Dhaka ০৫:৩৫ অপরাহ্ন, সোমবার, ২১ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৬ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

শি শু কলি হ ত্যা, রিমান্ডে উঠে এলো চাঞ্চল্যকর তথ্য

পাবনার সদর উপজেলার কুলোনিয়া গ্রামের ১০ বছরের শিশু কামরুন্নাহার কলি ধর্ষণ ও হত্যা মামলায় গ্রেপ্তার মোস্তফা প্রামাণিককে জিজ্ঞাসাবাদে ঘটনার বিষয়ে বেশ কিছু তথ্য পাওয়ার দাবি করেছে পুলিশ।

তদন্ত কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, মাগরিবের নামাজের পর কলিকে মোস্তফার দোকানের পেছনের একটি কক্ষে নেওয়া হয়। সেখানে তাকে ধর্ষণের পর হত্যা করা হয়েছে বলে রিমান্ডে তথ্য পাওয়া গেছে। তবে ঘটনায় আরেক আসামি ইয়াসিন আলী ধর্ষণ ও হত্যায় সরাসরি জড়িত থাকার অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। তার দাবি, হত্যার পর মরদেহ সরানোর কাজে তিনি সহযোগিতা করেছেন।

পুলিশ জানায়, ঘটনার দিন সকালে কলি তার ভাইয়ের সঙ্গে মোস্তফার দোকানে গিয়েছিল। তদন্তে উঠে এসেছে, ওই সময় শিশুটির কয়েকটি ছবি মোবাইল ফোনে ধারণ করা হয়েছিল। পরে মোস্তফার ফোন পরীক্ষা করে এসব ছবি পাওয়ার দাবি করেছে পুলিশ। একই ফোনে আরও কয়েকজন শিশুর ছবিও পাওয়া গেছে বলে তদন্ত কর্মকর্তারা জানিয়েছেন।

পুলিশের দাবি, ঘটনার পরও মোস্তফা নিহত শিশুটির পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ রাখেন। এমনকি কলির সন্ধানে আয়োজিত বিভিন্ন কর্মসূচিতেও তাকে দেখা গেছে। মরদেহ উদ্ধারের সময়ও তিনি ঘটনাস্থলের আশপাশে ছিলেন বলে জানিয়েছে তদন্ত সংশ্লিষ্টরা।

তদন্ত কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, ঘটনার পর রাতে মোস্তফা আবার নিজের দোকান খোলেন এবং পরে গোসল করেন। এসব বিষয়ও তদন্তের অংশ হিসেবে খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

গত ৯ সেপ্টেম্বর সন্ধ্যার পর কলি নিখোঁজ হয়। এক সপ্তাহ পর ১৬ সেপ্টেম্বর সকালে বাড়ির কাছের একটি ডোবা থেকে বস্তাবন্দী অবস্থায় তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়। এরপর তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় মোস্তফা প্রামাণিক ও তার ভাড়াটিয়া ইয়াসিন আলীকে শনাক্ত করে গ্রেপ্তার করা হয় বলে পুলিশ জানিয়েছে।

মামলায় গ্রেপ্তার দুজনকে আদালতে হাজির করে পাঁচ দিনের রিমান্ডে নেওয়া হয়েছিল। পুলিশ বলছে, জিজ্ঞাসাবাদে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাওয়ায় নির্ধারিত সময়ের আগেই রিমান্ড শেষ করা হয়েছে।

আরও পড়ুনঃ  জন্মাষ্টমীতে প্রধানমন্ত্রী: ‘সংখ্যালঘু-সংখ্যাগুরু নয়, সবার পরিচয় বাংলাদেশি’

তদন্ত কর্মকর্তা জানিয়েছেন, মামলার তদন্ত প্রায় শেষ পর্যায়ে। ডিজিটাল ফরেনসিকসহ কয়েকটি পরীক্ষার প্রতিবেদন এখনো পাওয়া বাকি। এসব প্রতিবেদন হাতে পাওয়ার পর ধর্ষণের ঘটনায় একজন নাকি একাধিক ব্যক্তি জড়িত ছিলেন, সে বিষয়ে আরও নিশ্চিত হওয়ার চেষ্টা করা হবে।

এদিকে হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় এলাকায় উত্তেজনা বিরাজ করছে। গত কয়েকদিনে মোস্তফার বাড়িতে ভাঙচুরের ঘটনাও ঘটেছে। নিহত শিশুর স্বজন ও স্থানীয়রা দ্রুত তদন্ত শেষ করে আদালতে প্রতিবেদন দেওয়ার দাবিতে কর্মসূচি পালন করেছেন।

পুলিশ জানিয়েছে, ফরেনসিক ও অন্যান্য তদন্তের ফল পাওয়ার পর মামলার পরবর্তী আইনি কার্যক্রম এগিয়ে নেওয়া হবে।

