Dhaka ১২:৪০ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৪ অগাস্ট ২০২৬, ৯ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম :
শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে জাতীয় কোরআন প্রতিযোগিতা আয়োজন করবে সরকার প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা হিসেবে যোগ দিলেন জহির উদ্দিন স্বপন গ্রাম্য সালিসে সমাজচ্যুত পুরো পরিবার,মসজিদে নামাজেও নিষেধাজ্ঞা এবার সিএমপির ৫ থানায় ওসি রদবদল পররাষ্ট্রের দুই প্রতিমন্ত্রীর কার দায়িত্ব কী, জানালো মন্ত্রণালয় স্থানীয় সরকার নির্বাচন কবে, জানালেন নতুন এলজিআরডি মন্ত্রী শি শু শিক্ষার্থীকে বলাৎকারের অভিযোগ, শিক্ষক আটক সার্ককে আরও কার্যকর ও জনকেন্দ্রিক করার তাগিদ প্রধানমন্ত্রীর নিউইয়র্কে রেস্তোরাঁয় গুলিতে বাংলাদেশি প্রবাসী নিহত, আহত ১ ইউএস আর্মিতে যোগ দিলেন সিলেটের পংকজ তালুকদার

ইউএস আর্মিতে যোগ দিলেন সিলেটের পংকজ তালুকদার

 

যুক্তরাষ্ট্রের সেনাবাহিনীতে (ইউএস আর্মি) যোগ দিয়েছেন সিলেটের তরুণ পংকজ তালুকদার। কঠোর সামরিক প্রশিক্ষণের বিভিন্ন ধাপ সফলভাবে সম্পন্ন করে বর্তমানে তিনি ইউএস আর্মির ইঞ্জিনিয়ার কোরে কর্মকর্তা হিসেবে কর্মরত আছেন। তাঁর এই অর্জনে সিলেট ও সুনামগঞ্জের স্বজন, বন্ধু-বান্ধব ও শুভাকাঙ্ক্ষীদের মধ্যে আনন্দ ও গর্বের অনুভূতি তৈরি হয়েছে।

পংকজ তালুকদারের বাড়ি সিলেট নগরের টিলাগড় এলাকায়। তাঁর গ্রামের বাড়ি সুনামগঞ্জের বিশ্বম্ভরপুর উপজেলায়। তিনি সিলেটের হাতিম আলী উচ্চবিদ্যালয় ও এমসি কলেজে পড়াশোনা করেন। পরে উচ্চশিক্ষার জন্য যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে নিউইয়র্কের সিটি ইউনিভার্সিটি অব নিউইয়র্ক (CUNY) থেকে উচ্চশিক্ষা সম্পন্ন করেন। পেশাগত জীবনে তিনি কম্পিউটার ইঞ্জিনিয়ার হিসেবে কাজ করেছেন।

সম্প্রতি নিজের সামরিক প্রশিক্ষণের অভিজ্ঞতা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তুলে ধরেন পংকজ। সেখানে তিনি জানান, ইউএস আর্মিতে যোগ দেওয়ার পথটি মোটেও সহজ ছিল না। ফিজিক্যাল ট্রেনিং, মেন্টাল ট্রেনিং এবং অ্যাডভান্সড ইন্ডিভিজুয়াল ট্রেনিংয়ের প্রতিটি ধাপেই তাঁকে কঠোর পরীক্ষা দিতে হয়েছে। দিনের শুরু হতো ভোর ৩টা থেকে ৪টার মধ্যে, আর শেষ হতো রাত ৮টা থেকে ৯টার দিকে।

প্রশিক্ষণের সময় প্রচণ্ড গরমেও মাঠপর্যায়ের কঠিন অনুশীলন করতে হয়েছে তাঁকে। প্রায় ১১০ ডিগ্রি ফারেনহাইট তাপমাত্রায় টানা চার দিন জঙ্গলে অবস্থান, শুটিং, লাইভ গ্রেনেড নিক্ষেপ, মাইন শনাক্তকরণ এবং বিভিন্ন দুর্গম অবস্টাকল কোর্স সম্পন্ন করতে হয়েছে।

