Dhaka ০৩:১৪ অপরাহ্ন, সোমবার, ০৫ অক্টোবর ২০২৬, ২০ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ইয়াবা দিয়ে বাবা-মেয়েসহ ৩ জনকে ফাঁসানো সেই দুই পুলিশ সদস্য প্রত্যাহার

হবিগঞ্জের চুনারুঘাটে একটি পরিবারের তিন সদস্যকে ইয়াবা দিয়ে ফাঁসানোর চেষ্টার অভিযোগ উঠেছে পুলিশের দুই সদস্যের বিরুদ্ধে। অভিযোগের পর তাদের প্রত্যাহার করে হবিগঞ্জ পুলিশ লাইনে সংযুক্ত করা হয়েছে।

প্রত্যাহার হওয়া দুই পুলিশ সদস্য হলেন চুনারুঘাট থানার উপপরিদর্শক (এসআই) মাসুম আল মামুন ও কনস্টেবল রুহুল আমিন। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন চুনারুঘাট-মাধবপুর সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার মোহাম্মদ রাফিউর রহমান।

ঘটনাটি উপজেলার আহম্মদাবাদ ইউনিয়নের বগাডুবী রেললাইনের মোড় এলাকায় ঘটে। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, কালিশিরী গ্রামের ছায়েদ মিয়া, তাঁর মেয়ে জাসমিন আক্তার ও ছোট ভাই ইউনুস মিয়া একটি মামলার হাজিরা দিতে ইজিবাইযোগে হবিগঞ্জ আদালতের দিকে যাচ্ছিলেন।

পথে বগাডুবী এলাকায় তাদের ইজিবাইক থামিয়ে পুলিশ তল্লাশি চালায় বলে পরিবারের সদস্যরা অভিযোগ করেন। তাদের দাবি, তল্লাশির সময় ছায়েদ মিয়ার পকেটে ইয়াবা ঢুকিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করা হয়। পরে তিনজনকে আটক করে চুনারুঘাট থানায় নিয়ে যাওয়া হয়।

ঘটনাটি এলাকায় ছড়িয়ে পড়লে স্থানীয় লোকজন থানার সামনে জড়ো হয়ে প্রতিবাদ জানান। পরে তাদের বিরুদ্ধে মাদক সংশ্লিষ্টতার অভিযোগের প্রমাণ না পাওয়ায় প্রায় সাত ঘণ্টা পর তিনজনকে ছেড়ে দেওয়া হয়।

ছায়েদ মিয়া ও তাঁর মেয়ে জাসমিন আক্তারের অভিযোগ, তাদের মাদক ব্যবসার সঙ্গে জড়িত দেখানোর উদ্দেশ্যেই ইয়াবা দিয়ে ফাঁসানোর চেষ্টা করা হয়েছিল। স্থানীয় ইউপি সদস্য আবদুস সাত্তার মোল্লাও জানান, ওই পরিবারের সদস্যরা মাদক ব্যবসার সঙ্গে জড়িত—এমন কোনো তথ্য তাঁর জানা নেই।

অভিযোগের বিষয়ে এসআই মাসুম আল মামুনের বক্তব্য জানতে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

চুনারুঘাট থানার ওসি সাইফুল ইসলাম জানান, মাদক ব্যবসার সঙ্গে জড়িত থাকার প্রমাণ না পাওয়ায় পরিবারের সদস্যদের ছেড়ে দেওয়া হয়েছে। সংশ্লিষ্ট পুলিশ সদস্যদের বিষয়েও ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ ব্যবস্থা নিয়েছে।

সহকারী পুলিশ সুপার মোহাম্মদ রাফিউর রহমান জানান, পরিবারটিকে ফাঁসানোর চেষ্টার অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে দুই পুলিশ সদস্যকে প্রত্যাহার করে পুলিশ লাইনে সংযুক্ত করা হয়েছে।

আরও পড়ুনঃ  কাভার্ডভ্যান তল্লাশিকালে ট্রাকের ধাক্কায় এসআরবি কর্মকর্তা নিহত
Tag :
জনপ্রিয় পোস্ট

