Dhaka ০৬:৩২ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ০৬ অক্টোবর ২০২৬, ২১ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

৩৮ বছর বয়সে ১৫৬ মেয়ের ‘বাবা’ হলেন মামুন

মাত্র ৩৮ বছর বয়সেই ১৫৬ জন অসহায় ও দরিদ্র মেয়ের বিয়ের দায়িত্ব নিয়ে মানবিকতার অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন সিরাজগঞ্জের শাহজাদপুর উপজেলার স্বেচ্ছাসেবী ও সমাজকর্মী মামুন বিশ্বাস।

 

নিজের উদ্যোগের পাশাপাশি সাধারণ মানুষের সহযোগিতা নিয়ে জেলার বিভিন্ন এলাকার দরিদ্র ও অভিভাবকহীন মেয়েদের বিয়ে দিয়ে এখন তিনি পরিচিতি পেয়েছেন ১৫৬ মেয়ের ‘বাবা’ হিসেবে।

 

দীর্ঘদিন ধরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও ব্যক্তিগত নেটওয়ার্কের মাধ্যমে অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়িয়ে আসছেন মামুন বিশ্বাস। অর্থের অভাবে যেসব পরিবার মেয়ের বিয়ে দিতে পারছিল না, তাদের জন্য ফেসবুকসহ বিভিন্ন মাধ্যমে সহযোগিতা সংগ্রহ করে বিয়ের আয়োজন করেন তিনি। প্রতিটি বিয়েই সাধ্যমতো আয়োজন করে মেয়েদের নতুন জীবন শুরুর সুযোগ করে দেওয়ার চেষ্টা করেন।সম্প্রতি মাত্র ছয় দিনের ব্যবধানে কামারখন্দ উপজেলার দুই অসহায় মেয়ের বিয়ের দায়িত্ব নিয়ে আবারও আলোচনায় আসেন তিনি।

কামারখন্দ উপজেলার ঝাঐল ইউনিয়নের তেঘরি গ্রামের আবু তালেব ও সামিদা দম্পতির মেয়ে আতিয়া খাতুনের বিয়ের জন্য ফেসবুকের মাধ্যমে প্রায় ৩ লাখ টাকা সহযোগিতা সংগ্রহ করা হয়। গত ২৫ সেপ্টেম্বর সেই অর্থে আতিয়ার বিয়ের আয়োজন করা হয়।

 

এর মাত্র ছয় দিন পর, ১ অক্টোবর কামারখন্দের জামতৈল গ্রামের সুচিত্রা রানি দাসের বিয়ের দায়িত্ব নেন মামুন বিশ্বাস। সুচিত্রার বিয়েতে প্রায় ২ লাখ ৩২ হাজার টাকা ব্যয় করা হয়। আর্থিক সংকটের কারণে একাধিকবার বিয়ে ভেঙে যাওয়া সুচিত্রার জন্যও করা হয় জমকালো বিয়ের আয়োজন।

 

এভাবে একের পর এক অসহায় মেয়ের পাশে দাঁড়াতে দাঁড়াতে মামুন বিশ্বাস এখন ১৫৬ মেয়ের অভিভাবক হিসেবে পরিচিত হয়েছেন। মাত্র ৩৮ বছর বয়সে ১৫৬টি মেয়ের বিয়ের দায়িত্ব নেওয়ার এই উদ্যোগ স্থানীয় মানুষের পাশাপাশি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও প্রশংসা কুড়িয়েছে।

 

মামুন বিশ্বাসের উদ্যোগে বিয়ে হওয়া মেয়েরা এখন নতুন সংসার শুরু করে স্বাভাবিক জীবনে ফিরছেন। বিয়ের পরও তাদের নিজের মেয়ের মতোই মনে করেন তিনি। তাই ১৫৬ জন মেয়ের বিয়ের দায়িত্ব পালন করতে করতে মানুষের কাছে মামুন বিশ্বাস এখন শুধু একজন স্বেচ্ছাসেবী নন, বরং ১৫৬ মেয়ের ‘বাবা’।

