
সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক নিয়োগের লিখিত ও মৌখিক পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়ে চূড়ান্তভাবে নির্বাচিত হওয়ার পরও সুনামগঞ্জে ১২০ প্রার্থী নিয়োগপত্র না পাওয়ায় ক্ষোভ ও অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। বিষয়টির দ্রুত সমাধান এবং নিয়োগ নিশ্চিত করার দাবিতে শনিবার জেলা প্রশাসকের বাসভবনের সামনে অবস্থান কর্মসূচি পালন করেন ভুক্তভোগী প্রার্থীরা।
জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কার্যালয় সূত্রে জানা যায়, চলতি বছরের ২ জানুয়ারি সুনামগঞ্জে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক নিয়োগ পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়। জেলার বিভিন্ন কেন্দ্রে পরীক্ষায় অংশ নেন ১৪ হাজার ৪৮৯ জন প্রার্থী। লিখিত পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হন ২ হাজার ১৫৯ জন।
পরে ২৮ জানুয়ারি থেকে ২ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত মৌখিক পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়। এতে ২ হাজার ৯৯ জন অংশ নেন। লিখিত ও মৌখিক পরীক্ষার ফলাফলের ভিত্তিতে ৬৩৭ জন প্রার্থী উত্তীর্ণ হন। তবে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র জমা না দেওয়ায় ২০ জন পরবর্তী নিয়োগ প্রক্রিয়ায় অন্তর্ভুক্ত হননি।
এরপর বাকি ৬১৭ জনের নিয়োগ প্রক্রিয়া সম্পন্ন করার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে তালিকা পাঠানো হয়। কিন্তু সর্বশেষ প্রকাশিত নিয়োগ তালিকায় ওই প্রার্থীদের মধ্যে ১২০ জনের নাম না থাকায় বিষয়টি নিয়ে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।
বাদ পড়া প্রার্থীদের অভিযোগ, তারা নিয়োগের সব ধাপ সম্পন্ন করে চূড়ান্তভাবে নির্বাচিত হওয়ার পরও শেষ মুহূর্তে তাদের নিয়োগপত্র দেওয়া হয়নি। কেন তাদের নাম বাদ দেওয়া হয়েছে, সে বিষয়ে স্পষ্ট তথ্য জানানো হয়নি বলেও দাবি করেন তারা।
এদিকে জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মোহন লাল দাস জানিয়েছেন, ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নির্দেশনা না পাওয়া পর্যন্ত ১২০ প্রার্থীর যোগদানপত্র দেওয়া হচ্ছে না। বিষয়টি নিয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের পরবর্তী সিদ্ধান্তের অপেক্ষা করা হচ্ছে।
অন্যদিকে অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) মো. মতিউর রহমান খান প্রার্থীদের সঙ্গে কথা বলেছেন। বিষয়টি জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তার সঙ্গে আলোচনা করে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেওয়া হয়েছে।
নিয়োগপত্র না পাওয়ায় ভুক্তভোগী প্রার্থীদের মধ্যে উদ্বেগ ও হতাশা দেখা দিয়েছে। তারা দ্রুত যাচাই-বাছাইয়ের বিষয়টি পরিষ্কার করে যোগদানের সুযোগ দেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।
তবে ১২০ প্রার্থীর নাম বাদ দেওয়ার সুনির্দিষ্ট কারণ এবং পরবর্তী সিদ্ধান্ত সম্পর্কে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের আনুষ্ঠানিক ব্যাখ্যার অপেক্ষা রয়েছে।
সুনামগঞ্জ প্রতিনিধি 



















