সিলেটকে দেশের প্রথম ‘ওয়াইফাই সিটি’ হিসেবে গড়ে তুলতে প্রায় ৩০ কোটি টাকা ব্যয়ে নেওয়া প্রকল্পটি চালুর দেড় বছরের মধ্যেই কার্যত বন্ধ হয়ে গেছে। নগরের বিভিন্ন এলাকায় স্থাপন করা ওয়াইফাই সরঞ্জামের অনেকগুলো এখন ব্যবহারহীন অবস্থায় পড়ে আছে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, নগরের ৬৫টি এলাকায় মোট ১২৬টি পয়েন্টে ওয়াইফাইয়ের যন্ত্রপাতি বসানো হয়েছিল। বিনা মূল্যে উচ্চগতির ইন্টারনেট সেবা দেওয়ার লক্ষ্য নিয়ে ২০২০ সালের এপ্রিলে প্রকল্পটি চালু করা হয়। প্রতিটি পয়েন্ট থেকে একসঙ্গে প্রায় ৫০০ ব্যবহারকারীকে ইন্টারনেট সুবিধা দেওয়ার পরিকল্পনা ছিল।
প্রকল্পের প্রথম বছর ইন্টারনেট সংযোগের খরচ বহন করে বাংলাদেশ কম্পিউটার কাউন্সিল (বিসিসি)। পরবর্তী সময়ে প্রকল্পটি সিলেট সিটি করপোরেশনের (সিসিক) কাছে হস্তান্তর করা হয়। সিসিকের তথ্য অনুযায়ী, হস্তান্তরের পর কয়েক মাস সেবা চালু থাকলেও পরে ইন্টারনেট সংযোগ বন্ধ হয়ে যায়।
সিসিকের নির্বাহী প্রকৌশলী জয়দেব বিশ্বাস জানান, প্রকল্পটি চালু রাখার জন্য প্রয়োজনীয় বরাদ্দ না থাকায় বর্তমানে সেবাটি বন্ধ রয়েছে। বিভিন্ন স্থানে কিছু সরঞ্জাম এখনো স্থাপন করা থাকলেও ব্যান্ডউইথ না থাকায় সেগুলো দিয়ে নগরবাসী ইন্টারনেট ব্যবহার করতে পারছেন না। পাশাপাশি প্রকল্পটির রক্ষণাবেক্ষণ ব্যয়ও তুলনামূলক বেশি বলে জানান তিনি।
সিসিকের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ রেজাই রাফিন সরকারের দাবি, প্রকল্পের সার্ভারে সিটি করপোরেশনকে সরাসরি অ্যাকসেস দেওয়া হয়নি। অবকাঠামো হস্তান্তরের পাশাপাশি মাসিক ইন্টারনেট বিল পরিশোধের দায়িত্ব সিসিকের ওপর দেওয়া হয়েছিল।
তবে সিসিকের এই বক্তব্যের সঙ্গে একমত নয় বিসিসি। সংস্থাটির সিনিয়র সিস্টেম অ্যানালিস্ট মধুসুদন দত্তের ভাষ্য, নির্ধারিত নিয়ম অনুসরণ করেই প্রকল্পটি সিটি করপোরেশনের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে এবং এ-সংক্রান্ত নথিপত্রও রয়েছে। হস্তান্তরের পর প্রকল্প সচল রাখার দায়িত্ব সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের বলেও জানান তিনি।
শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের কম্পিউটার সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের অধ্যাপক মো. সাইদুর রহমান বলেন, পরিকল্পনা অনুযায়ী প্রকল্পটি সচল রাখা ও নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণ করা গেলে এটি দেশের অন্যান্য বিভাগীয় শহরের জন্যও উদাহরণ হতে পারত।
প্রকল্পটি পুনরায় চালু করতে সঠিক পরিকল্পনা, প্রয়োজনীয় অর্থায়ন এবং সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর মধ্যে সমন্বয় প্রয়োজন বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
সিলেট প্রতিনিধি 


















