Dhaka ০৩:১৪ অপরাহ্ন, সোমবার, ০৫ অক্টোবর ২০২৬, ২০ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

পার্কভিউ হাসপাতালের কর্মীদের আন্দোলন, বিএনপি নেতাকে ঘিরে ‘ভুয়া ভুয়া স্লোগান’, হামলা-মারধর

বেতন ও ভাতা বৃদ্ধির দাবিতে সিলেট নগরের পার্কভিউ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে কর্মচারীদের আন্দোলনকে কেন্দ্র করে উত্তেজনা ও হাতাহাতির ঘটনা ঘটেছে। শনিবার (৩ অক্টোবর) নগরের তালতলা এলাকায় হাসপাতাল ভবনে এ ঘটনা ঘটে।

ঘটনাকে কেন্দ্র করে হাসপাতাল প্রাঙ্গণে বেশ কিছু সময় উত্তেজনাকর পরিস্থিতি বিরাজ করে। পরে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে। “সিলেটের পার্কভিউ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে কর্মচারীদের বেতন বৃদ্ধির আন্দোলনকে.

বেতন-ভাতা বৃদ্ধির দাবিতে কর্মবিরতি

হাসপাতালের চতুর্থ শ্রেণির কর্মচারীরা শনিবার সকাল থেকে বেতন ও ভাতা বৃদ্ধির দাবিতে কর্মবিরতি শুরু করেন। পরে তারা হাসপাতালের প্রধান ফটকের সামনে অবস্থান নিয়ে নিজেদের দাবির পক্ষে বিক্ষোভ করেন।

কর্মচারীদের দাবি ছিল, তাদের বেতন ও সুযোগ-সুবিধা বাড়াতে হবে। আন্দোলনকারীদের সরে যাওয়ার জন্য হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে অনুরোধ করা হলেও তারা কর্মসূচি চালিয়ে যান বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

এরই মধ্যে দুপুরের দিকে হাসপাতালে যান সিলেট মহানগর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ইমদাদ হোসেন চৌধুরী। তাকে ঘিরে আন্দোলনকারীদের মধ্যে উত্তেজনা তৈরি হয়।

স্লোগানকে কেন্দ্র করে উত্তেজনা

প্রত্যক্ষদর্শীদের বরাত দিয়ে প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, হাসপাতালের কয়েকজন কর্মচারী ইমদাদ হোসেন চৌধুরীকে ঘিরে বিভিন্ন স্লোগান দেন। এ সময় পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে।

পরে কয়েকজন কর্মচারীকে হাসপাতালের সেমিনার হলে নিয়ে যাওয়ার ঘটনা ঘটে। তাদের একজনকে পুলিশ আটক করে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। ওই কর্মচারী পরে ইমদাদ হোসেন চৌধুরীর কাছে ক্ষমা চান বলে জানা গেছে।

কর্মচারীদের অভিযোগ, ক্ষমা চাওয়ার পরও ওই ব্যক্তিকে কয়েকজন মারধর করেন। পরে হাসপাতালের লিফটের কাছেও তাকে মারধরের অভিযোগ ওঠে। তবে কারা এ ঘটনার সঙ্গে জড়িত ছিলেন, সে বিষয়ে অভিযোগ ও পাল্টা বক্তব্য রয়েছে।

আহতের দাবি কর্মচারীদের

আন্দোলনকারীদের একজন আহমদ আল জুবেরের দাবি, স্লোগান দেওয়ার কারণে তারা ক্ষমা চেয়েছিলেন। এরপরও তাদের ওপর হামলা করা হয়।

আরও পড়ুনঃ  সিলেটে পিকনিক করে ফেরার পথে যে স্লোগান দিয়ে ‘খেসারত’ দিল ৭ শিক্ষার্থী

