Dhaka ০৫:৩০ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৯ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম :
ভারতের সঙ্গে সম্পর্ক আরও জোরদার করতে চায় বাংলাদেশ: পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী স্থানীয় সরকার নির্বাচনে প্রার্থী হতে শিক্ষাগত যোগ্যতা লাগবে না: প্রতিমন্ত্রী শাহে আলম গোয়াইনঘাটে অবৈধ বালু উত্তোলনবিরোধী অভিযান, জরিমানা ৩ জনকে মধ্যযুগীয় কায়দায় নির্যাতন, গরম খুন্তি দিয়ে দুই ছাত্রকে ছ্যাঁকা; পরিচালকসহ গ্রেপ্তার ৩ কুড়িয়ে পাওয়া টাকা ফেরত দিতে মালিকের সন্ধানে দুদিন ধরে মাইকিং করছেন এক যুবক ৮ দফা দাবিতে রেলপথ অবরোধ, থামল কপোতাক্ষ এক্সপ্রেস ঢাকায় গোপন বৈঠক, যুবলীগের ৮ নেতা গ্রেপ্তার বিএনপির বিভিন্ন কমিটির শূন্যপদে পদোন্নতি হবে কীভাবে, জানালেন রিজভ রাষ্ট্রপতির সিলেট সফর ঘিরে ব্যাপক প্রস্তুতি, সাজছে নগরী ২০৩৪ সালের মধ্যে ট্রিলিয়ন ডলারের অর্থনীতি হবে বাংলাদেশ: বিমানমন্ত্রী

‘তৌহিদী জনতার’ বাধা উপক্ষো করে বিয়ানীবাজারে জমজমাট নৌকাবাইচ

আপত্তি আর বাধা উপক্ষো করে অবশেষে সিলেটের বিয়ানীবাজারে উৎসবমুখর পরিবেশে নৌকাবাইচ অনুষ্ঠিত হয়েছে। শুক্রবার বিকেলে উপজেলার লাউতা ইউনিয়নের সোনাই নদীতে এ বাইচ অনুষ্ঠিত হয়।

বাইচ দেখতে দুপুর থেকেই বিপুল সংখ্যক দর্শনার্থী নদীর দুই তীরে ভীড় করেন। বাইচ শেষে সন্ধ্যায় সিলেট-৬ আসনের সংসদ সদস্য এমরান আহমদ চৌধুরী বিজয়ীদের মাঝে পুরষ্কার বিতরণ করেন।

জানা গেছে, লাউতা ইউনিয়নের লাউতা-বাহাদুরপুর যুব সমাজের উদ্যোগে প্রতি বছরের মত এবারও বার্ষিক নৌকাবাইচ প্রতিযোগিতার আয়োজন করে। তবে এবার বাইচ আয়োজনে আপত্তি জানায় স্থানীয় ‘তৌহিদী জনতা’।

‘তৌহিদী জনতার’ ব্যানারে একটি গোষ্ঠী এই প্রতিযোগিতা বাতিলের দাবি জানিয়ে সামাজিক মাধ্যম ফেসবুকে পোস্ট করে। এছাড়া বারিগ্রাম বাজার মসজিদে ‘তৌহিদী জনতা লাউতা ইউনিয়ন’ ব্যানারে এক সভা করে প্রতিযোগিতাটি বাতিল করার দাবি করে তারা।

এরপর ২২ আগস্ট দুই পক্ষকে নিয়ে বৈঠক করেন স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান।

বৈঠক শেষে লাউতা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান দেলওয়ার হোসেন বলেন, ‘এ বছর যথাসময়ে নৌকাবাইচ প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হবে। তবে তারা আগামী বছর থেকে সুনাই নদীতে আর নৌকাবাইচ আয়োজন করবে না।

তবে শুক্রবার দুপুরের পর থেকেই নদীর দুই তীরে হাজারো উৎসুক মানুষের ভিড় জমতে থাকে। বাধার কারণে এ আয়োজনটি দেশজুড়ে আলোচিত হয়ে ওঠে। ফলে দুর দূরান্ত থেকেও অনেকে এই বাইচ দেখতে জড়ো হন। অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে বিয়ানবাজার থানা পুলিশসহ বিভিন্ন আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা নদী তীরবর্তী এলাকায় নিয়োজিত ছিল।

বিকেলে নানা রঙ বেরঙে সজ্জিত নৌকা দিয়ে বাইচ শুরু হয়। বাইচে ‘স্বাধীন বাংলা’, ‘বাঘ’ এবং ‘পাগলা নাও’ এমন বাহারি নামের নৌকা অংশ নেয়। ‘কোন মেস্তরি নাও বানাইছে’, ‘নাও ছাড়িয়া দে, পাল উড়াইয়া দে’ এমন নানা গান গেয়ে গেছে মাঝিমাল্লারা বাইচকে আরও জমিয়ে তুলেন।

