
মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গলে মাছ ধরার জালে আটকা পড়ে মৃত্যুঝুঁকিতে থাকা একটি অজগর সাপকে প্রায় এক ঘণ্টার চেষ্টায় অক্ষত অবস্থায় উদ্ধার করা হয়েছে।
বুধবার (৭ অক্টোবর) সকাল ৭টার দিকে উপজেলার হাইল হাওরের রউয়া বিলে মাছ ধরার জালে রাতের কোনো একসময় অজগরটি আটকা পড়ে। পরে স্থানীয় সাইদুল হক বিষয়টি বাংলাদেশ বন্যপ্রাণী সেবা ফাউন্ডেশনকে জানান।
খবর পেয়ে বাংলাদেশ বন্যপ্রাণী সেবা ফাউন্ডেশনের পরিচালক স্বপন দেব সজল ও পরিবেশকর্মী রাজদীপ দেব দীপ ঘটনাস্থলে পৌঁছান। প্রায় এক ঘণ্টার চেষ্টায় জটিলভাবে পেঁচিয়ে থাকা জাল থেকে অজগরটিকে অক্ষত অবস্থায় উদ্ধার করেন তারা।উদ্ধারকারীরা জানান, দীর্ঘ সময় জালে আটকে থাকায় অজগরটির জীবন ঝুঁকির মধ্যে পড়ে। আরও কিছুক্ষণ আটকে থাকলে শ্বাসকষ্টসহ নানা কারণে সাপটির মৃত্যু হতে পারত।
অজগর উদ্ধারে সার্বিক সহযোগিতা করেন রাজু মিয়া। তিনি নৌকা চালিয়ে উদ্ধারকারী দলকে দুর্গম রউয়া বিলে নিয়ে যান। তার সহযোগিতার জন্য বাংলাদেশ বন্যপ্রাণী সেবা ফাউন্ডেশনের পক্ষ থেকে আন্তরিক ধন্যবাদ জানানো হয়। পরে উদ্ধার করা অজগর সাপটি শ্রীমঙ্গল বন বিভাগের রেঞ্জ কার্যালয়ে হস্তান্তর করা হয়েছে।
বন্যপ্রাণী সেবা ফাউন্ডেশনের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, কোথাও কোনো বন্যপ্রাণী জালে আটকা পড়লে কিংবা আহত বা অসুস্থ অবস্থায় পাওয়া গেলে নিজেরা ধরার চেষ্টা না করে দ্রুত নিকটস্থ বন বিভাগ অথবা বাংলাদেশ বন্যপ্রাণী সেবা ফাউন্ডেশনকে খবর দিতে হবে।
এ প্রসঙ্গে বাংলাদেশ অধিদপ্তরের বন্যপ্রাণী ও জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ কর্মকর্তা এবং তরুণ বন্যপ্রাণী গবেষক জোহরা মিলা জানান, অজগর নির্বিষ সাপ। এটি নিশাচর ও খুবই অলস প্রকৃতির, প্রয়োজন ছাড়া নড়াচড়াও করে না। এই প্রজাতিটি গাছে একাকী বাস করলেও শুধু প্রজননকালে জোড়া বাঁধে। সাধারণত মার্চ থেকে জুনের মধ্যে এদের প্রজননকাল। দেশের ম্যানগ্রোভ বন, ঘাসযুক্ত জমি, চট্টগ্রাম ও সিলেটের চিরসবুজ পাহাড়ি বনে এদের দেখা পাওয়া যায়। সাপটি সাধারণত মানুষের ক্ষতি করে না। খাদ্য হিসেবে এরা ইঁদুর, কচ্ছপের ডিম, সাপ, বন মুরগি, পাখি, ছোট বন্যপ্রাণী ইত্যাদি খায়। সাপটি নিজের আকারের চেয়েও অনেক বড় প্রাণী খুব সহজেই গিলে খেতে পারে।
জোহরা মিলা বলেন, চামড়ার জন্য সাপটি পাচারকারীদের লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত হয়েছে। ফলে আমাদের বনাঞ্চল থেকে এটি দিনদিন হারিয়ে যাচ্ছে। বন্যপ্রাণী (সংরক্ষণ ও নিরাপত্তা) আইন-২০১২ এর তফসিল-২ অনুযায়ী এ বন্যপ্রাণীটি সংরক্ষিত, তাই এটি হত্যা বা এর যে কোনো ক্ষতি করা শাস্তিযোগ্য অপরাধ।
ভবিষ্যতে কোনো বন্যপ্রাণী দেখলে আতঙ্কিত হয়ে হত্যা না করে বন বিভাগ বা বাংলাদেশ বন্যপ্রাণী সেবা ফাউন্ডেশনকে খবর দেওয়ার জন্য ফাউন্ডেশনের পক্ষ থেকে এলাকাবাসীর উদ্দেশ্যে অনুরোধ জানানো হয়েছে।
মৌলভীবাজার প্রতিনিধি 



















