Dhaka ০১:১৭ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৫ অক্টোবর ২০২৬, ১০ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

মাথা টেপানোর ‘বাহানায়’ ডেকে ছাত্রের মুখে রুমাল চেপে ধরেন মাদরাসা শিক্ষক

লালমনিরহাটের আদিতমারী উপজেলার ১২ বছরের এক মাদরাসাছাত্রকে বলাৎকারের অভিযোগে দায়ের করা মামলায় অভিযুক্ত শিক্ষককে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

 

পুলিশ ও মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, উপজেলার ২ নম্বর ভেলাবাড়ী ইউনিয়নের পশ্চিম ভেলাবাড়ী নামুড়ীর পাড় এলাকার মাদরাসাতু তাহফিযীল কুরআন শুদ্দীনিয়া হাফেজিয়া মাদরাসার হেফজ বিভাগের আবাসিক শিক্ষার্থী।

জানা যায়, ওই কিশোর ২১ জুলাই দিবাগত রাত আনুমানিক সাড়ে ১২টার দিকে অন্যান্য শিক্ষার্থীদের সঙ্গে নিজ কক্ষে ঘুমিয়ে ছিল। ওই সময় মাদরাসার শিক্ষক মো. শাহজালাল হক (২৩) মাথা টিপে দেওয়ার কথা বলে তাকে নিজের বেডের কাছে ডেকে নেন। কিছুক্ষণ পর সে নিজ বেডে ফিরে যেতে চাইলে শিক্ষক তার মুখ রুমাল দিয়ে চেপে ধরে জোরপূর্বক বলাৎকার করেন। পরে ঘটনাটি কাউকে জানালে ক্ষতি করার ভয়ভীতি দেখিয়ে তাকে চুপ থাকতে বাধ্য করা হয় অভিযোগে বলা হয়।

 

ভয়ে সে প্রথমে বিষয়টি গোপন রাখলেও পরদিন বাড়ি ফিরে শারীরিক অসুস্থতা ও মানসিক অস্থিরতার মধ্যে পরিবারের সদস্যদের কাছে ঘটনার বর্ণনা দেয়। পরে তার বাবা স্থানীয় লোকজনকে সঙ্গে নিয়ে মাদরাসায় গেলে অভিযুক্ত শিক্ষককে সেখানে পাওয়া যায়নি।মাদরাসার প্রতিষ্ঠাতা পরিচালক জানান, তিনি ছুটিতে বাড়িতে গেছেন এবং ফিরে এলে বিষয়টি নিয়ে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। পরে ২৪ জুলাই রাত আনুমানিক ৮টার দিকে অভিযুক্ত শিক্ষক মাদরাসায় ফিরে এলে মাদরাসার সভাপতি মো. মোশারফ হোসেনের বাড়ির উঠানে স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তি, সাক্ষী এবং মাদরাসা কর্তৃপক্ষের উপস্থিতিতে তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হলে ওই সময় তিনি ঘটনার বিষয়টি স্বীকার করেন।

পরে ক্ষুব্ধ জনতা তাকে মারধর করলে পুলিশ তাকে উদ্ধার করে হেফাজতে নেয়। এ ঘটনায় ভুক্তভোগী শিশুর বাবা মো. আরিফুল ইসলাম বাদী হয়ে আদিতমারী থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে মামলা দায়ের করেন। মামলার পরপরই পুলিশ অভিযুক্ত শিক্ষককে গ্রেপ্তার করে।

 

আদিতমারী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নাজমুস সাকিব সজিব বলেন, ভুক্তভোগীর বাবার লিখিত অভিযোগের ভিত্তিতে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে মামলা রুজু করা হয়েছে। অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

আরও পড়ুনঃ  সিলেটে কিশোর গ্যাংয়ের বিরুদ্ধে বিশেষ অভিযান শুরু, রাতে গলিতে আড্ডা দিলেই ধরবে পুলিশ
Tag :
জনপ্রিয় পোস্ট

