Dhaka ০৪:১৮ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৭ অক্টোবর ২০২৬, ২ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম :
অবশেষে সেই ভিডিও নিয়ে মুখ খুললেন পরীমনি রণ.ক্ষেত্র উত্তরা: পোশাক শ্রমিক-পুলিশ সংঘর্ষ, আহত ৫০ বগুড়ায় ট্রেনে কাটা পড়ে নারীর মৃত্যু, লাশের ওপর দিয়ে গেল আরেক ট্রেন ‘পেনশন নিয়ে বাড়ি ফিরতে পারবেন না’, পুলিশ কর্মকর্তাকে ছাত্রলীগ নেতা কক্সবাজারে রিসোর্টে আ গুনে নিহত বেড়ে ১০ নিজ কলেজ প্রাঙ্গণেও গেলেন প্রধানমন্ত্রী, শিক্ষার্থীদের দিলেন দেশ গড়ার বার্তা হঠাৎ শিশু হাসপাতালে প্রধানমন্ত্রী, কক্ষে ধূমপান করতে দেখেই চিকিৎসককে বরখাস্তের নির্দেশ সিলেটের কানাইঘাট সীমান্তে ভারতীয় অভ্যন্তরে গুলিতে বাংলাদেশি যুবক নিহত জেলের জালে ৯০ কেজির বাঘাইড়, দাম আকাশ ছোঁয়া চা খাতের উন্নয়নে সরকারের ‘বড় পরিকল্পনা’

স্কুলছাত্রী তাজমীনকে ধ র্ষ ণ ও হ ত্যার পর মসজিদের পুকুরে গোসল করে সুমন

কুমিল্লার লালমাইয়ে স্কুলছাত্রী জান্নাতুল তাজমীনকে ধর্ষণ ও হত্যার পর কাঁচিকাটা মসজিদের সামনের পুকুরে গোসল করে ঘাতক সিএনজিচালিত অটোরিকশাচালক সুমন মিয়া। হত্যার পর ঘটনাস্থলে অটোরিকশা ফেলে রেখে পুকুরে গোসল করে অন্য অটোরিকশায় বাখরাবাদে যায় সে। পরে তাজমীনের আইফোন একটি জঙ্গলে লুকিয়ে রেখে চট্টগ্রামে পালিয়ে যায় সুমন।

 

শনিবার (১০ অক্টোবর) সকাল সাড়ে ১০টায় কুমিল্লা জেলা পুলিশ সুপারের কার্যালয়ে প্রাথমিক তদন্তের তথ্য তুলে ধরে এসব জানান অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (অপরাধ) পঙ্কজ বড়ুয়া।

 

পুলিশ জানায়, গত ৮ অক্টোবর লালমাই উপজেলার জগতপুর চরপাড়া গ্রামের একটি ধানক্ষেতের পাশ থেকে তাজমীনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। এ ঘটনায় হত্যা মামলা দায়েরের পর পুলিশ ও জেলা গোয়েন্দা শাখা (ডিবি) যৌথভাবে তদন্ত শুরু করে। তদন্তের একপর্যায়ে চট্টগ্রাম থেকে অটোরিকশাচালক সুমন মিয়াকে গ্রেপ্তার করা হয়।নিহত তাজমীন সপ্তম শ্রেণির শিক্ষার্থী। তার গ্রামের বাড়ি যশোরে হলেও বাবার চাকরির সুবাদে পরিবারের সঙ্গে কুমিল্লা নগরীর রেসকোর্স এলাকায় বসবাস করত সে।

পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, ঘটনার দিন রাত সাড়ে ১২টার দিকে পদুয়ার বাজার বিশ্বরোডের তিশা বাস কাউন্টারের সামনে থেকে বাসায় যাওয়ার জন্য সিএনজিচালিত অটোরিকশা ভাড়া করে তাজমীন। চালক সুমন ৫০০ টাকা ভাড়া চাইলে শেষ পর্যন্ত ৩০০ টাকায় যাওয়ার চুক্তি হয়। পথে একটি দোকান থেকে ১০০ টাকা দিয়ে চালকের জন্য রুটি ও কলা কিনে আনে তাজমীন।

 

