Dhaka ০১:২০ অপরাহ্ন, সোমবার, ০৫ অক্টোবর ২০২৬, ২০ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম :
৯ মাসে ডেঙ্গু আক্রান্ত ৩ হাজারের বেশি প্রেমিকাকে নিয়ে ফাঁকা বাড়িতে আশিক, ‘প্রস্তুত’ ছিলেন আরও ২ জন ডেঙ্গুতে মৃত্যুর পর বউ সাজলেন বৃষ্টি পরিকল্পিত নগরায়ণে মাস্টারপ্ল্যানের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে: প্রধানমন্ত্রী মাদরাসা নামে ভুয়া রশিদ বই ছাপিয়ে টাকা আদায়, অতঃপর… সিটিস্ক্যান মেশিনের ওপর শুয়ে টেকনিশিয়ানের বিশ্রাম শি শু ধ র্ষ ণের অভিযুক্তকে আটকের সময় জনতার ছোড়া ইটের আঘাতে ওসি আহত আজ বিশ্ব শিক্ষক দিবস: ১০০ গুণী শিক্ষক পাচ্ছেন সম্মাননা ‘দেশের সব নাগরিকের নিরাপদ বাসস্থান নিশ্চিতে কাজ করছে সরকার’ সিলেটের বাসিন্দাদের নিয়ে শাবি শিক্ষার্থীর ফেসবুক পোস্ট: তদন্তে ৭ সদস্যের কমিটি

সিটিস্ক্যান মেশিনের ওপর শুয়ে টেকনিশিয়ানের বিশ্রাম

বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে সিটিস্ক্যান মেশিনের ওপর শুয়ে এক টেকনিশিয়ানের বিশ্রাম নেওয়ার ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হয়েছে। বাবার বুকের সিটিস্ক্যান করাতে গিয়ে ওই টেকনিশিয়ানের দায়িত্বহীন আচরণের অভিযোগ তোলেন রোগীর স্বজন মো. আব্দুল হামিদ।

 

বিষয়টি হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের নজরে আসার পর সংশ্লিষ্ট কর্মচারীর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। প্রাথমিকভাবে তার বেতন বন্ধ রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

 

শনিবার (৩ অক্টোবর) বিকেল ৪টা ৪১ মিনিটে নিজের ফেসবুক আইডিতে একটি ভিডিও পোস্ট করে ঘটনাটি তুলে ধরেন আব্দুল হামিদ। তিনি অভিযোগ করেন, বাবার বুকের সিটিস্ক্যান করাতে গিয়ে দেখেন, দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মচারী মেশিনের ওপর শুয়ে বিশ্রাম নিচ্ছেন। এ সময় ওই কর্মচারী জানান, তিনি বুকের সিটিস্ক্যান করতে পারেন না।

 

ভিডিওটি ছড়িয়ে পড়ার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনা শুরু হয়। সরকারি হাসপাতালে চিকিৎসাসেবা নিতে এসে রোগী ও স্বজনদের এমন পরিস্থিতির মুখোমুখি হওয়া নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেন অনেকে।

 

তবে পরদিন রোববার (৪ অক্টোবর) সকালে চিকিৎসকের অনুমতি নিয়ে বাবার চেস্ট সিটিস্ক্যান করাতে সক্ষম হন আব্দুল হামিদ। ওই দিন সকাল ১০টা ৪ মিনিটে আরেকটি ভিডিও পোস্ট করে তিনি জানান, হাসপাতালে খুব যত্নসহকারে তার বাবার চেস্ট সিটিস্ক্যান সম্পন্ন করা হয়েছে।

 

পোস্টে তিনি অন্যায়ের প্রতিবাদ করার গুরুত্ব তুলে ধরেন এবং পরবর্তীতে সহযোগিতা করায় হাসপাতাল কর্তৃপক্ষকে ধন্যবাদ জানান।

 

এ বিষয়ে হাসপাতালের রেডিওলজি অ্যান্ড ইমেজিং বিভাগের ইনচার্জ সিনিয়র টেকনোলজিস্ট শাহ জালাল শাহিন বলেন, ঘটনাটি শনিবারের। বুকের সিটিস্ক্যান করতে হলে চিকিৎসকের অনুমতি প্রয়োজন। রোগীর স্বজন সেই অনুমতি ছাড়াই পরীক্ষা করাতে এসেছিলেন। রোববার সকালে চিকিৎসকের অনুমতি নিয়ে আসার পর তার বাবার চেস্ট সিটিস্ক্যান করা হয়েছে।

