Dhaka ০৫:৫৩ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ০৬ অক্টোবর ২০২৬, ২১ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

বাবা-মাকে স্টেশনে রেখে দুই শিশুকে নিয়ে ছুটল ট্রেন, পরে যা হলো

কুমিল্লা রেলস্টেশন থেকে নির্ধারিত সময়ের আগেই সিলেটগামী আন্তনগর পাহাড়িকা এক্সপ্রেস ছেড়ে যাওয়ায় বিপাকে পড়েন এক দম্পতি। সন্তানদের ট্রেনে তুলে দিতে পারলেও নিজেরা উঠতে পারেননি। এ সময় দুই শিশুকে নিয়ে ট্রেন ছুটে যাওয়ায় উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েন বাবা-মা। পরে রেলওয়ে পুলিশের সহায়তায় ট্রেন থামিয়ে তাদের সন্তানদের কাছে তুলে দেওয়া হয়।

শনিবার (২৬ সেপ্টেম্বর) সকাল ১১টার দিকে কুমিল্লা রেলস্টেশনের কাছে এ ঘটনা ঘটে।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, চট্টগ্রাম থেকে ছেড়ে আসা সিলেটগামী পাহাড়িকা এক্সপ্রেস সকাল ১০টা ৫০ মিনিটের দিকে কুমিল্লা স্টেশনে পৌঁছায়। ট্রেনটির সেখানে নির্ধারিত যাত্রাবিরতি ছিল মাত্র দুই মিনিট। সিলেট যাওয়ার উদ্দেশ্যে এক দম্পতি তাদের দুই শিশুসন্তানকে ট্রেনে তুলে দেন। কিন্তু সন্তানদের ওঠানোর পর তারা নিজেরা আর ট্রেনে উঠতে পারেননি।

ট্রেনটি স্টেশন ছেড়ে দেওয়ার পর সন্তানদের নিয়ে দুশ্চিন্তায় পড়ে যান ওই দম্পতি। তারা চিৎকার ও কান্নাকাটি শুরু করলে বিষয়টি রেলওয়ে পুলিশের নজরে আসে। পরে পুলিশ ট্রেনটির পরিচালকের সঙ্গে যোগাযোগ করে ঘটনাটি জানায়।

পরবর্তীতে কুমিল্লা স্টেশন থেকে প্রায় এক কিলোমিটার দূরে ট্রেনটি থামানো হয়। সেখানে ওই দম্পতিকে ট্রেনে তুলে দেওয়া হয়। এরপর তারা সন্তানদের সঙ্গে একসঙ্গে যাত্রা করতে পারেন।

রেলওয়ের দায়িত্বে থাকা পুলিশ সদস্য এহসান জানান, ওই দিন ট্রেনে যাত্রীর চাপ ছিল বেশি। নির্ধারিত দুই মিনিটের মধ্যে অনেক যাত্রীই ট্রেনে উঠতে পারেননি। ওই দম্পতি তাদের দুই সন্তানকে ট্রেনে তুলে দেওয়ার পর নিজেরা উঠতে না পেরে কান্নাকাটি শুরু করেন। পরে ট্রেনের পরিচালকের সঙ্গে যোগাযোগ করে ট্রেন থামানোর ব্যবস্থা করা হয়।

কুমিল্লা রেলস্টেশনের স্টেশনমাস্টার শেখ আনোয়ার হোসেন জানান, পাহাড়িকা এক্সপ্রেস কুমিল্লা স্টেশনে দুই মিনিটের জন্য থামে। এ সময় অনেক যাত্রী সাধারণ বগিতে না উঠে এসি বগিতে ওঠার চেষ্টা করেন। ট্রেন ছেড়ে দেওয়ার পর তারা সাধারণ বগিতে ওঠার জন্য দৌড়াদৌড়ি করেন। এ কারণে কেউ কেউ নির্ধারিত সময়ের মধ্যে ট্রেনে উঠতে পারেন না।

আরও পড়ুনঃ  সিলেটে নয় মাসে পানিতে ডুবে শাবিপ্রবির ৩ শিক্ষার্থীর মৃত্যু

রেলওয়ে পুলিশের দ্রুত তৎপরতায় শেষ পর্যন্ত সন্তানদের কাছেই ফিরে যেতে সক্ষম হন ওই দম্পতি। এতে বড় ধরনের উদ্বেগ ও অনিশ্চয়তা থেকে রক্ষা পায় পরিবারটি।

