Dhaka ০৫:৩১ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৯ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম :
ভারতের সঙ্গে সম্পর্ক আরও জোরদার করতে চায় বাংলাদেশ: পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী স্থানীয় সরকার নির্বাচনে প্রার্থী হতে শিক্ষাগত যোগ্যতা লাগবে না: প্রতিমন্ত্রী শাহে আলম গোয়াইনঘাটে অবৈধ বালু উত্তোলনবিরোধী অভিযান, জরিমানা ৩ জনকে মধ্যযুগীয় কায়দায় নির্যাতন, গরম খুন্তি দিয়ে দুই ছাত্রকে ছ্যাঁকা; পরিচালকসহ গ্রেপ্তার ৩ কুড়িয়ে পাওয়া টাকা ফেরত দিতে মালিকের সন্ধানে দুদিন ধরে মাইকিং করছেন এক যুবক ৮ দফা দাবিতে রেলপথ অবরোধ, থামল কপোতাক্ষ এক্সপ্রেস ঢাকায় গোপন বৈঠক, যুবলীগের ৮ নেতা গ্রেপ্তার বিএনপির বিভিন্ন কমিটির শূন্যপদে পদোন্নতি হবে কীভাবে, জানালেন রিজভ রাষ্ট্রপতির সিলেট সফর ঘিরে ব্যাপক প্রস্তুতি, সাজছে নগরী ২০৩৪ সালের মধ্যে ট্রিলিয়ন ডলারের অর্থনীতি হবে বাংলাদেশ: বিমানমন্ত্রী

নৌকাডুবিতে পদ্মায় ভেসে যায় ২০ দিনের তানিশা, বিএসএফের হাতে জীবিত উদ্ধার

পদ্মা নদীর উত্তাল স্রোত। বিকেলের ঝোড়ো বাতাসে মুহূর্তেই বদলে যায় নদীর চেহারা। সেই সময় মায়ের কোলে চড়ে বাড়ি ফিরছিল মাত্র ২০ দিনের শিশু তানিশা। কিন্তু পথেই ঘটে ভয়াবহ নৌকাডুবি। স্রোতের টানে অন্য যাত্রীদের সঙ্গে ভেসে যায় তানিশাও।

শনিবার (১২ সেপ্টেম্বর) বিকেল ৫টার দিকে চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর উপজেলার বাখেরআলী এলাকা থেকে জোহরপুর-টেকের দিকে যাওয়ার সময় পদ্মা নদীতে নৌকাটি ডুবে যায়। নৌকায় মোট ১২ জন যাত্রী ছিলেন। তাদের মধ্যে ছিলেন সোহেল ও তানিয়া খাতুন দম্পতি এবং তাদের মাত্র ২০ দিন বয়সী সন্তান তানিশা।

নৌকা ডুবে যাওয়ার পর প্রবল স্রোতে ভেসে যাত্রীদের একটি অংশ ভারতীয় জলসীমায় চলে যায়। পরে সেখানে তাদের দেখতে পেয়ে উদ্ধার করে ভারতের সীমান্তরক্ষী বাহিনী বিএসএফ। তানিশাসহ মোট ১০ বাংলাদেশি ওই সময় ভারতীয় জলসীমায় পৌঁছে যান।

ঘটনাটি কাছ থেকে দেখেন ভারতের মুর্শিদাবাদ জেলার লালগোলা থানার তারানগর এলাকার বাসিন্দা শ্যামলাল মণ্ডল। তার ভাষ্য অনুযায়ী, বিএসএফ সদস্যরা নদী থেকে বাংলাদেশিদের উদ্ধার করে তীরে নিয়ে আসেন। উদ্ধারের সময় শিশুটিকে প্রায় নিস্তেজ অবস্থায় পাওয়া যায়।

পরিস্থিতি বুঝে বিএসএফ সদস্যরা দ্রুত তানিশাকে স্থানীয় একটি চিকিৎসাকেন্দ্রে নিয়ে যান। সেখানে চিকিৎসা দেওয়ার পর শিশুটির শারীরিক অবস্থার উন্নতি হয়। এতে স্বস্তি ফেরে উদ্বিগ্ন স্বজনদের মধ্যে।

এদিকে নৌকাডুবির পর নিখোঁজ স্বজনদের নিয়ে উৎকণ্ঠার পাশাপাশি তানিশার নিরাপত্তা নিয়েও উদ্বিগ্ন ছিলেন পরিবার ও স্বজনরা। পরে রাতে সেই উৎকণ্ঠার অবসান হয়।

বিজিবির ৫৩ ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল কাজী মুস্তাফিজুর রহমান জানান, তানিশাসহ উদ্ধার হওয়া নয় বাংলাদেশিকে সুস্থ অবস্থায় রাতে দেশে ফিরিয়ে আনা হয়েছে।

জীবনের মাত্র ২০তম দিনেই তানিশাকে মোকাবিলা করতে হয়েছে ভয়াবহ এক অভিজ্ঞতার। মায়ের কোলে চড়ে নিরাপদে বাড়ি ফেরার কথা থাকলেও পদ্মার স্রোত তাকে নিয়ে যায় সীমান্তের ওপারে। শেষ পর্যন্ত উদ্ধারকারী বাহিনীর তৎপরতা এবং সময়মতো চিকিৎসার কারণে প্রাণে বেঁচে আবার পরিবারের কাছে ফিরেছে শিশুটি।

