Dhaka ০২:২১ অপরাহ্ন, সোমবার, ০৫ অক্টোবর ২০২৬, ২০ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

শাহজালাল বিমানবন্দরের ঘটনায় আখতারুজ্জামানের এক দিনের রিমান্ড

হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে বিশৃঙ্খলা, সরকারি কাজে বাধা ও নিরাপত্তাকর্মীকে লাঞ্ছিত করার অভিযোগে দায়ের করা মামলায় জামায়াতে ইসলামীর নেতা ও সাবেক সংসদ সদস্য মেজর (অব.) মোহাম্মদ আখতারুজ্জামান রঞ্জনকে এক দিনের রিমান্ডে নেওয়ার অনুমতি দিয়েছেন আদালত।

শনিবার ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আলবিরুনী মীর শুনানি শেষে এ আদেশ দেন। এর আগে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা আখতারুজ্জামানকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য পাঁচ দিনের রিমান্ড আবেদন করেন। শুনানি শেষে আদালত এক দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।

যে ঘটনায় মামলা

মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, সৌদি আরবের মদিনা থেকে ওমরাহ পালন শেষে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের একটি ফ্লাইটে ঢাকায় ফেরেন কয়েকজন যাত্রী। বিমানবন্দরে পৌঁছানোর পর লাগেজ সংগ্রহ এবং জমজমের পানি পাওয়ায় বিলম্ব হওয়াকে কেন্দ্র করে যাত্রীদের মধ্যে অসন্তোষ তৈরি হয়।

এ সময় পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে বিমানবন্দরের কর্মকর্তারা সেখানে উপস্থিত হন। পুলিশের করা মামলার অভিযোগ অনুযায়ী, ওই সময় আখতারুজ্জামানের সঙ্গে বিমানবন্দরের কর্মকর্তাদের বাকবিতণ্ডা হয়।

মামলায় সরকারি কাজে বাধা, হুমকি এবং বিমানবন্দরের নিরাপত্তায় দায়িত্ব পালনকারী এক কর্মকর্তাকে লাঞ্ছিত করার অভিযোগ আনা হয়েছে।

নিরাপত্তাকর্মীকে আঘাতের অভিযোগ

মামলার অভিযোগে বলা হয়েছে, বিমানবন্দরের সংরক্ষিত এলাকায় কয়েকজন ব্যক্তি মোবাইল ফোনে ভিডিও ধারণ করছিলেন। দায়িত্ব পালনরত নিরাপত্তা কর্মকর্তা ভিডিও ধারণে বাধা দিলে এ নিয়ে উত্তেজনা তৈরি হয়।

একপর্যায়ে আখতারুজ্জামান ওই কর্মকর্তার সঙ্গে বাকবিতণ্ডায় জড়িয়ে পড়েন এবং তাকে শারীরিকভাবে আঘাত করার অভিযোগ ওঠে।

তবে মামলায় করা এসব অভিযোগের সত্যতা এখনো আদালতে প্রমাণিত হয়নি। তদন্তের পর অভিযোগের বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য জানা যাবে।

গ্রেপ্তার ও রিমান্ড

ঘটনার পর আখতারুজ্জামানের বিরুদ্ধে বিমানবন্দর থানায় মামলা করা হয়। পরে রাজধানীর ক্যান্টনমেন্ট এলাকার বাসা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করে গোয়েন্দা পুলিশ। এরপর তাকে বিমানবন্দর থানা পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়।

পরদিন তাকে আদালতে হাজির করে পুলিশ জিজ্ঞাসাবাদের জন্য পাঁচ দিনের রিমান্ড আবেদন করে। উভয় পক্ষের বক্তব্য শুনে আদালত এক দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।

আরও পড়ুনঃ  সিলেটে আইনজীবীর বাসা থেকে সাবেক মেয়রপুত্র আটক

জমজমের পানি ও লাগেজ নিয়ে অসন্তোষ

মামলার সূত্র অনুযায়ী, ঘটনার শুরু হয় বিমানবন্দরে লাগেজ পেতে দেরি এবং জমজমের পানি সরবরাহে বিলম্বকে কেন্দ্র করে। এতে ওমরাহ পালন শেষে দেশে ফেরা কিছু যাত্রীর মধ্যে ক্ষোভ দেখা দেয়।

ঘটনার সময়ের একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। ভিডিওটি নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিভিন্ন ধরনের আলোচনা হলেও পুরো ঘটনার প্রকৃত পরিস্থিতি তদন্তের মাধ্যমে নির্ধারণ করা হবে।

এদিকে জমজমের পানি সরবরাহে বিলম্বের বিষয়টিও কর্তৃপক্ষের নজরে এসেছে। দায়িত্বে অবহেলার অভিযোগে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের বিষয়ে বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে জানা গেছে।

তদন্ত অব্যাহত

আদালতের আদেশ অনুযায়ী এক দিনের রিমান্ডে আখতারুজ্জামানকে জিজ্ঞাসাবাদ করবে পুলিশ। তদন্ত কর্মকর্তারা মামলার অভিযোগ, ঘটনার সময়কার পরিস্থিতি এবং সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের ভূমিকা যাচাই করবেন।

মামলাটির তদন্ত এখনো চলমান। রিমান্ড শেষে তাকে আবার আদালতে হাজির করা হবে।

উল্লেখ্য, কোনো মামলায় গ্রেপ্তার বা রিমান্ডে নেওয়া মানেই অভিযুক্ত ব্যক্তি দোষী প্রমাণিত হয়েছেন—এমন নয়। মামলায় উত্থাপিত অভিযোগের সত্যতা তদন্ত ও পরবর্তী বিচারিক প্রক্রিয়ায় নির্ধারিত হবে।

