Dhaka ০৩:৫০ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৮ অক্টোবর ২০২৬, ৩ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

কক্সবাজারে অ.গ্নিকাণ্ড: নিখোঁজ স্কুলশিক্ষিকাকে খুঁজছেন স্বজনরা

কক্সবাজারের ইনানী মেরিন ড্রাইভ সংলগ্ন ‘টুপটুপ রিসোর্ট’-এ ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের পর থেকে নিখোঁজ রয়েছেন পিরোজপুরের মঠবাড়িয়ার নাসরিন জাহান মুক্তা (২৯) নামের এক স্কুলশিক্ষিকা। ১৩ ঘণ্টা পার হলেও এখনও পরিবারের পক্ষ থেকে শনাক্ত করতে পারেনি।

রোববার (১৮ অক্টোবর) সকালে সাড়ে ১০টার দিকে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন মুক্তার স্বামী দেওয়ান ফয়সাল। তিনি ঢাকা জেলা উত্তর ছাত্রদলের সহ-সভাপতি। তারা বর্তমানে কক্সবাজারে রয়েছেন ডিএনএ টেস্ট করে মরদেহ চিহ্নিত করার জন্য।

এর আগে, শনিবার সকাল ৬টার দিকে মেরিন ড্রাইভের পাটোয়ারটেক সমুদ্রসৈকত এলাকার ওই রিসোর্টে এ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। এ অগ্নিকাণ্ডে ওই স্কুলশিক্ষিকা নাসরিন জাহান মুক্তা নিহত হয়েছেন।

এছাড়া অন্য নিহতরা হলেন- রাজধানী ঢাকার বনশ্রীর ইসরাত জাহান মালিহা (৩০) ও মিলিতা মেহেজাবিন আলভী (২৩), খিলগাঁওয়ের লায়লা জাহান নাবিলা (২৭), নাফিসতা মীম (২৭), চুয়াডাঙ্গার ফারিহা কবির (৩৩) ও ফায়িজান আহম্মেদ (৫) সহ আরও তিনজন।

অগ্নিকাণ্ডের পর ধ্বংসস্তূপ থেকে ১০ জনের মরদেহ উদ্ধার করা হলেও সেখানে মুক্তাকে শনাক্ত করতে পারেনি তার স্বামীসহ পরিবার অন্য সদস্যরা। তিনি বেঁচে আছেন, নাকি আগুনে পুড়ে গেছেন, এই অনিশ্চয়তায় চরম উৎকণ্ঠা ও শোকে দিন পার করছে তার পরিবার।

নিখোঁজ নাসরিন জাহান মুক্তা মঠবাড়িয়া উপজেলার বেতমোর রাজপাড়া গ্রামের খান বাড়ির বাসিন্দা মোস্তফা কামালের মেয়ে। তিনি ঢাকার সাভারের ‘স্বপ্ন বিলাস স্কুল’ নামের একটি বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শিক্ষকতা করতেন।

পারিবারিক ফুফাতো ভাই ইমরান হোসেনের তথ্য মতে, ছুটির দিনের ফাঁকে মুক্তা তার দুই বান্ধবীর সঙ্গে কক্সবাজারে ঘুরতে যান। তারা পাটোয়ারটেক সমুদ্রসৈকত এলাকার ‘টুপটুপ রেস্টো অ্যান্ড রিসোর্ট’ (TUPTUP Resto & Resort)-এ উঠেছিলেন। শনিবার সকালে তার দুই বান্ধবী সৈকতে হাঁটতে বের হন। তখন মুক্তাকেও সঙ্গে যাওয়ার কথা বললে তিনি রুমে ঘুমাবেন বলে জানান। কিন্তু বান্ধবীরা রিসোর্ট থেকে বের হওয়ার মাত্র ২০ মিনিটের মধ্যেই সেখানে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। চোখের সামনে দাউদাউ করে জ্বলতে থাকা রিসোর্টের ভেতরে কী পরিস্থিতি তৈরি হয়েছিল, তা বুঝে ওঠার আগেই সব শেষ হয়ে যায়।