পরে বাসায় পৌঁছে দেওয়ার কথা বলে সুমন অটোরিকশাটি নূরজাহান হোটেলের সামনে থেকে ইউটার্ন নিয়ে চাঁদপুর সড়কের দিকে ঘুরিয়ে নেয়। এরপর বিজরা বাজার হয়ে নির্জন এলাকায় পৌঁছে অটোরিকশার ইঞ্জিন বন্ধ করে দেয় সে। জায়গাটি চিনতে না পেরে তাজমীন প্রশ্ন করলে সুমন জানায়, এটি রেসকোর্স নয়। বিপদের আশঙ্কায় অটোরিকশা থেকে নেমে পালানোর চেষ্টা করে কিশোরীটি।

 

এ সময় তাকে আটকে রাখার চেষ্টা করলে তাজমীন চিৎকার শুরু করে। পুলিশের জিজ্ঞাসাবাদে সুমন জানিয়েছে, সে গামছা দিয়ে তাজমীনের গলা পেঁচিয়ে ধরে। পরে ধস্তাধস্তির একপর্যায়ে তাজমীন দুর্বল হয়ে পড়লে তাকে ধর্ষণ করে বলে স্বীকার করেছে সুমন। এরপর ধানক্ষেতে নিয়ে মাথায় পা দিয়ে চেপে ধরে তার মৃত্যু নিশ্চিত করে বলে পুলিশের কাছে দেওয়া জবানবন্দিতে জানিয়েছে সে।

আরও পড়ুনঃ  সিটিস্ক্যান মেশিনের ওপর শুয়ে টেকনিশিয়ানের বিশ্রাম

 

হত্যার পর তাজমীনের ভ্যানিটি ব্যাগ থেকে একটি আইফোন নিয়ে ব্যাগটি ধানক্ষেতে ফেলে দেয় সুমন। পরে ঘটনাস্থলে অটোরিকশাটি রেখে কাঁচিকাটা মসজিদের সামনের পুকুরে গোসল করে সে। এরপর অন্য একটি ভাড়ায়চালিত অটোরিকশায় বাখরাবাদ এলাকায় গিয়ে পুকুরপাড়ের একটি জঙ্গলে আইফোনটি লুকিয়ে রাখে। সেখান থেকে চট্টগ্রামে পালিয়ে যায়।

 

পুলিশ জানায়, গ্রেপ্তারের পর সুমনের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে বাখরাবাদের ওই জঙ্গল থেকে তাজমীনের আইফোন উদ্ধার করা হয়েছে। ধানক্ষেত থেকে উদ্ধার করা হয়েছে তার ভ্যানিটি ব্যাগও। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে সুমন হত্যার বর্ণনা দিয়েছে এবং অপরাধে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

 

ব্রিফিংয়ে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার পঙ্কজ বড়ুয়া আরও জানান, ঘটনার রাতে ২টা ৫৮ মিনিটে তাজমীন তার বাবার সঙ্গে নিজের লাইভ লোকেশন শেয়ার করেছিল। তবে তার বাবা তাৎক্ষণিকভাবে সেটি দেখতে পাননি। ভোরের দিকে লোকেশনটি দেখে তিনি ওই এলাকায় মেয়েকে খুঁজতে যান।

 

ঘটনাস্থল থেকে প্রায় আধা কিলোমিটার দূরের একটি সিসিটিভি ক্যামেরার ফুটেজও পুলিশের হাতে এসেছে। ওই ফুটেজে তাজমীনকে অটোরিকশায় শান্ত অবস্থায় বসে থাকতে দেখা যায়। অটোরিকশায় অন্য কেউ ছিল কি না, তা নিয়ে সন্দেহ তৈরি হলেও এখন পর্যন্ত চালক সুমন ছাড়া অন্য কারও সংশ্লিষ্টতা পায়নি পুলিশ।

 

পুলিশের এই কর্মকর্তা আরও জানান, তাজমীন গত ৪ অক্টোবর থেকে নিখোঁজ থাকলেও তার পরিবারের পক্ষ থেকে থানায় কোনো সাধারণ ডায়েরি (জিডি) বা অভিযোগ করা হয়নি। নিখোঁজ থাকার ওই চার দিন সে কোথায় ছিল, কার সঙ্গে ছিল কিংবা কারও প্ররোচনা ছিল কি না, তা খতিয়ে দেখছে পুলিশ।

 

