Dhaka ০৪:৩৬ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৬ অক্টোবর ২০২৬, ১১ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

চলনবিলে শুরু ঐতিহ্যবাহী বাউৎ উৎসব

পানি কমতে শুরু করায় পাবনার চাটমোহরসহ চলনবিল অঞ্চলে আগেভাগেই শুরু হয়েছে মাছ শিকারের ঐতিহ্যবাহী বাউৎ উৎসব। বিভিন্ন বিল, নদী ও জলাশয়ে পলো-জাল নিয়ে নেমেছেন শত শত শৌখিন মৎস্য শিকারি। তাঁদের পদচারণা ও আনন্দ-উচ্ছ্বাসে উৎসবমুখর হয়ে উঠেছে চলনবিলের জনপদ।

চাটমোহর উপজেলার রামের বিল, খলিশাগাড়ি বিল, ডিকশি বিল, বিলকুড়ালিয়া, গুমানী ও চিকনাই নদীসহ চলনবিলের বিভিন্ন জলাশয়ে চলছে এ উৎসব। স্থানীয় ভাষায় দলবদ্ধভাবে মাছ ধরার এ আয়োজনকে বলা হয় ‘বাউৎ উৎসব’। সপ্তাহের প্রতি শনিবার ও মঙ্গলবার নির্দিষ্ট কোনো বিলে বসে এ উৎসব। এতে চাটমোহর, ভাঙ্গুড়াসহ আশপাশের বিভিন্ন উপজেলার মানুষ অংশ নেন।

ভোর থেকেই বিভিন্ন ধরনের যানবাহনে মাছ ধরার সরঞ্জাম নিয়ে বিলে হাজির হন শৌখিন মৎস্য শিকারিরা। পরে দলবেঁধে হৈ-হুল্লোড় ও আনন্দ-উচ্ছ্বাসের মধ্য দিয়ে তাঁরা নেমে পড়েন বিলের পানিতে। কারও হাতে থাকে ঐতিহ্যবাহী পলো, আবার কেউ মাছ ধরেন বিভিন্ন ধরনের জাল দিয়ে। শিশু-কিশোর থেকে শুরু করে বয়স্করাও অংশ নেন এ উৎসবে।

গত শনিবার (২৪ অক্টোবর) খলিশাগাড়ি ও রোববার (২৫ অক্টোবর) সকালে চাটমোহর উপজেলার আফরার বিলে বাউৎ উৎসব অনুষ্ঠিত হয়। এতে চাটমোহর, ভাঙ্গুড়াসহ আশপাশের বিভিন্ন উপজেলার কয়েক শ মানুষ অংশ নেন। অংশগ্রহণকারী মৎস্য শিকারিদের ধারণা, আগামী এক মাস চলনবিলের বিভিন্ন এলাকায় এ উৎসব চলবে।

উৎসবে অংশ নেওয়া শৌখিন মৎস্য শিকারি আমের আলী বলেন, বাউতে বোয়াল, শোল, রুই, কাতলাসহ বিভিন্ন প্রজাতির দেশি মাছ পাওয়া যায়। প্রতিবছর কার্তিক, অগ্রহায়ণ ও পৌষ মাসে চলনবিল অঞ্চলের বিভিন্ন নদী ও বিলে এ উৎসব বসে। তবে এবার দ্রুত পানি কমে যাওয়ায় আগেভাগেই মাছ ধরার আয়োজন শুরু হয়েছে।

ঐতিহ্যবাহী এ উৎসব ঘিরে মানুষের মধ্যে আনন্দ-উচ্ছ্বাস থাকলেও এর নেতিবাচক প্রভাব নিয়ে উদ্বেগ রয়েছে। নির্বিচারে মাছ ধরার ফলে অসংখ্য ছোট মাছ মারা যাচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে। এতে দেশি মাছের প্রজনন ও জলজ জীববৈচিত্র্য ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা করছেন সংশ্লিষ্টরা।

আরও পড়ুনঃ  সিলেট চেম্বারের নির্বাচন বাতিল, নতুন প্রশাসক এজাজ আহমদ

চাটমোহর উপজেলা সিনিয়র মৎস্য কর্মকর্তা আ. মতিন বলেন, বাউৎ উৎসব দীর্ঘদিন ধরে চলে আসছে। তবে এর ফলে বিলের জীববৈচিত্র্য বিনষ্ট হচ্ছে। এ বিষয়ে সরকারি ও বেসরকারি উদ্যোগে জনসচেতনতা বাড়ানো প্রয়োজন।

