সিলেট নগরের মিরবক্সটুলা এলাকার একটি ফার্মেসির ফ্রিজে থাকা প্রায় ৯৯ শতাংশ ওষুধই মেয়াদোত্তীর্ণ অবস্থায় পেয়েছে ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর। রোগীদের স্বাস্থ্য ও জীবন ঝুঁকির মধ্যে ফেলার অভিযোগে প্রতিষ্ঠানটিকে ৩০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে।
সিলেট নগরের মিরবক্সটুলা এলাকায় ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযানে একটি ফার্মেসির ফ্রিজে থাকা বিপুল পরিমাণ মেয়াদোত্তীর্ণ ওষুধ জব্দ করা হয়েছে। অভিযানে ফ্রিজে সংরক্ষিত প্রায় ৯৯ শতাংশ ওষুধের মেয়াদ শেষ হয়ে যাওয়ার বিষয়টি ধরা পড়ে। পরে এসব ওষুধ জনসম্মুখে পুড়িয়ে ধ্বংস করা হয়।
বৃহস্পতিবার (১৮ সেপ্টেম্বর) দুপুরে নগরের মিরবক্সটুলা এলাকার উইমেন্স মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের বিপরীতে অবস্থিত আল-মদীনা ফার্মেসিতে এ অভিযান পরিচালনা করা হয়। ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর ও সিলেট মহানগর পুলিশের যৌথ উদ্যোগে অভিযানটি চালানো হয়।
অভিযানকালে ফার্মেসির বিভিন্ন অংশ তল্লাশি করা হয়। বিশেষ করে ওষুধ সংরক্ষণের জন্য ব্যবহৃত ফ্রিজে থাকা ওষুধগুলো পরীক্ষা করেন কর্মকর্তারা। এ সময় ফ্রিজে থাকা প্রায় ৯৯ শতাংশ ওষুধের মেয়াদোত্তীর্ণের বিষয়টি শনাক্ত করা হয়।
কর্মকর্তারা জানান, মেয়াদোত্তীর্ণ ওষুধ সংরক্ষণ ও বিক্রির মাধ্যমে রোগীদের স্বাস্থ্য মারাত্মক ঝুঁকির মধ্যে পড়তে পারে। চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী ওষুধ কিনতে এসে কোনো রোগী বা স্বজন ভুল করে মেয়াদোত্তীর্ণ ওষুধ গ্রহণ করলে গুরুতর স্বাস্থ্যঝুঁকি তৈরি হতে পারে।
অভিযান শেষে ফার্মেসিটির বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হয়। অনিয়মের কারণে প্রতিষ্ঠানটিকে ৩০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে। একই সঙ্গে জব্দ করা বিপুল পরিমাণ মেয়াদোত্তীর্ণ ওষুধ ঘটনাস্থলেই জনসম্মুখে পুড়িয়ে ধ্বংস করেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।
ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর জানিয়েছে, মেয়াদোত্তীর্ণ ওষুধ সংরক্ষণ এবং তা বিক্রি করা অত্যন্ত গুরুতর অনিয়ম ও অপরাধ। ওষুধের মেয়াদ শেষ হওয়ার পরও সেগুলো ফার্মেসিতে রেখে দেওয়া হলে তা জনস্বাস্থ্যের জন্য মারাত্মক হুমকি তৈরি করতে পারে।
অভিযান পরিচালনাকারীরা বলেন, সাধারণ মানুষের স্বাস্থ্য সুরক্ষা নিশ্চিত করতে ফার্মেসিগুলোতে ওষুধের মেয়াদ, সংরক্ষণ পদ্ধতি এবং বিক্রির নিয়মকানুন যথাযথভাবে মানা হচ্ছে কি না, তা নিয়মিত তদারকি করা প্রয়োজন। কোনো প্রতিষ্ঠান অনিয়ম করলে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
তারা আরও জানান, নগরের বিভিন্ন ফার্মেসিতে এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে। বিশেষ করে মেয়াদোত্তীর্ণ ওষুধ সংরক্ষণ বা বিক্রির অভিযোগ পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
স্বাস্থ্যসংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, ওষুধের ক্ষেত্রে সামান্য অসতর্কতাও বড় ধরনের স্বাস্থ্যঝুঁকি তৈরি করতে পারে। তাই ফার্মেসি মালিকদের ওষুধের মেয়াদ নিয়মিত যাচাই, মেয়াদোত্তীর্ণ ওষুধ আলাদা করে রাখা এবং কোনো অবস্থাতেই তা বিক্রি না করার বিষয়ে সতর্ক থাকা জরুরি।
সিলেট প্রতিনিধি 



















