Dhaka ০৩:২৮ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ০৮ অক্টোবর ২০২৬, ২৩ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম :
সারা দেশে হামের প্রকোপ, সিলেটে আরও দুই শিশুর মৃত্যু প্রবাস থেকে ফিরলেন, তবে জীবিত নয়—কফিনবন্দি হয়ে; কান্নায় ভেঙে পড়ল দুই পরিবার নিজের স্ত্রীকে রেখে অন্যের স্ত্রীকে নিয়ে পালালেন ইমাম সাহেব শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে চট্টগ্রামে মামলা প্রত্যাহার করলেন বাদী হেঁটে ছয় তলায় ওঠানোয় ক্ষোভ, হাতকড়া সামনে পরানোর আর্জি পলকের যুক্তরাষ্ট্রে বিদেশি শিক্ষার্থীদের জন্য বড় দুঃসংবাদ সাংবাদিককে চট্টগ্রামের শীর্ষ সন্ত্রাসী বগার হুমকি, সিটিআরএনের নিন্দা সিজারের পর পেটে গজ রেখে সেলাই, ছয় মাস পর নার্সের মৃত্যু রামেবি উপাচার্যকে পদত্যাগে বাধ্য করার ঘটনায় আরও ২ জন গ্রেপ্তার নেকাব পরা ছাত্রীকে কটাক্ষের অভিযোগ, ঢাবির শিক্ষককে ক্লাস থেকে অব্যাহতি

সিজারের পর পেটে গজ রেখে সেলাই, ছয় মাস পর নার্সের মৃত্যু

রাজবাড়ীর গোয়ালন্দে সিজারিয়ান অস্ত্রোপচারের পর পেটের ভেতরে গজ রেখে সেলাই করে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে এক নার্সের মৃত্যুকে ঘিরে। বিথী আক্তার (২৫) নামে ওই নারী বৃহস্পতিবার (৮ অক্টোবর) সকালে ঢাকার একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা গেছেন।

বিথী আক্তার গোয়ালন্দ উপজেলার উজানচর ইউনিয়নের তমিজ উদ্দিন মৃধার পাড়ার বাসিন্দা ছিলেন। তিনি পেশায় একজন ডিপ্লোমা মিডওয়াইফ নার্স। মৃত্যুর বিষয়টি তার স্বামী রাকিবুল ইসলাম নিশ্চিত করেছেন।

পরিবারের অভিযোগ, চলতি বছরের ৬ মে ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে বিথীর সিজারিয়ান অস্ত্রোপচার করা হয়। অস্ত্রোপচারের সময় চিকিৎসকদের অবহেলার কারণে তার পেটের ভেতরে গজ থেকে যায়। পরে সেটি বের না করেই অস্ত্রোপচারের স্থান সেলাই করে দেওয়া হয় বলে পরিবারের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে।

অস্ত্রোপচারের পর থেকেই বিথী শারীরিকভাবে অসুস্থ হয়ে পড়েন। পেটে ব্যথাসহ নানা ধরনের জটিলতা দেখা দিতে থাকে। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে তার শারীরিক অবস্থার আরও অবনতি হয়।

পরবর্তীতে চিকিৎসার জন্য তাকে বিভিন্ন হাসপাতালে নেওয়া হয়। একপর্যায়ে অস্ত্রোপচারের পর পেটের ভেতরে থাকা গজের বিষয়টি সামনে আসে বলে পরিবারের সদস্যরা জানান। এরপর তার শরীরে একাধিক জটিলতা দেখা দেয় এবং পুনরায় অস্ত্রোপচার করাতে হয়।

অসুস্থতার একপর্যায়ে বিথীর অন্ত্রে গুরুতর সমস্যা দেখা দেয়। শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে তাকে নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে চিকিৎসা দেওয়া হয়। পরবর্তীতে তার চিকিৎসায় আরও জটিল পদ্ধতি অনুসরণ করতে হয়।

