Dhaka ০৬:২৭ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৯ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম :
ভারতের সঙ্গে সম্পর্ক আরও জোরদার করতে চায় বাংলাদেশ: পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী স্থানীয় সরকার নির্বাচনে প্রার্থী হতে শিক্ষাগত যোগ্যতা লাগবে না: প্রতিমন্ত্রী শাহে আলম গোয়াইনঘাটে অবৈধ বালু উত্তোলনবিরোধী অভিযান, জরিমানা ৩ জনকে মধ্যযুগীয় কায়দায় নির্যাতন, গরম খুন্তি দিয়ে দুই ছাত্রকে ছ্যাঁকা; পরিচালকসহ গ্রেপ্তার ৩ কুড়িয়ে পাওয়া টাকা ফেরত দিতে মালিকের সন্ধানে দুদিন ধরে মাইকিং করছেন এক যুবক ৮ দফা দাবিতে রেলপথ অবরোধ, থামল কপোতাক্ষ এক্সপ্রেস ঢাকায় গোপন বৈঠক, যুবলীগের ৮ নেতা গ্রেপ্তার বিএনপির বিভিন্ন কমিটির শূন্যপদে পদোন্নতি হবে কীভাবে, জানালেন রিজভ রাষ্ট্রপতির সিলেট সফর ঘিরে ব্যাপক প্রস্তুতি, সাজছে নগরী ২০৩৪ সালের মধ্যে ট্রিলিয়ন ডলারের অর্থনীতি হবে বাংলাদেশ: বিমানমন্ত্রী

কৃষিতে নারী মজুরি পান ২৬% কম

  • Reporter Name
  • Update Time : ০২:৩২:২৭ অপরাহ্ন, সোমবার, ৩০ মার্চ ২০২৬
  • ৫১৮ Time View

কৃষি খাতেও নারী ও পুরুষ শ্রমিকদের মধ্যে মজুরি বৈষম্য স্পষ্টভাবে দৃশ্যমান এবং এটি ধীরে ধীরে বাড়ছে। বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর (বিবিএস) সাম্প্রতিক জরিপ অনুযায়ী, একজন নারী কৃষি শ্রমিক একই কাজের জন্য পুরুষ শ্রমিকের তুলনায় গড়ে প্রায় ২৬ শতাংশ কম মজুরি পান। গত ডিসেম্বর মাসে যেখানে একজন পুরুষ শ্রমিক দৈনিক ৬২৫ টাকা আয় করেছেন, সেখানে একজন নারী শ্রমিক পেয়েছেন মাত্র ৪৬২ টাকা।

এই জরিপটি ‘শস্য পরিসংখ্যান ও কৃষি শ্রম মজুরি’ শিরোনামে প্রকাশিত হয়েছে, যেখানে ১৫ বছর বা তার বেশি বয়সী কৃষি শ্রমিকদের আয়ের তথ্য তুলে ধরা হয়েছে। উপজেলা পর্যায়ে নমুনা শ্রমিকদের সাক্ষাৎকারের ভিত্তিতে এই তথ্য সংগ্রহ করা হয় এবং সেখান থেকে জাতীয় গড় নির্ধারণ করা হয়।

শ্রম বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বৈষম্য মৌলিক অধিকারের পরিপন্থী। কৃষি খাতসহ অপ্রাতিষ্ঠানিক অনেক ক্ষেত্রেই নারীরা কম মজুরি পেয়ে থাকেন। কোথাও কোথাও এমনও দেখা যায়, নারী শ্রমিকদের পুরুষদের অর্ধেক পর্যন্ত মজুরি দেওয়া হয়। এর ফলে নারীরা শুধু অর্থনৈতিক নয়, পারিবারিকভাবেও নানা ধরনের চাপ ও বঞ্চনার মুখে পড়েন।

বাংলাদেশের শ্রমশক্তির একটি বড় অংশ কৃষিতে নিয়োজিত, যার মধ্যে উল্লেখযোগ্য সংখ্যক নারী রয়েছেন। বিভিন্ন গবেষণায় দেখা গেছে, নারীরা কৃষিকাজে ব্যাপকভাবে অংশ নিলেও তাদের শ্রম যথাযথ মূল্যায়ন পায় না। এমনকি অনেক ক্ষেত্রে তাদের কাজকে পারিবারিক দায়িত্ব হিসেবেই ধরা হয়, আয়ের উৎস হিসেবে নয়।

জরিপে আরও দেখা যায়, খোরাকিসহ মজুরির ক্ষেত্রেও বৈষম্য বিদ্যমান। তিন বেলা খাবারসহ একজন পুরুষ শ্রমিক যেখানে ৫২৩ টাকা পান, সেখানে নারী শ্রমিক পান ৩৮৫ টাকা। অর্থাৎ, খোরাকি থাকুক বা না থাকুক—সব ক্ষেত্রেই মজুরি ব্যবধান বজায় রয়েছে।

বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, একটি সমন্বিত জাতীয় মজুরি কাঠামো প্রণয়ন এবং শ্রমিকদের জন্য তথ্যভিত্তিক সহায়তা ব্যবস্থা গড়ে তোলা হলে এই বৈষম্য কিছুটা কমানো সম্ভব। পাশাপাশি শ্রম আইনের কার্যকর বাস্তবায়নও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।

আরও পড়ুনঃ  জৈন্তাপুর সীমান্ত দিয়ে ভারতে যাওয়ার চেষ্টায় নারী-শি শুসহ আটক ৮

Tag :
About Author Information

জনপ্রিয় পোস্ট

ভারতের সঙ্গে সম্পর্ক আরও জোরদার করতে চায় বাংলাদেশ: পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী

কৃষিতে নারী মজুরি পান ২৬% কম

Update Time : ০২:৩২:২৭ অপরাহ্ন, সোমবার, ৩০ মার্চ ২০২৬

কৃষি খাতেও নারী ও পুরুষ শ্রমিকদের মধ্যে মজুরি বৈষম্য স্পষ্টভাবে দৃশ্যমান এবং এটি ধীরে ধীরে বাড়ছে। বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর (বিবিএস) সাম্প্রতিক জরিপ অনুযায়ী, একজন নারী কৃষি শ্রমিক একই কাজের জন্য পুরুষ শ্রমিকের তুলনায় গড়ে প্রায় ২৬ শতাংশ কম মজুরি পান। গত ডিসেম্বর মাসে যেখানে একজন পুরুষ শ্রমিক দৈনিক ৬২৫ টাকা আয় করেছেন, সেখানে একজন নারী শ্রমিক পেয়েছেন মাত্র ৪৬২ টাকা।

এই জরিপটি ‘শস্য পরিসংখ্যান ও কৃষি শ্রম মজুরি’ শিরোনামে প্রকাশিত হয়েছে, যেখানে ১৫ বছর বা তার বেশি বয়সী কৃষি শ্রমিকদের আয়ের তথ্য তুলে ধরা হয়েছে। উপজেলা পর্যায়ে নমুনা শ্রমিকদের সাক্ষাৎকারের ভিত্তিতে এই তথ্য সংগ্রহ করা হয় এবং সেখান থেকে জাতীয় গড় নির্ধারণ করা হয়।

শ্রম বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বৈষম্য মৌলিক অধিকারের পরিপন্থী। কৃষি খাতসহ অপ্রাতিষ্ঠানিক অনেক ক্ষেত্রেই নারীরা কম মজুরি পেয়ে থাকেন। কোথাও কোথাও এমনও দেখা যায়, নারী শ্রমিকদের পুরুষদের অর্ধেক পর্যন্ত মজুরি দেওয়া হয়। এর ফলে নারীরা শুধু অর্থনৈতিক নয়, পারিবারিকভাবেও নানা ধরনের চাপ ও বঞ্চনার মুখে পড়েন।

বাংলাদেশের শ্রমশক্তির একটি বড় অংশ কৃষিতে নিয়োজিত, যার মধ্যে উল্লেখযোগ্য সংখ্যক নারী রয়েছেন। বিভিন্ন গবেষণায় দেখা গেছে, নারীরা কৃষিকাজে ব্যাপকভাবে অংশ নিলেও তাদের শ্রম যথাযথ মূল্যায়ন পায় না। এমনকি অনেক ক্ষেত্রে তাদের কাজকে পারিবারিক দায়িত্ব হিসেবেই ধরা হয়, আয়ের উৎস হিসেবে নয়।

জরিপে আরও দেখা যায়, খোরাকিসহ মজুরির ক্ষেত্রেও বৈষম্য বিদ্যমান। তিন বেলা খাবারসহ একজন পুরুষ শ্রমিক যেখানে ৫২৩ টাকা পান, সেখানে নারী শ্রমিক পান ৩৮৫ টাকা। অর্থাৎ, খোরাকি থাকুক বা না থাকুক—সব ক্ষেত্রেই মজুরি ব্যবধান বজায় রয়েছে।

বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, একটি সমন্বিত জাতীয় মজুরি কাঠামো প্রণয়ন এবং শ্রমিকদের জন্য তথ্যভিত্তিক সহায়তা ব্যবস্থা গড়ে তোলা হলে এই বৈষম্য কিছুটা কমানো সম্ভব। পাশাপাশি শ্রম আইনের কার্যকর বাস্তবায়নও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।

আরও পড়ুনঃ  ২৫ আগস্ট আনুষ্ঠানিক যাত্রা শুরু সিলেট উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের