Dhaka ১২:৫৪ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ০৮ অক্টোবর ২০২৬, ২৩ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম :
জন্মের তিন দিনের মাথায় মা, এবার ডেঙ্গুতে বাবাকে হারাল আরফা বিক্রি করতে না পেরে শিশু বায়জিদকে রাস্তায় ফেলে যায় অপহরণকারীরা ‘ম্যাজিস্ট্রেট নওশাদ’ এখনও শাহজালাল বিমানবন্দরেই আছেন সড়কে চাঁদাবাজি নিয়ন্ত্রণে নতুন কমিটি ভূমিকা রাখবে: রিজভী ভারতের সঙ্গে পানির ন্যায্য হিস্যা নিয়ে কোনো ছাড় নয়: পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী রাইস মিল থেকে রক্তাক্ত অবস্থায় বাড়ি ফেরে ৪ বছরের শি.শু অভিমান করে বাড়ি ছাড়েন মারুফ, একদিন পর পুকুরপাড়ে মিলল মরদেহ বিকেলে আবরার ফাহাদের পরিবারের সঙ্গে সাক্ষাৎ করবেন প্রধানমন্ত্রী ‘ট্রেনিংয়ের জন্য নিয়ে আইছে, এখন দেখছি মিছিল’, এনসিপির কর্মসূচি নিয়ে বিস্ফোরক মন্তব্য মেসির বিদায়ে আবেগাপ্লুত পূর্ণিমা-পরীমণি

ছিনতাই ঠেকাতে টঙ্গীতে তরুণদের নিজস্ব অভিযান

গাজীপুরের টঙ্গীতে ছিনতাই ও মাদকসংক্রান্ত অপরাধ ঠেকাতে নিজেদের উদ্যোগে মাঠে নেমেছেন একদল তরুণ। ‘বাংলাদেশ ইয়ুথ রেভল্যুশন’ নামে একটি সংগঠনের সদস্যরা নির্দিষ্ট পোশাক পরে এলাকায় টহল দেওয়ার পাশাপাশি সন্দেহভাজন ব্যক্তিদের আটক করে পুলিশের কাছে হস্তান্তর করছেন।

সংগঠনটির কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক ফাহাদ ইসলামের দাবি, টঙ্গী এলাকায় তাদের প্রায় ২৫০ সদস্য সক্রিয় রয়েছেন। পাশাপাশি সংগঠনের সঙ্গে যুক্ত হতে আরও প্রায় ৭০০টি জীবনবৃত্তান্ত জমা পড়েছে। তাদের ভাষ্য অনুযায়ী, ছিনতাই, মাদক সেবন ও মাদক ব্যবসার সঙ্গে জড়িত সন্দেহভাজনদের ধরে পুলিশের কাছে দেওয়া হচ্ছে।

সংগঠনটির সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের পাতায় বিভিন্ন অভিযানের ভিডিওও প্রকাশ করা হয়। এসব ভিডিওতে সদস্যদের লাঠিসোঁটা হাতে এবং নির্দিষ্ট পোশাকে দেখা যায়। তবে সন্দেহভাজনদের আটকের সময় মারধর বা অপমানজনক আচরণের অভিযোগও উঠেছে।

সংগঠনটির উদ্যোক্তারা জানিয়েছেন, ২০২৫ সালের ১৬ ডিসেম্বর ‘বাংলাদেশ ইয়ুথ রেভল্যুশন’ যাত্রা শুরু করে। তাদের দাবি, এরপর প্রায় ২৫০ জন ছিনতাইকারী ও মাদক ব্যবসায়ীকে আটক করে পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।

সংগঠনের কেন্দ্রীয় মুখ্য সংগঠক সবুজ উদ্দিন ইকবাল বলেন, বিভিন্ন সূত্রের মাধ্যমে অপরাধের তথ্য পাওয়ার পর তারা অভিযান পরিচালনা করেন। পুলিশের সঙ্গে তাদের যোগাযোগ রয়েছে বলেও তিনি দাবি করেন।

তবে অপরাধ দমনে এ ধরনের বেসরকারি উদ্যোগ নিয়ে আইনশৃঙ্খলা বিশেষজ্ঞদের মধ্যে উদ্বেগ রয়েছে। অপরাধী শনাক্ত ও আটকের ক্ষমতা আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর। ফলে সাধারণ মানুষকে সহযোগিতার ভূমিকায় রেখে আইন নিজের হাতে তুলে না নেওয়ার বিষয়ে সতর্ক থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, টঙ্গীর কয়েকটি এলাকায় সন্ধ্যার পর ছিনতাইয়ের ঘটনা বেশি ঘটে। স্টেশন রোড, হোসেন মার্কেট, কলেজ গেট, আবদুল্লাহপুর বাসস্ট্যান্ড, সাতাইশ, কেরানীরটেক ও হাজী মাজার বস্তি এলাকায় ছিনতাইকারীদের তৎপরতার কথা জানিয়েছেন তারা।

এদিকে টঙ্গী পূর্ব ও পশ্চিম থানার পুলিশের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, ছিনতাই ও মাদকসহ বিভিন্ন অপরাধ নিয়ন্ত্রণে নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশের পাশাপাশি সাধারণ মানুষের সহযোগিতাও প্রয়োজন বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।