তার ভাষ্য অনুযায়ী, ঘটনায় প্রায় ৩০ জন কর্মী আহত হয়েছেন। তবে আহতের এই সংখ্যা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে স্বাধীনভাবে নিশ্চিত হওয়া যায়নি।

আরেক কর্মচারী অভিযোগ করেন, দীর্ঘদিন তিনি বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। তার দাবি, আন্দোলনের সময় তাদের ওপর হামলা চালানো হয়েছে এবং স্লোগান দেওয়ার কারণে ক্ষমা চাওয়ার পরও পরিস্থিতি শান্ত হয়নি।

দুই পক্ষের মধ্যে ধাক্কাধাক্কি

একপর্যায়ে হাসপাতালের কর্মচারী ও বাইরে থেকে আসা লোকজনের মধ্যে ধাক্কাধাক্কি ও হাতাহাতির ঘটনা ঘটে। এতে হাসপাতালের ভেতরে উত্তেজনা আরও বাড়ে।

প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইমদাদ হোসেন চৌধুরীসহ কয়েকজন নেতা প্রায় দুই ঘণ্টা হাসপাতালের ভেতরে অবস্থান করেন। পরে তারা হাসপাতাল থেকে বের হওয়ার সময়ও স্লোগান ও উত্তেজনার পরিস্থিতি তৈরি হয়।

ঘটনার খবর পেয়ে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা সেখানে উপস্থিত হন এবং পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করেন।

বিএনপি নেতার বক্তব্য

ঘটনা সম্পর্কে ইমদাদ হোসেন চৌধুরী জানিয়েছেন, আন্দোলনরত কর্মচারীদের কয়েকজনকে বহিরাগত লোকজন মারধর করেছে বলে তিনি শুনেছেন। তবে এ ঘটনায় বিএনপির কেউ জড়িত নন বলে তিনি দাবি করেছেন।

তার বক্তব্য অনুযায়ী, আন্দোলনের সময় কর্মচারীরা হাসপাতাল কর্তৃপক্ষকে উদ্দেশ্য করে স্লোগান দিয়েছিলেন; তাকে উদ্দেশ্য করে নয়। তিনি আরও জানান, বিষয়টি তিনি সমাধান করে এসেছেন এবং কর্মচারীরা আন্দোলন স্থগিত করেছেন।

বেতন বৃদ্ধিতে সম্মতির কথা জানা গেছে

আন্দোলনের পর হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ কর্মচারীদের বেতন বৃদ্ধিতে সম্মত হয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। এর ফলে আন্দোলন স্থগিত হওয়ার কথা জানা গেছে।

তবে কর্মচারীদের অভিযোগ, আন্দোলনের সময় সংঘটিত মারধরের ঘটনাগুলোর সুষ্ঠু তদন্ত প্রয়োজন। অন্যদিকে সংশ্লিষ্ট রাজনৈতিক নেতার পক্ষ থেকেও ঘটনার বিষয়ে ভিন্ন বক্তব্য পাওয়া গেছে।

এ ঘটনায় কোনো পক্ষের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে কি না, কিংবা আহতদের চিকিৎসার বিষয়ে পরবর্তী সময়ে কী সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে—তা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের আনুষ্ঠানিক বক্তব্যের মাধ্যমে আরও পরিষ্কার হতে পারে।

আরও পড়ুনঃ  কনটেন্ট ক্রিয়েটরকে মারধর করে চুল কাটার ভিডিও ভাইরাল, পুলিশের দাবি ‘ফানি ভিডিও’

হাসপাতালের মতো একটি গুরুত্বপূর্ণ চিকিৎসাকেন্দ্রে কর্মীদের বেতন-ভাতা সংক্রান্ত দাবি নিয়ে যেন ভবিষ্যতে এমন উত্তেজনাকর পরিস্থিতির সৃষ্টি না হয়, সে জন্য আলোচনার মাধ্যমে বিষয়টির স্থায়ী সমাধানের ওপর গুরুত্ব দিচ্ছেন সংশ্লিষ্টরা।