ধর্ষণের অভিযোগের বিষয়ে পঙ্কজ বড়ুয়া বলেন, আসামি সুমন এ বিষয়ে স্বীকারোক্তি দিলেও ধর্ষণের বিষয়টি চূড়ান্তভাবে নিশ্চিত হতে ফরেনসিক প্রতিবেদনের অপেক্ষায় রয়েছে পুলিশ। এ ছাড়া উদ্ধার হওয়া আইফোনটি তাজমীনকে তার পরিবার কিনে দিয়েছিল কি না, তা-ও তার বাবাকে জিজ্ঞাসাবাদের মাধ্যমে যাচাই করা হবে।

Tag :
জনপ্রিয় পোস্ট

অবশেষে সেই ভিডিও নিয়ে মুখ খুললেন পরীমনি

স্কুলছাত্রী তাজমীনকে ধ র্ষ ণ ও হ ত্যার পর মসজিদের পুকুরে গোসল করে সুমন

Update Time : ১২:৫০:৫৫ অপরাহ্ন, শনিবার, ১০ অক্টোবর ২০২৬

কুমিল্লার লালমাইয়ে স্কুলছাত্রী জান্নাতুল তাজমীনকে ধর্ষণ ও হত্যার পর কাঁচিকাটা মসজিদের সামনের পুকুরে গোসল করে ঘাতক সিএনজিচালিত অটোরিকশাচালক সুমন মিয়া। হত্যার পর ঘটনাস্থলে অটোরিকশা ফেলে রেখে পুকুরে গোসল করে অন্য অটোরিকশায় বাখরাবাদে যায় সে। পরে তাজমীনের আইফোন একটি জঙ্গলে লুকিয়ে রেখে চট্টগ্রামে পালিয়ে যায় সুমন।

 

শনিবার (১০ অক্টোবর) সকাল সাড়ে ১০টায় কুমিল্লা জেলা পুলিশ সুপারের কার্যালয়ে প্রাথমিক তদন্তের তথ্য তুলে ধরে এসব জানান অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (অপরাধ) পঙ্কজ বড়ুয়া।

 

পুলিশ জানায়, গত ৮ অক্টোবর লালমাই উপজেলার জগতপুর চরপাড়া গ্রামের একটি ধানক্ষেতের পাশ থেকে তাজমীনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। এ ঘটনায় হত্যা মামলা দায়েরের পর পুলিশ ও জেলা গোয়েন্দা শাখা (ডিবি) যৌথভাবে তদন্ত শুরু করে। তদন্তের একপর্যায়ে চট্টগ্রাম থেকে অটোরিকশাচালক সুমন মিয়াকে গ্রেপ্তার করা হয়।নিহত তাজমীন সপ্তম শ্রেণির শিক্ষার্থী। তার গ্রামের বাড়ি যশোরে হলেও বাবার চাকরির সুবাদে পরিবারের সঙ্গে কুমিল্লা নগরীর রেসকোর্স এলাকায় বসবাস করত সে।

পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, ঘটনার দিন রাত সাড়ে ১২টার দিকে পদুয়ার বাজার বিশ্বরোডের তিশা বাস কাউন্টারের সামনে থেকে বাসায় যাওয়ার জন্য সিএনজিচালিত অটোরিকশা ভাড়া করে তাজমীন। চালক সুমন ৫০০ টাকা ভাড়া চাইলে শেষ পর্যন্ত ৩০০ টাকায় যাওয়ার চুক্তি হয়। পথে একটি দোকান থেকে ১০০ টাকা দিয়ে চালকের জন্য রুটি ও কলা কিনে আনে তাজমীন।

 

পরে বাসায় পৌঁছে দেওয়ার কথা বলে সুমন অটোরিকশাটি নূরজাহান হোটেলের সামনে থেকে ইউটার্ন নিয়ে চাঁদপুর সড়কের দিকে ঘুরিয়ে নেয়। এরপর বিজরা বাজার হয়ে নির্জন এলাকায় পৌঁছে অটোরিকশার ইঞ্জিন বন্ধ করে দেয় সে। জায়গাটি চিনতে না পেরে তাজমীন প্রশ্ন করলে সুমন জানায়, এটি রেসকোর্স নয়। বিপদের আশঙ্কায় অটোরিকশা থেকে নেমে পালানোর চেষ্টা করে কিশোরীটি।

 

