Dhaka ০৮:৪০ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৭ অগাস্ট ২০২৬, ১২ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম :
নিহত ৫ প্রবাসীর পরিবারের পাশে সরকার,চেক তুলে দিলেন মন্ত্রী আরিফুল ইসলাম সুকেশ বিতর্কের কথা বলতে গিয়ে কাঁদলেন নোরা ফাতেহি সিলেটে বাড়ছে কিশোর গ্যাংয়ের দাপট, সক্রিয় ১৫ গ্রুপ ১৪১ কোটি টাকা পাচারের অভিযোগ, দুদকের মামলায় সাবেক মন্ত্রী সাইফুজ্জামান ও তাঁর স্ত্রীসহ আসামি ২৯ কুপিয়ে তরুণীর হাত বিচ্ছিন্ন করলো প্রেমিক, বাঁচাতে গিয়ে আহত বাবা-মা ইয়াবাসহ গ্রেপ্তার দুই নারী ইউপি সদস্য ঋণের বোঝা মাথায় নিয়ে আমেরিকা, বন্দুকের গুলিতে শেষ সব স্বপ্ন সাংবাদিকদের মারধর করে হুমকি, ‘তোমরা লেখবা, আর আমরা তোমাদের পিটাবো’ ইউরোপ পাঠানোর নামে ৭ কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগ, ভুক্তভোগীদের হাতে আটক ইমন সিলেটে ২৪ ঘণ্টায় হামের সন্দেহে হাসপাতালে ১২৬, মৃত্যু ১

ইলিয়াস আলী গুমের মামলায় বিমানবাহিনীর উইং কমান্ডার সাইফুর ট্রাইব্যুনালে

বিএনপির সিলেট জেলা শাখার সাবেক সভাপতি এম. ইলিয়াস আলীকে গুমের অভিযোগে করা মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় বিমানবাহিনীর উইং কমান্ডার সাইফুর রহমানকে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে হাজির করা হয়েছে।

রোববার সকালে একটি মাইক্রোবাসে করে সাইফুর রহমানকে ট্রাইব্যুনালে আনা হয়। পরে তাঁকে ট্রাইব্যুনালের হাজতখানায় রাখা হয়।

রাষ্ট্রপক্ষের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে গত ৯ আগস্ট ট্রাইব্যুনাল-১ সাইফুর রহমানের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেন। ওই পরোয়ানার ভিত্তিতেই তাঁকে ট্রাইব্যুনালে হাজির করা হয়েছে।

শতাধিক গুম ও খুনের ঘটনায় মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় গত ২১ জুন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে সেনাবাহিনীর ওয়ারেন্ট অফিসার ইমরুল কায়েসের দেওয়া জবানবন্দিতে ইলিয়াস আলীকে গুমের ঘটনায় সাইফুর রহমানের নাম আসে।

এরপর গত ২৬ জুলাই রাতে বিশেষ সামরিক পুলিশ শাখা (প্রভোস্ট) সাইফুর রহমানকে তাঁর বাসা থেকে আটক করে বাহিনীর বিশেষ সেলে হেফাজতে রাখে।

২০১২ সালের ১৭ এপ্রিল গভীর রাতে রাজধানীর বনানী এলাকা থেকে বিএনপির তৎকালীন সাংগঠনিক সম্পাদক এম. ইলিয়াস আলী ও তাঁর গাড়িচালককে তুলে নেওয়া হয়। এরপর তাঁদের আর কোনো সন্ধান পাওয়া যায়নি।

বিএনপির অভিযোগ, তৎকালীন সরকারের সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের নির্দেশেই ইলিয়াস আলীকে গুম করা হয়েছিল। ট্রাইব্যুনালের প্রসিকিউশনের ভাষ্য অনুযায়ী, এ ঘটনায় র‌্যাবের গোয়েন্দা শাখার সংশ্লিষ্টতার অভিযোগও রয়েছে।

ইলিয়াস আলী নিখোঁজ হওয়ার সময় বিমানবাহিনীর তৎকালীন স্কোয়াড্রন লিডার সাইফুর রহমান র‌্যাবের গোয়েন্দা শাখায় কর্মরত ছিলেন। সর্বশেষ তিনি বিমান সদর দপ্তরের ডিরেক্টরেট অব এয়ার ট্রেনিংয়ের ডেপুটি ডিরেক্টর হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।

ট্রাইব্যুনালের প্রধান কৌঁসুলি মো. আমিনুল ইসলাম গত ৯ আগস্ট বলেন, প্রাথমিক তদন্ত ও সাক্ষীদের জবানবন্দিতে ইলিয়াস আলীকে অপহরণের ঘটনায় উইং কমান্ডার সাইফুর রহমানের সরাসরি সম্পৃক্ততার প্রমাণ পাওয়া গেছে বলে তারা মনে করছেন।

ইলিয়াস আলী গুমের ঘটনায় অবসরপ্রাপ্ত লেফটেন্যান্ট জেনারেল শেখ মামুন খালেদসহ সংশ্লিষ্ট অন্যদের ভূমিকা নিয়েও তদন্ত অব্যাহত থাকবে বলে জানিয়েছে রাষ্ট্রপক্ষ।

