়ালিয়া, গুমানী ও চিকনাই নদীসহ চলনবিলের বিভিন্ন জলাশয়ে চলছে এ উৎসব। স্থানীয় ভাষায় দলবদ্ধভাবে মাছ ধরার এ আয়োজনকে বলা হয় ‘বাউৎ উৎসব’। সপ্তাহের প্রতি শনিবার ও মঙ্গলবার নির্দিষ্ট কোনো বিলে বসে এ উৎসব। এতে চাটমোহর, ভাঙ্গুড়াসহ আশপাশের বিভিন্ন উপজেলার মানুষ অংশ নেন।
ভোর থেকেই বিভিন্ন ধরনের যানবাহনে মাছ ধরার সরঞ্জাম নিয়ে বিলে হাজির হন শৌখিন মৎস্য শিকারিরা। পরে দলবেঁধে হৈ-হুল্লোড় ও আনন্দ-উচ্ছ্বাসের মধ্য দিয়ে তাঁরা নেমে পড়েন বিলের পানিতে। কারও হাতে থাকে ঐতিহ্যবাহী পলো, আবার কেউ মাছ ধরেন বিভিন্ন ধরনের জাল দিয়ে। শিশু-কিশোর থেকে শুরু করে বয়স্করাও অংশ নেন এ উৎসবে।
গত শনিবার (২৪ অক্টোবর) খলিশাগাড়ি ও রোববার (২৫ অক্টোবর) সকালে চাটমোহর উপজেলার আফরার বিলে বাউৎ উৎসব অনুষ্ঠিত হয়। এতে চাটমোহর, ভাঙ্গুড়াসহ আশপাশের বিভিন্ন উপজেলার কয়েক শ মানুষ অংশ নেন। অংশগ্রহণকারী মৎস্য শিকারিদের ধারণা, আগামী এক মাস চলনবিলের বিভিন্ন এলাকায় এ উৎসব চলবে।
উৎসবে অংশ নেওয়া শৌখিন মৎস্য শিকারি আমের আলী বলেন, বাউতে বোয়াল, শোল, রুই, কাতলাসহ বিভিন্ন প্রজাতির দেশি মাছ পাওয়া যায়। প্রতিবছর কার্তিক, অগ্রহায়ণ ও পৌষ মাসে চলনবিল অঞ্চলের বিভিন্ন নদী ও বিলে এ উৎসব বসে। তবে এবার দ্রুত পানি কমে যাওয়ায় আগেভাগেই মাছ ধরার আয়োজন শুরু হয়েছে।
ঐতিহ্যবাহী এ উৎসব ঘিরে মানুষের মধ্যে আনন্দ-উচ্ছ্বাস থাকলেও এর নেতিবাচক প্রভাব নিয়ে উদ্বেগ রয়েছে। নির্বিচারে মাছ ধরার ফলে অসংখ্য ছোট মাছ মারা যাচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে। এতে দেশি মাছের প্রজনন ও জলজ জীববৈচিত্র্য ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা করছেন সংশ্লিষ্টরা।
চাটমোহর উপজেলা সিনিয়র মৎস্য কর্মকর্তা আ. মতিন বলেন, বাউৎ উৎসব দীর্ঘদিন ধরে চলে আসছে। তবে এর ফলে বিলের জীববৈচিত্র্য বিনষ্ট হচ্ছে। এ বিষয়ে সরকারি ও বেসরকারি উদ্যোগে জনসচেতনতা বাড়ানো প্রয়োজন।
পাবনা প্রতিনিধি 




