এ সময় তাকে আটকে রাখার চেষ্টা করলে তাজমীন চিৎকার শুরু করে। পুলিশের জিজ্ঞাসাবাদে সুমন জানিয়েছে, সে গামছা দিয়ে তাজমীনের গলা পেঁচিয়ে ধরে। পরে ধস্তাধস্তির একপর্যায়ে তাজমীন দুর্বল হয়ে পড়লে তাকে ধর্ষণ করে বলে স্বীকার করেছে সুমন। এরপর ধানক্ষেতে নিয়ে মাথায় পা দিয়ে চেপে ধরে তার মৃত্যু নিশ্চিত করে বলে পুলিশের কাছে দেওয়া জবানবন্দিতে জানিয়েছে সে।

আরও পড়ুনঃ  ‘এত অশিক্ষিত, চাঁদাবাজ দিয়ে দেশটা ভরে গেছে’: সাদিয়া আয়মান

 

হত্যার পর তাজমীনের ভ্যানিটি ব্যাগ থেকে একটি আইফোন নিয়ে ব্যাগটি ধানক্ষেতে ফেলে দেয় সুমন। পরে ঘটনাস্থলে অটোরিকশাটি রেখে কাঁচিকাটা মসজিদের সামনের পুকুরে গোসল করে সে। এরপর অন্য একটি ভাড়ায়চালিত অটোরিকশায় বাখরাবাদ এলাকায় গিয়ে পুকুরপাড়ের একটি জঙ্গলে আইফোনটি লুকিয়ে রাখে। সেখান থেকে চট্টগ্রামে পালিয়ে যায়।

 

পুলিশ জানায়, গ্রেপ্তারের পর সুমনের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে বাখরাবাদের ওই জঙ্গল থেকে তাজমীনের আইফোন উদ্ধার করা হয়েছে। ধানক্ষেত থেকে উদ্ধার করা হয়েছে তার ভ্যানিটি ব্যাগও। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে সুমন হত্যার বর্ণনা দিয়েছে এবং অপরাধে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

 

ব্রিফিংয়ে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার পঙ্কজ বড়ুয়া আরও জানান, ঘটনার রাতে ২টা ৫৮ মিনিটে তাজমীন তার বাবার সঙ্গে নিজের লাইভ লোকেশন শেয়ার করেছিল। তবে তার বাবা তাৎক্ষণিকভাবে সেটি দেখতে পাননি। ভোরের দিকে লোকেশনটি দেখে তিনি ওই এলাকায় মেয়েকে খুঁজতে যান।

 

ঘটনাস্থল থেকে প্রায় আধা কিলোমিটার দূরের একটি সিসিটিভি ক্যামেরার ফুটেজও পুলিশের হাতে এসেছে। ওই ফুটেজে তাজমীনকে অটোরিকশায় শান্ত অবস্থায় বসে থাকতে দেখা যায়। অটোরিকশায় অন্য কেউ ছিল কি না, তা নিয়ে সন্দেহ তৈরি হলেও এখন পর্যন্ত চালক সুমন ছাড়া অন্য কারও সংশ্লিষ্টতা পায়নি পুলিশ।

 

পুলিশের এই কর্মকর্তা আরও জানান, তাজমীন গত ৪ অক্টোবর থেকে নিখোঁজ থাকলেও তার পরিবারের পক্ষ থেকে থানায় কোনো সাধারণ ডায়েরি (জিডি) বা অভিযোগ করা হয়নি। নিখোঁজ থাকার ওই চার দিন সে কোথায় ছিল, কার সঙ্গে ছিল কিংবা কারও প্ররোচনা ছিল কি না, তা খতিয়ে দেখছে পুলিশ।

 

ধর্ষণের অভিযোগের বিষয়ে পঙ্কজ বড়ুয়া বলেন, আসামি সুমন এ বিষয়ে স্বীকারোক্তি দিলেও ধর্ষণের বিষয়টি চূড়ান্তভাবে নিশ্চিত হতে ফরেনসিক প্রতিবেদনের অপেক্ষায় রয়েছে পুলিশ। এ ছাড়া উদ্ধার হওয়া আইফোনটি তাজমীনকে তার পরিবার কিনে দিয়েছিল কি না, তা-ও তার বাবাকে জিজ্ঞাসাবাদের মাধ্যমে যাচাই করা হবে।