আরও পড়ুনঃ  ভীমরুলীর ভাসমান পেয়ারার হাটে মার্কিন রাষ্ট্রদূত

খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের কয়েকটি ইউনিট দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে উদ্ধারকাজ শুরু করে। তাদের সঙ্গে যোগ দেয় বিজিবি ও স্থানীয় প্রশাসন। সকাল সোয়া ৮টার দিকে আগুন নিয়ন্ত্রণে আসে এবং বেলা ১১টার দিকে তা সম্পূর্ণ নির্বাপণ করা সম্ভব হয়।

এ বিষয়ে মুক্তার আপন ফুফাতো ভাই ও মঠবাড়িয়া রুস্তম আলী ডিগ্রি কলেজ ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক ইমরান হাজী চরম উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেন, উদ্ধার হওয়া দশ মরদেহের মধ্যে আমার বোনের মরদেহ এখনও শনাক্ত করতে পারিনি। বোন জামাই বর্তমানে কথা বলার মতো পরিস্থিতিতে নেই। পরিবারের সবাই চরম উদ্বিগ্ন, আমাদের এই শোক ও অনিশ্চয়তা সইবার মতো কোনো শক্তি আর অবশিষ্ট নেই। মরদেহ শনাক্ত করতে পারলে গ্রামের বাড়িতে নিয়ে আসবো।

মঠবাড়িয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. রবিউল ইসলাম বলেন, আমরা ওই পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করছি। খোঁজ-খবর নিয়ে দেখব কিছু করা যায় কিনা।

কক্সবাজারে আনন্দভ্রমণে গিয়ে এমন মর্মান্তিক দুর্ঘটনার শিকার হয়ে মুক্তার নিখোঁজ হওয়ার খবরে তার নিজ এলাকা মঠবাড়িয়ায় শোক ও উদ্বেগের ছায়া নেমে এসেছে।

Tag :
জনপ্রিয় পোস্ট

কক্সবাজারে অ.গ্নিকাণ্ড: নিখোঁজ স্কুলশিক্ষিকাকে খুঁজছেন স্বজনরা

Update Time : ০২:৫২:২৪ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৮ অক্টোবর ২০২৬

কক্সবাজারের ইনানী মেরিন ড্রাইভ সংলগ্ন ‘টুপটুপ রিসোর্ট’-এ ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের পর থেকে নিখোঁজ রয়েছেন পিরোজপুরের মঠবাড়িয়ার নাসরিন জাহান মুক্তা (২৯) নামের এক স্কুলশিক্ষিকা। ১৩ ঘণ্টা পার হলেও এখনও পরিবারের পক্ষ থেকে শনাক্ত করতে পারেনি।

রোববার (১৮ অক্টোবর) সকালে সাড়ে ১০টার দিকে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন মুক্তার স্বামী দেওয়ান ফয়সাল। তিনি ঢাকা জেলা উত্তর ছাত্রদলের সহ-সভাপতি। তারা বর্তমানে কক্সবাজারে রয়েছেন ডিএনএ টেস্ট করে মরদেহ চিহ্নিত করার জন্য।

এর আগে, শনিবার সকাল ৬টার দিকে মেরিন ড্রাইভের পাটোয়ারটেক সমুদ্রসৈকত এলাকার ওই রিসোর্টে এ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। এ অগ্নিকাণ্ডে ওই স্কুলশিক্ষিকা নাসরিন জাহান মুক্তা নিহত হয়েছেন।

এছাড়া অন্য নিহতরা হলেন- রাজধানী ঢাকার বনশ্রীর ইসরাত জাহান মালিহা (৩০) ও মিলিতা মেহেজাবিন আলভী (২৩), খিলগাঁওয়ের লায়লা জাহান নাবিলা (২৭), নাফিসতা মীম (২৭), চুয়াডাঙ্গার ফারিহা কবির (৩৩) ও ফায়িজান আহম্মেদ (৫) সহ আরও তিনজন।

