Dhaka ০৪:৪০ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৬ অক্টোবর ২০২৬, ১১ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

সিলেটে জুয়ার আসর ও দোকানপাট থেকে অর্থ আদায়ের অভিযোগ, আইসি মায়নুলের বিরুদ্ধে

সিলেট নগরীতে কথিত জুয়ার আসর পরিচালনা এবং বিভিন্ন দোকানপাট থেকে নিয়মিত অর্থ আদায়ের অভিযোগকে কেন্দ্র করে নতুন করে আলোচনা তৈরি হয়েছে। লামাবাজার পুলিশ ফাঁড়ির কয়েকজন সদস্যের বিরুদ্ধে রিকাবীবাজার, কাজিরবাজার, জিতুমিয়ার পয়েন্ট ও ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল এলাকার ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান থেকে অর্থ নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। তবে এসব অভিযোগের স্বাধীন ও নিরপেক্ষ সত্যতা এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি।

সম্প্রতি জুয়ার আসর পরিচালনার অভিযোগ নিয়ে সংবাদ প্রকাশের পর জামাল নামের এক ব্যক্তির একটি মন্তব্য নিয়েও আলোচনা শুরু হয়েছে। সংশ্লিষ্ট সূত্রের দাবি, তিনি ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া জানিয়ে পুলিশকে টাকা দেওয়ার বিনিময়ে জুয়ার বোর্ড পরিচালনার কথা বলেছেন। তবে তাঁর বক্তব্যের পূর্ণ প্রেক্ষাপট এবং দাবিটির সত্যতা স্বাধীনভাবে যাচাই করা প্রয়োজন।

অন্যদিকে স্থানীয়দের অভিযোগ, রিকাবীবাজার স্টেডিয়াম ও আশপাশের এলাকায় থাকা প্রায় ৭০ থেকে ৮০টি ফুটপাতের দোকান থেকে প্রতিদিন ২০০ থেকে ২৫০ টাকা করে নেওয়া হয়। অভিযোগে কয়েকজন ব্যক্তিকে অর্থ সংগ্রহের সঙ্গে যুক্ত থাকার কথা বলা হয়েছে। স্থানীয় সূত্রের ভাষ্য অনুযায়ী, সংগৃহীত অর্থ কয়েকজনের হাত ঘুরে লামাবাজার পুলিশ ফাঁড়ির একজন কনস্টেবলের কাছে পৌঁছায় এবং সেখান থেকে ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তার কাছে দেওয়ার দাবি করা হচ্ছে। এসব তথ্যেরও স্বাধীন যাচাই প্রয়োজন।

এ ছাড়া কাজিরবাজার ব্রিজ ও জিতুমিয়ার পয়েন্ট থেকে অর্থ আদায়ের ক্ষেত্রে ফাঁড়ির আইসির গাড়িচালকের বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠেছে। ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের সামনের কয়েকটি ফার্মেসি থেকেও একজন মধ্যস্থতাকারীর মাধ্যমে প্রতি সপ্তাহে অর্থ নেওয়া হয় বলে স্থানীয়দের দাবি।

এর আগে ১৫ সেপ্টেম্বর দৈনিক সোনালী সিলেটের একটি প্রতিবেদনে নগরীর ঘাসিটুলা, মোকামবাজার, কানিশাইল, কেয়াঘাট, বাগবাড়ী ও রিকাবীবাজারসহ কয়েকটি এলাকায় শিলং তীর ও জান্ডিমুন্ডু ধরনের কথিত জুয়ার আসর পরিচালনার অভিযোগ তুলে ধরা হয়েছিল। ওই প্রতিবেদন প্রকাশের পরই জামালের কথিত মন্তব্য সামনে আসে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।

স্থানীয়দের আরও অভিযোগ, ঘাসিটুলা মোকামবাজারের বড় মসজিদের সামনে সুরমা নদীর তীরে, শামিমাবাদ খান সেন্টারের আশপাশে, মনিকা সিনেমা হলসংলগ্ন এলাকা, বাগবাড়ী ব্রিজের পাশে এবং ঘাসিটুলা মরাটিলা মাদরাসার গলির মুখে বিভিন্ন সময়ে জুয়ার আসর বসে। রিকাবীবাজারের একটি রেস্টুরেন্টসংলগ্ন গলিতেও একই ধরনের আসর বসার অভিযোগ রয়েছে। এসব অভিযোগের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বক্তব্য ও স্বাধীন প্রমাণ প্রয়োজন।

আরও পড়ুনঃ  র‍্যাব-৯, র‍্যাব-২ ও র‍্যাব-১০ এর যৌথ অভিযানে যাত্রাবাড়ীতে বিয়ের প্রলোভনে যৌনকর্ম ও ভিডিও করার অভিযোগে একমাত্র আসামিকে গ্রেফতার করা হয়েছে।

অভিযোগের বিষয়ে লামাবাজার পুলিশ ফাঁড়ির আইসি মায়নুল ইসলামের সঙ্গে মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাঁর বক্তব্য পাওয়া যায়নি। অভিযোগগুলোর সত্যতা যাচাই এবং পুলিশের সংশ্লিষ্টতা থাকলে তা তদন্তের মাধ্যমে নির্ধারণের দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা।

সংশ্লিষ্ট পুলিশ কর্মকর্তা, অর্থ সংগ্রহের অভিযোগে অভিযুক্ত ব্যক্তি এবং জুয়ার আসর পরিচালনার অভিযোগ ওঠা ব্যক্তিদের বক্তব্য পাওয়া গেলে প্রতিবেদনে তা সংযোজন করা হবে।