কঠোর প্রশিক্ষণের কারণে মাত্র পাঁচ মাসে তাঁর ওজন কমে যায় ২৬ পাউন্ড। প্রায় প্রতিদিন ৩ থেকে ৪ কিলোমিটার দৌড়ানোর পাশাপাশি ৪৫ থেকে ৫০ পাউন্ড ওজনের রুকস্যাক কাঁধে এবং হাতে M4 রাইফেল নিয়ে টানা ১০ মাইল হাঁটতে হয়েছে। কখনো কখনো মুষলধারে বৃষ্টির মধ্যেও এই প্রশিক্ষণ চালিয়ে যেতে হয়েছে।

পংকজের ভাষায়, কখনো শরীর বলেছে আর পারছেন না, আবার কখনো মন চেয়েছে একটু বিশ্রাম নিতে। কিন্তু থেমে যাওয়ার সুযোগ ছিল না। নিজেকেই বারবার বলেছেন—‘আরেকটু চেষ্টা করো, তুমি পারবে।’

আরও পড়ুনঃ  তথ্য সরবরাহ না করায় সিলেটের জেলা প্রশাসককে আদালতের শোকজ

সামরিক প্রশিক্ষণের সময় শারীরিক কষ্টের পাশাপাশি মানসিকভাবেও কঠিন সময় পার করতে হয়েছে তাঁকে। দীর্ঘ সময় পরিবার, প্রিয়জন ও পরিচিত পরিবেশ থেকে বিচ্ছিন্ন থাকতে হয়েছে। মোবাইল ফোন ব্যবহারের সুযোগও ছিল সীমিত। কখনো মাত্র ৩০ মিনিটের জন্য ফোন হাতে পেলে সেই সময়টুকুর মূল্য আরও গভীরভাবে উপলব্ধি করতেন বলে জানান তিনি।

সব বাধা পেরিয়ে সামরিক প্রশিক্ষণ সম্পন্ন করে এখন ইউএস আর্মির সদস্য পংকজ। নিজের এই অর্জনকে জীবনের গুরুত্বপূর্ণ একটি অধ্যায় হিসেবে উল্লেখ করে তিনি বলেন, বেসামরিক জীবন থেকে যে যাত্রা শুরু করেছিলেন, তার একটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় শেষ করে আজ গর্বের সঙ্গে বলতে পারেন—“I am a U.S. Army Soldier.”

পংকজ আরও বলেন, “এই পথ সহজ ছিল না। কিন্তু প্রতিটি কষ্ট সার্থক হয়েছে। The pain was temporary. The pride is forever. Hooah!”

পংকজ তালুকদারের এই অর্জনে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বন্ধু ও শুভাকাঙ্ক্ষীরা তাঁকে অভিনন্দন জানাচ্ছেন। তাঁর সাহস, শৃঙ্খলা ও কঠোর পরিশ্রমকে অনেকে তরুণ প্রজন্মের জন্য অনুপ্রেরণার উদাহরণ হিসেবে দেখছেন।

Tag :
জনপ্রিয় পোস্ট

শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে জাতীয় কোরআন প্রতিযোগিতা আয়োজন করবে সরকার

ইউএস আর্মিতে যোগ দিলেন সিলেটের পংকজ তালুকদার

Update Time : ১১:৪৫:৫৩ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২৪ অগাস্ট ২০২৬

 

যুক্তরাষ্ট্রের সেনাবাহিনীতে (ইউএস আর্মি) যোগ দিয়েছেন সিলেটের তরুণ পংকজ তালুকদার। কঠোর সামরিক প্রশিক্ষণের বিভিন্ন ধাপ সফলভাবে সম্পন্ন করে বর্তমানে তিনি ইউএস আর্মির ইঞ্জিনিয়ার কোরে কর্মকর্তা হিসেবে কর্মরত আছেন। তাঁর এই অর্জনে সিলেট ও সুনামগঞ্জের স্বজন, বন্ধু-বান্ধব ও শুভাকাঙ্ক্ষীদের মধ্যে আনন্দ ও গর্বের অনুভূতি তৈরি হয়েছে।

পংকজ তালুকদারের বাড়ি সিলেট নগরের টিলাগড় এলাকায়। তাঁর গ্রামের বাড়ি সুনামগঞ্জের বিশ্বম্ভরপুর উপজেলায়। তিনি সিলেটের হাতিম আলী উচ্চবিদ্যালয় ও এমসি কলেজে পড়াশোনা করেন। পরে উচ্চশিক্ষার জন্য যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে নিউইয়র্কের সিটি ইউনিভার্সিটি অব নিউইয়র্ক (CUNY) থেকে উচ্চশিক্ষা সম্পন্ন করেন। পেশাগত জীবনে তিনি কম্পিউটার ইঞ্জিনিয়ার হিসেবে কাজ করেছেন।