পরিবারের সদস্যরা জানান, দীর্ঘদিন অসুস্থ থাকার কারণে বিথীর শারীরিক অবস্থা ক্রমেই দুর্বল হয়ে পড়ে। একসময় তার ওজন প্রায় ৬১ কেজি থাকলেও অসুস্থতার শেষ পর্যায়ে তা কমে প্রায় ৩৮ কেজিতে নেমে আসে।

বিথীর একটি ছোট সন্তান রয়েছে। গুরুতর অসুস্থতার কারণে শেষ কয়েক মাসে তিনি স্বাভাবিকভাবে সন্তানের যত্ন নিতে পারেননি। এমনকি সন্তানকে কোলে নেওয়া কিংবা বুকের দুধ খাওয়ানোর মতো অবস্থাতেও ছিলেন না বলে পরিবারের সদস্যরা জানিয়েছেন।

আরও পড়ুনঃ  প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের ১৯তম কারামুক্তি দিবস আজ

দীর্ঘ প্রায় ছয় মাস চিকিৎসা নেওয়ার পর বৃহস্পতিবার সকাল সাড়ে ৮টার দিকে ঢাকার একটি হাসপাতালে বিথীর মৃত্যু হয়। তার মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়লে পরিবার ও স্বজনদের মধ্যে শোকের পরিবেশ তৈরি হয়।

ঘটনাটি নিয়ে স্থানীয় প্রশাসনের পক্ষ থেকেও দুঃখ প্রকাশ করা হয়েছে। সংশ্লিষ্ট উপজেলা প্রশাসনের একজন কর্মকর্তা জানান, বিথীর মৃত্যুর খবর পাওয়ার পর তার পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়েছে। একই সঙ্গে তার শিশুসন্তানের খোঁজও নেওয়া হয়েছে।

পরিবারের পক্ষ থেকে চিকিৎসায় অবহেলার অভিযোগ তুলে ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত এবং দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানানো হয়েছে।

তবে অস্ত্রোপচারের সময় প্রকৃতপক্ষে কী ঘটেছিল, পেটের ভেতরে গজ থাকার অভিযোগের সত্যতা কতটা এবং চিকিৎসায় কোনো ধরনের অবহেলা হয়েছিল কি না—এসব বিষয় তদন্তের মাধ্যমে নিশ্চিত হওয়ার বিষয়।

চিকিৎসকদের অবহেলার অভিযোগ প্রমাণিত হলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া উচিত বলে মনে করছেন স্থানীয়রা। একই সঙ্গে ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনা যাতে আর না ঘটে, সে জন্য অস্ত্রোপচার ও রোগীর চিকিৎসায় আরও কঠোর নজরদারি এবং জবাবদিহি নিশ্চিত করার দাবি উঠেছে।

Tag :
জনপ্রিয় পোস্ট

সারা দেশে হামের প্রকোপ, সিলেটে আরও দুই শিশুর মৃত্যু

সিজারের পর পেটে গজ রেখে সেলাই, ছয় মাস পর নার্সের মৃত্যু

Update Time : ০২:১৪:০১ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৮ অক্টোবর ২০২৬

রাজবাড়ীর গোয়ালন্দে সিজারিয়ান অস্ত্রোপচারের পর পেটের ভেতরে গজ রেখে সেলাই করে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে এক নার্সের মৃত্যুকে ঘিরে। বিথী আক্তার (২৫) নামে ওই নারী বৃহস্পতিবার (৮ অক্টোবর) সকালে ঢাকার একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা গেছেন।

বিথী আক্তার গোয়ালন্দ উপজেলার উজানচর ইউনিয়নের তমিজ উদ্দিন মৃধার পাড়ার বাসিন্দা ছিলেন। তিনি পেশায় একজন ডিপ্লোমা মিডওয়াইফ নার্স। মৃত্যুর বিষয়টি তার স্বামী রাকিবুল ইসলাম নিশ্চিত করেছেন।

পরিবারের অভিযোগ, চলতি বছরের ৬ মে ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে বিথীর সিজারিয়ান অস্ত্রোপচার করা হয়। অস্ত্রোপচারের সময় চিকিৎসকদের অবহেলার কারণে তার পেটের ভেতরে গজ থেকে যায়। পরে সেটি বের না করেই অস্ত্রোপচারের স্থান সেলাই করে দেওয়া হয় বলে পরিবারের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে।

