Dhaka ০২:১৩ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৭ অগাস্ট ২০২৬, ১২ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম :
ছেলে থেকে মেয়ে হয়ে এবার ক্রিকেটে ফেরার অনুমতি পেলেন অনায়া ‘মক্কা চুক্তি’তে যোগ দিলে বাংলাদেশের জন্য থাকছে যত সুযোগ-সম্ভাবনা ৩৭৫ সিসি পর্যন্ত বাইক আমদানির সুযোগ, বাজারে নতুন ব্র্যান্ড তালিকাভুক্ত শীর্ষ সন্ত্রাসী মমিসহ ৪ জন গ্রেপ্তার একই পরিবারের চারজনকে হত্যা: ময়নাতদন্ত ও জবানবন্দিতে উঠে এলো চাঞ্চল্যকর তথ্য নেপালে বন্যায় বাংলাদেশিদের হতাহতের বিষয়ে যা জানাল রাষ্ট্রদূত নেপালের বন্যায় আটকা তাসরিফ খান, চাইলেন দোয়া অলৌকিকভাবে বেঁচে ফেরা এক শিশুর বর্ণনায় নেপালের বন্যা-ভূমিধস ভারী বৃষ্টির কারণে মক্কায়, ‘রেড অ্যাল্যার্ট’ জারি নেপাল-চীন সীমান্তে বন্যা: ১৫০০ নিখোঁজ, ৮০০ জনই বিদেশি

ছেলে থেকে মেয়ে হয়ে এবার ক্রিকেটে ফেরার অনুমতি পেলেন অনায়া

  • desk news
  • Update Time : ১২:২৯:০৩ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৭ অগাস্ট ২০২৬
  • ৫১৯ Time View

একসময় ভারতের মুম্বাই অনূর্ধ্ব-১৯ দলে ক্রিকেট খেলেছেন অনয়া বাঙ্গার। তবে লিঙ্গান্তরের প্রক্রিয়া শুরু করার পর প্রতিযোগিতামূলক ক্রিকেট থেকে দূরে সরে যেতে হয়েছিল তাকে। এবার ক্রিকেট অস্ট্রেলিয়ার (সিএ) সিদ্ধান্তে আবারও ক্রিকেটে ফেরার সুযোগ তৈরি হয়েছে ২৫ বছর বয়সী এই ক্রিকেটারের সামনে।

ক্রিকেট অস্ট্রেলিয়ার সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, আপাতত অস্ট্রেলিয়ার কমিউনিটি ক্রিকেটে খেলতে পারবেন অনয়া। নির্ধারিত সব শর্ত পূরণ করতে পারলে ২০২৭ সালের মার্চ থেকে দেশটির এলিট নারী ক্রিকেটেও খেলার যোগ্যতা অর্জন করতে পারেন তিনি। এর ফলে মেয়েদের বিগ ব্যাশ লিগেও খেলার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে তার সামনে।

অনয়া ভারতের সাবেক অলরাউন্ডার ও কোচ সঞ্জয় বাঙ্গারের সন্তান। তার আগের নাম ছিল আরিয়ান বাঙ্গার। ২০২২ সালে লিঙ্গান্তরের প্রক্রিয়া শুরু করেন তিনি। চলতি বছরের মার্চে জেন্ডার-অ্যাফার্মিং সার্জারির পর আবার ক্রিকেটে ফেরার পথ খুঁজতে ক্রিকেট অস্ট্রেলিয়ার সঙ্গে যোগাযোগ করেন।

অনয়ার আবেদন সরাসরি কোনো একক সিদ্ধান্তের ভিত্তিতে অনুমোদন করেনি ক্রিকেট অস্ট্রেলিয়া। চিকিৎসাসংক্রান্ত তথ্য, অস্ত্রোপচারের নথি, হরমোন ও টেস্টোস্টেরনের মাত্রা, ক্রিকেট খেলার অভিজ্ঞতা এবং খেলার ভিডিওসহ বিভিন্ন তথ্য পর্যালোচনা করেছে বিশেষজ্ঞদের একটি প্যানেল। এ সময় ম্যানচেস্টার মেট্রোপলিটন বিশ্ববিদ্যালয়ের ইনস্টিটিউট অব স্পোর্টসের গবেষণা ও অ্যাথলেটিক পারফরম্যান্সসংক্রান্ত তথ্যও বিবেচনায় নেওয়া হয়।

ক্রিকেট অস্ট্রেলিয়ার নীতিমালা অনুযায়ী, নারী বিভাগের সর্বোচ্চ পর্যায়ের ক্রিকেটে খেলতে হলে একজন খেলোয়াড়ের রক্তে সিরাম টেস্টোস্টেরনের মাত্রা টানা ১২ মাস প্রতি লিটারে ১০ ন্যানোমোলের নিচে থাকতে হয়। অনয়ার ক্ষেত্রে এই ১২ মাসের সময়সীমা পূর্ণ হবে ২০২৭ সালের মার্চে। তখন অস্ট্রেলিয়ায় গিয়ে তাকে আবার রক্ত পরীক্ষা করাতে হবে।

