Dhaka ০৮:২২ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৮ অক্টোবর ২০২৬, ১৩ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম :
চতুর্থ শ্রেণির ছাত্রীকে কৌশলে টয়লেটে নিয়ে গেলেন শিক্ষক, অতঃপর… সাত মাসে ঢাকা-মাওয়া সড়কে ১১১ দুর্ঘটনা, প্রাণহানি ১৪ ফেসবুক লাইভে বিএনপিকে নিয়ে মন্তব্য, অবশেষে জামিন পেলেন নারী উদ্যোক্তা সাথী আক্তার সুনামগঞ্জে দুই সেতুর কাজ বন্ধ, এমপি নুরুলের বিরুদ্ধে কোটি টাকা চাঁদা দাবির অভিযোগ ঠিকাদারের সিলেট শাহী ঈদগাহকে আরও দৃষ্টিনন্দন করতে ৫ কোটি টাকার প্রকল্প—সিসিক প্রশাসক শি শু মুহিন হ ত্যার দায়ে ২ জনের মৃ ত্যুদণ্ড চাঁদা না পেয়ে ইউপি সদস্যকে বেদম পেটালেন নেতা ভিসা নিয়ে বাংলাদেশিদের জন্য যুক্তরাষ্ট্রের নতুন বার্তা দুধ দিয়ে গোসল করে জামায়াতের সমর্থন ছাড়ার ঘোষণা, ভিডিও ভাইরাল মাদকাসক্ত প্রধান শিক্ষকের নাচের ভিডিও ভাইরাল

বৃহৎ হাসপাতাল প্রকল্পে চীনা বিনিয়োগ আনতে মাঠে আরিফুল হক চৌধুরী

  • Reporter Name
  • Update Time : ০৫:৫৫:৪১ অপরাহ্ন, বুধবার, ৩ জুন ২০২৬
  • ৫২৯ Time View

সিলেট-৪ আসনের মানুষের জন্য উন্নত স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে ১,০০০ শয্যার একটি আধুনিক হাসপাতাল নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এ লক্ষ্যে চীনা বিনিয়োগকারীদের আকৃষ্ট করার জন্য কাজ করছেন মন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী। হাসপাতালটি বাস্তবায়িত হলে সিলেট অঞ্চলের স্বাস্থ্যসেবায় একটি নতুন দিগন্তের সূচনা হবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
এই উদ্যোগের অংশ হিসেবে চীনের কয়েকজন বিনিয়োগকারীকে সিলেটে নিয়ে আসা হয়েছে। তারা সম্ভাব্য প্রকল্প এলাকা পরিদর্শন করছেন এবং হাসপাতাল নির্মাণের জন্য প্রয়োজনীয় সুযোগ-সুবিধা সম্পর্কে ধারণা নিচ্ছেন। মন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী নিজেও তাদের সঙ্গে বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখছেন এবং প্রকল্পের সম্ভাবনা তুলে ধরছেন।


বর্তমানে উন্নত চিকিৎসার জন্য সিলেট বিভাগের অনেক মানুষকে ঢাকাসহ দেশের অন্যান্য বড় শহরে যেতে হয়। বিশেষ করে জটিল রোগের চিকিৎসা, আধুনিক পরীক্ষা-নিরীক্ষা এবং বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের সেবা পেতে রোগী ও তাদের স্বজনদের ভোগান্তিতে পড়তে হয়। একটি বড় ও আধুনিক হাসপাতাল নির্মিত হলে এসব সমস্যা অনেকাংশে কমে আসবে বলে আশা করা হচ্ছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, প্রস্তাবিত হাসপাতালটি আন্তর্জাতিক মানের স্বাস্থ্যসেবা প্রদানের লক্ষ্যে পরিকল্পনা করা হচ্ছে। এতে আধুনিক চিকিৎসা সরঞ্জাম, বিশেষায়িত বিভাগ, জরুরি চিকিৎসা সুবিধা এবং উন্নত রোগ নির্ণয় ব্যবস্থা থাকতে পারে। একই সঙ্গে হাসপাতালটিতে দেশি-বিদেশি বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের সেবা নিশ্চিত করার বিষয়টিও বিবেচনায় রয়েছে।
চীনা বিনিয়োগকারীরা হাসপাতাল নির্মাণে আগ্রহ দেখালে প্রকল্পটি বাস্তবায়নের পথ আরও সহজ হবে। বিনিয়োগের পাশাপাশি হাসপাতাল পরিচালনা, প্রযুক্তিগত সহায়তা এবং চিকিৎসা অবকাঠামো উন্নয়নেও সহযোগিতার সুযোগ তৈরি হতে পারে। এর ফলে শুধু সিলেট-৪ নয়, পুরো সিলেট বিভাগের মানুষ উপকৃত হবেন।