Tag :
জনপ্রিয় পোস্ট

পার্কভিউ হাসপাতালের কর্মীদের আন্দোলন, বিএনপি নেতাকে ঘিরে ‘ভুয়া ভুয়া স্লোগান’, হামলা-মারধর

Update Time : ০৬:১০:৫১ অপরাহ্ন, শনিবার, ৩ অক্টোবর ২০২৬

বেতন ও ভাতা বৃদ্ধির দাবিতে সিলেট নগরের পার্কভিউ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে কর্মচারীদের আন্দোলনকে কেন্দ্র করে উত্তেজনা ও হাতাহাতির ঘটনা ঘটেছে। শনিবার (৩ অক্টোবর) নগরের তালতলা এলাকায় হাসপাতাল ভবনে এ ঘটনা ঘটে।

ঘটনাকে কেন্দ্র করে হাসপাতাল প্রাঙ্গণে বেশ কিছু সময় উত্তেজনাকর পরিস্থিতি বিরাজ করে। পরে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে। “সিলেটের পার্কভিউ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে কর্মচারীদের বেতন বৃদ্ধির আন্দোলনকে.

বেতন-ভাতা বৃদ্ধির দাবিতে কর্মবিরতি

হাসপাতালের চতুর্থ শ্রেণির কর্মচারীরা শনিবার সকাল থেকে বেতন ও ভাতা বৃদ্ধির দাবিতে কর্মবিরতি শুরু করেন। পরে তারা হাসপাতালের প্রধান ফটকের সামনে অবস্থান নিয়ে নিজেদের দাবির পক্ষে বিক্ষোভ করেন।

কর্মচারীদের দাবি ছিল, তাদের বেতন ও সুযোগ-সুবিধা বাড়াতে হবে। আন্দোলনকারীদের সরে যাওয়ার জন্য হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে অনুরোধ করা হলেও তারা কর্মসূচি চালিয়ে যান বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

এরই মধ্যে দুপুরের দিকে হাসপাতালে যান সিলেট মহানগর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ইমদাদ হোসেন চৌধুরী। তাকে ঘিরে আন্দোলনকারীদের মধ্যে উত্তেজনা তৈরি হয়।

স্লোগানকে কেন্দ্র করে উত্তেজনা

প্রত্যক্ষদর্শীদের বরাত দিয়ে প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, হাসপাতালের কয়েকজন কর্মচারী ইমদাদ হোসেন চৌধুরীকে ঘিরে বিভিন্ন স্লোগান দেন। এ সময় পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে।

পরে কয়েকজন কর্মচারীকে হাসপাতালের সেমিনার হলে নিয়ে যাওয়ার ঘটনা ঘটে। তাদের একজনকে পুলিশ আটক করে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। ওই কর্মচারী পরে ইমদাদ হোসেন চৌধুরীর কাছে ক্ষমা চান বলে জানা গেছে।

কর্মচারীদের অভিযোগ, ক্ষমা চাওয়ার পরও ওই ব্যক্তিকে কয়েকজন মারধর করেন। পরে হাসপাতালের লিফটের কাছেও তাকে মারধরের অভিযোগ ওঠে। তবে কারা এ ঘটনার সঙ্গে জড়িত ছিলেন, সে বিষয়ে অভিযোগ ও পাল্টা বক্তব্য রয়েছে।

আহতের দাবি কর্মচারীদের

আন্দোলনকারীদের একজন আহমদ আল জুবেরের দাবি, স্লোগান দেওয়ার কারণে তারা ক্ষমা চেয়েছিলেন। এরপরও তাদের ওপর হামলা করা হয়।

আরও পড়ুনঃ  অ্যাসিডিটির সমস্যা কমান ঘরোয়া উপায়ে

তার ভাষ্য অনুযায়ী, ঘটনায় প্রায় ৩০ জন কর্মী আহত হয়েছেন। তবে আহতের এই সংখ্যা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে স্বাধীনভাবে নিশ্চিত হওয়া যায়নি।

