Dhaka ০৬:৩২ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১৭ অক্টোবর ২০২৬, ২ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম :
সিলেটে বাণিজ্য মেলার দ্বিতীয় দিনেই উপচে পড়া ভিড়, দেখা দিয়েছে তীব্র যানজট সিলেটে ফ্যামিলি কার্ডের তথ্য সংগ্রহ কার্যক্রম শুরু প্রকাশ্য দিবালোকে সাংবাদিককে গু.লি করে হ ত্যা সিলেটে ডিসকাউন্টের নামে প্রতারণা: ৪ কাপড়ের দোকানকে ৭২ হাজার টাকা জরিমানা সম্প্রীতি ও সৌহার্দ্যের ভূখণ্ড সিলেট: পূজামণ্ডপ পরিদর্শনে সিউক চেয়ারম্যান দূষিত শহরের তালিকায় ঢাকার নাম দেশের জন্য লজ্জার: প্রধানমন্ত্রী সিলেট জেলা ও মহানগর যুবদলের দুই সাধারণ সম্পাদককে সম্মাননা প্রদান ফ্যামিলি কার্ডের জন্য ৫ হাজার টাকা দাবি! ‘নেতাদের ভাগ দিতে হবে’ —ভাইরাল ভিডিও ঘিরে সুনামগঞ্জে তোলপাড় সৌদি আরবে অনৈতিক কাজের অপরাধে বাংলাদেশি দুই নারী-পুরুষের ফাঁ.সি সিলেটে দুর্গাপূজা নির্বিঘ্ন করতে বিএনপির ৭ ‘তদারকি কমিটি’

প্রকাশ্য দিবালোকে সাংবাদিককে গু.লি করে হ ত্যা

নেত্রকোণার দুর্গাপুরে প্রকাশ্য দিবালোকে লুৎফুজ্জামান আলিফ ফকির (৪০) নামে এক সাংবাদিককে গুলি করে হত্যা করেছে মোটরসাইকেল আরোহী দুর্বৃত্তরা। বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর ২০২৬) রাত আনুমানিক ৮টার দিকে দুর্গাপুর উপজেলার শ্যামগঞ্জ-বিরিশিরি সড়কের উতরাইল বাজারের (মতান্তরে তেলনজিয়া বাজার) একটি চায়ের দোকানে এই নৃশংস হত্যাকাণ্ড ঘটে।
নিহত লুৎফুজ্জামান আলিফ ফকির একটি বেসরকারি সংবাদ মাধ্যমের নেত্রকোণা জেলা প্রতিনিধি হিসেবে কর্মরত ছিলেন। এর পাশাপাশি তিনি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে একটি পেজ পরিচালনা করতেন, যেখানে স্থানীয় চোরাচালান, মাদক ব্যবসা ও বিভিন্ন অপরাধের বিরুদ্ধে নিয়মিত লেখালেখি করতেন। তার গ্রামের বাড়ি কলমাকান্দা উপজেলার পোগলা ইউনিয়নের সুনই গ্রামে হলেও তিনি দুর্গাপুরের বিরিশিরি এলাকায় শ্বশুরবাড়িতে বসবাস করতেন।
ঘটনাস্থলের বিবরণ ও প্রত্যক্ষদর্শী:
তেলনজিয়া বাজারের প্রত্যক্ষদর্শী চা-দোকানি সংবাদমাধ্যমকে জানান, লুৎফুজ্জামান চায়ের দোকানে চা খেয়ে বের হয়ে বাসার দিকে যাচ্ছিলেন। এমন সময় হঠাৎ একটি মোটরসাইকেলে করে দুই যুবক চায়ের দোকানে এসে প্রথমে সিগারেট চায়। এরপর কিছু বুঝে ওঠার আগেই লুৎফুজ্জামানকে লক্ষ্য করে পরপর কয়েকটি গুলি ছোড়ে তারা। গুলির শব্দ শুনে আশপাশের মানুষ ছুটে এলে হামলাকারীরা কিছুটা দূরে রাখা মোটরসাইকেল নিয়ে দ্রুত পালিয়ে যায়। স্থানীয়রা গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে উদ্ধার করে দুর্গাপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
পুলিশ ও প্রশাসনের বক্তব্য:
দুর্গাপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) খন্দকার শাকের আহমদ খান জানান, নিহত সাংবাদিকের মাথা, গলা ও বুকসহ শরীরের বিভিন্ন স্থানে মোট পাঁচটি গুলির চিহ্ন পাওয়া গেছে। লাশ ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানোর প্রক্রিয়া চলছে এবং পুরো ঘটনাটি খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
নেত্রকোণার পুলিশ সুপার মো. তরিকুল ইসলাম ঘটনাস্থল পরিদর্শন শেষে জানান, প্রাথমিক তদন্তে এটিকে একটি সুপরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড বলে ধারণা করা হচ্ছে। ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের দ্রুত শনাক্ত ও গ্রেফতার করতে পুলিশ ইতিমধ্যেই বিশেষ অভিযান শুরু করেছে।
উল্লেখ্য, মাদক ও চোরাচালানের বিরুদ্ধে সোচ্চার থাকায় লুৎফুজ্জামান আলিফ এর আগেও গত বছরের ১০ নভেম্বর দুপুরে দুর্গাপুরের সোমেশ্বরী নদীর তেরিবাজার ঘাট এলাকায় দুর্বৃত্তদের হামলার শিকার হয়েছিলেন। সে সময় তাকে কুপিয়ে গুরুতর জখম করা হয়েছিল এবং তার এক সহকর্মীকেও অস্ত্র দেখিয়ে ধাওয়া করা হয়েছিল। স্থানীয় সাংবাদিকরা এই নির্মম হত্যাকাণ্ডের তীব্র নিন্দা জানিয়ে দ্রুত খুনিদের গ্রেফতার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।
আরও পড়ুনঃ  সিলেটের কানাইঘাট সীমান্তে গুলিবিদ্ধ যুবকের মরদেহ উদ্ধার
Tag :
জনপ্রিয় পোস্ট

