
ব্রাহ্মণবাড়িয়ার কসবায় অতিদরিদ্রদের জন্য কর্মসংস্থান কর্মসূচি (ইজিপিপি) প্রকল্পের বরাদ্দের ভাগাভাগি নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে হাতাহাতির ঘটনা ঘটেছে। এতে উভয় পক্ষের পাঁচজন আহত হয়েছেন।
বুধবার (৭ অক্টোবর) দুপুরে উপজেলার বিনাউটি ইউনিয়ন পরিষদের সামনে এ ঘটনা ঘটে। খবর পেয়ে পুলিশ গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।
বিনাউটি ইউনিয়ন পরিষদের প্যানেল চেয়ারম্যান মনির হোসেন ও ইউপি সদস্য রাসেল খান জানান, বিনাউটি ইউনিয়ন পরিষদে ইজিপিপি প্রকল্পের বরাদ্দ এসেছে। ১০০ দিনের কর্মসূচির আওতায় এ প্রকল্পে ১২৫ জন শ্রমিকের নিয়মিত কাজ করার কথা রয়েছে। প্রকল্পটির তদারকির দায়িত্বে থাকবেন সাতজন সুপারভাইজার। বুধবার দুপুরে বরাদ্দকৃত প্রকল্পের বিষয়ে আলোচনা করতে পরিষদে যান বিনাউটি উন্নয়ন কমিটির সভাপতি মো. কামাল উদ্দিন, বিনাউটি ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক সুমন চৌধুরীসহ দলীয় নেতাকর্মীরা। পরিষদ হলরুমে আলোচনা শেষে তারা বাইরে বেরিয়ে আসেন। পরে পরিষদের বাইরে উন্নয়ন কমিটির নেতাকর্মীদের মধ্যে তর্কাতর্কি শুরু হয়।এ সময় তিনলাখপীর এলাকার এক যুবক তাদের তর্কাতর্কির ভিডিও ধারণ করেন। ভিডিওটি মুছে ফেলতে তাকে চাপ দেওয়া হয় বলে স্থানীয়রা জানান। ভিডিও ধারণকারী যুবকের প্রতি নেতাকর্মীদের উত্তেজিত আচরণ দেখতে পান একই এলাকার অটোরিকশাচালক বাবু। পরে তিনি বিষয়টি এলাকায় জানান। এরপর ভিডিও ধারণকারী যুবকের স্বজনরা ঘটনাস্থলে এলে এ নিয়ে বাকবিতণ্ডার একপর্যায়ে হাতাহাতি শুরু হয়।
খবর পেয়ে পুলিশ গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। এ ঘটনায় বুধবার সন্ধ্যা পর্যন্ত কোনো পক্ষ থানায় মামলা বা লিখিত অভিযোগ দেয়নি।
বিনাউটি ইউনিয়ন উন্নয়ন কমিটির সভাপতি মো. কামাল উদ্দিন মুঠোফোনে জানান, বিনাউটি ইউনিয়নে ইজিপিপি প্রকল্পের কার্যক্রম নিয়ে পরিষদে আলোচনা শেষে তারা বেরিয়ে আসেন। পরে উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক শরীফুল হক স্বপনের ভাগ্নে উজ্জল তার লোকজন নিয়ে তাদের ওপর অতর্কিত হামলা করেন।
তবে উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক শরীফুল হক স্বপন বলেন, উন্নয়ন কমিটির নামে কিছু কমিটি করা হয়েছে। এসব কমিটির লোকজন বিভিন্ন সময়ে পরিষদের কার্যক্রম ও বরাদ্দে হস্তক্ষেপ করে। বুধবার দুপুরেও বিনাউটি ইউনিয়ন পরিষদে আসা ইজিপিপি প্রকল্পের বরাদ্দের ভাগাভাগি নিয়ে পরিষদের বাইরে ঝগড়া হয়। এ সময় এক যুবক হাতাহাতির ভিডিও ধারণ করলে তাকে আক্রমণ করা হয়। পরে স্থানীয় লোকজনের সঙ্গে হাতাহাতিতে জড়িয়ে পড়েন তারা। এ ঘটনায় দলের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন হওয়ায় জড়িতদের বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
কসবা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আলী মোহাম্মদ রাশেদ বলেন, খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়। তবে এ বিষয়ে এখনো কেউ অভিযোগ করেননি। অভিযোগ পেলে তদন্ত সাপেক্ষে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
ব্রাহ্মণবাড়িয়া প্রতিনিধি 


