আরেক কর্মচারী অভিযোগ করেন, দীর্ঘদিন তিনি বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। তার দাবি, আন্দোলনের সময় তাদের ওপর হামলা চালানো হয়েছে এবং স্লোগান দেওয়ার কারণে ক্ষমা চাওয়ার পরও পরিস্থিতি শান্ত হয়নি।

দুই পক্ষের মধ্যে ধাক্কাধাক্কি

একপর্যায়ে হাসপাতালের কর্মচারী ও বাইরে থেকে আসা লোকজনের মধ্যে ধাক্কাধাক্কি ও হাতাহাতির ঘটনা ঘটে। এতে হাসপাতালের ভেতরে উত্তেজনা আরও বাড়ে।

প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইমদাদ হোসেন চৌধুরীসহ কয়েকজন নেতা প্রায় দুই ঘণ্টা হাসপাতালের ভেতরে অবস্থান করেন। পরে তারা হাসপাতাল থেকে বের হওয়ার সময়ও স্লোগান ও উত্তেজনার পরিস্থিতি তৈরি হয়।

ঘটনার খবর পেয়ে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা সেখানে উপস্থিত হন এবং পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করেন।

বিএনপি নেতার বক্তব্য

ঘটনা সম্পর্কে ইমদাদ হোসেন চৌধুরী জানিয়েছেন, আন্দোলনরত কর্মচারীদের কয়েকজনকে বহিরাগত লোকজন মারধর করেছে বলে তিনি শুনেছেন। তবে এ ঘটনায় বিএনপির কেউ জড়িত নন বলে তিনি দাবি করেছেন।

তার বক্তব্য অনুযায়ী, আন্দোলনের সময় কর্মচারীরা হাসপাতাল কর্তৃপক্ষকে উদ্দেশ্য করে স্লোগান দিয়েছিলেন; তাকে উদ্দেশ্য করে নয়। তিনি আরও জানান, বিষয়টি তিনি সমাধান করে এসেছেন এবং কর্মচারীরা আন্দোলন স্থগিত করেছেন।

বেতন বৃদ্ধিতে সম্মতির কথা জানা গেছে

আন্দোলনের পর হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ কর্মচারীদের বেতন বৃদ্ধিতে সম্মত হয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। এর ফলে আন্দোলন স্থগিত হওয়ার কথা জানা গেছে।

তবে কর্মচারীদের অভিযোগ, আন্দোলনের সময় সংঘটিত মারধরের ঘটনাগুলোর সুষ্ঠু তদন্ত প্রয়োজন। অন্যদিকে সংশ্লিষ্ট রাজনৈতিক নেতার পক্ষ থেকেও ঘটনার বিষয়ে ভিন্ন বক্তব্য পাওয়া গেছে।

এ ঘটনায় কোনো পক্ষের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে কি না, কিংবা আহতদের চিকিৎসার বিষয়ে পরবর্তী সময়ে কী সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে—তা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের আনুষ্ঠানিক বক্তব্যের মাধ্যমে আরও পরিষ্কার হতে পারে।

আরও পড়ুনঃ  দেশের সব উপজেলা ও ইউনিয়ন ভূমি অফিসের জন্য বিশেষ নির্দেশনা

হাসপাতালের মতো একটি গুরুত্বপূর্ণ চিকিৎসাকেন্দ্রে কর্মীদের বেতন-ভাতা সংক্রান্ত দাবি নিয়ে যেন ভবিষ্যতে এমন উত্তেজনাকর পরিস্থিতির সৃষ্টি না হয়, সে জন্য আলোচনার মাধ্যমে বিষয়টির স্থায়ী সমাধানের ওপর গুরুত্ব দিচ্ছেন সংশ্লিষ্টরা।