স্থানীয় বাসিন্দারা মনে করছেন, এ ধরনের একটি বৃহৎ হাসপাতাল প্রতিষ্ঠিত হলে স্বাস্থ্যসেবার মান বৃদ্ধি পাবে এবং কর্মসংস্থানের নতুন সুযোগ সৃষ্টি হবে। হাসপাতাল পরিচালনার জন্য চিকিৎসক, নার্স, টেকনিশিয়ান, প্রশাসনিক কর্মকর্তা ও অন্যান্য কর্মচারীর প্রয়োজন হবে। এতে স্থানীয়ভাবে অনেক মানুষের কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি হতে পারে।
এছাড়া হাসপাতালকে কেন্দ্র করে আশপাশের এলাকায় বিভিন্ন ব্যবসা-বাণিজ্য ও সেবামূলক কার্যক্রমও সম্প্রসারিত হতে পারে। আবাসন, পরিবহন, ওষুধ, চিকিৎসা সরঞ্জাম এবং অন্যান্য খাতেও ইতিবাচক প্রভাব পড়ার সম্ভাবনা রয়েছে। ফলে এই প্রকল্প শুধু স্বাস্থ্যসেবা নয়, স্থানীয় অর্থনীতিতেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।
মন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী আশা প্রকাশ করেছেন যে, সংশ্লিষ্ট সব পক্ষের সহযোগিতায় প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করা সম্ভব হবে। তিনি মনে করেন, আন্তর্জাতিক বিনিয়োগ ও আধুনিক প্রযুক্তির সমন্বয়ে একটি মানসম্মত হাসপাতাল গড়ে তোলা গেলে সিলেট অঞ্চলের মানুষ উন্নত চিকিৎসাসেবা নিজ এলাকাতেই পাবেন।
সার্বিকভাবে, সিলেট-৪ আসনে ১,০০০ শয্যার হাসপাতাল নির্মাণের এই উদ্যোগকে এলাকার স্বাস্থ্যখাত উন্নয়নের একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে। চীনা বিনিয়োগকারীদের আগ্রহ ও অংশগ্রহণের মাধ্যমে প্রকল্পটি বাস্তব রূপ পেলে সিলেটের স্বাস্থ্যসেবায় নতুন সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচিত হবে বলে আশা করা হচ্ছে।

আরও পড়ুনঃ  ইউএস আর্মিতে যোগ দিলেন সিলেটের পংকজ তালুকদার
Tag :
About Author Information

জনপ্রিয় পোস্ট

চতুর্থ শ্রেণির ছাত্রীকে কৌশলে টয়লেটে নিয়ে গেলেন শিক্ষক, অতঃপর…

বৃহৎ হাসপাতাল প্রকল্পে চীনা বিনিয়োগ আনতে মাঠে আরিফুল হক চৌধুরী

Update Time : ০৫:৫৫:৪১ অপরাহ্ন, বুধবার, ৩ জুন ২০২৬

সিলেট-৪ আসনের মানুষের জন্য উন্নত স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে ১,০০০ শয্যার একটি আধুনিক হাসপাতাল নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এ লক্ষ্যে চীনা বিনিয়োগকারীদের আকৃষ্ট করার জন্য কাজ করছেন মন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী। হাসপাতালটি বাস্তবায়িত হলে সিলেট অঞ্চলের স্বাস্থ্যসেবায় একটি নতুন দিগন্তের সূচনা হবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
এই উদ্যোগের অংশ হিসেবে চীনের কয়েকজন বিনিয়োগকারীকে সিলেটে নিয়ে আসা হয়েছে। তারা সম্ভাব্য প্রকল্প এলাকা পরিদর্শন করছেন এবং হাসপাতাল নির্মাণের জন্য প্রয়োজনীয় সুযোগ-সুবিধা সম্পর্কে ধারণা নিচ্ছেন। মন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী নিজেও তাদের সঙ্গে বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখছেন এবং প্রকল্পের সম্ভাবনা তুলে ধরছেন।