সেই পরীক্ষায় টেস্টোস্টেরনের মাত্রা নির্ধারিত সীমার মধ্যে থাকলে এবং নীতিমালার অন্যান্য শর্ত পূরণ করলে এলিট নারী ক্রিকেটে খেলার যোগ্যতা পাবেন অনয়া। তবে তার আগেই অস্ট্রেলিয়ার যেকোনো রাজ্য বা অঞ্চলের প্রিমিয়ার লিগে খেলতে পারবেন তিনি। ক্রিকেট অস্ট্রেলিয়ার নিয়মে প্রিমিয়ার ক্রিকেটকে কমিউনিটি ক্রিকেটের আওতায় রাখা হয়েছে।

আরও পড়ুনঃ  দুদক চেয়ারম্যান ও দুই কমিশনার পদত্যাগ করলেন

অনয়ার সর্বশেষ রক্ত পরীক্ষায় টেস্টোস্টেরনের মাত্রা পাওয়া গেছে প্রতি লিটারে ০.৬ ন্যানোমোল। তার দাবি, এই মাত্রা পরীক্ষাগারের নারী রেফারেন্স রেঞ্জের মধ্যেই রয়েছে।

ক্রিকেটে ফেরার সুযোগকে নিজের জীবনের গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্ত হিসেবে দেখছেন অনয়া। কয়েক বছর প্রতিযোগিতামূলক ক্রিকেটের বাইরে থাকার পর আবারও প্রিয় খেলাটিতে ফেরার সম্ভাবনা তৈরি হওয়ায় সন্তোষ প্রকাশ করেছেন তিনি।

ক্রিকেট অস্ট্রেলিয়ার সিদ্ধান্ত গ্রহণের প্রক্রিয়াতেও সন্তুষ্ট অনয়া। তার মতে, বিষয়টি কোনো স্বয়ংক্রিয় বা অনানুষ্ঠানিক সিদ্ধান্তের মাধ্যমে হয়নি; বরং ন্যায্যতা, প্রতিযোগিতার স্বচ্ছতা এবং নারী খেলাধুলায় অন্তর্ভুক্তির বিষয়গুলো বিবেচনায় রেখেই তার আবেদন পর্যালোচনা করা হয়েছে।

লিঙ্গান্তরের সময় ক্রিকেটে নিজের জায়গা হারানোর আশঙ্কাই ছিল অনয়ার সবচেয়ে বড় দুশ্চিন্তা। কয়েক বছর ধরে প্রতিযোগিতামূলক ক্রিকেটে ফেরার পথ খুঁজেছেন তিনি। এবার অস্ট্রেলিয়ার সিদ্ধান্তের মাধ্যমে সেই ফেরার পথে নতুন সম্ভাবনার দ্বার খুলেছে তার সামনে।

Tag :
জনপ্রিয় পোস্ট

ছেলে থেকে মেয়ে হয়ে এবার ক্রিকেটে ফেরার অনুমতি পেলেন অনায়া

ছেলে থেকে মেয়ে হয়ে এবার ক্রিকেটে ফেরার অনুমতি পেলেন অনায়া

Update Time : ১২:২৯:০৩ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৭ অগাস্ট ২০২৬

একসময় ভারতের মুম্বাই অনূর্ধ্ব-১৯ দলে ক্রিকেট খেলেছেন অনয়া বাঙ্গার। তবে লিঙ্গান্তরের প্রক্রিয়া শুরু করার পর প্রতিযোগিতামূলক ক্রিকেট থেকে দূরে সরে যেতে হয়েছিল তাকে। এবার ক্রিকেট অস্ট্রেলিয়ার (সিএ) সিদ্ধান্তে আবারও ক্রিকেটে ফেরার সুযোগ তৈরি হয়েছে ২৫ বছর বয়সী এই ক্রিকেটারের সামনে।

ক্রিকেট অস্ট্রেলিয়ার সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, আপাতত অস্ট্রেলিয়ার কমিউনিটি ক্রিকেটে খেলতে পারবেন অনয়া। নির্ধারিত সব শর্ত পূরণ করতে পারলে ২০২৭ সালের মার্চ থেকে দেশটির এলিট নারী ক্রিকেটেও খেলার যোগ্যতা অর্জন করতে পারেন তিনি। এর ফলে মেয়েদের বিগ ব্যাশ লিগেও খেলার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে তার সামনে।

অনয়া ভারতের সাবেক অলরাউন্ডার ও কোচ সঞ্জয় বাঙ্গারের সন্তান। তার আগের নাম ছিল আরিয়ান বাঙ্গার। ২০২২ সালে লিঙ্গান্তরের প্রক্রিয়া শুরু করেন তিনি। চলতি বছরের মার্চে জেন্ডার-অ্যাফার্মিং সার্জারির পর আবার ক্রিকেটে ফেরার পথ খুঁজতে ক্রিকেট অস্ট্রেলিয়ার সঙ্গে যোগাযোগ করেন।

অনয়ার আবেদন সরাসরি কোনো একক সিদ্ধান্তের ভিত্তিতে অনুমোদন করেনি ক্রিকেট অস্ট্রেলিয়া। চিকিৎসাসংক্রান্ত তথ্য, অস্ত্রোপচারের নথি, হরমোন ও টেস্টোস্টেরনের মাত্রা, ক্রিকেট খেলার অভিজ্ঞতা এবং খেলার ভিডিওসহ বিভিন্ন তথ্য পর্যালোচনা করেছে বিশেষজ্ঞদের একটি প্যানেল। এ সময় ম্যানচেস্টার মেট্রোপলিটন বিশ্ববিদ্যালয়ের ইনস্টিটিউট অব স্পোর্টসের গবেষণা ও অ্যাথলেটিক পারফরম্যান্সসংক্রান্ত তথ্যও বিবেচনায় নেওয়া হয়।

ক্রিকেট অস্ট্রেলিয়ার নীতিমালা অনুযায়ী, নারী বিভাগের সর্বোচ্চ পর্যায়ের ক্রিকেটে খেলতে হলে একজন খেলোয়াড়ের রক্তে সিরাম টেস্টোস্টেরনের মাত্রা টানা ১২ মাস প্রতি লিটারে ১০ ন্যানোমোলের নিচে থাকতে হয়। অনয়ার ক্ষেত্রে এই ১২ মাসের সময়সীমা পূর্ণ হবে ২০২৭ সালের মার্চে। তখন অস্ট্রেলিয়ায় গিয়ে তাকে আবার রক্ত পরীক্ষা করাতে হবে।

সেই পরীক্ষায় টেস্টোস্টেরনের মাত্রা নির্ধারিত সীমার মধ্যে থাকলে এবং নীতিমালার অন্যান্য শর্ত পূরণ করলে এলিট নারী ক্রিকেটে খেলার যোগ্যতা পাবেন অনয়া। তবে তার আগেই অস্ট্রেলিয়ার যেকোনো রাজ্য বা অঞ্চলের প্রিমিয়ার লিগে খেলতে পারবেন তিনি। ক্রিকেট অস্ট্রেলিয়ার নিয়মে প্রিমিয়ার ক্রিকেটকে কমিউনিটি ক্রিকেটের আওতায় রাখা হয়েছে।

আরও পড়ুনঃ  ১১ বছর পর পর্দায় ফিরছে দেব-শুভশ্রী জুটি

অনয়ার সর্বশেষ রক্ত পরীক্ষায় টেস্টোস্টেরনের মাত্রা পাওয়া গেছে প্রতি লিটারে ০.৬ ন্যানোমোল। তার দাবি, এই মাত্রা পরীক্ষাগারের নারী রেফারেন্স রেঞ্জের মধ্যেই রয়েছে।

ক্রিকেটে ফেরার সুযোগকে নিজের জীবনের গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্ত হিসেবে দেখছেন অনয়া। কয়েক বছর প্রতিযোগিতামূলক ক্রিকেটের বাইরে থাকার পর আবারও প্রিয় খেলাটিতে ফেরার সম্ভাবনা তৈরি হওয়ায় সন্তোষ প্রকাশ করেছেন তিনি।

ক্রিকেট অস্ট্রেলিয়ার সিদ্ধান্ত গ্রহণের প্রক্রিয়াতেও সন্তুষ্ট অনয়া। তার মতে, বিষয়টি কোনো স্বয়ংক্রিয় বা অনানুষ্ঠানিক সিদ্ধান্তের মাধ্যমে হয়নি; বরং ন্যায্যতা, প্রতিযোগিতার স্বচ্ছতা এবং নারী খেলাধুলায় অন্তর্ভুক্তির বিষয়গুলো বিবেচনায় রেখেই তার আবেদন পর্যালোচনা করা হয়েছে।

লিঙ্গান্তরের সময় ক্রিকেটে নিজের জায়গা হারানোর আশঙ্কাই ছিল অনয়ার সবচেয়ে বড় দুশ্চিন্তা। কয়েক বছর ধরে প্রতিযোগিতামূলক ক্রিকেটে ফেরার পথ খুঁজেছেন তিনি। এবার অস্ট্রেলিয়ার সিদ্ধান্তের মাধ্যমে সেই ফেরার পথে নতুন সম্ভাবনার দ্বার খুলেছে তার সামনে।