আয়োজক কমিটির সাধারণ সম্পাদক আমিনুল ইসলাম বলেন, বাধা সত্ত্বেও বিপুল উৎসাহ উদ্দীপনার মধ্য দিয়ে নৌকাবাইচ অনুষ্ঠিত হয়েছে। এবছর বাইচ দেখতে স্মরণকালের সবচেয়ে বেশি মানুষ জড়ো হয়েছিলেন।

আরও পড়ুনঃ  দালালকে ৩১ লাখ টাকা দিয়েও ফেরেনি ছেলে, লাশের অপেক্ষায় বৃদ্ধা মা

তিনি বলেন, আগামীতে বাইচ হবে কী না তা স্থানীয় জনতাই সিদ্ধান্ত নেবে।

Tag :
জনপ্রিয় পোস্ট

ভারতের সঙ্গে সম্পর্ক আরও জোরদার করতে চায় বাংলাদেশ: পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী

‘তৌহিদী জনতার’ বাধা উপক্ষো করে বিয়ানীবাজারে জমজমাট নৌকাবাইচ

Update Time : ১২:০৮:৪৬ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৯ অগাস্ট ২০২৬

আপত্তি আর বাধা উপক্ষো করে অবশেষে সিলেটের বিয়ানীবাজারে উৎসবমুখর পরিবেশে নৌকাবাইচ অনুষ্ঠিত হয়েছে। শুক্রবার বিকেলে উপজেলার লাউতা ইউনিয়নের সোনাই নদীতে এ বাইচ অনুষ্ঠিত হয়।

বাইচ দেখতে দুপুর থেকেই বিপুল সংখ্যক দর্শনার্থী নদীর দুই তীরে ভীড় করেন। বাইচ শেষে সন্ধ্যায় সিলেট-৬ আসনের সংসদ সদস্য এমরান আহমদ চৌধুরী বিজয়ীদের মাঝে পুরষ্কার বিতরণ করেন।

জানা গেছে, লাউতা ইউনিয়নের লাউতা-বাহাদুরপুর যুব সমাজের উদ্যোগে প্রতি বছরের মত এবারও বার্ষিক নৌকাবাইচ প্রতিযোগিতার আয়োজন করে। তবে এবার বাইচ আয়োজনে আপত্তি জানায় স্থানীয় ‘তৌহিদী জনতা’।

‘তৌহিদী জনতার’ ব্যানারে একটি গোষ্ঠী এই প্রতিযোগিতা বাতিলের দাবি জানিয়ে সামাজিক মাধ্যম ফেসবুকে পোস্ট করে। এছাড়া বারিগ্রাম বাজার মসজিদে ‘তৌহিদী জনতা লাউতা ইউনিয়ন’ ব্যানারে এক সভা করে প্রতিযোগিতাটি বাতিল করার দাবি করে তারা।

এরপর ২২ আগস্ট দুই পক্ষকে নিয়ে বৈঠক করেন স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান।

বৈঠক শেষে লাউতা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান দেলওয়ার হোসেন বলেন, ‘এ বছর যথাসময়ে নৌকাবাইচ প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হবে। তবে তারা আগামী বছর থেকে সুনাই নদীতে আর নৌকাবাইচ আয়োজন করবে না।

তবে শুক্রবার দুপুরের পর থেকেই নদীর দুই তীরে হাজারো উৎসুক মানুষের ভিড় জমতে থাকে। বাধার কারণে এ আয়োজনটি দেশজুড়ে আলোচিত হয়ে ওঠে। ফলে দুর দূরান্ত থেকেও অনেকে এই বাইচ দেখতে জড়ো হন। অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে বিয়ানবাজার থানা পুলিশসহ বিভিন্ন আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা নদী তীরবর্তী এলাকায় নিয়োজিত ছিল।

বিকেলে নানা রঙ বেরঙে সজ্জিত নৌকা দিয়ে বাইচ শুরু হয়। বাইচে ‘স্বাধীন বাংলা’, ‘বাঘ’ এবং ‘পাগলা নাও’ এমন বাহারি নামের নৌকা অংশ নেয়। ‘কোন মেস্তরি নাও বানাইছে’, ‘নাও ছাড়িয়া দে, পাল উড়াইয়া দে’ এমন নানা গান গেয়ে গেছে মাঝিমাল্লারা বাইচকে আরও জমিয়ে তুলেন।

আয়োজক কমিটির সাধারণ সম্পাদক আমিনুল ইসলাম বলেন, বাধা সত্ত্বেও বিপুল উৎসাহ উদ্দীপনার মধ্য দিয়ে নৌকাবাইচ অনুষ্ঠিত হয়েছে। এবছর বাইচ দেখতে স্মরণকালের সবচেয়ে বেশি মানুষ জড়ো হয়েছিলেন।

আরও পড়ুনঃ  দালালকে ৩১ লাখ টাকা দিয়েও ফেরেনি ছেলে, লাশের অপেক্ষায় বৃদ্ধা মা

তিনি বলেন, আগামীতে বাইচ হবে কী না তা স্থানীয় জনতাই সিদ্ধান্ত নেবে।