বর্তমানে উন্নত চিকিৎসার জন্য সিলেট বিভাগের অনেক মানুষকে ঢাকাসহ দেশের অন্যান্য বড় শহরে যেতে হয়। বিশেষ করে জটিল রোগের চিকিৎসা, আধুনিক পরীক্ষা-নিরীক্ষা এবং বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের সেবা পেতে রোগী ও তাদের স্বজনদের ভোগান্তিতে পড়তে হয়। একটি বড় ও আধুনিক হাসপাতাল নির্মিত হলে এসব সমস্যা অনেকাংশে কমে আসবে বলে আশা করা হচ্ছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, প্রস্তাবিত হাসপাতালটি আন্তর্জাতিক মানের স্বাস্থ্যসেবা প্রদানের লক্ষ্যে পরিকল্পনা করা হচ্ছে। এতে আধুনিক চিকিৎসা সরঞ্জাম, বিশেষায়িত বিভাগ, জরুরি চিকিৎসা সুবিধা এবং উন্নত রোগ নির্ণয় ব্যবস্থা থাকতে পারে। একই সঙ্গে হাসপাতালটিতে দেশি-বিদেশি বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের সেবা নিশ্চিত করার বিষয়টিও বিবেচনায় রয়েছে।
চীনা বিনিয়োগকারীরা হাসপাতাল নির্মাণে আগ্রহ দেখালে প্রকল্পটি বাস্তবায়নের পথ আরও সহজ হবে। বিনিয়োগের পাশাপাশি হাসপাতাল পরিচালনা, প্রযুক্তিগত সহায়তা এবং চিকিৎসা অবকাঠামো উন্নয়নেও সহযোগিতার সুযোগ তৈরি হতে পারে। এর ফলে শুধু সিলেট-৪ নয়, পুরো সিলেট বিভাগের মানুষ উপকৃত হবেন।


স্থানীয় বাসিন্দারা মনে করছেন, এ ধরনের একটি বৃহৎ হাসপাতাল প্রতিষ্ঠিত হলে স্বাস্থ্যসেবার মান বৃদ্ধি পাবে এবং কর্মসংস্থানের নতুন সুযোগ সৃষ্টি হবে। হাসপাতাল পরিচালনার জন্য চিকিৎসক, নার্স, টেকনিশিয়ান, প্রশাসনিক কর্মকর্তা ও অন্যান্য কর্মচারীর প্রয়োজন হবে। এতে স্থানীয়ভাবে অনেক মানুষের কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি হতে পারে।
এছাড়া হাসপাতালকে কেন্দ্র করে আশপাশের এলাকায় বিভিন্ন ব্যবসা-বাণিজ্য ও সেবামূলক কার্যক্রমও সম্প্রসারিত হতে পারে। আবাসন, পরিবহন, ওষুধ, চিকিৎসা সরঞ্জাম এবং অন্যান্য খাতেও ইতিবাচক প্রভাব পড়ার সম্ভাবনা রয়েছে। ফলে এই প্রকল্প শুধু স্বাস্থ্যসেবা নয়, স্থানীয় অর্থনীতিতেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।
মন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী আশা প্রকাশ করেছেন যে, সংশ্লিষ্ট সব পক্ষের সহযোগিতায় প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করা সম্ভব হবে। তিনি মনে করেন, আন্তর্জাতিক বিনিয়োগ ও আধুনিক প্রযুক্তির সমন্বয়ে একটি মানসম্মত হাসপাতাল গড়ে তোলা গেলে সিলেট অঞ্চলের মানুষ উন্নত চিকিৎসাসেবা নিজ এলাকাতেই পাবেন।
সার্বিকভাবে, সিলেট-৪ আসনে ১,০০০ শয্যার হাসপাতাল নির্মাণের এই উদ্যোগকে এলাকার স্বাস্থ্যখাত উন্নয়নের একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে। চীনা বিনিয়োগকারীদের আগ্রহ ও অংশগ্রহণের মাধ্যমে প্রকল্পটি বাস্তব রূপ পেলে সিলেটের স্বাস্থ্যসেবায় নতুন সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচিত হবে বলে আশা করা হচ্ছে।

আরও পড়ুনঃ  সিলেটে টিলা কাটার দায়ে ২ জনকে লাখ টাকা জরিমানা