Dhaka ১০:৪৯ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৭ অক্টোবর ২০২৬, ১২ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

‘ইগো-অহংকারের কাছে জাতিকে হারিয়ে যেতে দেওয়া ঠিক নয়’: শিশির মনির

  • desk news
  • Update Time : ০৫:৫৬:৫৬ অপরাহ্ন, শনিবার, ৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬
  • ৫৫১ Time View

৫ আগস্টের প্রেক্ষাপট এবং দেশের বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে বিএনপির ভূমিকার তীব্র সমালোচনা করেছেন সুপ্রিম কোর্টের জ্যেষ্ঠ আইনজীবী অ্যাডভোকেট শিশির মনির। তিনি বলেছেন, কোনো রাজনৈতিক দল বা ব্যক্তির ইগো ও অহংকারের কাছে একটি জাতিকে হারিয়ে যেতে দেওয়া উচিত নয়।

শনিবার (৫ সেপ্টেম্বর) জাতীয় প্রেস ক্লাবে আয়োজিত ‘গণভোট সংক্রান্ত জাতীয় সংলাপ’ অনুষ্ঠানে বক্তব্য দিতে গিয়ে তিনি এসব কথা বলেন। সংলাপে দেশের বিভিন্ন রাজনৈতিক ও সামাজিক অঙ্গনের বিশিষ্ট ব্যক্তিরা অংশ নেন।

শিশির মনির বলেন, ৫ আগস্টের ঐতিহাসিক ঘটনাবলি নিয়ে আলোচনা করতে গেলে একটি নির্দিষ্ট রাজনৈতিক গোষ্ঠী অস্বস্তিতে পড়ে। কারণ, গণ-অভ্যুত্থানের সময় যে বার্তা বা বক্তব্য সামনে এসেছিল, তা ওই রাজনৈতিক গোষ্ঠীর পক্ষ থেকে দেওয়া হয়নি। কিন্তু যারা সেই বার্তা তৈরি ও সামনে এনেছেন, তাঁদের কৃতিত্ব দিতেও দলটি আগ্রহী নয়।

তিনি বলেন, বিএনপি একটি ‘জনগণের দল’। তাই জনগণের পছন্দ, প্রত্যাশা ও চাওয়া-পাওয়াকে দলটির স্বতঃস্ফূর্তভাবে গ্রহণ করা উচিত। আন্দোলনের স্লোগান ও বার্তাগুলো নিজেদের মতো করে নিয়ন্ত্রণ বা ব্যবহার করার প্রবণতা থেকে রাজনৈতিক দলগুলোর বেরিয়ে আসা প্রয়োজন।

শিশির মনির আরও বলেন, ব্যক্তিগত বা দলীয় অহংবোধের কারণে জাতীয় ঐক্য ও দেশের ভবিষ্যৎ যেন ক্ষতিগ্রস্ত না হয়। কোনো ব্যক্তি বা রাজনৈতিক দলের স্বার্থের চেয়ে দেশের স্বার্থকে অগ্রাধিকার দেওয়া প্রয়োজন বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে উদ্দেশ করে তিনি বলেন, বর্তমান সরকারপ্রধানের সামনে নিজেকে একজন রাষ্ট্রনায়ক হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করার একটি অনন্য সুযোগ রয়েছে। তিনি প্রকৃত রাষ্ট্রনায়কের ভূমিকা পালন করবেন, নাকি কেবল একজন সাধারণ রাজনীতিক হিসেবে পরিচিত থাকবেন—সেটি তাঁর সিদ্ধান্তের ওপর নির্ভর করছে।

শিশির মনির বলেন, দেশের বর্তমান রাজনৈতিক বাস্তবতায় নেতৃত্বের সবচেয়ে বড় পরীক্ষা হচ্ছে জাতীয় স্বার্থকে ব্যক্তিগত ও দলীয় স্বার্থের ঊর্ধ্বে রাখা। এ ক্ষেত্রে রাজনৈতিক দলগুলোর দায়িত্বশীল ভূমিকা প্রয়োজন।

আরও পড়ুনঃ  স্বাদের হালুয়া

অনুষ্ঠানে দেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতি, গণভোট এবং ভবিষ্যৎ রাষ্ট্রব্যবস্থা নিয়ে বিভিন্ন বক্তা তাঁদের মতামত তুলে ধরেন।

‘গণভোট সংক্রান্ত জাতীয় সংলাপ’-এ আরও উপস্থিত ছিলেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) সদস্যসচিব ও সংসদ সদস্য আখতার হোসেন, আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের সাবেক চিফ প্রসিকিউটর তাজুল ইসলাম, এনসিপির নেতা সারোয়ার তুষার, এবি পার্টির ব্যারিস্টার ফুয়াদ, ব্যারিস্টার তানিম হোসেন শাওন, রাষ্ট্রবিজ্ঞানী ড. দিলারা চৌধুরী, মানবাধিকারকর্মী রুবি আমাতুল্লাহ এবং সাবেক প্রেস সচিব শফিকুল আলম।