Tag :
জনপ্রিয় পোস্ট

শি শু কলি হ ত্যা, রিমান্ডে উঠে এলো চাঞ্চল্যকর তথ্য

Update Time : ১১:৫৯:০৩ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২১ সেপ্টেম্বর ২০২৬

পাবনার সদর উপজেলার কুলোনিয়া গ্রামের ১০ বছরের শিশু কামরুন্নাহার কলি ধর্ষণ ও হত্যা মামলায় গ্রেপ্তার মোস্তফা প্রামাণিককে জিজ্ঞাসাবাদে ঘটনার বিষয়ে বেশ কিছু তথ্য পাওয়ার দাবি করেছে পুলিশ।

তদন্ত কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, মাগরিবের নামাজের পর কলিকে মোস্তফার দোকানের পেছনের একটি কক্ষে নেওয়া হয়। সেখানে তাকে ধর্ষণের পর হত্যা করা হয়েছে বলে রিমান্ডে তথ্য পাওয়া গেছে। তবে ঘটনায় আরেক আসামি ইয়াসিন আলী ধর্ষণ ও হত্যায় সরাসরি জড়িত থাকার অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। তার দাবি, হত্যার পর মরদেহ সরানোর কাজে তিনি সহযোগিতা করেছেন।

পুলিশ জানায়, ঘটনার দিন সকালে কলি তার ভাইয়ের সঙ্গে মোস্তফার দোকানে গিয়েছিল। তদন্তে উঠে এসেছে, ওই সময় শিশুটির কয়েকটি ছবি মোবাইল ফোনে ধারণ করা হয়েছিল। পরে মোস্তফার ফোন পরীক্ষা করে এসব ছবি পাওয়ার দাবি করেছে পুলিশ। একই ফোনে আরও কয়েকজন শিশুর ছবিও পাওয়া গেছে বলে তদন্ত কর্মকর্তারা জানিয়েছেন।

পুলিশের দাবি, ঘটনার পরও মোস্তফা নিহত শিশুটির পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ রাখেন। এমনকি কলির সন্ধানে আয়োজিত বিভিন্ন কর্মসূচিতেও তাকে দেখা গেছে। মরদেহ উদ্ধারের সময়ও তিনি ঘটনাস্থলের আশপাশে ছিলেন বলে জানিয়েছে তদন্ত সংশ্লিষ্টরা।

তদন্ত কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, ঘটনার পর রাতে মোস্তফা আবার নিজের দোকান খোলেন এবং পরে গোসল করেন। এসব বিষয়ও তদন্তের অংশ হিসেবে খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

গত ৯ সেপ্টেম্বর সন্ধ্যার পর কলি নিখোঁজ হয়। এক সপ্তাহ পর ১৬ সেপ্টেম্বর সকালে বাড়ির কাছের একটি ডোবা থেকে বস্তাবন্দী অবস্থায় তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়। এরপর তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় মোস্তফা প্রামাণিক ও তার ভাড়াটিয়া ইয়াসিন আলীকে শনাক্ত করে গ্রেপ্তার করা হয় বলে পুলিশ জানিয়েছে।

মামলায় গ্রেপ্তার দুজনকে আদালতে হাজির করে পাঁচ দিনের রিমান্ডে নেওয়া হয়েছিল। পুলিশ বলছে, জিজ্ঞাসাবাদে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাওয়ায় নির্ধারিত সময়ের আগেই রিমান্ড শেষ করা হয়েছে।

আরও পড়ুনঃ  রূপপুর বিদ্যুৎকেন্দ্র থেকে ৩০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ যাবে জাতীয় গ্রিডে

তদন্ত কর্মকর্তা জানিয়েছেন, মামলার তদন্ত প্রায় শেষ পর্যায়ে। ডিজিটাল ফরেনসিকসহ কয়েকটি পরীক্ষার প্রতিবেদন এখনো পাওয়া বাকি। এসব প্রতিবেদন হাতে পাওয়ার পর ধর্ষণের ঘটনায় একজন নাকি একাধিক ব্যক্তি জড়িত ছিলেন, সে বিষয়ে আরও নিশ্চিত হওয়ার চেষ্টা করা হবে।

এদিকে হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় এলাকায় উত্তেজনা বিরাজ করছে। গত কয়েকদিনে মোস্তফার বাড়িতে ভাঙচুরের ঘটনাও ঘটেছে। নিহত শিশুর স্বজন ও স্থানীয়রা দ্রুত তদন্ত শেষ করে আদালতে প্রতিবেদন দেওয়ার দাবিতে কর্মসূচি পালন করেছেন।

পুলিশ জানিয়েছে, ফরেনসিক ও অন্যান্য তদন্তের ফল পাওয়ার পর মামলার পরবর্তী আইনি কার্যক্রম এগিয়ে নেওয়া হবে।