সম্প্রতি নিজের সামরিক প্রশিক্ষণের অভিজ্ঞতা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তুলে ধরেন পংকজ। সেখানে তিনি জানান, ইউএস আর্মিতে যোগ দেওয়ার পথটি মোটেও সহজ ছিল না। ফিজিক্যাল ট্রেনিং, মেন্টাল ট্রেনিং এবং অ্যাডভান্সড ইন্ডিভিজুয়াল ট্রেনিংয়ের প্রতিটি ধাপেই তাঁকে কঠোর পরীক্ষা দিতে হয়েছে। দিনের শুরু হতো ভোর ৩টা থেকে ৪টার মধ্যে, আর শেষ হতো রাত ৮টা থেকে ৯টার দিকে।

প্রশিক্ষণের সময় প্রচণ্ড গরমেও মাঠপর্যায়ের কঠিন অনুশীলন করতে হয়েছে তাঁকে। প্রায় ১১০ ডিগ্রি ফারেনহাইট তাপমাত্রায় টানা চার দিন জঙ্গলে অবস্থান, শুটিং, লাইভ গ্রেনেড নিক্ষেপ, মাইন শনাক্তকরণ এবং বিভিন্ন দুর্গম অবস্টাকল কোর্স সম্পন্ন করতে হয়েছে।

কঠোর প্রশিক্ষণের কারণে মাত্র পাঁচ মাসে তাঁর ওজন কমে যায় ২৬ পাউন্ড। প্রায় প্রতিদিন ৩ থেকে ৪ কিলোমিটার দৌড়ানোর পাশাপাশি ৪৫ থেকে ৫০ পাউন্ড ওজনের রুকস্যাক কাঁধে এবং হাতে M4 রাইফেল নিয়ে টানা ১০ মাইল হাঁটতে হয়েছে। কখনো কখনো মুষলধারে বৃষ্টির মধ্যেও এই প্রশিক্ষণ চালিয়ে যেতে হয়েছে।

পংকজের ভাষায়, কখনো শরীর বলেছে আর পারছেন না, আবার কখনো মন চেয়েছে একটু বিশ্রাম নিতে। কিন্তু থেমে যাওয়ার সুযোগ ছিল না। নিজেকেই বারবার বলেছেন—‘আরেকটু চেষ্টা করো, তুমি পারবে।’

আরও পড়ুনঃ  মেঘভাঙা বৃষ্টিতে খাগড়াছড়ির নিম্নাঞ্চল প্লাবিত, দুর্ভোগে হাজারো মানুষ

সামরিক প্রশিক্ষণের সময় শারীরিক কষ্টের পাশাপাশি মানসিকভাবেও কঠিন সময় পার করতে হয়েছে তাঁকে। দীর্ঘ সময় পরিবার, প্রিয়জন ও পরিচিত পরিবেশ থেকে বিচ্ছিন্ন থাকতে হয়েছে। মোবাইল ফোন ব্যবহারের সুযোগও ছিল সীমিত। কখনো মাত্র ৩০ মিনিটের জন্য ফোন হাতে পেলে সেই সময়টুকুর মূল্য আরও গভীরভাবে উপলব্ধি করতেন বলে জানান তিনি।

সব বাধা পেরিয়ে সামরিক প্রশিক্ষণ সম্পন্ন করে এখন ইউএস আর্মির সদস্য পংকজ। নিজের এই অর্জনকে জীবনের গুরুত্বপূর্ণ একটি অধ্যায় হিসেবে উল্লেখ করে তিনি বলেন, বেসামরিক জীবন থেকে যে যাত্রা শুরু করেছিলেন, তার একটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় শেষ করে আজ গর্বের সঙ্গে বলতে পারেন—“I am a U.S. Army Soldier.”

পংকজ আরও বলেন, “এই পথ সহজ ছিল না। কিন্তু প্রতিটি কষ্ট সার্থক হয়েছে। The pain was temporary. The pride is forever. Hooah!”

পংকজ তালুকদারের এই অর্জনে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বন্ধু ও শুভাকাঙ্ক্ষীরা তাঁকে অভিনন্দন জানাচ্ছেন। তাঁর সাহস, শৃঙ্খলা ও কঠোর পরিশ্রমকে অনেকে তরুণ প্রজন্মের জন্য অনুপ্রেরণার উদাহরণ হিসেবে দেখছেন।