Dhaka ০২:৫৭ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৮ অক্টোবর ২০২৬, ৩ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

রাস্তার কাজে ‘নয়-ছয়’, চার লাখ টাকা ইউপি সদস্যের পকেটে!

পাবনার সাঁথিয়ায় গ্রামীণ অবকাঠামো উন্নয়ন প্রকল্পের কোনো কাজ না করেই বরাদ্দকৃত চার লাখ টাকা তুলে নেওয়ার মারাত্মক অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় এক ইউপি সদস্যের বিরুদ্ধে। প্রকল্প বাস্তবায়নে চরম অনিয়ম সত্ত্বেও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের তদারকি নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।

তবে দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তারা দাবি করছেন, পুরো কাজ পরিদর্শন করেই বিল প্রদান করা হয়েছে।

প্রাপ্ত অভিযোগে জানা যায়, ২০২৫-২৬ অর্থবছরের গ্রামীণ অবকাঠামো উন্নয়ন (টিআর-কাবিখা) প্রকল্পের আওতায় উপজেলার ক্ষেতুপাড়া ইউনিয়নের ১ নম্বর ওয়ার্ডের রসুলপুর গ্রামের জয়নালের বাড়ি থেকে রিপনের বাড়ির অভিমুখী রাস্তা এইচবিবি (হেরিং বোন বন্ড) করণের জন্য ৪ লাখ টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়।

তবে অভিযোগ রয়েছে, উক্ত সড়কে কোনো প্রকার কাজ না করেই বরাদ্দের সম্পূর্ণ অর্থ তুলে নিয়েছেন ১ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য ও প্রকল্প বাস্তবায়ন কমিটির (পিআইসি) সভাপতি বেলাল হোসেন। আর এই অর্থ আত্মসাতে উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা (পিআইও) মুলতান হোসেন, ইউনিয়ন পরিষদের সচিবসহ সংশ্লিষ্টরা প্রত্যক্ষ সহযোগিতা করেছেন বলে জানা গেছে।সরেজমিনে রসুলপুর গ্রামে গিয়ে দেখা যায়, প্রকল্পভুক্ত সড়কে বর্তমানে যে এইচবিবি রাস্তাটি রয়েছে, তা প্রায় ৪-৫ বছর আগে বিগত সরকারের আমলে সাবেক চেয়ারম্যান পিঞ্চুর মেয়াদে তৈরি করা। নতুন করে সেখানে কোনো কাজের চিহ্ন মেলেনি।

যাদের বাড়ির নাম উল্লেখ করে প্রকল্প গ্রহণ করা হয়েছে, সেই বাসিন্দারাও দীর্ঘ দিন কোনো কাজ না হওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

স্থানীয় বাসিন্দা জয়নাল হোসেন বলেন, আমার বাড়ি থেকে রিপনের বাড়ি পর্যন্ত রাস্তার কাজ পাঁচ বছর আগে হয়েছিল। এরপর আর নতুন করে কোনো কাজ করা হয়নি।

একই এলাকার বাসিন্দা রিপনের স্ত্রী সরস্বতী রায় বলেন, জয়নালের বাড়ি থেকে আমাদের রায়বাড়ির সামনে দিয়ে শ্মশানঘাট পর্যন্ত রাস্তার কাজ ৫-৬ বছর আগে করা হয়েছে। তারপর আর কোনো কাজ হয়নি।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা (পিআইও) মুলতান হোসেন বলেন, কাজটি সরেজমিনে গিয়ে দেখতে হবে। দেখার পরেই বলতে পারব কাজ হয়েছে কিনা।

আরও পড়ুনঃ  আবুধাবিতে সড়কে প্রাণ গেল প্রবাসী মা-ছেলের, বাবা হাসপাতালে

বিষয়টি নিয়ে সাঁথিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সেলিম আহমেদ জানান, আমি সম্প্রতি দায়িত্ব গ্রহণ করেছি। আগে সরেজমিনে রাস্তাটি পরিদর্শন করি, তারপর প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করব।

এদিকে স্থানীয় বাসিন্দারা ক্ষোভ প্রকাশ করে জানিয়েছেন, গ্রামীণ অবকাঠামো উন্নয়ন প্রকল্পের বরাদ্দ নিয়ে অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা মুলতান হোসেনের বিরুদ্ধে দীর্ঘদিনের। তারা এ ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও বিচার দাবি করেছেন।

Tag :
জনপ্রিয় পোস্ট

রাস্তার কাজে ‘নয়-ছয়’, চার লাখ টাকা ইউপি সদস্যের পকেটে!