ইয়াবা দিয়ে বাবা-মেয়েসহ ৩ জনকে ফাঁসানো সেই দুই পুলিশ সদস্য প্রত্যাহার

Update Time : ১১:৩০:০৫ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬

হবিগঞ্জের চুনারুঘাটে একটি পরিবারের তিন সদস্যকে ইয়াবা দিয়ে ফাঁসানোর চেষ্টার অভিযোগ উঠেছে পুলিশের দুই সদস্যের বিরুদ্ধে। অভিযোগের পর তাদের প্রত্যাহার করে হবিগঞ্জ পুলিশ লাইনে সংযুক্ত করা হয়েছে।

প্রত্যাহার হওয়া দুই পুলিশ সদস্য হলেন চুনারুঘাট থানার উপপরিদর্শক (এসআই) মাসুম আল মামুন ও কনস্টেবল রুহুল আমিন। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন চুনারুঘাট-মাধবপুর সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার মোহাম্মদ রাফিউর রহমান।

ঘটনাটি উপজেলার আহম্মদাবাদ ইউনিয়নের বগাডুবী রেললাইনের মোড় এলাকায় ঘটে। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, কালিশিরী গ্রামের ছায়েদ মিয়া, তাঁর মেয়ে জাসমিন আক্তার ও ছোট ভাই ইউনুস মিয়া একটি মামলার হাজিরা দিতে ইজিবাইযোগে হবিগঞ্জ আদালতের দিকে যাচ্ছিলেন।

পথে বগাডুবী এলাকায় তাদের ইজিবাইক থামিয়ে পুলিশ তল্লাশি চালায় বলে পরিবারের সদস্যরা অভিযোগ করেন। তাদের দাবি, তল্লাশির সময় ছায়েদ মিয়ার পকেটে ইয়াবা ঢুকিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করা হয়। পরে তিনজনকে আটক করে চুনারুঘাট থানায় নিয়ে যাওয়া হয়।

ঘটনাটি এলাকায় ছড়িয়ে পড়লে স্থানীয় লোকজন থানার সামনে জড়ো হয়ে প্রতিবাদ জানান। পরে তাদের বিরুদ্ধে মাদক সংশ্লিষ্টতার অভিযোগের প্রমাণ না পাওয়ায় প্রায় সাত ঘণ্টা পর তিনজনকে ছেড়ে দেওয়া হয়।

ছায়েদ মিয়া ও তাঁর মেয়ে জাসমিন আক্তারের অভিযোগ, তাদের মাদক ব্যবসার সঙ্গে জড়িত দেখানোর উদ্দেশ্যেই ইয়াবা দিয়ে ফাঁসানোর চেষ্টা করা হয়েছিল। স্থানীয় ইউপি সদস্য আবদুস সাত্তার মোল্লাও জানান, ওই পরিবারের সদস্যরা মাদক ব্যবসার সঙ্গে জড়িত—এমন কোনো তথ্য তাঁর জানা নেই।

অভিযোগের বিষয়ে এসআই মাসুম আল মামুনের বক্তব্য জানতে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

চুনারুঘাট থানার ওসি সাইফুল ইসলাম জানান, মাদক ব্যবসার সঙ্গে জড়িত থাকার প্রমাণ না পাওয়ায় পরিবারের সদস্যদের ছেড়ে দেওয়া হয়েছে। সংশ্লিষ্ট পুলিশ সদস্যদের বিষয়েও ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ ব্যবস্থা নিয়েছে।

সহকারী পুলিশ সুপার মোহাম্মদ রাফিউর রহমান জানান, পরিবারটিকে ফাঁসানোর চেষ্টার অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে দুই পুলিশ সদস্যকে প্রত্যাহার করে পুলিশ লাইনে সংযুক্ত করা হয়েছে।

আরও পড়ুনঃ  ‘ভালো হয়ে যাও মাসুদ’—আলোচিত বিআরটিএ কর্মকর্তা এবার ঢাকায় বদলি