আরও পড়ুনঃ  পুলিশের ধাওয়া খেয়ে পুকুরে মাইক্রোবাস, ভেসে উঠলো ৯ বস্তা গাঁজা

তানিশার ফিরে আসার ঘটনা তাই শুধু একটি শিশুকে উদ্ধারের গল্প নয়; এটি এক পরিবারের ভয়, উৎকণ্ঠা পেরিয়ে স্বস্তি ফিরে পাওয়ার গল্প।

Tag :
জনপ্রিয় পোস্ট

ভারতের সঙ্গে সম্পর্ক আরও জোরদার করতে চায় বাংলাদেশ: পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী

নৌকাডুবিতে পদ্মায় ভেসে যায় ২০ দিনের তানিশা, বিএসএফের হাতে জীবিত উদ্ধার

Update Time : ১১:২০:৩৫ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬

পদ্মা নদীর উত্তাল স্রোত। বিকেলের ঝোড়ো বাতাসে মুহূর্তেই বদলে যায় নদীর চেহারা। সেই সময় মায়ের কোলে চড়ে বাড়ি ফিরছিল মাত্র ২০ দিনের শিশু তানিশা। কিন্তু পথেই ঘটে ভয়াবহ নৌকাডুবি। স্রোতের টানে অন্য যাত্রীদের সঙ্গে ভেসে যায় তানিশাও।

শনিবার (১২ সেপ্টেম্বর) বিকেল ৫টার দিকে চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর উপজেলার বাখেরআলী এলাকা থেকে জোহরপুর-টেকের দিকে যাওয়ার সময় পদ্মা নদীতে নৌকাটি ডুবে যায়। নৌকায় মোট ১২ জন যাত্রী ছিলেন। তাদের মধ্যে ছিলেন সোহেল ও তানিয়া খাতুন দম্পতি এবং তাদের মাত্র ২০ দিন বয়সী সন্তান তানিশা।

নৌকা ডুবে যাওয়ার পর প্রবল স্রোতে ভেসে যাত্রীদের একটি অংশ ভারতীয় জলসীমায় চলে যায়। পরে সেখানে তাদের দেখতে পেয়ে উদ্ধার করে ভারতের সীমান্তরক্ষী বাহিনী বিএসএফ। তানিশাসহ মোট ১০ বাংলাদেশি ওই সময় ভারতীয় জলসীমায় পৌঁছে যান।

ঘটনাটি কাছ থেকে দেখেন ভারতের মুর্শিদাবাদ জেলার লালগোলা থানার তারানগর এলাকার বাসিন্দা শ্যামলাল মণ্ডল। তার ভাষ্য অনুযায়ী, বিএসএফ সদস্যরা নদী থেকে বাংলাদেশিদের উদ্ধার করে তীরে নিয়ে আসেন। উদ্ধারের সময় শিশুটিকে প্রায় নিস্তেজ অবস্থায় পাওয়া যায়।

পরিস্থিতি বুঝে বিএসএফ সদস্যরা দ্রুত তানিশাকে স্থানীয় একটি চিকিৎসাকেন্দ্রে নিয়ে যান। সেখানে চিকিৎসা দেওয়ার পর শিশুটির শারীরিক অবস্থার উন্নতি হয়। এতে স্বস্তি ফেরে উদ্বিগ্ন স্বজনদের মধ্যে।

এদিকে নৌকাডুবির পর নিখোঁজ স্বজনদের নিয়ে উৎকণ্ঠার পাশাপাশি তানিশার নিরাপত্তা নিয়েও উদ্বিগ্ন ছিলেন পরিবার ও স্বজনরা। পরে রাতে সেই উৎকণ্ঠার অবসান হয়।

বিজিবির ৫৩ ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল কাজী মুস্তাফিজুর রহমান জানান, তানিশাসহ উদ্ধার হওয়া নয় বাংলাদেশিকে সুস্থ অবস্থায় রাতে দেশে ফিরিয়ে আনা হয়েছে।

জীবনের মাত্র ২০তম দিনেই তানিশাকে মোকাবিলা করতে হয়েছে ভয়াবহ এক অভিজ্ঞতার। মায়ের কোলে চড়ে নিরাপদে বাড়ি ফেরার কথা থাকলেও পদ্মার স্রোত তাকে নিয়ে যায় সীমান্তের ওপারে। শেষ পর্যন্ত উদ্ধারকারী বাহিনীর তৎপরতা এবং সময়মতো চিকিৎসার কারণে প্রাণে বেঁচে আবার পরিবারের কাছে ফিরেছে শিশুটি।

আরও পড়ুনঃ  পুলিশের ধাওয়া খেয়ে পুকুরে মাইক্রোবাস, ভেসে উঠলো ৯ বস্তা গাঁজা

তানিশার ফিরে আসার ঘটনা তাই শুধু একটি শিশুকে উদ্ধারের গল্প নয়; এটি এক পরিবারের ভয়, উৎকণ্ঠা পেরিয়ে স্বস্তি ফিরে পাওয়ার গল্প।