সিলেটে বাণিজ্য মেলার দ্বিতীয় দিনেই উপচে পড়া ভিড়, দেখা দিয়েছে তীব্র যানজট

প্রকাশ্য দিবালোকে সাংবাদিককে গু.লি করে হ ত্যা

Update Time : ১১:০৩:০৩ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৫ অক্টোবর ২০২৬
নেত্রকোণার দুর্গাপুরে প্রকাশ্য দিবালোকে লুৎফুজ্জামান আলিফ ফকির (৪০) নামে এক সাংবাদিককে গুলি করে হত্যা করেছে মোটরসাইকেল আরোহী দুর্বৃত্তরা। বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর ২০২৬) রাত আনুমানিক ৮টার দিকে দুর্গাপুর উপজেলার শ্যামগঞ্জ-বিরিশিরি সড়কের উতরাইল বাজারের (মতান্তরে তেলনজিয়া বাজার) একটি চায়ের দোকানে এই নৃশংস হত্যাকাণ্ড ঘটে।
নিহত লুৎফুজ্জামান আলিফ ফকির একটি বেসরকারি সংবাদ মাধ্যমের নেত্রকোণা জেলা প্রতিনিধি হিসেবে কর্মরত ছিলেন। এর পাশাপাশি তিনি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে একটি পেজ পরিচালনা করতেন, যেখানে স্থানীয় চোরাচালান, মাদক ব্যবসা ও বিভিন্ন অপরাধের বিরুদ্ধে নিয়মিত লেখালেখি করতেন। তার গ্রামের বাড়ি কলমাকান্দা উপজেলার পোগলা ইউনিয়নের সুনই গ্রামে হলেও তিনি দুর্গাপুরের বিরিশিরি এলাকায় শ্বশুরবাড়িতে বসবাস করতেন।
ঘটনাস্থলের বিবরণ ও প্রত্যক্ষদর্শী:
তেলনজিয়া বাজারের প্রত্যক্ষদর্শী চা-দোকানি সংবাদমাধ্যমকে জানান, লুৎফুজ্জামান চায়ের দোকানে চা খেয়ে বের হয়ে বাসার দিকে যাচ্ছিলেন। এমন সময় হঠাৎ একটি মোটরসাইকেলে করে দুই যুবক চায়ের দোকানে এসে প্রথমে সিগারেট চায়। এরপর কিছু বুঝে ওঠার আগেই লুৎফুজ্জামানকে লক্ষ্য করে পরপর কয়েকটি গুলি ছোড়ে তারা। গুলির শব্দ শুনে আশপাশের মানুষ ছুটে এলে হামলাকারীরা কিছুটা দূরে রাখা মোটরসাইকেল নিয়ে দ্রুত পালিয়ে যায়। স্থানীয়রা গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে উদ্ধার করে দুর্গাপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
পুলিশ ও প্রশাসনের বক্তব্য:
দুর্গাপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) খন্দকার শাকের আহমদ খান জানান, নিহত সাংবাদিকের মাথা, গলা ও বুকসহ শরীরের বিভিন্ন স্থানে মোট পাঁচটি গুলির চিহ্ন পাওয়া গেছে। লাশ ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানোর প্রক্রিয়া চলছে এবং পুরো ঘটনাটি খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
নেত্রকোণার পুলিশ সুপার মো. তরিকুল ইসলাম ঘটনাস্থল পরিদর্শন শেষে জানান, প্রাথমিক তদন্তে এটিকে একটি সুপরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড বলে ধারণা করা হচ্ছে। ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের দ্রুত শনাক্ত ও গ্রেফতার করতে পুলিশ ইতিমধ্যেই বিশেষ অভিযান শুরু করেছে।
উল্লেখ্য, মাদক ও চোরাচালানের বিরুদ্ধে সোচ্চার থাকায় লুৎফুজ্জামান আলিফ এর আগেও গত বছরের ১০ নভেম্বর দুপুরে দুর্গাপুরের সোমেশ্বরী নদীর তেরিবাজার ঘাট এলাকায় দুর্বৃত্তদের হামলার শিকার হয়েছিলেন। সে সময় তাকে কুপিয়ে গুরুতর জখম করা হয়েছিল এবং তার এক সহকর্মীকেও অস্ত্র দেখিয়ে ধাওয়া করা হয়েছিল। স্থানীয় সাংবাদিকরা এই নির্মম হত্যাকাণ্ডের তীব্র নিন্দা জানিয়ে দ্রুত খুনিদের গ্রেফতার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।
আরও পড়ুনঃ  সিলেট উপশহর থেকে ১২ বছরের শিশু নিখোঁজ, সন্ধান চায় পরিবার