Dhaka ১১:০৮ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১৭ অক্টোবর ২০২৬, ২ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম :
কক্সবাজারে রিসোর্টে ভয়া বহ আ গুন, ৫ পর্যটকের মৃত্যু নরসিংদীতে অভিযান: সিলেটের হৃদয় হ ত্যা মামলার ৩ আসামি গ্রেপ্তার, মূলহোতা পলাতক সিলেটে নির্মাণাধীন ভবন থেকে নৈশপ্রহরীর মরদেহ উদ্ধার, আটক ১৩ সিলেটে বাণিজ্য মেলার দ্বিতীয় দিনেই উপচে পড়া ভিড়, দেখা দিয়েছে তীব্র যানজট সিলেটে ফ্যামিলি কার্ডের তথ্য সংগ্রহ কার্যক্রম শুরু প্রকাশ্য দিবালোকে সাংবাদিককে গু.লি করে হ ত্যা সিলেটে ডিসকাউন্টের নামে প্রতারণা: ৪ কাপড়ের দোকানকে ৭২ হাজার টাকা জরিমানা সম্প্রীতি ও সৌহার্দ্যের ভূখণ্ড সিলেট: পূজামণ্ডপ পরিদর্শনে সিউক চেয়ারম্যান দূষিত শহরের তালিকায় ঢাকার নাম দেশের জন্য লজ্জার: প্রধানমন্ত্রী সিলেট জেলা ও মহানগর যুবদলের দুই সাধারণ সম্পাদককে সম্মাননা প্রদান

স্বামী-শ্বশুড়বাড়ির নির্যাতন সইতে পারলেন না মেধাবী ছাত্রী ঝুমুর

 

বরিশালের গৌরনদী উপজেলার বাসিন্দা প্রবাসী স্বামী ও তার পরিবারের সদস্যদের অব্যাহতভাবে মানসিক নির্যাতন সইতে না পেরে বরিশাল বিএম কলেজের মেধাবী ছাত্রী ঝুমুর খানম সেতুর বিষপানে আত্মহত্যার ঘটনায় থানায় মামলা করা হয়েছে।

 

মৃতের বোন মিতারা খানম বাদী হয়ে আগৈলঝাড়া থানায় পাঁচজনকে আসামি করে মামলাটি করেন।

 

সোমবার (১২ অক্টোবর) রাতে মামলা দায়েরের সত্যতা নিশ্চিত করেন থানা ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মাদ মাসুদ খান গণমাধ্যমকে জানান, আসামিদের গ্রেপ্তারের জন্য পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

 

আত্মহত্যার প্ররোচনা ও সহায়তা করার অভিযোগে করা মামলার আসামিরা হলেন- মৃত ঝুমুর খানম সেতুর কুয়েত প্রবাসী স্বামী গৌরনদীর চরগাধাতলী গ্রামের কাজী সাহাবুদ্দিন, তার মা রুনু বেগম, বোন শারমিন কাজী, নাজমিন কাজী ও তার স্বামী সাইদুল হাওলাদার।

জানা গেছে, পাঁচ বছর আগে কাজী সাহাবুদ্দিনের সঙ্গে সামাজিকভাবে ঝুমুর খানম সেতুর বিয়ে হয়। তাদের দাম্পত্য জীবনে সাইফা নামে চার বছরের একটি মেয়ে রয়েছে।

 

মৃতের স্বজনদের দাবি, বিয়ের পর থেকে আসামিরা ঝুমুরকে কারণে-অকারণে শারীরিক ও মানসিকভাবে নির্যাতন করে আসছিলেন। এরই মধ্যে তিন বছর আগে কাজী সাহাবুদ্দিন কাজের সুবাদে কুয়েত যান। পরবর্তী সময়ে সাহাবুদ্দিনের নির্দেশে তার মা, বোন ও বোন-জামাতা ঝুমুরের ওপর মানসিক নির্যাতন অব্যাহত রাখে। একপর্যায়ে তাদের নির্যাতন সইতে না পেরে গত ডিসেম্বর মাসে একমাত্র মেয়েকে নিয়ে ঝুমুর বাবার বাড়িতে চলে যান।

 

ঘটনার দিন গত ৪ অক্টোবর রাত ১১টার দিকে প্রবাসী সাহাবুদ্দিন ভিডিও কল দিয়ে ঝুমুরকে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করে বিষপান করে আত্মহত্যার কথা বলেন। ফলে স্বামীর অব্যাহত এ মানসিক নির্যাতন সইতে না পেরে সবার অজান্তে ঝুমুর বাবার ঘরে থাকা ঘাস মারার ওষুধ (বিষ) পান করেন।

 

পরে মুমূর্ষু অবস্থায় তাকে প্রথমে বরিশালের আগৈলঝাড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ও পরে ওই রাতেই বরিশাল শের-ই বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানে তার অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় ৫ অক্টোবর দুপুরে তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ঝুমুরের মৃত্যু হয়। পরবর্তীতে মৃতের মরদেহের ময়নাতদন্ত শেষে ৬ অক্টোবর রাতে বাবার বাড়ির পারিবারিক কবরস্থানে ঝুমুরকে দাফন করা হয়।

আরও পড়ুনঃ  বাঁশ-সুপারি গাছের সাঁকো ফিতা কেটে উদ্বোধন করে আলোচনায় বিএনপি নেতা

 

ঝুমুরের বাবা করিম খান জানান, বিয়ের সময় পর্যাপ্ত মালামাল না দেওয়া, পাঁচশ বরযাত্রীকে না আনাসহ এবং তার মেয়ে দেখতে সুন্দরী না হওয়ার অজুহাতসহ বিদেশে যাওয়ার সময় সাহাবুদ্দিন ও তার পরিবারের দাবীকৃত পাঁচ লাখ টাকা যৌতুক না দেওয়ার কারণে সাহাবুদ্দিন ও তার পরিবারের সদস্যরা ঝুমুরকে মানসিক নির্যাতন করে আসছিলেন।

