সিলেটের ওসমানীনগরে সিএনজিচালিত অটোরিকশা ও তেলবাহী ট্রাকের মুখোমুখি সংঘর্ষে হতাহতের ঘটনা ঘটেছে। শনিবার (২২ আগস্ট) দুপুর আড়াইটার দিকে ঢাকা-সিলেট মহাসড়কের ব্রাহ্মণগ্রাম (কসরতল) এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় অন্তত একজন নিহতের বিষয়টি স্থানীয়ভাবে নিশ্চিত হওয়া গেছে। তবে পুলিশের পক্ষ থেকে দুজনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেলেও তাৎক্ষণিকভাবে তা নিশ্চিত করা যায়নি।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, শনিবার দুপুরের দিকে সিলেট থেকে ঢাকাগামী একটি তেলবাহী ট্রাক ব্রাহ্মণগ্রাম (কসরতল) এলাকায় পৌঁছালে বিপরীত দিক থেকে আসা যাত্রীবাহী একটি সিএনজিচালিত অটোরিকশার সঙ্গে মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়। সংঘর্ষের সময় অটোরিকশাটি ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয় এবং এতে থাকা যাত্রীরা গুরুতর আহত হন।
দুর্ঘটনার পরপরই স্থানীয় লোকজন ঘটনাস্থলে ছুটে যান। তারা আহতদের উদ্ধার করে দ্রুত সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানোর ব্যবস্থা করেন। স্থানীয়দের সহযোগিতায় আহতদের কয়েকজনকে দ্রুত হাসপাতালে নেওয়া হয়।
ঘটনাস্থল থেকে সিলেটটুডের ওসমানীনগর প্রতিনিধি জুবেল আহমদ সেকেল একজন নিহতের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তবে নিহত ব্যক্তির পরিচয় তাৎক্ষণিকভাবে জানা যায়নি।
এদিকে দুর্ঘটনায় আহতের সংখ্যা নিয়েও প্রাথমিকভাবে কিছুটা ভিন্ন তথ্য পাওয়া গেছে। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সিএনজিতে থাকা অন্তত পাঁচজন গুরুতর আহত হয়েছেন। তাদের উদ্ধার করে হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।
ওসমানীনগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) গোলাম মোস্তফা এবং হাইওয়ে পুলিশের শেরপুর থানার ওসি আনিসুর রহমান শনিবার বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে জানান, দুর্ঘটনার পর গুরুতর আহত অবস্থায় পাঁচ থেকে ছয়জনকে হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। তাদের মধ্যে দুজন মারা গেছেন বলে তারা শুনেছেন। তবে তখনও মৃত্যুর বিষয়টি আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত করা সম্ভব হয়নি।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রের তথ্যের মধ্যে এই পার্থক্যের কারণে দুর্ঘটনায় প্রকৃত নিহতের সংখ্যা নিয়ে ধোঁয়াশা তৈরি হয়েছে। হাসপাতালে নেওয়ার পর আহতদের মধ্যে কেউ মারা গেছেন কি না, সে বিষয়ে সংশ্লিষ্ট হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের নিশ্চিত তথ্য পাওয়া গেলে নিহতের সংখ্যা স্পষ্ট হবে।
দুর্ঘটনাকবলিত যানবাহন
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, দুর্ঘটনায় জড়িত তেলবাহী ট্রাকটির নম্বর ঢাকা মেট্রো-ঢ ৪৪-০৬৫৪। ট্রাকটি সিলেট থেকে ঢাকার দিকে যাচ্ছিল।
অন্যদিকে যাত্রীবাহী সিএনজিচালিত অটোরিকশাটির নম্বর মৌলভীবাজার-থ ১১-৮৩৫৩। এটি বিপরীত দিক থেকে এসে তেলবাহী ট্রাকটির সঙ্গে মুখোমুখি সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে।
মুখোমুখি সংঘর্ষের কারণে সিএনজিচালিত অটোরিকশাটি গুরুতরভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। এতে থাকা যাত্রীদের বেশ কয়েকজন গুরুতর আহত হন। দুর্ঘটনার পর মহাসড়কের ওই অংশে কিছু সময়ের জন্য যান চলাচলও ব্যাহত হয়।
ঘটনাস্থলে পুলিশ
দুর্ঘটনার খবর পেয়ে পুলিশ ও সংশ্লিষ্ট আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা ঘটনাস্থলে পৌঁছান। তারা দুর্ঘটনাকবলিত যানবাহনগুলো সরানোর উদ্যোগ নেন এবং মহাসড়কে যান চলাচল স্বাভাবিক করার চেষ্টা করেন।