 

তিনি আরও বলেন, সিটিস্ক্যান মেশিনের ওপর শুয়ে থাকা কর্মচারীর নাম ইসমাইল হোসেন। তিনি একজন সিনিয়র টেকনিশিয়ান। বিষয়টি বুঝিয়ে বলতে গিয়ে তার ভুল হয়েছে। রোগীর স্বজনদের সঠিকভাবে বুঝিয়ে বললে পরিস্থিতি এত দূর গড়াত না। তবে মেশিনের ওপর শুয়ে বিশ্রাম নেওয়াটাও ঠিক হয়নি বলে মন্তব্য করেন তিনি।

আরও পড়ুনঃ  শুক্রবার সন্ধ্যায় শপথ নেবেন নতুন রাষ্ট্রপতি : চিফ হুইপ

 

হাসপাতালের মুখপাত্র জুনিয়র কনসালটেন্ট ডা. মো. মাজাহারুল রেজওয়ান রেজা বলেন, তার জানামতে, হাসপাতালে শুধু মাথার সিটিস্ক্যান করা হয়। বুকের এইচআরসিটি করা হয় না। তার দাবি, এ ধরনের পরীক্ষা করতে গেলে মেশিনে অতিরিক্ত চাপ পড়তে পারে এবং মেশিন বিকল হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। এ কারণে মৌখিকভাবে শুধু মাথার সিটিস্ক্যান করার নির্দেশনা দেওয়া আছে। তবে সিটিস্ক্যান মেশিনের ওপর ঘুমানোর বিষয়টিকে তিনি অপরাধ বলে উল্লেখ করেন।

এদিকে হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল ডা. একেএম মশিউল মুনীর বলেন, বিষয়টি তার নজরে এসেছে। সিটিস্ক্যান কক্ষ ঘুমানোর জায়গা নয়। ওই টেকনিশিয়ান অপরাধ করেছেন। সোমবার তাকে আনুষ্ঠানিকভাবে কারণ দর্শানোর নোটিশ (শোকজ) দেওয়া হবে। এর আগেই প্রাথমিকভাবে তার বেতন বন্ধ রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

ভিডিওটি ঘিরে আলোচনার মধ্যে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের এমন পদক্ষেপে বিষয়টি নতুন করে গুরুত্ব পেয়েছে। তবে সরকারি হাসপাতালে রোগীদের যথাযথ সেবা নিশ্চিত করতে দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মীদের দায়িত্বশীল আচরণ ও সেবাপ্রার্থীদের সঙ্গে কার্যকর যোগাযোগের বিষয়টি আবারও সামনে এসেছে।

Tag :
জনপ্রিয় পোস্ট

৯ মাসে ডেঙ্গু আক্রান্ত ৩ হাজারের বেশি

সিটিস্ক্যান মেশিনের ওপর শুয়ে টেকনিশিয়ানের বিশ্রাম

Update Time : ১১:৫৫:১৩ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ৫ অক্টোবর ২০২৬

বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে সিটিস্ক্যান মেশিনের ওপর শুয়ে এক টেকনিশিয়ানের বিশ্রাম নেওয়ার ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হয়েছে। বাবার বুকের সিটিস্ক্যান করাতে গিয়ে ওই টেকনিশিয়ানের দায়িত্বহীন আচরণের অভিযোগ তোলেন রোগীর স্বজন মো. আব্দুল হামিদ।

 

বিষয়টি হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের নজরে আসার পর সংশ্লিষ্ট কর্মচারীর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। প্রাথমিকভাবে তার বেতন বন্ধ রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

 

শনিবার (৩ অক্টোবর) বিকেল ৪টা ৪১ মিনিটে নিজের ফেসবুক আইডিতে একটি ভিডিও পোস্ট করে ঘটনাটি তুলে ধরেন আব্দুল হামিদ। তিনি অভিযোগ করেন, বাবার বুকের সিটিস্ক্যান করাতে গিয়ে দেখেন, দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মচারী মেশিনের ওপর শুয়ে বিশ্রাম নিচ্ছেন। এ সময় ওই কর্মচারী জানান, তিনি বুকের সিটিস্ক্যান করতে পারেন না।