 

কান্নাজড়িত কণ্ঠে করিম খান বলেন, এভাবে যেন আর কোনো বাবা-মায়ের তার মেয়েকে হারাতে না হয়। আমি আমার মেয়ে ঝুমুরের হত্যাকারীদের গ্রেপ্তারপূর্বক দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি করছি।

Tag :
জনপ্রিয় পোস্ট

কক্সবাজারে রিসোর্টে ভয়া বহ আ গুন, ৫ পর্যটকের মৃত্যু

স্বামী-শ্বশুড়বাড়ির নির্যাতন সইতে পারলেন না মেধাবী ছাত্রী ঝুমুর

Update Time : ০১:২০:২৬ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৩ অক্টোবর ২০২৬

 

বরিশালের গৌরনদী উপজেলার বাসিন্দা প্রবাসী স্বামী ও তার পরিবারের সদস্যদের অব্যাহতভাবে মানসিক নির্যাতন সইতে না পেরে বরিশাল বিএম কলেজের মেধাবী ছাত্রী ঝুমুর খানম সেতুর বিষপানে আত্মহত্যার ঘটনায় থানায় মামলা করা হয়েছে।

 

মৃতের বোন মিতারা খানম বাদী হয়ে আগৈলঝাড়া থানায় পাঁচজনকে আসামি করে মামলাটি করেন।

 

সোমবার (১২ অক্টোবর) রাতে মামলা দায়েরের সত্যতা নিশ্চিত করেন থানা ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মাদ মাসুদ খান গণমাধ্যমকে জানান, আসামিদের গ্রেপ্তারের জন্য পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

 

আত্মহত্যার প্ররোচনা ও সহায়তা করার অভিযোগে করা মামলার আসামিরা হলেন- মৃত ঝুমুর খানম সেতুর কুয়েত প্রবাসী স্বামী গৌরনদীর চরগাধাতলী গ্রামের কাজী সাহাবুদ্দিন, তার মা রুনু বেগম, বোন শারমিন কাজী, নাজমিন কাজী ও তার স্বামী সাইদুল হাওলাদার।

জানা গেছে, পাঁচ বছর আগে কাজী সাহাবুদ্দিনের সঙ্গে সামাজিকভাবে ঝুমুর খানম সেতুর বিয়ে হয়। তাদের দাম্পত্য জীবনে সাইফা নামে চার বছরের একটি মেয়ে রয়েছে।

 

মৃতের স্বজনদের দাবি, বিয়ের পর থেকে আসামিরা ঝুমুরকে কারণে-অকারণে শারীরিক ও মানসিকভাবে নির্যাতন করে আসছিলেন। এরই মধ্যে তিন বছর আগে কাজী সাহাবুদ্দিন কাজের সুবাদে কুয়েত যান। পরবর্তী সময়ে সাহাবুদ্দিনের নির্দেশে তার মা, বোন ও বোন-জামাতা ঝুমুরের ওপর মানসিক নির্যাতন অব্যাহত রাখে। একপর্যায়ে তাদের নির্যাতন সইতে না পেরে গত ডিসেম্বর মাসে একমাত্র মেয়েকে নিয়ে ঝুমুর বাবার বাড়িতে চলে যান।

 

ঘটনার দিন গত ৪ অক্টোবর রাত ১১টার দিকে প্রবাসী সাহাবুদ্দিন ভিডিও কল দিয়ে ঝুমুরকে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করে বিষপান করে আত্মহত্যার কথা বলেন। ফলে স্বামীর অব্যাহত এ মানসিক নির্যাতন সইতে না পেরে সবার অজান্তে ঝুমুর বাবার ঘরে থাকা ঘাস মারার ওষুধ (বিষ) পান করেন।

 

পরে মুমূর্ষু অবস্থায় তাকে প্রথমে বরিশালের আগৈলঝাড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ও পরে ওই রাতেই বরিশাল শের-ই বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানে তার অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় ৫ অক্টোবর দুপুরে তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ঝুমুরের মৃত্যু হয়। পরবর্তীতে মৃতের মরদেহের ময়নাতদন্ত শেষে ৬ অক্টোবর রাতে বাবার বাড়ির পারিবারিক কবরস্থানে ঝুমুরকে দাফন করা হয়।

আরও পড়ুনঃ  সিলেট উপশহর থেকে ১২ বছরের শিশু নিখোঁজ, সন্ধান চায় পরিবার

 

ঝুমুরের বাবা করিম খান জানান, বিয়ের সময় পর্যাপ্ত মালামাল না দেওয়া, পাঁচশ বরযাত্রীকে না আনাসহ এবং তার মেয়ে দেখতে সুন্দরী না হওয়ার অজুহাতসহ বিদেশে যাওয়ার সময় সাহাবুদ্দিন ও তার পরিবারের দাবীকৃত পাঁচ লাখ টাকা যৌতুক না দেওয়ার কারণে সাহাবুদ্দিন ও তার পরিবারের সদস্যরা ঝুমুরকে মানসিক নির্যাতন করে আসছিলেন।

 

কান্নাজড়িত কণ্ঠে করিম খান বলেন, এভাবে যেন আর কোনো বাবা-মায়ের তার মেয়েকে হারাতে না হয়। আমি আমার মেয়ে ঝুমুরের হত্যাকারীদের গ্রেপ্তারপূর্বক দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি করছি।