Update Time : ১২:১০:২০ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৮ অক্টোবর ২০২৬

পাবনার সাঁথিয়ায় গ্রামীণ অবকাঠামো উন্নয়ন প্রকল্পের কোনো কাজ না করেই বরাদ্দকৃত চার লাখ টাকা তুলে নেওয়ার মারাত্মক অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় এক ইউপি সদস্যের বিরুদ্ধে। প্রকল্প বাস্তবায়নে চরম অনিয়ম সত্ত্বেও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের তদারকি নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।

তবে দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তারা দাবি করছেন, পুরো কাজ পরিদর্শন করেই বিল প্রদান করা হয়েছে।

প্রাপ্ত অভিযোগে জানা যায়, ২০২৫-২৬ অর্থবছরের গ্রামীণ অবকাঠামো উন্নয়ন (টিআর-কাবিখা) প্রকল্পের আওতায় উপজেলার ক্ষেতুপাড়া ইউনিয়নের ১ নম্বর ওয়ার্ডের রসুলপুর গ্রামের জয়নালের বাড়ি থেকে রিপনের বাড়ির অভিমুখী রাস্তা এইচবিবি (হেরিং বোন বন্ড) করণের জন্য ৪ লাখ টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়।

তবে অভিযোগ রয়েছে, উক্ত সড়কে কোনো প্রকার কাজ না করেই বরাদ্দের সম্পূর্ণ অর্থ তুলে নিয়েছেন ১ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য ও প্রকল্প বাস্তবায়ন কমিটির (পিআইসি) সভাপতি বেলাল হোসেন। আর এই অর্থ আত্মসাতে উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা (পিআইও) মুলতান হোসেন, ইউনিয়ন পরিষদের সচিবসহ সংশ্লিষ্টরা প্রত্যক্ষ সহযোগিতা করেছেন বলে জানা গেছে।সরেজমিনে রসুলপুর গ্রামে গিয়ে দেখা যায়, প্রকল্পভুক্ত সড়কে বর্তমানে যে এইচবিবি রাস্তাটি রয়েছে, তা প্রায় ৪-৫ বছর আগে বিগত সরকারের আমলে সাবেক চেয়ারম্যান পিঞ্চুর মেয়াদে তৈরি করা। নতুন করে সেখানে কোনো কাজের চিহ্ন মেলেনি।

যাদের বাড়ির নাম উল্লেখ করে প্রকল্প গ্রহণ করা হয়েছে, সেই বাসিন্দারাও দীর্ঘ দিন কোনো কাজ না হওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

স্থানীয় বাসিন্দা জয়নাল হোসেন বলেন, আমার বাড়ি থেকে রিপনের বাড়ি পর্যন্ত রাস্তার কাজ পাঁচ বছর আগে হয়েছিল। এরপর আর নতুন করে কোনো কাজ করা হয়নি।

একই এলাকার বাসিন্দা রিপনের স্ত্রী সরস্বতী রায় বলেন, জয়নালের বাড়ি থেকে আমাদের রায়বাড়ির সামনে দিয়ে শ্মশানঘাট পর্যন্ত রাস্তার কাজ ৫-৬ বছর আগে করা হয়েছে। তারপর আর কোনো কাজ হয়নি।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা (পিআইও) মুলতান হোসেন বলেন, কাজটি সরেজমিনে গিয়ে দেখতে হবে। দেখার পরেই বলতে পারব কাজ হয়েছে কিনা।

আরও পড়ুনঃ  মোহাম্মদপুরে সড়ক অবরোধ, অফিসগামী মানুষের চরম ভোগান্তি

বিষয়টি নিয়ে সাঁথিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সেলিম আহমেদ জানান, আমি সম্প্রতি দায়িত্ব গ্রহণ করেছি। আগে সরেজমিনে রাস্তাটি পরিদর্শন করি, তারপর প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করব।

এদিকে স্থানীয় বাসিন্দারা ক্ষোভ প্রকাশ করে জানিয়েছেন, গ্রামীণ অবকাঠামো উন্নয়ন প্রকল্পের বরাদ্দ নিয়ে অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা মুলতান হোসেনের বিরুদ্ধে দীর্ঘদিনের। তারা এ ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও বিচার দাবি করেছেন।