 

ভিডিওটি ছড়িয়ে পড়ার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনা শুরু হয়। সরকারি হাসপাতালে চিকিৎসাসেবা নিতে এসে রোগী ও স্বজনদের এমন পরিস্থিতির মুখোমুখি হওয়া নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেন অনেকে।

 

তবে পরদিন রোববার (৪ অক্টোবর) সকালে চিকিৎসকের অনুমতি নিয়ে বাবার চেস্ট সিটিস্ক্যান করাতে সক্ষম হন আব্দুল হামিদ। ওই দিন সকাল ১০টা ৪ মিনিটে আরেকটি ভিডিও পোস্ট করে তিনি জানান, হাসপাতালে খুব যত্নসহকারে তার বাবার চেস্ট সিটিস্ক্যান সম্পন্ন করা হয়েছে।

 

পোস্টে তিনি অন্যায়ের প্রতিবাদ করার গুরুত্ব তুলে ধরেন এবং পরবর্তীতে সহযোগিতা করায় হাসপাতাল কর্তৃপক্ষকে ধন্যবাদ জানান।

 

এ বিষয়ে হাসপাতালের রেডিওলজি অ্যান্ড ইমেজিং বিভাগের ইনচার্জ সিনিয়র টেকনোলজিস্ট শাহ জালাল শাহিন বলেন, ঘটনাটি শনিবারের। বুকের সিটিস্ক্যান করতে হলে চিকিৎসকের অনুমতি প্রয়োজন। রোগীর স্বজন সেই অনুমতি ছাড়াই পরীক্ষা করাতে এসেছিলেন। রোববার সকালে চিকিৎসকের অনুমতি নিয়ে আসার পর তার বাবার চেস্ট সিটিস্ক্যান করা হয়েছে।

 

তিনি আরও বলেন, সিটিস্ক্যান মেশিনের ওপর শুয়ে থাকা কর্মচারীর নাম ইসমাইল হোসেন। তিনি একজন সিনিয়র টেকনিশিয়ান। বিষয়টি বুঝিয়ে বলতে গিয়ে তার ভুল হয়েছে। রোগীর স্বজনদের সঠিকভাবে বুঝিয়ে বললে পরিস্থিতি এত দূর গড়াত না। তবে মেশিনের ওপর শুয়ে বিশ্রাম নেওয়াটাও ঠিক হয়নি বলে মন্তব্য করেন তিনি।

আরও পড়ুনঃ  জ্বালানি তেলের দাম বৃদ্ধির পর বাড়ল বাস ভাড়া

 

হাসপাতালের মুখপাত্র জুনিয়র কনসালটেন্ট ডা. মো. মাজাহারুল রেজওয়ান রেজা বলেন, তার জানামতে, হাসপাতালে শুধু মাথার সিটিস্ক্যান করা হয়। বুকের এইচআরসিটি করা হয় না। তার দাবি, এ ধরনের পরীক্ষা করতে গেলে মেশিনে অতিরিক্ত চাপ পড়তে পারে এবং মেশিন বিকল হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। এ কারণে মৌখিকভাবে শুধু মাথার সিটিস্ক্যান করার নির্দেশনা দেওয়া আছে। তবে সিটিস্ক্যান মেশিনের ওপর ঘুমানোর বিষয়টিকে তিনি অপরাধ বলে উল্লেখ করেন।

এদিকে হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল ডা. একেএম মশিউল মুনীর বলেন, বিষয়টি তার নজরে এসেছে। সিটিস্ক্যান কক্ষ ঘুমানোর জায়গা নয়। ওই টেকনিশিয়ান অপরাধ করেছেন। সোমবার তাকে আনুষ্ঠানিকভাবে কারণ দর্শানোর নোটিশ (শোকজ) দেওয়া হবে। এর আগেই প্রাথমিকভাবে তার বেতন বন্ধ রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

ভিডিওটি ঘিরে আলোচনার মধ্যে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের এমন পদক্ষেপে বিষয়টি নতুন করে গুরুত্ব পেয়েছে। তবে সরকারি হাসপাতালে রোগীদের যথাযথ সেবা নিশ্চিত করতে দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মীদের দায়িত্বশীল আচরণ ও সেবাপ্রার্থীদের সঙ্গে কার্যকর যোগাযোগের বিষয়টি আবারও সামনে এসেছে।