মাথা টেপানোর ‘বাহানায়’ ডেকে ছাত্রের মুখে রুমাল চেপে ধরেন মাদরাসা শিক্ষক

Update Time : ১১:৫৫:৫৯ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ২৫ অক্টোবর ২০২৬

লালমনিরহাটের আদিতমারী উপজেলার ১২ বছরের এক মাদরাসাছাত্রকে বলাৎকারের অভিযোগে দায়ের করা মামলায় অভিযুক্ত শিক্ষককে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

 

পুলিশ ও মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, উপজেলার ২ নম্বর ভেলাবাড়ী ইউনিয়নের পশ্চিম ভেলাবাড়ী নামুড়ীর পাড় এলাকার মাদরাসাতু তাহফিযীল কুরআন শুদ্দীনিয়া হাফেজিয়া মাদরাসার হেফজ বিভাগের আবাসিক শিক্ষার্থী।

জানা যায়, ওই কিশোর ২১ জুলাই দিবাগত রাত আনুমানিক সাড়ে ১২টার দিকে অন্যান্য শিক্ষার্থীদের সঙ্গে নিজ কক্ষে ঘুমিয়ে ছিল। ওই সময় মাদরাসার শিক্ষক মো. শাহজালাল হক (২৩) মাথা টিপে দেওয়ার কথা বলে তাকে নিজের বেডের কাছে ডেকে নেন। কিছুক্ষণ পর সে নিজ বেডে ফিরে যেতে চাইলে শিক্ষক তার মুখ রুমাল দিয়ে চেপে ধরে জোরপূর্বক বলাৎকার করেন। পরে ঘটনাটি কাউকে জানালে ক্ষতি করার ভয়ভীতি দেখিয়ে তাকে চুপ থাকতে বাধ্য করা হয় অভিযোগে বলা হয়।

 

ভয়ে সে প্রথমে বিষয়টি গোপন রাখলেও পরদিন বাড়ি ফিরে শারীরিক অসুস্থতা ও মানসিক অস্থিরতার মধ্যে পরিবারের সদস্যদের কাছে ঘটনার বর্ণনা দেয়। পরে তার বাবা স্থানীয় লোকজনকে সঙ্গে নিয়ে মাদরাসায় গেলে অভিযুক্ত শিক্ষককে সেখানে পাওয়া যায়নি।মাদরাসার প্রতিষ্ঠাতা পরিচালক জানান, তিনি ছুটিতে বাড়িতে গেছেন এবং ফিরে এলে বিষয়টি নিয়ে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। পরে ২৪ জুলাই রাত আনুমানিক ৮টার দিকে অভিযুক্ত শিক্ষক মাদরাসায় ফিরে এলে মাদরাসার সভাপতি মো. মোশারফ হোসেনের বাড়ির উঠানে স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তি, সাক্ষী এবং মাদরাসা কর্তৃপক্ষের উপস্থিতিতে তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হলে ওই সময় তিনি ঘটনার বিষয়টি স্বীকার করেন।

পরে ক্ষুব্ধ জনতা তাকে মারধর করলে পুলিশ তাকে উদ্ধার করে হেফাজতে নেয়। এ ঘটনায় ভুক্তভোগী শিশুর বাবা মো. আরিফুল ইসলাম বাদী হয়ে আদিতমারী থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে মামলা দায়ের করেন। মামলার পরপরই পুলিশ অভিযুক্ত শিক্ষককে গ্রেপ্তার করে।

 

আদিতমারী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নাজমুস সাকিব সজিব বলেন, ভুক্তভোগীর বাবার লিখিত অভিযোগের ভিত্তিতে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে মামলা রুজু করা হয়েছে। অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

আরও পড়ুনঃ  রুমিন ফারহানাকে অবাঞ্ছিত ঘোষণা করল উপজেলা বিএনপি