
সাতক্ষীরা-৪ আসনের সংসদ সদস্য গাজী নজরুল ইসলামের দ্বিতীয় স্ত্রী মরিয়ম খাতুনের মরদেহ রাজধানীর একটি সরকারি আবাসিক ভবনের ফ্ল্যাট থেকে উদ্ধার করেছে পুলিশ। এ ঘটনায় তার মৃত্যুর কারণ নিয়ে নানা প্রশ্ন উঠেছে।
রোববার (২০ সেপ্টেম্বর) রাতে রাজধানীর শেরেবাংলা নগর থানার আওতাধীন ন্যাম ভবনের একটি ফ্ল্যাট থেকে মরিয়মের ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করা হয়।
মরিয়মের মৃত্যুর পর তার মামা ওবায়দুর রহমান ঘটনাটিকে স্বাভাবিক মৃত্যু হিসেবে দেখছেন না বলে জানিয়েছেন। তিনি দাবি করেছেন, মরিয়ম তার কাছে মেয়ের মতো ছিলেন এবং তার পড়াশোনার খরচও তিনি বহন করতেন।
ওবায়দুর রহমান একসময় গাজী নজরুল ইসলামের গাড়িচালক ও ব্যক্তিগত সহকারী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। তার ভাষ্য অনুযায়ী, সাম্প্রতিক কিছু ঘটনার পর মরিয়মের সঙ্গে তাদের যোগাযোগ ছিল না।
মরিয়মকে ঘিরে এর আগে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একটি ব্যক্তিগত ভিডিও ছড়িয়ে পড়েছিল। ওই ঘটনার পর তিনি মানসিকভাবে বিপর্যস্ত ছিলেন—এমন আলোচনা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে থাকলেও বিষয়টির স্বাধীন কোনো নিশ্চিত প্রমাণ পাওয়া যায়নি।
এদিকে মরিয়মের মৃত্যুর ঘটনায় পুলিশ তদন্ত শুরু করেছে। মৃত্যুটি আত্মহত্যা, হত্যাকাণ্ড নাকি অন্য কোনো কারণে হয়েছে, তা এখনো নিশ্চিত করেনি আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। মৃত্যুর পেছনে কারও প্ররোচনা ছিল কি না, সেটিও তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।
মরিয়মের মরদেহ উদ্ধারের পর গাজী নজরুল ইসলাম ও তার প্রথম স্ত্রীকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য থানায় নেওয়া হয়েছে বলে জানা গেছে।
উল্লেখ্য, চলতি বছর গাজী নজরুল ইসলামের একটি ব্যক্তিগত ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর তিনি মরিয়মকে তার দ্বিতীয় স্ত্রী হিসেবে পরিচয় করিয়ে দেন। পরবর্তীতে এ ঘটনায় জামায়াতে ইসলামী তাকে দল থেকে বহিষ্কার করে।
মরিয়মের মৃত্যুর প্রকৃত কারণ জানতে পুলিশ ঘটনাটি তদন্ত করছে। তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত মৃত্যুর কারণ সম্পর্কে নিশ্চিত সিদ্ধান্তে পৌঁছানো যাচ্ছে না।
সাতক্ষীরা প্রতিনিধি 


















