Dhaka ০৯:১৩ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ০৮ অক্টোবর ২০২৬, ২৩ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম :
সিলেটে দুর্গাপূজায় আতশবাজি নিষেধ, গুজব ছড়ালে আইনি ব্যবস্থা ৩৩ কোটি টাকার আধুনিক চিকিৎসা সরঞ্জাম পাচ্ছে সুনামগঞ্জ মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল সিলেট মহানগর দায়রা জজ আদালতে নবনিযুক্ত প্রসিকিউটরদের যোগদান এক দফা দাবিতে এবার জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সামনে সিলেট ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজের শিক্ষার্থীরা আমার নোবেল পাওয়া উচিত, কিন্তু তারা দেবে কি না জানি না: ট্রাম্প বাংলাদেশে বিনিয়োগ ও সংসদীয় সম্পর্ক জোরদারে যুক্তরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি রাষ্ট্রপতির আহ্বান রেলস্টেশনে জার্মান পর্যটকের ল্যাপটপ-ক্যামেরাসহ ব্যাগ চুরি কঠিন শর্তে বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতে ৩৩০ কোটি ডলার বিদেশি ঋণ নিচ্ছে সরকার মেধাতালিকায় দ্বিতীয় হয়েও চাকরি হয়নি ক্লীন্টনের, নদীভাঙনে হারিয়েছেন স্থায়ী ঠিকানা পবিত্র রমজানকে কেন্দ্র করে ব্যবসায়ীদের কড়া বার্তা দিলেন বাণিজ্যমন্ত্রী

‘বিনামূল্যে খতনা’ কর্মসূচির পর হাসপাতালে ৫০ শিশু, ক্ষতস্থানে রক্তক্ষরণ

কক্সবাজারের টেকনাফের সেন্ট মার্টিন দ্বীপে ‘আল মোমিন সমাজকল্যাণ ফাউন্ডেশন’ এর উদ্যোগে বিনামূল্যে খতনা করানোর পর ৫০ শিশু বিভিন্ন শারীরিক সমস্যা নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে। এর মধ্যে দুজনের অবস্থা গুরুতর বলে জানিয়েছেন চিকিৎসক।

 

স্থানীয় সূত্র জানায়, রোববার দ্বীপের সেন্ট মার্টিন অবকাশ নামের এক রিসোর্টে ২১০ শিশু ও কিশোরকে খতনা করানো হয়। শিশু ও কিশোরদের বয়স ছিল ৫ থেকে ১৫ বছরের মধ্যে। মঙ্গলবার থেকেই শিশুরা অসুস্থ হতে শুরু করে। তাদের অনেকের রক্তক্ষরণসহ বিভিন্ন সমস্যা দেখা দেয়।

 

সেন্ট মার্টিন দ্বীপ হাসপাতালের উপ-সহকারী কর্মকর্তা শহীদুল ইসলাম বলেন, মঙ্গলবার ৫০ শিশু হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে আসে। তাদের কয়েকজনের ক্ষতস্থানে ইনফেকশন ও রক্তক্ষরণ ছিল। প্রাথমিক চিকিৎসার পর দুজনকে টেকনাফ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স নেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়।সেন্ট মার্টিন ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ফয়েজুল ইসলাম বলেন, ২১০ শিশুর খতনা করা হয়েছিল। দুই দিন পর কিছু শিশু বিভিন্ন সমস্যা নিয়ে হাসপাতালে যায়। শিশুদের স্বজনদের অভিযোগ, খতনার পর কয়েকজনের ক্ষতস্থানে ব্যথা, ফুলে যাওয়া ও পুঁজ দেখা দেয়। পরে কারও কারও রক্তক্ষরণ হয়।

শিশুদের অবস্থা জানতে বুধবার (৭ অক্টোবর) সকাল আটটার দিকে টেকনাফ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স থেকে চিকিৎসক নওশাদ আলমের নেতৃত্বে তিন সদস্যের একটি মেডিক্যাল টিম সেন্ট মার্টিনের উদ্দেশে রওনা হয়। দুপুরে তারা দ্বীপে পৌঁছে শিশুদের চিকিৎসা ও পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করেন।

 

টেকনাফ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের চিকিৎসা কর্মকর্তা এনামুল হক বলেন, খতনা কর্মসূচির বিষয়ে তাদের আগে থেকে জানানো হয়নি। এ কর্মসূচির ৫০ শিশু চিকিৎসা নিয়েছে। তবে মূলত দুজনের ইনফেকশন হয়েছিল। তাদেরও দ্বীপে রেখেই চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে। অন্যদের সমস্যাগুলো স্বাভাবিক ধরনের। খতনার পর এ ধরনের কিছু সমস্যা হতে পারে। এরপরও পরিস্থিতি দেখতে তিন সদস্যের একটি মেডিকেল টিম সেন্ট মার্টিনে পাঠানো হয়েছে।

 

আরও পড়ুনঃ  আগামী ৫ দিন বজ্রসহ বৃষ্টির পূর্বাভাস

টেকনাফ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ইউএনও এস এম অনীক চৌধুরী বলেন, বিষয়টি খোঁজ-খবর নেওয়া হচ্ছে। মেডিকেল টিমের প্রতিবেদনে কোনো গাফিলতি পাওয়া গেলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

