Dhaka ০২:৪৫ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ০৮ অক্টোবর ২০২৬, ২৩ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম :
শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে চট্টগ্রামে মামলা প্রত্যাহার করলেন বাদী হেঁটে ছয় তলায় ওঠানোয় ক্ষোভ, হাতকড়া সামনে পরানোর আর্জি পলকের যুক্তরাষ্ট্রে বিদেশি শিক্ষার্থীদের জন্য বড় দুঃসংবাদ সাংবাদিককে চট্টগ্রামের শীর্ষ সন্ত্রাসী বগার হুমকি, সিটিআরএনের নিন্দা সিজারের পর পেটে গজ রেখে সেলাই, ছয় মাস পর নার্সের মৃত্যু রামেবি উপাচার্যকে পদত্যাগে বাধ্য করার ঘটনায় আরও ২ জন গ্রেপ্তার নেকাব পরা ছাত্রীকে কটাক্ষের অভিযোগ, ঢাবির শিক্ষককে ক্লাস থেকে অব্যাহতি দেশের মানুষকে নিরাপদ পানি দিতে ২৫ হাজার কোটি টাকার বড় পরিকল্পনা ‘শিশির মনিররা ছিলেন কাপুরুষ, শিবির তখন বেঁচে ছিল ছাত্রলীগ হয়ে’ রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংক ও প্রতিষ্ঠানে পে স্কেল কার্যকরে নতুন নির্দেশনা

জন্মের তিন দিনের মাথায় মা, এবার ডেঙ্গুতে বাবাকে হারাল আরফা

জন্মের মাত্র তিন দিনের মাথায় মাকে হারিয়েছিল আরিফিন ইসলাম আরফা। গত ১৮ সেপ্টেম্বর ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে মারা গেছেন তার বাবা তাজুল ইসলাম। মাত্র কয়েক বছরের ব্যবধানে মা-বাবার কোলশূন্য হয়ে এখন অথই সাগরে ৯ বছরের এই শিশুটি। রাজধানী ঢাকার পশ্চিম রামপুরায় হৃদয়বিদারক এই ঘটনাটি ঘটে।

 

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, তাজুল ইসলাম ও মারুফা আক্তার উভয়েই একসময় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী ছিলেন। প্রেমের সম্পর্ক থেকে ২০১৪ সালে পারিবারিকভাবে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হন। ২০১৮ সালের ১৩ ফেব্রুয়ারি আরফার জন্মের পরপরই শারীরিক মারাত্মক জটিলতা দেখা দেয়। নড়াইল থেকে যশোরে অ্যাম্বুলেন্সে নেওয়ার পথে পথেই মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন তার মা মারুফা আক্তার। এরপর থেকেই দাদি সখিনা বেগম ও বড় চাচা শফিকুল ইসলামের কাছে রামপুরার ভাড়া বাসায় বড় হচ্ছিল আরফা। মা হারানো ছোট্ট মেয়েটিকে পরম যত্নে আগলে রেখেছিলেন তার বাবা তাজুল ইসলাম। মুদিদোকান পরিচালনার পাশাপাশি ট্রেডিং করপোরেশন অব বাংলাদেশের (টিসিবি) ডিলারের দায়িত্ব পালন করা তাজুল মেয়ের সব আবদার পূরণ করতেন এবং মায়ের অভাব বুঝতে দিতেন না।

 

পরিবারের সদস্যরা জানান, এর আগে যক্ষ্মা, করোনা ও চিকুনগুনিয়ার মতো মারাত্মক রোগ জয় করলেও শেষ পর্যন্ত সর্বনাশা ডেঙ্গু কেড়ে নিল তার প্রাণ। স্বামী ও সন্তানের এমন আকস্মিক মৃত্যুতে পুরো পরিবারে নেমে এসেছে গভীর শোকের ছায়া। এর ওপর যুক্ত হয়েছে আর্থিক সংকট ও পাওনাদারদের দেনা শোধের চাপ। তাজুল ইসলামের কোনো সঞ্চয় না থাকায় এবং ঋণের বোঝা কাঁধে চেপে বসায় ছোট্ট আরফার ভবিষ্যৎ নিয়ে চরম দিশাহারা হয়ে পড়েছেন বৃদ্ধা দাদি ও চাচারা।বর্তমানে রাজধানীর রামপুরা একরামুন্নেছা বালিকা উচ্চবিদ্যালয়ে তৃতীয় শ্রেণিতে পড়ছে আরফা। মুঠোফোনে মা-বাবার পুরোনো ছবি দেখা আর প্রিয় বিড়াল ‘ভুতুম’কে নিয়ে দিন কাটানো এই শিশুর ছোট্ট মন এখনো পুরোপুরি বুঝে উঠতে পারেনি যে তার বাবা আর কোনো দিন ফিরবেন না। চিকিৎসাধীন অবস্থায় আইসিইউ থেকেও সুস্থ হয়ে ফেরার প্রতিশ্রুতি দেওয়া বাবার স্মৃতি আঁকড়ে ধরে দিন কাটছে তার। পরিবারের এই চরম দুর্দিনে সমাজের বিত্তবান ও সরকারিভাবে কেউ পাশে দাঁড়ালে ছোট্ট আরফার ভবিষ্যৎ কিছুটা হলেও সুরক্ষা পেতে পারে বলে আশা প্রকাশ করেছেন তার শোকার্ত স্বজনরা।