অগ্নিকাণ্ডের পর ধ্বংসস্তূপ থেকে ১০ জনের মরদেহ উদ্ধার করা হলেও সেখানে মুক্তাকে শনাক্ত করতে পারেনি তার স্বামীসহ পরিবার অন্য সদস্যরা। তিনি বেঁচে আছেন, নাকি আগুনে পুড়ে গেছেন, এই অনিশ্চয়তায় চরম উৎকণ্ঠা ও শোকে দিন পার করছে তার পরিবার।

নিখোঁজ নাসরিন জাহান মুক্তা মঠবাড়িয়া উপজেলার বেতমোর রাজপাড়া গ্রামের খান বাড়ির বাসিন্দা মোস্তফা কামালের মেয়ে। তিনি ঢাকার সাভারের ‘স্বপ্ন বিলাস স্কুল’ নামের একটি বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শিক্ষকতা করতেন।

পারিবারিক ফুফাতো ভাই ইমরান হোসেনের তথ্য মতে, ছুটির দিনের ফাঁকে মুক্তা তার দুই বান্ধবীর সঙ্গে কক্সবাজারে ঘুরতে যান। তারা পাটোয়ারটেক সমুদ্রসৈকত এলাকার ‘টুপটুপ রেস্টো অ্যান্ড রিসোর্ট’ (TUPTUP Resto & Resort)-এ উঠেছিলেন। শনিবার সকালে তার দুই বান্ধবী সৈকতে হাঁটতে বের হন। তখন মুক্তাকেও সঙ্গে যাওয়ার কথা বললে তিনি রুমে ঘুমাবেন বলে জানান। কিন্তু বান্ধবীরা রিসোর্ট থেকে বের হওয়ার মাত্র ২০ মিনিটের মধ্যেই সেখানে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। চোখের সামনে দাউদাউ করে জ্বলতে থাকা রিসোর্টের ভেতরে কী পরিস্থিতি তৈরি হয়েছিল, তা বুঝে ওঠার আগেই সব শেষ হয়ে যায়।

আরও পড়ুনঃ  ভীমরুলীর ভাসমান পেয়ারার হাটে মার্কিন রাষ্ট্রদূত

খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের কয়েকটি ইউনিট দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে উদ্ধারকাজ শুরু করে। তাদের সঙ্গে যোগ দেয় বিজিবি ও স্থানীয় প্রশাসন। সকাল সোয়া ৮টার দিকে আগুন নিয়ন্ত্রণে আসে এবং বেলা ১১টার দিকে তা সম্পূর্ণ নির্বাপণ করা সম্ভব হয়।

এ বিষয়ে মুক্তার আপন ফুফাতো ভাই ও মঠবাড়িয়া রুস্তম আলী ডিগ্রি কলেজ ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক ইমরান হাজী চরম উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেন, উদ্ধার হওয়া দশ মরদেহের মধ্যে আমার বোনের মরদেহ এখনও শনাক্ত করতে পারিনি। বোন জামাই বর্তমানে কথা বলার মতো পরিস্থিতিতে নেই। পরিবারের সবাই চরম উদ্বিগ্ন, আমাদের এই শোক ও অনিশ্চয়তা সইবার মতো কোনো শক্তি আর অবশিষ্ট নেই। মরদেহ শনাক্ত করতে পারলে গ্রামের বাড়িতে নিয়ে আসবো।

মঠবাড়িয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. রবিউল ইসলাম বলেন, আমরা ওই পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করছি। খোঁজ-খবর নিয়ে দেখব কিছু করা যায় কিনা।

কক্সবাজারে আনন্দভ্রমণে গিয়ে এমন মর্মান্তিক দুর্ঘটনার শিকার হয়ে মুক্তার নিখোঁজ হওয়ার খবরে তার নিজ এলাকা মঠবাড়িয়ায় শোক ও উদ্বেগের ছায়া নেমে এসেছে।