
রাজধানীতে আলোচিত হাদি হত্যা মামলার প্রধান আসামি ফয়সালের অস্বাভাবিক আর্থিক লেনদেনের অভিযোগে তার বিরুদ্ধে মানি লন্ডারিং আইনে মামলা করেছে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ।
বুধবার সন্ধ্যায় রাজধানীর আদাবর থানায় সিআইডির ফিন্যান্সিয়াল ক্রাইম ইউনিটের উপপরিদর্শক আবদুল লতিফ বাদী হয়ে মামলাটি করেন। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন আদাবর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা জাহিদুল ইসলাম জাহাঙ্গীর।
মামলার এজাহারে বলা হয়, ফয়সাল ঠিকাদারি ব্যবসার আড়ালে ভুয়া টেন্ডার ও যৌথ ব্যবসার প্রলোভন দেখিয়ে বিভিন্ন ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকে অর্থ হাতিয়ে নিয়েছেন। এভাবে তিনি ১ কোটি ৯৩ লাখ ১ হাজার ৫০০ টাকা আত্মসাৎ, স্থানান্তর ও রূপান্তর করেছেন বলে অভিযোগ করা হয়েছে।
এছাড়া আদালতের আদেশে ফয়সাল ও তার স্বার্থসংশ্লিষ্টদের ৫৩টি ব্যাংক হিসাব জব্দ করা হয়েছে। জালিয়াতির অর্থ গোপন করতে তার স্ত্রী শাহেদা পারভীন সামিয়ার ব্যাংক হিসাবেও একাধিকবার টাকা স্থানান্তরের তথ্য পাওয়া গেছে। পরবর্তীতে একটি হিসাবে ৬২ লাখ টাকা জমা করে স্থায়ী আমানত করা হয়।
সিআইডির অনুসন্ধানে জানা যায়, অপরাধলব্ধ অর্থ গোপন ও বৈধ করার উদ্দেশ্যে অভিযুক্তরা বিভিন্ন ব্যাংকে একাধিক হিসাব ব্যবহার করেছেন। একই সঙ্গে ওই অর্থ বিদেশে পাচার করে বিনিয়োগের চেষ্টার অভিযোগও উঠে এসেছে।
প্রসঙ্গত, গত বছরের ১২ ডিসেম্বর রাজধানীর পল্টন এলাকায় ওসমান হাদিকে গুলি করা হয়। পরে সিঙ্গাপুরে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ১৮ ডিসেম্বর তার মৃত্যু হয়। এ ঘটনায় পল্টন থানায় দায়ের করা মামলায় ফয়সালকে প্রধান আসামি করা হয়।
তদন্ত সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, এর আগে ফয়সাল ও তার সংশ্লিষ্টদের ব্যাংক হিসাবে প্রায় ১২৭ কোটি টাকার অস্বাভাবিক লেনদেনের তথ্য পাওয়া যায়। চলতি বছরের ৮ মার্চ তাকে ও তার সহযোগী আলমগীর হোসেনকে সীমান্তবর্তী এলাকায় গ্রেফতার করে ভারতের পশ্চিমবঙ্গ পুলিশের বিশেষ টাস্কফোর্স। এরপর থেকে তারা দেশটির কারাগারে রয়েছেন।
নিজস্ব প্রতিবেদক 


