আরও পড়ুনঃ  ময়লার ভাগাড়ে ‘টাকার বস্তা’, কুড়িয়ে নিলেন স্থানীয়রা

অপরাধ দমনে তরুণদের সচেতনতা ও সহযোগিতা গুরুত্বপূর্ণ হলেও আইন হাতে তুলে নেওয়ার সুযোগ না দেওয়ার ওপর জোর দিয়েছেন অপরাধবিজ্ঞান সংশ্লিষ্টরা।

Tag :
জনপ্রিয় পোস্ট

জন্মের তিন দিনের মাথায় মা, এবার ডেঙ্গুতে বাবাকে হারাল আরফা

ছিনতাই ঠেকাতে টঙ্গীতে তরুণদের নিজস্ব অভিযান

Update Time : ১২:০২:৪৮ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৮ অক্টোবর ২০২৬

গাজীপুরের টঙ্গীতে ছিনতাই ও মাদকসংক্রান্ত অপরাধ ঠেকাতে নিজেদের উদ্যোগে মাঠে নেমেছেন একদল তরুণ। ‘বাংলাদেশ ইয়ুথ রেভল্যুশন’ নামে একটি সংগঠনের সদস্যরা নির্দিষ্ট পোশাক পরে এলাকায় টহল দেওয়ার পাশাপাশি সন্দেহভাজন ব্যক্তিদের আটক করে পুলিশের কাছে হস্তান্তর করছেন।

সংগঠনটির কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক ফাহাদ ইসলামের দাবি, টঙ্গী এলাকায় তাদের প্রায় ২৫০ সদস্য সক্রিয় রয়েছেন। পাশাপাশি সংগঠনের সঙ্গে যুক্ত হতে আরও প্রায় ৭০০টি জীবনবৃত্তান্ত জমা পড়েছে। তাদের ভাষ্য অনুযায়ী, ছিনতাই, মাদক সেবন ও মাদক ব্যবসার সঙ্গে জড়িত সন্দেহভাজনদের ধরে পুলিশের কাছে দেওয়া হচ্ছে।

সংগঠনটির সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের পাতায় বিভিন্ন অভিযানের ভিডিওও প্রকাশ করা হয়। এসব ভিডিওতে সদস্যদের লাঠিসোঁটা হাতে এবং নির্দিষ্ট পোশাকে দেখা যায়। তবে সন্দেহভাজনদের আটকের সময় মারধর বা অপমানজনক আচরণের অভিযোগও উঠেছে।

সংগঠনটির উদ্যোক্তারা জানিয়েছেন, ২০২৫ সালের ১৬ ডিসেম্বর ‘বাংলাদেশ ইয়ুথ রেভল্যুশন’ যাত্রা শুরু করে। তাদের দাবি, এরপর প্রায় ২৫০ জন ছিনতাইকারী ও মাদক ব্যবসায়ীকে আটক করে পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।

সংগঠনের কেন্দ্রীয় মুখ্য সংগঠক সবুজ উদ্দিন ইকবাল বলেন, বিভিন্ন সূত্রের মাধ্যমে অপরাধের তথ্য পাওয়ার পর তারা অভিযান পরিচালনা করেন। পুলিশের সঙ্গে তাদের যোগাযোগ রয়েছে বলেও তিনি দাবি করেন।

তবে অপরাধ দমনে এ ধরনের বেসরকারি উদ্যোগ নিয়ে আইনশৃঙ্খলা বিশেষজ্ঞদের মধ্যে উদ্বেগ রয়েছে। অপরাধী শনাক্ত ও আটকের ক্ষমতা আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর। ফলে সাধারণ মানুষকে সহযোগিতার ভূমিকায় রেখে আইন নিজের হাতে তুলে না নেওয়ার বিষয়ে সতর্ক থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, টঙ্গীর কয়েকটি এলাকায় সন্ধ্যার পর ছিনতাইয়ের ঘটনা বেশি ঘটে। স্টেশন রোড, হোসেন মার্কেট, কলেজ গেট, আবদুল্লাহপুর বাসস্ট্যান্ড, সাতাইশ, কেরানীরটেক ও হাজী মাজার বস্তি এলাকায় ছিনতাইকারীদের তৎপরতার কথা জানিয়েছেন তারা।

এদিকে টঙ্গী পূর্ব ও পশ্চিম থানার পুলিশের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, ছিনতাই ও মাদকসহ বিভিন্ন অপরাধ নিয়ন্ত্রণে নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশের পাশাপাশি সাধারণ মানুষের সহযোগিতাও প্রয়োজন বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।

আরও পড়ুনঃ  ময়লার ভাগাড়ে ‘টাকার বস্তা’, কুড়িয়ে নিলেন স্থানীয়রা

অপরাধ দমনে তরুণদের সচেতনতা ও সহযোগিতা গুরুত্বপূর্ণ হলেও আইন হাতে তুলে নেওয়ার সুযোগ না দেওয়ার ওপর জোর দিয়েছেন অপরাধবিজ্ঞান সংশ্লিষ্টরা।