Dhaka ১২:৪১ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ০৭ অক্টোবর ২০২৬, ২১ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ভেরিফিকেশনে আটকে ছিল স্বপ্ন, শেষ পর্যন্ত শিক্ষক হলেন জাহিদ

দীর্ঘ অপেক্ষা ও অনিশ্চয়তার অবসান ঘটিয়ে সরকারি চাকরিতে যোগ দেওয়ার সুযোগ পেয়েছেন পিরোজপুরের মঠবাড়িয়ার বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন প্রার্থী মো. জাহিদ হাসান। সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক পদে চূড়ান্তভাবে নির্বাচিত হওয়ার পর ভেরিফিকেশন জটিলতায় তার নিয়োগ আটকে গিয়েছিল।

মঠবাড়িয়া উপজেলায় সহকারী শিক্ষক পদে নির্বাচিত ৮৩ জনের মধ্যে জাহিদের মেধাক্রম ছিল ৫৪তম। পাশাপাশি তিনি বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন কোটাতেও আবেদন করেছিলেন। তবে ভেরিফিকেশন শেষ হওয়ার পর নিয়োগপত্র না পাওয়ায় তার চাকরি নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়।

বিষয়টি নিয়ে বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রতিবেদন প্রকাশের পর সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নজরে আসে। পরে জাহিদের বিষয়ে পুনরায় যাচাই-বাছাই করা হয়। সেই প্রক্রিয়া শেষে তার নিয়োগের জটিলতা কেটে যায় এবং তাকে নিয়োগ দেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়।

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের মার্কেটিং বিভাগ থেকে স্নাতক ও স্নাতকোত্তর সম্পন্ন করা জাহিদ নিয়োগের খবর পেয়ে আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন। তিনি জানান, চাকরি হওয়ার পরও ভেরিফিকেশনে বাদ পড়ায় কয়েকটি দিন তাকে প্রচণ্ড দুশ্চিন্তার মধ্য দিয়ে কাটাতে হয়েছে।

জাহিদের ভাষ্য, এমন পরিস্থিতিতে তিনি নিজেকে সমাজের বোঝা মনে করে রাত জেগে চিন্তা করতেন। শেষ পর্যন্ত চাকরি ফিরে পাওয়ার খবরে তার সেই হতাশা আনন্দে পরিণত হয়েছে।

জানা গেছে, জেলা শিক্ষা অফিসের প্রকাশিত তালিকায় নিজের নাম দেখতে পান জাহিদ। খবরটি শুনে তার মা-বাবাও আনন্দে আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন।

আগামী মাসের ১ তারিখে তার কর্মস্থলে যোগ দেওয়ার কথা রয়েছে। এরপর তিনি প্রশিক্ষণে অংশ নেবেন।

জাহিদের বাবা আবু জাফর হাওলাদার বলেন, ছেলের চাকরি নিয়ে অনিশ্চয়তার সময় পুরো পরিবার ভেঙে পড়েছিল। এখন নিয়োগের খবর পাওয়ায় পরিবারের সবাই স্বস্তি পেয়েছেন।দীর্ঘ অপেক্ষা ও নানা অনিশ্চয়তা পেরিয়ে এবার নতুন পরিচয়ে কর্মজীবন শুরু করার অপেক্ষায় জাহিদ হাসান।

আরও পড়ুনঃ  দুদিন পর খাবার পেয়েছে ১৬০০ শিক্ষার্থী
Tag :
জনপ্রিয় পোস্ট

ভেরিফিকেশনে আটকে ছিল স্বপ্ন, শেষ পর্যন্ত শিক্ষক হলেন জাহিদ

Update Time : ০৭:৪৮:০৮ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬

দীর্ঘ অপেক্ষা ও অনিশ্চয়তার অবসান ঘটিয়ে সরকারি চাকরিতে যোগ দেওয়ার সুযোগ পেয়েছেন পিরোজপুরের মঠবাড়িয়ার বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন প্রার্থী মো. জাহিদ হাসান। সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক পদে চূড়ান্তভাবে নির্বাচিত হওয়ার পর ভেরিফিকেশন জটিলতায় তার নিয়োগ আটকে গিয়েছিল।

মঠবাড়িয়া উপজেলায় সহকারী শিক্ষক পদে নির্বাচিত ৮৩ জনের মধ্যে জাহিদের মেধাক্রম ছিল ৫৪তম। পাশাপাশি তিনি বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন কোটাতেও আবেদন করেছিলেন। তবে ভেরিফিকেশন শেষ হওয়ার পর নিয়োগপত্র না পাওয়ায় তার চাকরি নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়।

বিষয়টি নিয়ে বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রতিবেদন প্রকাশের পর সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নজরে আসে। পরে জাহিদের বিষয়ে পুনরায় যাচাই-বাছাই করা হয়। সেই প্রক্রিয়া শেষে তার নিয়োগের জটিলতা কেটে যায় এবং তাকে নিয়োগ দেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়।

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের মার্কেটিং বিভাগ থেকে স্নাতক ও স্নাতকোত্তর সম্পন্ন করা জাহিদ নিয়োগের খবর পেয়ে আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন। তিনি জানান, চাকরি হওয়ার পরও ভেরিফিকেশনে বাদ পড়ায় কয়েকটি দিন তাকে প্রচণ্ড দুশ্চিন্তার মধ্য দিয়ে কাটাতে হয়েছে।

জাহিদের ভাষ্য, এমন পরিস্থিতিতে তিনি নিজেকে সমাজের বোঝা মনে করে রাত জেগে চিন্তা করতেন। শেষ পর্যন্ত চাকরি ফিরে পাওয়ার খবরে তার সেই হতাশা আনন্দে পরিণত হয়েছে।

জানা গেছে, জেলা শিক্ষা অফিসের প্রকাশিত তালিকায় নিজের নাম দেখতে পান জাহিদ। খবরটি শুনে তার মা-বাবাও আনন্দে আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন।

আগামী মাসের ১ তারিখে তার কর্মস্থলে যোগ দেওয়ার কথা রয়েছে। এরপর তিনি প্রশিক্ষণে অংশ নেবেন।

জাহিদের বাবা আবু জাফর হাওলাদার বলেন, ছেলের চাকরি নিয়ে অনিশ্চয়তার সময় পুরো পরিবার ভেঙে পড়েছিল। এখন নিয়োগের খবর পাওয়ায় পরিবারের সবাই স্বস্তি পেয়েছেন।দীর্ঘ অপেক্ষা ও নানা অনিশ্চয়তা পেরিয়ে এবার নতুন পরিচয়ে কর্মজীবন শুরু করার অপেক্ষায় জাহিদ হাসান।

আরও পড়ুনঃ  জামায়াতের প্রতিনিধি দল সিইসির সঙ্গে বৈঠকে