ফেনী শহরের একটি আবাসিক হোটেলের টয়লেটে গ্যাসের চুলা বসিয়ে চিনি জ্বাল দিয়ে ভেজাল মধু তৈরির অভিযোগে একটি চক্রের চার সদস্যকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
ফেনী শহরের বড় মসজিদ রোডের হোটেল ট্যুরিস্ট আবাসিকের ছয়তলার একটি কক্ষের টয়লেটে দীর্ঘদিন ধরে এই কার্যক্রম চলছিল বলে জানিয়েছে পুলিশ।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে রোববার রাতে ওই হোটেলে অভিযান চালানো হয়। এ সময় কথিত ভেজাল মধু তৈরির সঙ্গে জড়িত চারজনকে আটক করা হয়।
গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা হলেন—মোহাম্মদ মহসিন, মেহেদী হাসান, মোহাম্মদ রাসেল ও জসিম উদ্দিন। তাঁদের সবার বাড়ি কুমিল্লার দেবীদ্বার উপজেলায় বলে জানিয়েছে পুলিশ।
পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, চক্রটি দুই কেজি আসল মধুর সঙ্গে প্রায় ১০ কেজি চিনি মিশিয়ে তা জ্বাল দিত। পরে তৈরি করা মিশ্রণ বোতলে ভরে ‘খাঁটি মধু’ হিসেবে বাজারে বিক্রি করা হতো।
অভিযোগ রয়েছে, কম দামে মধু পাওয়ার ক্রেতাদের আগ্রহকে কাজে লাগিয়ে চক্রটি এই ব্যবসা চালিয়ে আসছিল। দুই কেজি আসল মধু ও চিনি মিশিয়ে প্রায় ১২ কেজি পণ্য তৈরি করতে তাদের খরচ হতো আনুমানিক সাড়ে তিন হাজার টাকা। পরে সেটি প্রায় ছয় হাজার টাকায় বিক্রি করা হতো বলে পুলিশকে জানানো হয়েছে।
জিজ্ঞাসাবাদে চক্রের কথিত মূল হোতা মহসিন আরও দাবি করেছেন, তাঁদের সঙ্গে মোট ৩৮ জন যুক্ত রয়েছেন। তাঁদের একটি অংশ ফেনীর পাঁচগাছিয়া এলাকায় এবং অন্যরা ওই আবাসিক হোটেলে অবস্থান করে তৈরি করা পণ্য বিভিন্ন এলাকায় বিক্রি করতেন বলে দাবি করা হয়েছে।
হোটেল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা দীর্ঘদিন ধরে সেখানে যাতায়াত করলেও তাঁদের প্রকৃত ব্যবসা সম্পর্কে ধারণা ছিল না। টয়লেটের ভেতরে এ ধরনের কার্যক্রম চলছিল—এমন তথ্যও তাদের জানা ছিল না বলে দাবি করেছেন হোটেল ব্যবস্থাপক।
স্থানীয় বাসিন্দারা বলছেন, অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে এ ধরনের পণ্য তৈরি করে ‘খাঁটি মধু’ হিসেবে বাজারজাত করা হলে ক্রেতারা প্রতারণার পাশাপাশি স্বাস্থ্যঝুঁকিতেও পড়তে পারেন।
ফেনী মডেল থানার পুলিশ জানিয়েছে, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা চিনি মিশিয়ে মধু তৈরির কথা স্বীকার করেছেন। পরে গ্রেপ্তার চারজনকে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।
ঘটনার সঙ্গে আরও কেউ জড়িত কি না এবং এই ভেজাল পণ্য কোথায় কোথায় সরবরাহ করা হতো, তা খতিয়ে দেখতে তদন্ত চলছে।
ফেনী প্রতিনিধি 



