Tag :
জনপ্রিয় পোস্ট

সিলেটে জুয়ার আসর ও দোকানপাট থেকে অর্থ আদায়ের অভিযোগ, আইসি মায়নুলের বিরুদ্ধে

Update Time : ০৬:৪২:২১ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬

সিলেট নগরীতে কথিত জুয়ার আসর পরিচালনা এবং বিভিন্ন দোকানপাট থেকে নিয়মিত অর্থ আদায়ের অভিযোগকে কেন্দ্র করে নতুন করে আলোচনা তৈরি হয়েছে। লামাবাজার পুলিশ ফাঁড়ির কয়েকজন সদস্যের বিরুদ্ধে রিকাবীবাজার, কাজিরবাজার, জিতুমিয়ার পয়েন্ট ও ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল এলাকার ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান থেকে অর্থ নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। তবে এসব অভিযোগের স্বাধীন ও নিরপেক্ষ সত্যতা এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি।

সম্প্রতি জুয়ার আসর পরিচালনার অভিযোগ নিয়ে সংবাদ প্রকাশের পর জামাল নামের এক ব্যক্তির একটি মন্তব্য নিয়েও আলোচনা শুরু হয়েছে। সংশ্লিষ্ট সূত্রের দাবি, তিনি ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া জানিয়ে পুলিশকে টাকা দেওয়ার বিনিময়ে জুয়ার বোর্ড পরিচালনার কথা বলেছেন। তবে তাঁর বক্তব্যের পূর্ণ প্রেক্ষাপট এবং দাবিটির সত্যতা স্বাধীনভাবে যাচাই করা প্রয়োজন।

অন্যদিকে স্থানীয়দের অভিযোগ, রিকাবীবাজার স্টেডিয়াম ও আশপাশের এলাকায় থাকা প্রায় ৭০ থেকে ৮০টি ফুটপাতের দোকান থেকে প্রতিদিন ২০০ থেকে ২৫০ টাকা করে নেওয়া হয়। অভিযোগে কয়েকজন ব্যক্তিকে অর্থ সংগ্রহের সঙ্গে যুক্ত থাকার কথা বলা হয়েছে। স্থানীয় সূত্রের ভাষ্য অনুযায়ী, সংগৃহীত অর্থ কয়েকজনের হাত ঘুরে লামাবাজার পুলিশ ফাঁড়ির একজন কনস্টেবলের কাছে পৌঁছায় এবং সেখান থেকে ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তার কাছে দেওয়ার দাবি করা হচ্ছে। এসব তথ্যেরও স্বাধীন যাচাই প্রয়োজন।

এ ছাড়া কাজিরবাজার ব্রিজ ও জিতুমিয়ার পয়েন্ট থেকে অর্থ আদায়ের ক্ষেত্রে ফাঁড়ির আইসির গাড়িচালকের বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠেছে। ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের সামনের কয়েকটি ফার্মেসি থেকেও একজন মধ্যস্থতাকারীর মাধ্যমে প্রতি সপ্তাহে অর্থ নেওয়া হয় বলে স্থানীয়দের দাবি।

এর আগে ১৫ সেপ্টেম্বর দৈনিক সোনালী সিলেটের একটি প্রতিবেদনে নগরীর ঘাসিটুলা, মোকামবাজার, কানিশাইল, কেয়াঘাট, বাগবাড়ী ও রিকাবীবাজারসহ কয়েকটি এলাকায় শিলং তীর ও জান্ডিমুন্ডু ধরনের কথিত জুয়ার আসর পরিচালনার অভিযোগ তুলে ধরা হয়েছিল। ওই প্রতিবেদন প্রকাশের পরই জামালের কথিত মন্তব্য সামনে আসে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।

স্থানীয়দের আরও অভিযোগ, ঘাসিটুলা মোকামবাজারের বড় মসজিদের সামনে সুরমা নদীর তীরে, শামিমাবাদ খান সেন্টারের আশপাশে, মনিকা সিনেমা হলসংলগ্ন এলাকা, বাগবাড়ী ব্রিজের পাশে এবং ঘাসিটুলা মরাটিলা মাদরাসার গলির মুখে বিভিন্ন সময়ে জুয়ার আসর বসে। রিকাবীবাজারের একটি রেস্টুরেন্টসংলগ্ন গলিতেও একই ধরনের আসর বসার অভিযোগ রয়েছে। এসব অভিযোগের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বক্তব্য ও স্বাধীন প্রমাণ প্রয়োজন।

আরও পড়ুনঃ  এক স্কুলের ৯৭ পরীক্ষার্থীর মধ্যে ৯৫ জনের বৃত্তি লাভ

অভিযোগের বিষয়ে লামাবাজার পুলিশ ফাঁড়ির আইসি মায়নুল ইসলামের সঙ্গে মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাঁর বক্তব্য পাওয়া যায়নি। অভিযোগগুলোর সত্যতা যাচাই এবং পুলিশের সংশ্লিষ্টতা থাকলে তা তদন্তের মাধ্যমে নির্ধারণের দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা।

সংশ্লিষ্ট পুলিশ কর্মকর্তা, অর্থ সংগ্রহের অভিযোগে অভিযুক্ত ব্যক্তি এবং জুয়ার আসর পরিচালনার অভিযোগ ওঠা ব্যক্তিদের বক্তব্য পাওয়া গেলে প্রতিবেদনে তা সংযোজন করা হবে।