 

খতনা কর্মসূচির বিষয়ে জানতে চেয়ে আল মোমিন সমাজকল্যাণ ফাউন্ডেশনের একাধিক ব্যক্তির সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়। তাদের মুঠোফোনে কল করা হয়। তবে তারা কেউ ফোন রিসিভ করেননি। এ কারণে তাদের বক্তব্য দেওয়া সম্ভব হয়নি।

Tag :
জনপ্রিয় পোস্ট

সিলেটে দুর্গাপূজায় আতশবাজি নিষেধ, গুজব ছড়ালে আইনি ব্যবস্থা

‘বিনামূল্যে খতনা’ কর্মসূচির পর হাসপাতালে ৫০ শিশু, ক্ষতস্থানে রক্তক্ষরণ

Update Time : ০৫:২১:০২ অপরাহ্ন, বুধবার, ৭ অক্টোবর ২০২৬

কক্সবাজারের টেকনাফের সেন্ট মার্টিন দ্বীপে ‘আল মোমিন সমাজকল্যাণ ফাউন্ডেশন’ এর উদ্যোগে বিনামূল্যে খতনা করানোর পর ৫০ শিশু বিভিন্ন শারীরিক সমস্যা নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে। এর মধ্যে দুজনের অবস্থা গুরুতর বলে জানিয়েছেন চিকিৎসক।

 

স্থানীয় সূত্র জানায়, রোববার দ্বীপের সেন্ট মার্টিন অবকাশ নামের এক রিসোর্টে ২১০ শিশু ও কিশোরকে খতনা করানো হয়। শিশু ও কিশোরদের বয়স ছিল ৫ থেকে ১৫ বছরের মধ্যে। মঙ্গলবার থেকেই শিশুরা অসুস্থ হতে শুরু করে। তাদের অনেকের রক্তক্ষরণসহ বিভিন্ন সমস্যা দেখা দেয়।

 

সেন্ট মার্টিন দ্বীপ হাসপাতালের উপ-সহকারী কর্মকর্তা শহীদুল ইসলাম বলেন, মঙ্গলবার ৫০ শিশু হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে আসে। তাদের কয়েকজনের ক্ষতস্থানে ইনফেকশন ও রক্তক্ষরণ ছিল। প্রাথমিক চিকিৎসার পর দুজনকে টেকনাফ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স নেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়।সেন্ট মার্টিন ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ফয়েজুল ইসলাম বলেন, ২১০ শিশুর খতনা করা হয়েছিল। দুই দিন পর কিছু শিশু বিভিন্ন সমস্যা নিয়ে হাসপাতালে যায়। শিশুদের স্বজনদের অভিযোগ, খতনার পর কয়েকজনের ক্ষতস্থানে ব্যথা, ফুলে যাওয়া ও পুঁজ দেখা দেয়। পরে কারও কারও রক্তক্ষরণ হয়।

শিশুদের অবস্থা জানতে বুধবার (৭ অক্টোবর) সকাল আটটার দিকে টেকনাফ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স থেকে চিকিৎসক নওশাদ আলমের নেতৃত্বে তিন সদস্যের একটি মেডিক্যাল টিম সেন্ট মার্টিনের উদ্দেশে রওনা হয়। দুপুরে তারা দ্বীপে পৌঁছে শিশুদের চিকিৎসা ও পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করেন।

 

টেকনাফ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের চিকিৎসা কর্মকর্তা এনামুল হক বলেন, খতনা কর্মসূচির বিষয়ে তাদের আগে থেকে জানানো হয়নি। এ কর্মসূচির ৫০ শিশু চিকিৎসা নিয়েছে। তবে মূলত দুজনের ইনফেকশন হয়েছিল। তাদেরও দ্বীপে রেখেই চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে। অন্যদের সমস্যাগুলো স্বাভাবিক ধরনের। খতনার পর এ ধরনের কিছু সমস্যা হতে পারে। এরপরও পরিস্থিতি দেখতে তিন সদস্যের একটি মেডিকেল টিম সেন্ট মার্টিনে পাঠানো হয়েছে।

 

আরও পড়ুনঃ  অন্তঃসত্ত্বা স্ত্রী ও ৩ বছরের মেয়েসহ জনপ্রিয় সংগীতশিল্পীকে নৃ শংসভাবে হ ত্যা

টেকনাফ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ইউএনও এস এম অনীক চৌধুরী বলেন, বিষয়টি খোঁজ-খবর নেওয়া হচ্ছে। মেডিকেল টিমের প্রতিবেদনে কোনো গাফিলতি পাওয়া গেলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

 

খতনা কর্মসূচির বিষয়ে জানতে চেয়ে আল মোমিন সমাজকল্যাণ ফাউন্ডেশনের একাধিক ব্যক্তির সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়। তাদের মুঠোফোনে কল করা হয়। তবে তারা কেউ ফোন রিসিভ করেননি। এ কারণে তাদের বক্তব্য দেওয়া সম্ভব হয়নি।