Tag :
জনপ্রিয় পোস্ট

বাবা-মাকে স্টেশনে রেখে দুই শিশুকে নিয়ে ছুটল ট্রেন, পরে যা হলো

Update Time : ০২:১২:১৬ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬

কুমিল্লা রেলস্টেশন থেকে নির্ধারিত সময়ের আগেই সিলেটগামী আন্তনগর পাহাড়িকা এক্সপ্রেস ছেড়ে যাওয়ায় বিপাকে পড়েন এক দম্পতি। সন্তানদের ট্রেনে তুলে দিতে পারলেও নিজেরা উঠতে পারেননি। এ সময় দুই শিশুকে নিয়ে ট্রেন ছুটে যাওয়ায় উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েন বাবা-মা। পরে রেলওয়ে পুলিশের সহায়তায় ট্রেন থামিয়ে তাদের সন্তানদের কাছে তুলে দেওয়া হয়।

শনিবার (২৬ সেপ্টেম্বর) সকাল ১১টার দিকে কুমিল্লা রেলস্টেশনের কাছে এ ঘটনা ঘটে।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, চট্টগ্রাম থেকে ছেড়ে আসা সিলেটগামী পাহাড়িকা এক্সপ্রেস সকাল ১০টা ৫০ মিনিটের দিকে কুমিল্লা স্টেশনে পৌঁছায়। ট্রেনটির সেখানে নির্ধারিত যাত্রাবিরতি ছিল মাত্র দুই মিনিট। সিলেট যাওয়ার উদ্দেশ্যে এক দম্পতি তাদের দুই শিশুসন্তানকে ট্রেনে তুলে দেন। কিন্তু সন্তানদের ওঠানোর পর তারা নিজেরা আর ট্রেনে উঠতে পারেননি।

ট্রেনটি স্টেশন ছেড়ে দেওয়ার পর সন্তানদের নিয়ে দুশ্চিন্তায় পড়ে যান ওই দম্পতি। তারা চিৎকার ও কান্নাকাটি শুরু করলে বিষয়টি রেলওয়ে পুলিশের নজরে আসে। পরে পুলিশ ট্রেনটির পরিচালকের সঙ্গে যোগাযোগ করে ঘটনাটি জানায়।

পরবর্তীতে কুমিল্লা স্টেশন থেকে প্রায় এক কিলোমিটার দূরে ট্রেনটি থামানো হয়। সেখানে ওই দম্পতিকে ট্রেনে তুলে দেওয়া হয়। এরপর তারা সন্তানদের সঙ্গে একসঙ্গে যাত্রা করতে পারেন।

রেলওয়ের দায়িত্বে থাকা পুলিশ সদস্য এহসান জানান, ওই দিন ট্রেনে যাত্রীর চাপ ছিল বেশি। নির্ধারিত দুই মিনিটের মধ্যে অনেক যাত্রীই ট্রেনে উঠতে পারেননি। ওই দম্পতি তাদের দুই সন্তানকে ট্রেনে তুলে দেওয়ার পর নিজেরা উঠতে না পেরে কান্নাকাটি শুরু করেন। পরে ট্রেনের পরিচালকের সঙ্গে যোগাযোগ করে ট্রেন থামানোর ব্যবস্থা করা হয়।

কুমিল্লা রেলস্টেশনের স্টেশনমাস্টার শেখ আনোয়ার হোসেন জানান, পাহাড়িকা এক্সপ্রেস কুমিল্লা স্টেশনে দুই মিনিটের জন্য থামে। এ সময় অনেক যাত্রী সাধারণ বগিতে না উঠে এসি বগিতে ওঠার চেষ্টা করেন। ট্রেন ছেড়ে দেওয়ার পর তারা সাধারণ বগিতে ওঠার জন্য দৌড়াদৌড়ি করেন। এ কারণে কেউ কেউ নির্ধারিত সময়ের মধ্যে ট্রেনে উঠতে পারেন না।

আরও পড়ুনঃ  ভাড়া দেওয়ার সময় যাত্রীর টাকায় নজর, বাসেই শ্বাসরোধে হত্যা

রেলওয়ে পুলিশের দ্রুত তৎপরতায় শেষ পর্যন্ত সন্তানদের কাছেই ফিরে যেতে সক্ষম হন ওই দম্পতি। এতে বড় ধরনের উদ্বেগ ও অনিশ্চয়তা থেকে রক্ষা পায় পরিবারটি।