Tag :
জনপ্রিয় পোস্ট

‘ইগো-অহংকারের কাছে জাতিকে হারিয়ে যেতে দেওয়া ঠিক নয়’: শিশির মনির

Update Time : ০৫:৫৬:৫৬ অপরাহ্ন, শনিবার, ৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬

৫ আগস্টের প্রেক্ষাপট এবং দেশের বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে বিএনপির ভূমিকার তীব্র সমালোচনা করেছেন সুপ্রিম কোর্টের জ্যেষ্ঠ আইনজীবী অ্যাডভোকেট শিশির মনির। তিনি বলেছেন, কোনো রাজনৈতিক দল বা ব্যক্তির ইগো ও অহংকারের কাছে একটি জাতিকে হারিয়ে যেতে দেওয়া উচিত নয়।

শনিবার (৫ সেপ্টেম্বর) জাতীয় প্রেস ক্লাবে আয়োজিত ‘গণভোট সংক্রান্ত জাতীয় সংলাপ’ অনুষ্ঠানে বক্তব্য দিতে গিয়ে তিনি এসব কথা বলেন। সংলাপে দেশের বিভিন্ন রাজনৈতিক ও সামাজিক অঙ্গনের বিশিষ্ট ব্যক্তিরা অংশ নেন।

শিশির মনির বলেন, ৫ আগস্টের ঐতিহাসিক ঘটনাবলি নিয়ে আলোচনা করতে গেলে একটি নির্দিষ্ট রাজনৈতিক গোষ্ঠী অস্বস্তিতে পড়ে। কারণ, গণ-অভ্যুত্থানের সময় যে বার্তা বা বক্তব্য সামনে এসেছিল, তা ওই রাজনৈতিক গোষ্ঠীর পক্ষ থেকে দেওয়া হয়নি। কিন্তু যারা সেই বার্তা তৈরি ও সামনে এনেছেন, তাঁদের কৃতিত্ব দিতেও দলটি আগ্রহী নয়।

তিনি বলেন, বিএনপি একটি ‘জনগণের দল’। তাই জনগণের পছন্দ, প্রত্যাশা ও চাওয়া-পাওয়াকে দলটির স্বতঃস্ফূর্তভাবে গ্রহণ করা উচিত। আন্দোলনের স্লোগান ও বার্তাগুলো নিজেদের মতো করে নিয়ন্ত্রণ বা ব্যবহার করার প্রবণতা থেকে রাজনৈতিক দলগুলোর বেরিয়ে আসা প্রয়োজন।

শিশির মনির আরও বলেন, ব্যক্তিগত বা দলীয় অহংবোধের কারণে জাতীয় ঐক্য ও দেশের ভবিষ্যৎ যেন ক্ষতিগ্রস্ত না হয়। কোনো ব্যক্তি বা রাজনৈতিক দলের স্বার্থের চেয়ে দেশের স্বার্থকে অগ্রাধিকার দেওয়া প্রয়োজন বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে উদ্দেশ করে তিনি বলেন, বর্তমান সরকারপ্রধানের সামনে নিজেকে একজন রাষ্ট্রনায়ক হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করার একটি অনন্য সুযোগ রয়েছে। তিনি প্রকৃত রাষ্ট্রনায়কের ভূমিকা পালন করবেন, নাকি কেবল একজন সাধারণ রাজনীতিক হিসেবে পরিচিত থাকবেন—সেটি তাঁর সিদ্ধান্তের ওপর নির্ভর করছে।

শিশির মনির বলেন, দেশের বর্তমান রাজনৈতিক বাস্তবতায় নেতৃত্বের সবচেয়ে বড় পরীক্ষা হচ্ছে জাতীয় স্বার্থকে ব্যক্তিগত ও দলীয় স্বার্থের ঊর্ধ্বে রাখা। এ ক্ষেত্রে রাজনৈতিক দলগুলোর দায়িত্বশীল ভূমিকা প্রয়োজন।

আরও পড়ুনঃ  ‘কেয়ামতের মাছ’ ভেসে আসার ছয় দিন পর ছয় আগ্নেয়গিরিতে অগ্ন্যুৎপাত

অনুষ্ঠানে দেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতি, গণভোট এবং ভবিষ্যৎ রাষ্ট্রব্যবস্থা নিয়ে বিভিন্ন বক্তা তাঁদের মতামত তুলে ধরেন।

‘গণভোট সংক্রান্ত জাতীয় সংলাপ’-এ আরও উপস্থিত ছিলেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) সদস্যসচিব ও সংসদ সদস্য আখতার হোসেন, আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের সাবেক চিফ প্রসিকিউটর তাজুল ইসলাম, এনসিপির নেতা সারোয়ার তুষার, এবি পার্টির ব্যারিস্টার ফুয়াদ, ব্যারিস্টার তানিম হোসেন শাওন, রাষ্ট্রবিজ্ঞানী ড. দিলারা চৌধুরী, মানবাধিকারকর্মী রুবি আমাতুল্লাহ এবং সাবেক প্রেস সচিব শফিকুল আলম।