খুলনায় ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে দুই অন্তঃসত্ত্বা নারীর মৃত্যু হয়েছে। তাঁদের দুজনেরই অনাগত সন্তানকে বাঁচানো সম্ভব হয়নি। একই সঙ্গে মাকে হারিয়ে স্বজনদের কাছে অসহায় হয়ে পড়েছে তাঁদের ছোট সন্তানরা।
নিহতদের একজন নুসরাত জাহান। ১৮ সেপ্টেম্বর ডেঙ্গু শনাক্ত হওয়ার পর তাঁর শারীরিক অবস্থার অবনতি ঘটে। গুরুতর অবস্থায় তাঁকে আইসিইউতে নেওয়ার প্রয়োজন হলেও স্বজনদের ভাষ্য অনুযায়ী, বিভিন্ন হাসপাতালে চেষ্টা করেও তাঁরা আইসিইউ সুবিধা পাননি। পরে ঢাকায় নেওয়ার পথে ভাঙ্গার কাছে তাঁর মৃত্যু হয়। তাঁর অনাগত সন্তানও মারা যায়।
নুসরাতের ছয় বছর বয়সী মেয়ে রওদা এখন মায়ের জন্য অপেক্ষা করছে। মায়ের অনুপস্থিতি বুঝতে না পেরে সে স্বজনদের কাছে জানতে চাইছে, তাকে এখন কাকে ‘আম্মু’ বলে ডাকতে হবে।
অন্যদিকে সাত মাসের অন্তঃসত্ত্বা সাদিয়া আফরিন সুমাইয়াও ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে মারা গেছেন। ১৯ সেপ্টেম্বর রাতে তাঁর রক্তক্ষরণ শুরু হলে তাঁকে হাসপাতালে নেওয়া হয়। প্রতিবেদনে স্বজনদের বরাত দিয়ে বলা হয়েছে, প্রয়োজন থাকা সত্ত্বেও আইসিইউ শয্যা না থাকায় তাঁকে সেখানে ভর্তি করা সম্ভব হয়নি। পরদিন তাঁর মৃত্যু হয়। তাঁর গর্ভের সন্তানকেও বাঁচানো যায়নি।
সুমাইয়ার দেড় বছর বয়সী মেয়ে কেয়া মায়ের মৃত্যুর বিষয়টি এখনও বুঝে উঠতে পারেনি। সে স্বজনদের কাছে মাকে কোথায় পাওয়া যাবে, তা জানতে চাইছে।
দুটি ঘটনায় ডেঙ্গুতে আক্রান্ত অন্তঃসত্ত্বা রোগীদের দ্রুত ও সংকটাপন্ন অবস্থায় চিকিৎসা নিশ্চিত করার পাশাপাশি পর্যাপ্ত আইসিইউ সুবিধার প্রয়োজনীয়তা নতুন করে সামনে এসেছে।
নিজস্ব প্রতিবেদক 


















