
+
আয়কর রিটার্ন দাখিলের ক্ষেত্রে সময়সীমা পার হলে করদাতাদের গুনতে হবে অতিরিক্ত অর্থ। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে রিটার্ন জমা দিতে না পারলে পর্যায়ক্রমে জরিমানার পরিমাণ বাড়বে। একই সঙ্গে সময়মতো রিটার্ন দাখিলকারীদের জন্য থাকছে কর-সুবিধাও।
নতুন নিয়ম অনুযায়ী, ১ জুলাই থেকে ৩০ সেপ্টেম্বরের মধ্যে আয়কর রিটার্ন দাখিল করলে করদাতারা নির্ধারিত হারে কর-ছাড় বা প্রণোদনা পাওয়ার সুযোগ পাবেন। এ ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ ২৫ হাজার টাকা পর্যন্ত ৫ শতাংশ কর-ছাড়ের সুবিধা পাওয়ার কথা বলা হয়েছে।
তবে ৩০ সেপ্টেম্বরের পর রিটার্ন দাখিল করলেও সব ক্ষেত্রে একই ধরনের সুবিধা পাওয়া যাবে না। ১ অক্টোবর থেকে ৩১ ডিসেম্বরের মধ্যে রিটার্ন জমা দিলে অতিরিক্ত জরিমানা না থাকলেও সময়মতো রিটার্ন জমা দেওয়ার জন্য যে কর-সুবিধা রয়েছে, তা পাওয়া যাবে না।
অন্যদিকে, ১ জানুয়ারি থেকে ৩১ মার্চের মধ্যে রিটার্ন দাখিল করলে করদাতাকে অতিরিক্ত ২ শতাংশ হারে জরিমানা দিতে হবে। তবে জরিমানার ক্ষেত্রে নির্ধারিত ন্যূনতম অর্থ প্রযোজ্য হবে। ফলে করের পরিমাণ কম হলেও নির্ধারিত ন্যূনতম জরিমানা দিতে হতে পারে।
আর ১ এপ্রিল থেকে ৩০ জুনের মধ্যে আয়কর রিটার্ন দাখিল করলে জরিমানার হার আরও বেড়ে ৫ শতাংশ হবে। অর্থাৎ, যত বেশি দেরি হবে, করদাতার আর্থিক দায়ও তত বাড়বে।
কর বিশেষজ্ঞরা বলছেন, নির্ধারিত সময়ের মধ্যে আয়কর রিটার্ন দাখিল করলে একদিকে যেমন জরিমানা এড়ানো সম্ভব, অন্যদিকে কর-সংক্রান্ত বিভিন্ন জটিলতাও কমে আসে। তাই শেষ মুহূর্তের অপেক্ষা না করে সময়মতো রিটার্ন দাখিল করার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।
এদিকে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের পক্ষ থেকেও করদাতাদের নির্ধারিত সময়ের মধ্যে রিটার্ন দাখিলের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। রিটার্ন দাখিলে বিলম্ব হলে আইন অনুযায়ী জরিমানা আরোপের পাশাপাশি প্রয়োজন হলে করদাতার আয়, ব্যয়, সম্পদ ও অন্যান্য তথ্য যাচাই করা হতে পারে।
বিশেষ করে যেসব ব্যক্তি নিয়মিত আয়কর রিটার্ন দাখিল করেন, তাদের জন্য নির্ধারিত সময়সীমা সম্পর্কে সতর্ক থাকা জরুরি। কারণ সময় পেরিয়ে গেলে শুধু জরিমানাই নয়, কর-সংক্রান্ত বিভিন্ন কাজে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র ও রিটার্নের তথ্য নিয়েও অতিরিক্ত জটিলতার মুখোমুখি হতে হতে পারে।
তাই করদাতাদের প্রতি পরামর্শ হলো—আয়কর রিটার্ন দাখিলের নির্ধারিত সময়সীমা খেয়াল রেখে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র প্রস্তুত করে সময়মতো রিটার্ন জমা দেওয়া। এতে অতিরিক্ত জরিমানা এড়ানোর পাশাপাশি কর-সংক্রান্ত ভবিষ্যৎ জটিলতাও কমানো সম্ভব।
নিজস্ব প্রতিবেদক 



