স্থানীয়রা জানান, ঢাকা-সিলেট মহাসড়কের ওসমানীনগর অংশে যানবাহনের চাপ ও অতিরিক্ত গতির কারণে প্রায়ই দুর্ঘটনার ঝুঁকি তৈরি হয়। বিশেষ করে মহাসড়কের বিভিন্ন স্থানে ছোট যানবাহন ও ভারী যানবাহনের পাশাপাশি চলাচলের কারণে দুর্ঘটনার আশঙ্কা থাকে।
আগের দুর্ঘটনায় নিহত ৯
ওসমানীনগরে এবারের দুর্ঘটনার আগে মাত্র কয়েক দিন আগেই একই মহাসড়কে ভয়াবহ দুর্ঘটনায় প্রাণহানি ঘটে।
গত ৭ আগস্ট শুক্রবার সকালে সিলেট-ঢাকা মহাসড়কের ওসমানীনগর এলাকায় ইউনিক পরিবহন ও বেঙ্গল পরিবহনের দুটি বাসের মধ্যে মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়। ভয়াবহ ওই দুর্ঘটনায় ৯ জন নিহত হন এবং বেশ কয়েকজন আহত হন।
ওই দুর্ঘটনার রেশ কাটতে না কাটতেই আবারও একই এলাকায় সড়ক দুর্ঘটনায় হতাহতের ঘটনায় স্থানীয়দের মধ্যে উদ্বেগ ও ক্ষোভ দেখা দিয়েছে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, ঢাকা-সিলেট মহাসড়কের ওসমানীনগর অংশে দুর্ঘটনা কমাতে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া প্রয়োজন। মহাসড়কে যানবাহনের গতি নিয়ন্ত্রণ, ঝুঁকিপূর্ণ এলাকাগুলো চিহ্নিত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ, নিয়মিত নজরদারি এবং চালকদের সচেতনতা বাড়ানোর দাবি জানিয়েছেন তারা।
বাড়ছে দুর্ঘটনার শঙ্কা
স্থানীয় বাসিন্দাদের মতে, মহাসড়কে দূরপাল্লার বাস, ট্রাক, কাভার্ডভ্যানসহ ভারী যানবাহনের পাশাপাশি সিএনজি, অটোরিকশা ও অন্যান্য ছোট যানবাহন চলাচল করে। ফলে অনেক সময় ছোট যানবাহনগুলো ভারী যানবাহনের সামনে ঝুঁকির মধ্যে পড়ে।
এ ছাড়া অতিরিক্ত গতি, বেপরোয়া ওভারটেকিং, চালকদের অসতর্কতা এবং মহাসড়কে যানবাহনের মধ্যে পর্যাপ্ত দূরত্ব না রাখার কারণেও দুর্ঘটনার ঝুঁকি বাড়ছে বলে মনে করছেন স্থানীয়রা।
তাদের দাবি, শুধু দুর্ঘটনার পর উদ্ধার অভিযান পরিচালনা করলেই হবে না; দুর্ঘটনা প্রতিরোধে আগাম ব্যবস্থা নিতে হবে। ঝুঁকিপূর্ণ স্থানগুলোতে সতর্কতামূলক সাইনবোর্ড, পর্যাপ্ত সড়কবাতি, ট্রাফিক নজরদারি এবং নিয়মিত ভ্রাম্যমাণ অভিযান পরিচালনা করা প্রয়োজন।
নিহতের পরিচয় জানা যায়নি
দুর্ঘটনায় নিহত ব্যক্তির পরিচয় তাৎক্ষণিকভাবে জানা যায়নি। আহতদের মধ্যে কারও অবস্থা আশঙ্কাজনক কি না, সে বিষয়েও বিস্তারিত তথ্য পাওয়া যায়নি।
পুলিশ জানিয়েছে, দুর্ঘটনার কারণ খতিয়ে দেখা হচ্ছে। একই সঙ্গে নিহত ও আহতদের পরিচয় নিশ্চিত করার চেষ্টা চলছে।
হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আহতদের অবস্থা এবং নিহতের প্রকৃত সংখ্যা সম্পর্কে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে নিশ্চিত তথ্য পাওয়ার পর বিস্তারিত জানা যাবে।
নিরাপদ সড়কের দাবি
একই এলাকায় অল্প সময়ের ব্যবধানে দুটি বড় দুর্ঘটনায় প্রাণহানির ঘটনায় সড়ক নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে। স্থানীয়দের দাবি, ঢাকা-সিলেট মহাসড়কের ওসমানীনগর অংশে দুর্ঘটনা রোধে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে।
বিশেষ করে মহাসড়কে ভারী যানবাহনের গতি নিয়ন্ত্রণ, চালকদের লাইসেন্স ও ফিটনেস যাচাই, ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় নজরদারি বৃদ্ধি এবং ছোট যানবাহনের নিরাপদ চলাচল নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন তারা।
স্থানীয়দের প্রত্যাশা, সাম্প্রতিক দুর্ঘটনাগুলো থেকে শিক্ষা নিয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবে। একই সঙ্গে সড়ক ব্যবহারকারী চালক ও যাত্রীদেরও ট্রাফিক আইন মেনে চলার আহ্বান জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।
দুর্ঘটনায় নিহতের প্রকৃত সংখ্যা, নিহতদের পরিচয় এবং আহতদের বর্তমান অবস্থা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের চূড়ান্ত নিশ্চিতকরণের পর পরিবর্তিত হতে পারে।
সিলেট প্রতিনিধি 



