Tag :
জনপ্রিয় পোস্ট

শাহজালাল বিমানবন্দরের ঘটনায় আখতারুজ্জামানের এক দিনের রিমান্ড

Update Time : ০২:২৪:৪৩ অপরাহ্ন, শনিবার, ৩ অক্টোবর ২০২৬

হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে বিশৃঙ্খলা, সরকারি কাজে বাধা ও নিরাপত্তাকর্মীকে লাঞ্ছিত করার অভিযোগে দায়ের করা মামলায় জামায়াতে ইসলামীর নেতা ও সাবেক সংসদ সদস্য মেজর (অব.) মোহাম্মদ আখতারুজ্জামান রঞ্জনকে এক দিনের রিমান্ডে নেওয়ার অনুমতি দিয়েছেন আদালত।

শনিবার ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আলবিরুনী মীর শুনানি শেষে এ আদেশ দেন। এর আগে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা আখতারুজ্জামানকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য পাঁচ দিনের রিমান্ড আবেদন করেন। শুনানি শেষে আদালত এক দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।

যে ঘটনায় মামলা

মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, সৌদি আরবের মদিনা থেকে ওমরাহ পালন শেষে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের একটি ফ্লাইটে ঢাকায় ফেরেন কয়েকজন যাত্রী। বিমানবন্দরে পৌঁছানোর পর লাগেজ সংগ্রহ এবং জমজমের পানি পাওয়ায় বিলম্ব হওয়াকে কেন্দ্র করে যাত্রীদের মধ্যে অসন্তোষ তৈরি হয়।

এ সময় পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে বিমানবন্দরের কর্মকর্তারা সেখানে উপস্থিত হন। পুলিশের করা মামলার অভিযোগ অনুযায়ী, ওই সময় আখতারুজ্জামানের সঙ্গে বিমানবন্দরের কর্মকর্তাদের বাকবিতণ্ডা হয়।

মামলায় সরকারি কাজে বাধা, হুমকি এবং বিমানবন্দরের নিরাপত্তায় দায়িত্ব পালনকারী এক কর্মকর্তাকে লাঞ্ছিত করার অভিযোগ আনা হয়েছে।

নিরাপত্তাকর্মীকে আঘাতের অভিযোগ

মামলার অভিযোগে বলা হয়েছে, বিমানবন্দরের সংরক্ষিত এলাকায় কয়েকজন ব্যক্তি মোবাইল ফোনে ভিডিও ধারণ করছিলেন। দায়িত্ব পালনরত নিরাপত্তা কর্মকর্তা ভিডিও ধারণে বাধা দিলে এ নিয়ে উত্তেজনা তৈরি হয়।

একপর্যায়ে আখতারুজ্জামান ওই কর্মকর্তার সঙ্গে বাকবিতণ্ডায় জড়িয়ে পড়েন এবং তাকে শারীরিকভাবে আঘাত করার অভিযোগ ওঠে।

তবে মামলায় করা এসব অভিযোগের সত্যতা এখনো আদালতে প্রমাণিত হয়নি। তদন্তের পর অভিযোগের বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য জানা যাবে।

গ্রেপ্তার ও রিমান্ড

ঘটনার পর আখতারুজ্জামানের বিরুদ্ধে বিমানবন্দর থানায় মামলা করা হয়। পরে রাজধানীর ক্যান্টনমেন্ট এলাকার বাসা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করে গোয়েন্দা পুলিশ। এরপর তাকে বিমানবন্দর থানা পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়।

পরদিন তাকে আদালতে হাজির করে পুলিশ জিজ্ঞাসাবাদের জন্য পাঁচ দিনের রিমান্ড আবেদন করে। উভয় পক্ষের বক্তব্য শুনে আদালত এক দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।

আরও পড়ুনঃ  সার্ককে আরও কার্যকর ও জনকেন্দ্রিক করার তাগিদ প্রধানমন্ত্রীর

জমজমের পানি ও লাগেজ নিয়ে অসন্তোষ

মামলার সূত্র অনুযায়ী, ঘটনার শুরু হয় বিমানবন্দরে লাগেজ পেতে দেরি এবং জমজমের পানি সরবরাহে বিলম্বকে কেন্দ্র করে। এতে ওমরাহ পালন শেষে দেশে ফেরা কিছু যাত্রীর মধ্যে ক্ষোভ দেখা দেয়।

ঘটনার সময়ের একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। ভিডিওটি নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিভিন্ন ধরনের আলোচনা হলেও পুরো ঘটনার প্রকৃত পরিস্থিতি তদন্তের মাধ্যমে নির্ধারণ করা হবে।

এদিকে জমজমের পানি সরবরাহে বিলম্বের বিষয়টিও কর্তৃপক্ষের নজরে এসেছে। দায়িত্বে অবহেলার অভিযোগে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের বিষয়ে বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে জানা গেছে।

তদন্ত অব্যাহত

আদালতের আদেশ অনুযায়ী এক দিনের রিমান্ডে আখতারুজ্জামানকে জিজ্ঞাসাবাদ করবে পুলিশ। তদন্ত কর্মকর্তারা মামলার অভিযোগ, ঘটনার সময়কার পরিস্থিতি এবং সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের ভূমিকা যাচাই করবেন।

মামলাটির তদন্ত এখনো চলমান। রিমান্ড শেষে তাকে আবার আদালতে হাজির করা হবে।

উল্লেখ্য, কোনো মামলায় গ্রেপ্তার বা রিমান্ডে নেওয়া মানেই অভিযুক্ত ব্যক্তি দোষী প্রমাণিত হয়েছেন—এমন নয়। মামলায় উত্থাপিত অভিযোগের সত্যতা তদন্ত ও পরবর্তী বিচারিক প্রক্রিয়ায় নির্ধারিত হবে।