Tag :
জনপ্রিয় পোস্ট

চলনবিলে শুরু ঐতিহ্যবাহী বাউৎ উৎসব

Update Time : ১২:৩২:০৩ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৬ অক্টোবর ২০২৬

পানি কমতে শুরু করায় পাবনার চাটমোহরসহ চলনবিল অঞ্চলে আগেভাগেই শুরু হয়েছে মাছ শিকারের ঐতিহ্যবাহী বাউৎ উৎসব। বিভিন্ন বিল, নদী ও জলাশয়ে পলো-জাল নিয়ে নেমেছেন শত শত শৌখিন মৎস্য শিকারি। তাঁদের পদচারণা ও আনন্দ-উচ্ছ্বাসে উৎসবমুখর হয়ে উঠেছে চলনবিলের জনপদ।

চাটমোহর উপজেলার রামের বিল, খলিশাগাড়ি বিল, ডিকশি বিল, বিলকুড়ালিয়া, গুমানী ও চিকনাই নদীসহ চলনবিলের বিভিন্ন জলাশয়ে চলছে এ উৎসব। স্থানীয় ভাষায় দলবদ্ধভাবে মাছ ধরার এ আয়োজনকে বলা হয় ‘বাউৎ উৎসব’। সপ্তাহের প্রতি শনিবার ও মঙ্গলবার নির্দিষ্ট কোনো বিলে বসে এ উৎসব। এতে চাটমোহর, ভাঙ্গুড়াসহ আশপাশের বিভিন্ন উপজেলার মানুষ অংশ নেন।

ভোর থেকেই বিভিন্ন ধরনের যানবাহনে মাছ ধরার সরঞ্জাম নিয়ে বিলে হাজির হন শৌখিন মৎস্য শিকারিরা। পরে দলবেঁধে হৈ-হুল্লোড় ও আনন্দ-উচ্ছ্বাসের মধ্য দিয়ে তাঁরা নেমে পড়েন বিলের পানিতে। কারও হাতে থাকে ঐতিহ্যবাহী পলো, আবার কেউ মাছ ধরেন বিভিন্ন ধরনের জাল দিয়ে। শিশু-কিশোর থেকে শুরু করে বয়স্করাও অংশ নেন এ উৎসবে।

গত শনিবার (২৪ অক্টোবর) খলিশাগাড়ি ও রোববার (২৫ অক্টোবর) সকালে চাটমোহর উপজেলার আফরার বিলে বাউৎ উৎসব অনুষ্ঠিত হয়। এতে চাটমোহর, ভাঙ্গুড়াসহ আশপাশের বিভিন্ন উপজেলার কয়েক শ মানুষ অংশ নেন। অংশগ্রহণকারী মৎস্য শিকারিদের ধারণা, আগামী এক মাস চলনবিলের বিভিন্ন এলাকায় এ উৎসব চলবে।

উৎসবে অংশ নেওয়া শৌখিন মৎস্য শিকারি আমের আলী বলেন, বাউতে বোয়াল, শোল, রুই, কাতলাসহ বিভিন্ন প্রজাতির দেশি মাছ পাওয়া যায়। প্রতিবছর কার্তিক, অগ্রহায়ণ ও পৌষ মাসে চলনবিল অঞ্চলের বিভিন্ন নদী ও বিলে এ উৎসব বসে। তবে এবার দ্রুত পানি কমে যাওয়ায় আগেভাগেই মাছ ধরার আয়োজন শুরু হয়েছে।

ঐতিহ্যবাহী এ উৎসব ঘিরে মানুষের মধ্যে আনন্দ-উচ্ছ্বাস থাকলেও এর নেতিবাচক প্রভাব নিয়ে উদ্বেগ রয়েছে। নির্বিচারে মাছ ধরার ফলে অসংখ্য ছোট মাছ মারা যাচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে। এতে দেশি মাছের প্রজনন ও জলজ জীববৈচিত্র্য ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা করছেন সংশ্লিষ্টরা।

আরও পড়ুনঃ  ইউরোপ পাঠানোর নামে ৭ কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগ, ভুক্তভোগীদের হাতে আটক ইমন

চাটমোহর উপজেলা সিনিয়র মৎস্য কর্মকর্তা আ. মতিন বলেন, বাউৎ উৎসব দীর্ঘদিন ধরে চলে আসছে। তবে এর ফলে বিলের জীববৈচিত্র্য বিনষ্ট হচ্ছে। এ বিষয়ে সরকারি ও বেসরকারি উদ্যোগে জনসচেতনতা বাড়ানো প্রয়োজন।