অস্ত্রোপচারের পর থেকেই বিথী শারীরিকভাবে অসুস্থ হয়ে পড়েন। পেটে ব্যথাসহ নানা ধরনের জটিলতা দেখা দিতে থাকে। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে তার শারীরিক অবস্থার আরও অবনতি হয়।

পরবর্তীতে চিকিৎসার জন্য তাকে বিভিন্ন হাসপাতালে নেওয়া হয়। একপর্যায়ে অস্ত্রোপচারের পর পেটের ভেতরে থাকা গজের বিষয়টি সামনে আসে বলে পরিবারের সদস্যরা জানান। এরপর তার শরীরে একাধিক জটিলতা দেখা দেয় এবং পুনরায় অস্ত্রোপচার করাতে হয়।

অসুস্থতার একপর্যায়ে বিথীর অন্ত্রে গুরুতর সমস্যা দেখা দেয়। শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে তাকে নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে চিকিৎসা দেওয়া হয়। পরবর্তীতে তার চিকিৎসায় আরও জটিল পদ্ধতি অনুসরণ করতে হয়।

পরিবারের সদস্যরা জানান, দীর্ঘদিন অসুস্থ থাকার কারণে বিথীর শারীরিক অবস্থা ক্রমেই দুর্বল হয়ে পড়ে। একসময় তার ওজন প্রায় ৬১ কেজি থাকলেও অসুস্থতার শেষ পর্যায়ে তা কমে প্রায় ৩৮ কেজিতে নেমে আসে।

বিথীর একটি ছোট সন্তান রয়েছে। গুরুতর অসুস্থতার কারণে শেষ কয়েক মাসে তিনি স্বাভাবিকভাবে সন্তানের যত্ন নিতে পারেননি। এমনকি সন্তানকে কোলে নেওয়া কিংবা বুকের দুধ খাওয়ানোর মতো অবস্থাতেও ছিলেন না বলে পরিবারের সদস্যরা জানিয়েছেন।

আরও পড়ুনঃ  রমজানের শুরুতেই সারা দেশে অস্থির বাজার, ক্রেতাদের নাভিশ্বাস

দীর্ঘ প্রায় ছয় মাস চিকিৎসা নেওয়ার পর বৃহস্পতিবার সকাল সাড়ে ৮টার দিকে ঢাকার একটি হাসপাতালে বিথীর মৃত্যু হয়। তার মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়লে পরিবার ও স্বজনদের মধ্যে শোকের পরিবেশ তৈরি হয়।

ঘটনাটি নিয়ে স্থানীয় প্রশাসনের পক্ষ থেকেও দুঃখ প্রকাশ করা হয়েছে। সংশ্লিষ্ট উপজেলা প্রশাসনের একজন কর্মকর্তা জানান, বিথীর মৃত্যুর খবর পাওয়ার পর তার পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়েছে। একই সঙ্গে তার শিশুসন্তানের খোঁজও নেওয়া হয়েছে।

পরিবারের পক্ষ থেকে চিকিৎসায় অবহেলার অভিযোগ তুলে ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত এবং দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানানো হয়েছে।

তবে অস্ত্রোপচারের সময় প্রকৃতপক্ষে কী ঘটেছিল, পেটের ভেতরে গজ থাকার অভিযোগের সত্যতা কতটা এবং চিকিৎসায় কোনো ধরনের অবহেলা হয়েছিল কি না—এসব বিষয় তদন্তের মাধ্যমে নিশ্চিত হওয়ার বিষয়।

চিকিৎসকদের অবহেলার অভিযোগ প্রমাণিত হলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া উচিত বলে মনে করছেন স্থানীয়রা। একই সঙ্গে ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনা যাতে আর না ঘটে, সে জন্য অস্ত্রোপচার ও রোগীর চিকিৎসায় আরও কঠোর নজরদারি এবং জবাবদিহি নিশ্চিত করার দাবি উঠেছে।