আরও পড়ুনঃ  সংসদে মির্জা ফখরুলের আসনে বসলেন যিনি
Tag :
জনপ্রিয় পোস্ট

৩৮ বছর বয়সে ১৫৬ মেয়ের ‘বাবা’ হলেন মামুন

Update Time : ০২:৫২:৫৬ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৬ অক্টোবর ২০২৬

মাত্র ৩৮ বছর বয়সেই ১৫৬ জন অসহায় ও দরিদ্র মেয়ের বিয়ের দায়িত্ব নিয়ে মানবিকতার অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন সিরাজগঞ্জের শাহজাদপুর উপজেলার স্বেচ্ছাসেবী ও সমাজকর্মী মামুন বিশ্বাস।

 

নিজের উদ্যোগের পাশাপাশি সাধারণ মানুষের সহযোগিতা নিয়ে জেলার বিভিন্ন এলাকার দরিদ্র ও অভিভাবকহীন মেয়েদের বিয়ে দিয়ে এখন তিনি পরিচিতি পেয়েছেন ১৫৬ মেয়ের ‘বাবা’ হিসেবে।

 

দীর্ঘদিন ধরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও ব্যক্তিগত নেটওয়ার্কের মাধ্যমে অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়িয়ে আসছেন মামুন বিশ্বাস। অর্থের অভাবে যেসব পরিবার মেয়ের বিয়ে দিতে পারছিল না, তাদের জন্য ফেসবুকসহ বিভিন্ন মাধ্যমে সহযোগিতা সংগ্রহ করে বিয়ের আয়োজন করেন তিনি। প্রতিটি বিয়েই সাধ্যমতো আয়োজন করে মেয়েদের নতুন জীবন শুরুর সুযোগ করে দেওয়ার চেষ্টা করেন।সম্প্রতি মাত্র ছয় দিনের ব্যবধানে কামারখন্দ উপজেলার দুই অসহায় মেয়ের বিয়ের দায়িত্ব নিয়ে আবারও আলোচনায় আসেন তিনি।

কামারখন্দ উপজেলার ঝাঐল ইউনিয়নের তেঘরি গ্রামের আবু তালেব ও সামিদা দম্পতির মেয়ে আতিয়া খাতুনের বিয়ের জন্য ফেসবুকের মাধ্যমে প্রায় ৩ লাখ টাকা সহযোগিতা সংগ্রহ করা হয়। গত ২৫ সেপ্টেম্বর সেই অর্থে আতিয়ার বিয়ের আয়োজন করা হয়।

 

এর মাত্র ছয় দিন পর, ১ অক্টোবর কামারখন্দের জামতৈল গ্রামের সুচিত্রা রানি দাসের বিয়ের দায়িত্ব নেন মামুন বিশ্বাস। সুচিত্রার বিয়েতে প্রায় ২ লাখ ৩২ হাজার টাকা ব্যয় করা হয়। আর্থিক সংকটের কারণে একাধিকবার বিয়ে ভেঙে যাওয়া সুচিত্রার জন্যও করা হয় জমকালো বিয়ের আয়োজন।

 

এভাবে একের পর এক অসহায় মেয়ের পাশে দাঁড়াতে দাঁড়াতে মামুন বিশ্বাস এখন ১৫৬ মেয়ের অভিভাবক হিসেবে পরিচিত হয়েছেন। মাত্র ৩৮ বছর বয়সে ১৫৬টি মেয়ের বিয়ের দায়িত্ব নেওয়ার এই উদ্যোগ স্থানীয় মানুষের পাশাপাশি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও প্রশংসা কুড়িয়েছে।

 

মামুন বিশ্বাসের উদ্যোগে বিয়ে হওয়া মেয়েরা এখন নতুন সংসার শুরু করে স্বাভাবিক জীবনে ফিরছেন। বিয়ের পরও তাদের নিজের মেয়ের মতোই মনে করেন তিনি। তাই ১৫৬ জন মেয়ের বিয়ের দায়িত্ব পালন করতে করতে মানুষের কাছে মামুন বিশ্বাস এখন শুধু একজন স্বেচ্ছাসেবী নন, বরং ১৫৬ মেয়ের ‘বাবা’।

আরও পড়ুনঃ  ‘আজও বিশ্বাস হয় না, তুমি নেই’—সালমান শাহকে স্মরণে শাবনূর