আরও পড়ুনঃ  নতুন দুই মেট্রোরেলের ব্যয় আগের চেয়ে দ্বিগুণের বেশি
Tag :
জনপ্রিয় পোস্ট

শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে চট্টগ্রামে মামলা প্রত্যাহার করলেন বাদী

জন্মের তিন দিনের মাথায় মা, এবার ডেঙ্গুতে বাবাকে হারাল আরফা

Update Time : ১২:৪৯:২০ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৮ অক্টোবর ২০২৬

জন্মের মাত্র তিন দিনের মাথায় মাকে হারিয়েছিল আরিফিন ইসলাম আরফা। গত ১৮ সেপ্টেম্বর ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে মারা গেছেন তার বাবা তাজুল ইসলাম। মাত্র কয়েক বছরের ব্যবধানে মা-বাবার কোলশূন্য হয়ে এখন অথই সাগরে ৯ বছরের এই শিশুটি। রাজধানী ঢাকার পশ্চিম রামপুরায় হৃদয়বিদারক এই ঘটনাটি ঘটে।

 

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, তাজুল ইসলাম ও মারুফা আক্তার উভয়েই একসময় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী ছিলেন। প্রেমের সম্পর্ক থেকে ২০১৪ সালে পারিবারিকভাবে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হন। ২০১৮ সালের ১৩ ফেব্রুয়ারি আরফার জন্মের পরপরই শারীরিক মারাত্মক জটিলতা দেখা দেয়। নড়াইল থেকে যশোরে অ্যাম্বুলেন্সে নেওয়ার পথে পথেই মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন তার মা মারুফা আক্তার। এরপর থেকেই দাদি সখিনা বেগম ও বড় চাচা শফিকুল ইসলামের কাছে রামপুরার ভাড়া বাসায় বড় হচ্ছিল আরফা। মা হারানো ছোট্ট মেয়েটিকে পরম যত্নে আগলে রেখেছিলেন তার বাবা তাজুল ইসলাম। মুদিদোকান পরিচালনার পাশাপাশি ট্রেডিং করপোরেশন অব বাংলাদেশের (টিসিবি) ডিলারের দায়িত্ব পালন করা তাজুল মেয়ের সব আবদার পূরণ করতেন এবং মায়ের অভাব বুঝতে দিতেন না।

 

পরিবারের সদস্যরা জানান, এর আগে যক্ষ্মা, করোনা ও চিকুনগুনিয়ার মতো মারাত্মক রোগ জয় করলেও শেষ পর্যন্ত সর্বনাশা ডেঙ্গু কেড়ে নিল তার প্রাণ। স্বামী ও সন্তানের এমন আকস্মিক মৃত্যুতে পুরো পরিবারে নেমে এসেছে গভীর শোকের ছায়া। এর ওপর যুক্ত হয়েছে আর্থিক সংকট ও পাওনাদারদের দেনা শোধের চাপ। তাজুল ইসলামের কোনো সঞ্চয় না থাকায় এবং ঋণের বোঝা কাঁধে চেপে বসায় ছোট্ট আরফার ভবিষ্যৎ নিয়ে চরম দিশাহারা হয়ে পড়েছেন বৃদ্ধা দাদি ও চাচারা।বর্তমানে রাজধানীর রামপুরা একরামুন্নেছা বালিকা উচ্চবিদ্যালয়ে তৃতীয় শ্রেণিতে পড়ছে আরফা। মুঠোফোনে মা-বাবার পুরোনো ছবি দেখা আর প্রিয় বিড়াল ‘ভুতুম’কে নিয়ে দিন কাটানো এই শিশুর ছোট্ট মন এখনো পুরোপুরি বুঝে উঠতে পারেনি যে তার বাবা আর কোনো দিন ফিরবেন না। চিকিৎসাধীন অবস্থায় আইসিইউ থেকেও সুস্থ হয়ে ফেরার প্রতিশ্রুতি দেওয়া বাবার স্মৃতি আঁকড়ে ধরে দিন কাটছে তার। পরিবারের এই চরম দুর্দিনে সমাজের বিত্তবান ও সরকারিভাবে কেউ পাশে দাঁড়ালে ছোট্ট আরফার ভবিষ্যৎ কিছুটা হলেও সুরক্ষা পেতে পারে বলে আশা প্রকাশ করেছেন তার শোকার্ত স্বজনরা।

আরও পড়ুনঃ  সুনামগঞ্জে বজ্রপাতে শিক্ষার্থীসহ ৫ জনের মৃত্যু