
মাগুরা সদর উপজেলার শত্রুজিৎপুর ইউনিয়নের ধর্মদাহ গ্রামে সংঘর্ষের ঘটনার সংবাদ সংগ্রহ করতে গিয়ে এক সাংবাদিককে বাধা, গালাগাল ও গ্রেপ্তারের হুমকি দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে পুলিশের এক কর্মকর্তার বিরুদ্ধে।
অভিযোগকারী সাংবাদিক জানান, ধর্মদাহ গ্রামে দুই পক্ষের সংঘর্ষের খবর পেয়ে তিনি ঘটনাস্থলে গিয়ে তথ্য সংগ্রহ ও ভিডিও ধারণ করছিলেন। এ সময় মাগুরা সদর থানার ডিবি পুলিশের ওসি মো. আশরাফ তাকে ভিডিও ধারণ বন্ধ করতে বলেন।
একপর্যায়ে ওই কর্মকর্তা সাংবাদিককে উদ্দেশ করে অশালীন ভাষায় কথা বলেন এবং ঘটনাস্থলে উপস্থিত হওয়ার কারণ জানতে চান বলে অভিযোগ করা হয়েছে। পরে তাকে গাড়িতে তুলে নেওয়ার নির্দেশ দেওয়ার কথাও জানিয়েছেন ওই সাংবাদিক।
ঘটনাকে কেন্দ্র করে সেখানে কিছুটা উত্তেজনা তৈরি হলে শত্রুজিৎপুর পুলিশ ক্যাম্পের ইনচার্জ ও মাগুরা সদর থানার একজন কর্মকর্তা পরিস্থিতি শান্ত করার চেষ্টা করেন। পরে সাংবাদিককে ঘটনাস্থল থেকে চলে যেতে বলা হয় বলে জানা গেছে।
বিষয়টি স্থানীয় সাংবাদিকদের সংগঠন মাগুরা রিপোর্টার্স ইউনিটিকে জানানো হলে কয়েকজন সাংবাদিক ঘটনাস্থলের দিকে যান। তবে তারা পৌঁছানোর আগেই অভিযুক্ত কর্মকর্তা সেখান থেকে চলে যান বলে অভিযোগ রয়েছে।
সাংবাদিকদের দাবি, সংঘর্ষ বা আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির কারণে কোনো এলাকায় সংবাদ সংগ্রহে নিরাপত্তাজনিত বিধিনিষেধ থাকলে তা পেশাগত ও সম্মানজনকভাবে জানানো যেতে পারে। কিন্তু সংবাদ সংগ্রহের সময় সাংবাদিককে হেনস্তা, ভয় দেখানো কিংবা গ্রেপ্তারের হুমকি দেওয়ার অভিযোগ থাকলে বিষয়টি তদন্ত করে দেখা প্রয়োজন।
সংশ্লিষ্ট সাংবাদিকরা ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানিয়েছেন। একই সঙ্গে ঘটনাস্থলে থাকা পুলিশ সদস্য ও প্রত্যক্ষদর্শীদের বক্তব্য যাচাই করে প্রকৃত ঘটনা বের করার আহ্বান জানানো হয়েছে।
এ বিষয়ে মাগুরার পুলিশ সুপার মোল্লা আজাদ হোসেনের বক্তব্য জানতে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাৎক্ষণিকভাবে তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি বলে সংশ্লিষ্ট প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
সাংবাদিকদের দায়িত্ব পালনের পরিবেশ এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সঙ্গে গণমাধ্যমকর্মীদের পেশাগত সম্পর্ক নিয়ে ঘটনাটি নতুন করে আলোচনা তৈরি করেছে।
মাগুরা প্রতিনিধি 



