আরও পড়ুনঃ  পুলিশ কোনো রাজনৈতিক দলের নিয়ন্ত্রণে পরিচালিত বাহিনী নয়: স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা

দীর্ঘদিন ধরে ইলিয়াস আলীর নিখোঁজের ঘটনায় তাঁর পরিবার ও বিএনপি তদন্ত এবং তাঁর সন্ধানের দাবি জানিয়ে আসছে। আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে সাইফুর রহমানকে হাজির করার মধ্য দিয়ে এ ঘটনায় বিচারিক প্রক্রিয়া নতুন পর্যায়ে প্রবেশ করল।

Tag :
জনপ্রিয় পোস্ট

নিহত ৫ প্রবাসীর পরিবারের পাশে সরকার,চেক তুলে দিলেন মন্ত্রী আরিফুল ইসলাম

ইলিয়াস আলী গুমের মামলায় বিমানবাহিনীর উইং কমান্ডার সাইফুর ট্রাইব্যুনালে

Update Time : ০৩:২০:০৪ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৩ অগাস্ট ২০২৬

বিএনপির সিলেট জেলা শাখার সাবেক সভাপতি এম. ইলিয়াস আলীকে গুমের অভিযোগে করা মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় বিমানবাহিনীর উইং কমান্ডার সাইফুর রহমানকে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে হাজির করা হয়েছে।

রোববার সকালে একটি মাইক্রোবাসে করে সাইফুর রহমানকে ট্রাইব্যুনালে আনা হয়। পরে তাঁকে ট্রাইব্যুনালের হাজতখানায় রাখা হয়।

রাষ্ট্রপক্ষের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে গত ৯ আগস্ট ট্রাইব্যুনাল-১ সাইফুর রহমানের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেন। ওই পরোয়ানার ভিত্তিতেই তাঁকে ট্রাইব্যুনালে হাজির করা হয়েছে।

শতাধিক গুম ও খুনের ঘটনায় মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় গত ২১ জুন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে সেনাবাহিনীর ওয়ারেন্ট অফিসার ইমরুল কায়েসের দেওয়া জবানবন্দিতে ইলিয়াস আলীকে গুমের ঘটনায় সাইফুর রহমানের নাম আসে।

এরপর গত ২৬ জুলাই রাতে বিশেষ সামরিক পুলিশ শাখা (প্রভোস্ট) সাইফুর রহমানকে তাঁর বাসা থেকে আটক করে বাহিনীর বিশেষ সেলে হেফাজতে রাখে।

২০১২ সালের ১৭ এপ্রিল গভীর রাতে রাজধানীর বনানী এলাকা থেকে বিএনপির তৎকালীন সাংগঠনিক সম্পাদক এম. ইলিয়াস আলী ও তাঁর গাড়িচালককে তুলে নেওয়া হয়। এরপর তাঁদের আর কোনো সন্ধান পাওয়া যায়নি।

বিএনপির অভিযোগ, তৎকালীন সরকারের সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের নির্দেশেই ইলিয়াস আলীকে গুম করা হয়েছিল। ট্রাইব্যুনালের প্রসিকিউশনের ভাষ্য অনুযায়ী, এ ঘটনায় র‌্যাবের গোয়েন্দা শাখার সংশ্লিষ্টতার অভিযোগও রয়েছে।

ইলিয়াস আলী নিখোঁজ হওয়ার সময় বিমানবাহিনীর তৎকালীন স্কোয়াড্রন লিডার সাইফুর রহমান র‌্যাবের গোয়েন্দা শাখায় কর্মরত ছিলেন। সর্বশেষ তিনি বিমান সদর দপ্তরের ডিরেক্টরেট অব এয়ার ট্রেনিংয়ের ডেপুটি ডিরেক্টর হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।

ট্রাইব্যুনালের প্রধান কৌঁসুলি মো. আমিনুল ইসলাম গত ৯ আগস্ট বলেন, প্রাথমিক তদন্ত ও সাক্ষীদের জবানবন্দিতে ইলিয়াস আলীকে অপহরণের ঘটনায় উইং কমান্ডার সাইফুর রহমানের সরাসরি সম্পৃক্ততার প্রমাণ পাওয়া গেছে বলে তারা মনে করছেন।

ইলিয়াস আলী গুমের ঘটনায় অবসরপ্রাপ্ত লেফটেন্যান্ট জেনারেল শেখ মামুন খালেদসহ সংশ্লিষ্ট অন্যদের ভূমিকা নিয়েও তদন্ত অব্যাহত থাকবে বলে জানিয়েছে রাষ্ট্রপক্ষ।

আরও পড়ুনঃ  নকল রোধে সংশোধন হচ্ছে পাবলিক পরীক্ষা আইন

দীর্ঘদিন ধরে ইলিয়াস আলীর নিখোঁজের ঘটনায় তাঁর পরিবার ও বিএনপি তদন্ত এবং তাঁর সন্ধানের দাবি জানিয়ে আসছে। আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে সাইফুর রহমানকে হাজির করার মধ্য দিয়ে এ ঘটনায় বিচারিক প্রক্রিয়া নতুন পর্যায়ে প্রবেশ করল।